খুঁজুন
                               
, ,
           

ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য আছে, জিআই স্বীকৃতিও আছে; নেই মান রক্ষার উদ্যোগ

প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি নাটোরের কাঁচাগোল্লা। স্বাদ ও ঐতিহ্যের কারণে দেশজুড়ে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট দেশের ১৭তম জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় নাটোরের কাঁচাগোল্লা। তবে জিআই স্বীকৃতির পরও এই মিষ্টির মান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এ সুযোগে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি ভেজাল মিষ্টিকে কাঁচাগোল্লা নামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের কার্যক্রম মূলত বছরে এক দিনের উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় কাঁচাগোল্লার নামে নিম্নমানের মিষ্টি বাজারজাত করছেন। বিশেষ করে নাটোর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বিভিন্ন পরিবহনে ময়দার তৈরি লাড্ডুকে কাঁচাগোল্লা হিসেবে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত কাঁচাগোল্লার স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা।

ঐতিহ্যের দীর্ঘ ইতিহাস

জনশ্রুতি অনুযায়ী, সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাটোরের লালবাজারে মধুসূদন পালের দোকানে কাঁচাগোল্লার উৎপত্তি। ১৭৫৭ সাল থেকে এটি ব্যাপক পরিচিতি পেতে শুরু করে। একদিন কারিগর না আসায় বিপুল পরিমাণ ছানা নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে চিনির রসে বেশি সময় জ্বাল দেওয়ার পর ভিন্ন স্বাদের যে মিষ্টি তৈরি হয়, সেখান থেকেই কাঁচাগোল্লার প্রচলন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

কাঁচা ছানা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এর নাম হয় ‘কাঁচাগোল্লা’। প্রচলিত গোলাকার মিষ্টির মতো দেখতে না হলেও ঝরঝরে ও হালকা রসাল হওয়াই এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রানী ভবানীর শাসনামলে নাটোরের এই মিষ্টির সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে। রাজপরিবারের অতিথিদেরও কাঁচাগোল্লা দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো বলে জানা যায়।

কমছে বিক্রি, বাড়ছে ভেজালের অভিযোগ

ঐতিহ্যবাহী জয়কালী বাড়ি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী রবীন্দ্র নাথ কুন্ডু বলেন, ‘১৯৮০ সাল থেকে আমি দোকানে বসছি। একসময় আমরা প্রতিদিন কয়েক মণ মিষ্টি বিক্রি করেছি। এখন দিনে এক মণও হয় না। মানসম্পন্ন কারিগরের অভাব এবং বাজারের বর্তমান অবস্থায় আমরা শুধু বাপ-দাদার আমলের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রকৃত কাঁচাগোল্লার সঙ্গে নিম্নমানের মিষ্টির পার্থক্য না জানায় অনেক ক্রেতাই প্রতারিত হচ্ছেন। এতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পণ্যটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

জড়িত শত শত পরিবার

কাঁচাগোল্লাকে ঘিরে নাটোরের স্থানীয় অর্থনীতিতেও রয়েছে বড় ধরনের কর্মসংস্থান। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক দোকানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার কেজি কাঁচাগোল্লা বিক্রি হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা।

নিচাবাজারের মৌচাক মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, লালবাজারের জয়কালী বাড়ি এবং নাটোর রেলস্টেশনের ঘোষ মিষ্টান্ন দোকানে কাঁচাগোল্লার বেচাকেনা বেশি। খামারি ও দুধ বিক্রেতা থেকে শুরু করে ছানা প্রস্তুতকারী, কারিগর, দোকানি ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শত শত পরিবার যুক্ত।

রপ্তানির উদ্যোগ নেই

দেশজুড়ে পরিচিতি থাকলেও কাঁচাগোল্লাকে আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়া কিংবা বিদেশে রপ্তানির জন্য এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।

নাটোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নাফ বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আমাদের দেশে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসন এগিয়ে না এলে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। ব্যক্তি উদ্যোগে এটি সম্ভব নয়। রপ্তানিমুখী বাজারজাত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ প্রয়োজন।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচাগোল্লার ঐতিহ্য ও মান ধরে রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ কারিগর তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জিআই পণ্যের স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কাঁচাগোল্লা উৎপাদন ও বাজারজাত নিশ্চিত করা গেলে এই খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তারের মন্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ঐতিহ্যের শীতলপাটি এবার পায়ের নিচে, স্বপ্ন বুনছেন চার শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্যের শীতলপাটি এবার পায়ের নিচে, স্বপ্ন বুনছেন চার শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চার শিক্ষার্থী ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে আধুনিক পণ্যে রূপ দিয়ে নতুন বাজার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। ‘বুনন বাজার’ নামে তাদের উদ্যোগের প্রথম পণ্য শীতলপাটির তৈরি স্যান্ডেল। দেশীয় উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কারিগরদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিই তাদের লক্ষ্য।

একসময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে শীতলপাটির ব্যাপক ব্যবহার ছিল। গরমের দিনে মেঝেতে বিছিয়ে স্বস্তি পাওয়ার পাশাপাশি এর নকশা ও বুননে ফুটে উঠত বাংলার লোকজ ঐতিহ্য। সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসায় শীতলপাটির ব্যবহার কমেছে। এতে সংকুচিত হয়েছে বাজার, অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এ কারুশিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেক কারিগর।

এই বাস্তবতা থেকেই উদ্যোগের ভাবনা আসে রাবির ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী অপূর্ব কৃষ্ণ দের। টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলা থেকেই মূর্তা বা বেতি গাছ, শীতলপাটি ও কারিগরদের কাজ দেখে বড় হয়েছেন তিনি। পরিবারের অনেকেই মূর্তা চাষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় শীতলপাটির কাঁচামাল সংগ্রহ ও তৈরির প্রক্রিয়াও তার পরিচিত ছিল।

শীতলপাটির চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টি তাকে ভাবিয়ে তোলে। ঐতিহ্যবাহী এই উপকরণকে আধুনিক পণ্যে ব্যবহার করা গেলে নতুন বাজার তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কারিগরদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে—এমন চিন্তা থেকেই শুরু হয় উদ্যোগটি।

পরে তার সঙ্গে যুক্ত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আবির দে, মো. আশিক মিয়া ও চৌধুরী খুবাইব বিন করিম। চারজন মিলে উদ্যোগটির নাম দেন ‘বুনন বাজার’।

ক্লাসরুমের ধারণা থেকে বাস্তব উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট কোর্সের ব্যবহারিক অংশে ব্যবসায়িক ধারণাটি উপস্থাপন করেন তারা। প্রায় ১০টি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিতকরণ, ক্রেতার চাহিদা, বাজার সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক মডেল, বিপণন কৌশল ও আর্থিক সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করেন শিক্ষার্থীরা।

পরে বিভিন্ন পিচিং ও উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ক্রেতাদের মতামত এবং মেন্টরদের পরামর্শের ভিত্তিতে উদ্যোগটিকে আরও পরিণত করেন তারা।

শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল

শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল তৈরি করতে গিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের। পাটির বুনন, ঘনত্ব, নমনীয়তা, আকার, কাটিং, স্ট্র্যাপের অবস্থান এবং সোলের সঙ্গে সংযোগ—প্রতিটি বিষয় নিয়ে একাধিকবার কাজ করতে হয়েছে।

স্যান্ডেলটি যেন দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি আরামদায়ক ও টেকসই হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। এজন্য সাধারণ শীতলপাটির পরিবর্তে স্যান্ডেল তৈরির উপযোগী মান ও ঘনত্বের পাটি তৈরিতে মনোযোগ দেওয়া হয়।

একাধিক প্রোটোটাইপ তৈরির পর সম্ভাব্য ক্রেতাদের মতামত নিয়ে বর্তমান নকশায় পৌঁছেছেন তারা। বর্তমানে ‘বুনন বাজার’-এর তৈরি শীতলপাটির স্যান্ডেলের বিক্রয়মূল্য ৬৫০ টাকা।

কারিগরদের নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্য

উদ্যোক্তারা স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কাজ করে স্যান্ডেল তৈরির উপযোগী শীতলপাটি সংগ্রহ করছেন। তাদের লক্ষ্য শুধু কাঁচামাল সংগ্রহ নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের দক্ষতাকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।

তাদের মতে, শীতলপাটির ব্যবহার কমে গেলে শুধু একটি পণ্যের বাজারই সংকুচিত হয় না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কারিগরদের কাজের সুযোগও কমে যায়। নতুন পণ্য তৈরির মাধ্যমে শীতলপাটির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করতে চান তারা।

পেয়েছে অর্থায়ন ও স্বীকৃতি

দ্য আর্থ সোসাইটির সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় আয়োজিত গ্রিন ভয়েস মাস্টার বুটক্যাম্প থেকে এক লাখ টাকা তহবিল পেয়েছে ‘বুনন বাজার’। এই অর্থ দিয়ে প্রোটোটাইপ তৈরি ও পণ্য পরীক্ষার কাজ এগিয়ে নেন তারা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় উদ্যোগটি প্রথম রানারআপ হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত প্রতিযোগিতায় সেরা আট উদ্যোগের মধ্যে জায়গা করে নেয়। ওই প্রতিযোগিতায় আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চার উদ্যোক্তাই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও প্রদর্শিত হয়েছে তাদের তৈরি শীতলপাটির স্যান্ডেল। সেখানে কয়েক জোড়া স্যান্ডেল বিক্রিও হয়েছে।

সামনে বড় পরিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা

শুধু স্যান্ডেলেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না চার শিক্ষার্থী। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী উপকরণকে কেন্দ্র করে ‘বুনন বাজার’-কে পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা। ভবিষ্যতে ব্যাগ, ঘর সাজানোর সামগ্রীসহ বিভিন্ন টেকসই পণ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় কারিগরদের যুক্ত করে ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান উদ্যোক্তারা। তবে হাতে তৈরি পণ্যের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় ও ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবু একটি শ্রেণিকক্ষের ধারণা থেকে শুরু করে প্রোটোটাইপ তৈরি, উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় সাফল্য, অর্থায়ন পাওয়া এবং বাস্তব ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার মতো কয়েকটি ধাপ ইতোমধ্যে পেরিয়েছে ‘বুনন বাজার’।

একসময় যে শীতলপাটি ঘরের মেঝেতে বিছিয়ে মানুষকে স্বস্তি দিত, সেই পরিচিত বুনন এখন নতুন রূপে জায়গা করে নিচ্ছে মানুষের পায়ের নিচেও। ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে মিলিয়ে সেই বুননেই নতুন সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন রাবির চার শিক্ষার্থী।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন বাড়িঘর-ফসলি জমি, হুমকিতে আরও ৫০ পরিবার

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন বাড়িঘর-ফসলি জমি, হুমকিতে আরও ৫০ পরিবার

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে বাড়িঘর, বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি। বারবার নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদীর ৭০টি অরক্ষিত পয়েন্টে ভাঙন চলছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাণিয়াপাড়া গ্রামে গত এক বছরে নদীভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। গত ১৫ দিনেই নদীগর্ভে চলে গেছে আরও সাতটি বাড়ি। বর্তমানে নদীতীরের প্রায় ৫০টি বাড়ি ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।

বারবার সরাতে হচ্ছে ঘর

ভুক্তভোগীরা জানান, সময়-অসময়ে নদীর পাড় ধসে বাড়িঘর ও বসতভিটা ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে বারবার বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে হচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও প্রায় শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, কয়েকবার তার বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে। পরিবার নিয়ে এখনো স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই পাননি। দেনা করে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে বর্তমানে প্রতিবেশীর জায়গায় ঘর করে বসবাস করছেন।

জিও ব্যাগেও থামছে না ভাঙন

ভাঙন ঠেকাতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কাজে আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও অনেক পরিবার বসতভিটা হারাবে।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ বারবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। নতুন জায়গা কেনা, বাড়িঘর নির্মাণ, নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপনে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারগুলো সরকারি বা বেসরকারিভাবে তেমন কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে সংস্কারকৃত ডিপিপির কাজ বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু-ডায়রিয়ায় বাড়ছে রোগী, চাপ সামলাতে হিমশিম হাসপাতাল

উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদেরও নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা নিতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মাহার গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. রাসেল বলেন, রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি থাকায় চিকিৎসা নিতে নানা ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে।

বামরাইল ইউনিয়নের মুন্ডুপাশা গ্রামের রাফিয়া বলেন, রোগী বেশি থাকায় হাসপাতালে চাপ দেখা যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. ওয়াসিমও জানান, হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত মলি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হামিদা আক্তার বলেন, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় কিছুটা চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

তিনি জানান, ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী খাবার ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল, শয্যা, ওষুধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি