খুঁজুন
                               
, ,
           

দক্ষ জনশক্তি গড়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
দক্ষ জনশক্তি গড়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ

শিক্ষিত বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শালখুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী-পুরুষের জন্য দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কৃষকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক শীর্ষে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক শীর্ষে

আলো, গতি, অর্থনীতি ও সম্ভাবনার শহরগুলোর প্রতিযোগিতায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। বিশ্বের এক হাজার শহরকে পেছনে ফেলে সেরা শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই মহানগর। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং তৃতীয় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে’ বিশ্বের শহরগুলোর অবস্থানের এই চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি নিউজ।

শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি, মানবসম্পদ, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান। এসব সূচকের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে বিশ্বের এক হাজার শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূচকের শীর্ষ ১০ শহরের তালিকায় নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিসের পর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন সপ্তম, সান হোসে অষ্টম, জাপানের টোকিও নবম এবং সুইজারল্যান্ডের জুরিখ দশম অবস্থানে রয়েছে।

দক্ষ মানবসম্পদে লন্ডন এগিয়ে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ ও শিক্ষিত মানুষকে আকৃষ্ট করার সক্ষমতা। এর ফলে এসব শহরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রাতেও বিভিন্ন দেশের প্রভাব দেখা যায়।

মানবসম্পদের দিক থেকে সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে লন্ডন। শহরটির প্রায় ৪০ শতাংশ বাসিন্দা বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দক্ষ ও শিক্ষিত মানুষের উপস্থিতি লন্ডনের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির কারণে মানবসম্পদের দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ শহরটির দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় প্যারিস

সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে প্যারিসের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। শহরটিতে প্রায় ১৩০টি জাদুঘর রয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও বিনোদনের নানা সুযোগ প্যারিসকে বৈশ্বিক শহরগুলোর মধ্যে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

সিয়াটলও শিল্প ও সংস্কৃতির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানের জন্য ভালো অবস্থানে রয়েছে। প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শহরটির পরিবেশ ও বসবাসের সুযোগও সূচকে বিবেচনায় এসেছে।

পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা

শীর্ষ শহরগুলো পরিবেশগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। লন্ডনের কনজেশন চার্জ এবং আল্ট্রা-লো এমিশন জোন শহরের যানজট ও বায়ুদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখছে।

সান ফ্রান্সিসকোর উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর মানুষের নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে। ফলে পরিবেশগত সূচকেও শহরটি ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে।

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনও পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু-নিরপেক্ষ শহরে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শহরটি।

প্রযুক্তিতে এগিয়ে সান হোসে

শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান হোসে সিলিকন ভ্যালির বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতির কারণে মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে সূচকে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

সান ফ্রান্সিসকোতেও প্রযুক্তির ব্যবহার নগরজীবনে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। শহরটিতে চালকবিহীন গাড়ির ব্যবহারও এখন নগর পরিবহনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারেও কিছু শহর দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনকে এ ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ‘সিটিজ টু ওয়াচ’ তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় শহরটির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে সূচকটি।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এই সূচক দেখিয়েছে, একটি শহরকে বৈশ্বিকভাবে সফল হতে শুধু শক্তিশালী অর্থনীতি থাকলেই হয় না। দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর শাসনব্যবস্থা, পরিবেশগত উদ্যোগ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানও শহরের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

চেনা রূপের বাইরে মধুমিতা সরকার, ‘অটবি’তে নতুন চ্যালেঞ্জ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
চেনা রূপের বাইরে মধুমিতা সরকার, ‘অটবি’তে নতুন চ্যালেঞ্জ

জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার দীর্ঘদিন ধরে টালিউডে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। সাবলীল অভিনয়, বৈচিত্র্যময় চরিত্র বাছাই এবং পর্দায় নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের কারণে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে টেলিভিশন ও সিনেমায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সামনেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মধুমিতার নতুন সিনেমা ‘অটবি’। ছবিটির প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেই নিজের নতুন চরিত্র, অভিনয় নিয়ে ভাবনা এবং ব্যক্তিজীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।

ছবি<<সংগৃহীত

‘অটবি’তে মধুমিতাকে দেখা যাবে তার আগের কাজগুলোর তুলনায় বেশ ভিন্ন একটি চরিত্রে। চরিত্রটির মনস্তাত্ত্বিক দিকই তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে বলে জানান তিনি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, একজন পরিচালক তাকে এমন একটি চরিত্রে কল্পনা করেছেন—এটাই তার কাছে বড় পাওয়া। কারণ একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চান না তিনি।

নতুন চরিত্রটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এর মনস্তত্ত্ব পর্দায় ফুটিয়ে তোলা। মধুমিতা জানান, চরিত্রটির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে তার অভিনয়ের ধরন অনেক জায়গাতেই আলাদা রাখতে হয়েছে। কখনো চোখের অভিব্যক্তি এবং মুখের অভিব্যক্তির মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অমিল তৈরি করতে হয়েছে। চরিত্রের পরিস্থিতি অনুযায়ী শরীরী ভাষা, চোখের দৃষ্টি ও অভিব্যক্তির ওপরও বিশেষভাবে কাজ করেছেন তিনি।

ছবি<<সংগৃহীত

অভিনেত্রীর মতে, কোনো চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শুধু সংলাপ বলাই যথেষ্ট নয়। চরিত্রটির ভেতরের অনুভূতি ও মানসিক অবস্থাকে শরীরী ভাষা এবং চোখের মাধ্যমে প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ‘অটবি’র ক্ষেত্রে সেই জায়গাটিই তার জন্য অন্যতম বড় পরীক্ষা ছিল।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একসময় নিয়মিত প্রচুর কাজ করেছেন মধুমিতা। তবে এখন তুলনামূলকভাবে বেছে কাজ করছেন তিনি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

মধুমিতার কাছে বাবা-মা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনের অগ্রাধিকারও বদলে যায় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যের পেছনে ছুটলেই হয় না; পরিবার ও প্রিয়জনদের সময় দেওয়াও প্রয়োজন।

ছবি<<সংগৃহীত

পেশা ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার পক্ষপাতী মধুমিতা। অভিনয়কে ভালোবাসলেও ব্যক্তিগত জীবনকে অবহেলা করতে চান না তিনি। তার মতে, একজন মানুষের জীবনে শুধু পেশাগত সাফল্যই সবকিছু নয়। পরিবার, সম্পর্ক এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া বা কম্প্যাটিবিলিটিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। দুজন মানুষের মতামত সব বিষয়ে এক হওয়া জরুরি নয় বলে মনে করেন তিনি। তবে সম্পর্কের মৌলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মিল থাকা প্রয়োজন বলে তার মত।

ছবি<<সংগৃহীত

প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছরের অভিনয়জীবনে দর্শকদের ভালোবাসাকেই নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন মধুমিতা। কাজের ব্যস্ততার কারণে কখনো আড়ালে থাকলেও দর্শক তাকে খোঁজেন—এটিই তার কাছে বড় পাওয়া।

তবে শুধু প্রশংসা নয়, নিজের কাজের সমালোচনাও শুনতে চান মধুমিতা। কোনো কাজে ভুল হলে দর্শক যেন তা নিয়ে কথা বলেন এবং সমালোচনা করেন—এমনটাই প্রত্যাশা তার। কারণ দর্শকের এই প্রতিক্রিয়াই একজন শিল্পীকে নিজের কাজ নিয়ে আরও ভাবতে এবং উন্নতি করতে সাহায্য করে বলে মনে করেন তিনি।

নতুন সিনেমা ‘অটবি’তে ভিন্ন চরিত্রে মধুমিতার উপস্থিতি তাই তার ক্যারিয়ারে নতুন একটি অভিজ্ঞতা যোগ করতে যাচ্ছে। দর্শক কীভাবে চরিত্রটিকে গ্রহণ করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এই অভিনেত্রী।

সূত্র: এই সময়

কালের আলো/এসএ

আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে ঐশ্বরিয়া

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে ঐশ্বরিয়া

প্যারিসের আকাশে যখন ফ্যাশনের আলো ঝলমল করবে, আইফেল টাওয়ারের সামনে বসবে বিশ্বের তারকাখচিত এক আয়োজন, তখন সবার নজর আটকে যেতে পারে একটি পরিচিত মুখে। র‌্যাম্পে পা রাখতেই যার উপস্থিতি বদলে দিতে পারে পুরো আয়োজনের আবহ—তিনি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। দীর্ঘদিন পর আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে নিজের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের ঝলক দেখাতে প্রস্তুত বলিউডের এই তারকা।

তবে এবার কোনো সিনেমার চরিত্র হয়ে নয়, বরং প্যারিস ফ্যাশন উইকের আলোচিত ‘লে দেফিলে’ আয়োজনে র‌্যাম্পে হাঁটবেন ঐশ্বরিয়া। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের সামনে প্লাস জফ্রে এলাকায় বসতে যাওয়া এই জমকালো আয়োজনে তার উপস্থিতি ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। লরিয়াল প্যারিসের দীর্ঘদিনের দূত হিসেবে ঐশ্বরিয়ার এই প্রত্যাবর্তনে থাকছে সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস আর ফ্যাশনের এক অনন্য মেলবন্ধন।

আবারও প্যারিসের র‌্যাম্পে ঐশ্বরিয়া

আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই লরিয়াল প্যারিসের সঙ্গে যুক্ত তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন বড় ফ্যাশন আয়োজনে এই ব্র্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী।

এবার ‘লে দেফিলে’-এর নবম আসরে আবারও তাকে দেখা যাবে র‌্যাম্পে। ফরাসি প্রসাধনী ব্র্যান্ড লরিয়াল প্যারিসের আয়োজনে অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন ঐশ্বরিয়া।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের ঠিক সামনে প্লাস জফ্রে এলাকায় বসবে এই বিশেষ আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তারকা, মডেল ও ফ্যাশন ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠবে অনুষ্ঠানটি।

এবারের আয়োজনে বিশেষ বার্তা

এবারের ‘লে দেফিলে’-এর মূল ভাবনা ‘নিজের যোগ্যতা প্রকাশ করো’। নারীর আত্মবিশ্বাস, বৈচিত্র্য, পারস্পরিক সংহতি এবং অন্তর্ভুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবারের আয়োজনে। শুধু পোশাক কিংবা মেকআপের প্রদর্শনী নয়, বরং নারীদের নিজেদের পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরার বার্তাও থাকবে অনুষ্ঠানে। এই ভাবনার সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, তার অংশগ্রহণ শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নিজস্ব সৌন্দর্যবোধের প্রতীক হয়ে উঠবে। নিজের সৌন্দর্যের সংজ্ঞা অন্যের নির্ধারণ করে দেওয়ার পরিবর্তে প্রত্যেক নারী যেন নিজের মতো করে তা প্রকাশ করতে পারেন—এমন বার্তাই তুলে ধরবে এবারের আয়োজন।

ঐশ্বরিয়ার লুকে থাকছে নতুন চমক

র‌্যাম্পে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতির পাশাপাশি তার সাজসজ্জা ও মেকআপ নিয়েও থাকবে বাড়তি আগ্রহ। কারণ এবারের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লরিয়াল প্যারিসের নতুন সৌন্দর্যপণ্য। ভারতীয় ত্বকের রঙের কথা মাথায় রেখে বাজারে আসছে নতুন ‘রানওয়ে ম্যাট কালেকশন’। এই সংগ্রহে থাকছে ইনফ্যালিবল ম্যাট রেজিস্ট্যান্স লিকুইড লিপস্টিকের পাঁচটি নতুন গাঢ় রং। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘৪২৩ অডাসিয়াস রেড’। প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার ঠোঁটেও দেখা যাবে এই রং। ফলে র‌্যাম্পে তার পোশাক, মেকআপ ও লুক—সবকিছু নিয়েই ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতীয় দর্শকদের জন্যও থাকছে আয়োজন

প্যারিসের ফ্যাশন ও সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে লরিয়াল প্যারিস। অনলাইনে সহযোগী হিসেবে অ্যামাজনের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি অফলাইন সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে লাইফস্টাইল স্টোরস। এর মাধ্যমে প্যারিসের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে যে সৌন্দর্যচর্চা ও ট্রেন্ড দেখা যাবে, তার কিছুটা অভিজ্ঞতা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মুম্বাইয়ে হবে বিশেষ সৌন্দর্য কর্মশালা

প্যারিসের আয়োজন শেষ হওয়ার পরও এর রেশ থাকবে ভারতে। আগামী অক্টোবর মাসে মুম্বাইয়ে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ সৌন্দর্যবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করবে লরিয়াল প্যারিস। এই কর্মশালায় ‘লে দেফিলে’ আয়োজনের পেছনের সৌন্দর্যচর্চা, সাজসজ্জা ও মেকআপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

অর্থাৎ প্যারিসের রানওয়েতে যে সৌন্দর্যধারা ও মেকআপ ট্রেন্ড দেখা যাবে, তার পেছনের গল্পও জানতে পারবেন ভারতীয় সৌন্দর্যপ্রেমীরা।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঐশ্বরিয়ার প্রত্যাবর্তন

বলিউডের পর্দায় ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের জনপ্রিয়তা বহু বছরের। অভিনয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতেও নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন তিনি।

বিশেষ করে লরিয়াল প্যারিসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন মঞ্চে তার উপস্থিতি বরাবরই আলোচনার জন্ম দেয়। এবার ‘লে দেফিলে’-এর মঞ্চে তার প্রত্যাবর্তন সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আইফেল টাওয়ারের সামনে যখন বসবে তারকাখচিত এই আয়োজন, তখন র‌্যাম্পে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতিই যে দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ফ্যাশনের ঝলমলে মঞ্চে এবার ঐশ্বরিয়া শুধু নিজের সৌন্দর্য দিয়েই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও নিজের মতো করে নিজেকে প্রকাশ করার বার্তাও তুলে ধরবেন। আর সেই কারণেই প্যারিসের এই রাতটি বলিউডের এই তারকার জন্য হয়ে উঠতে পারে আরও একটি স্মরণীয় আন্তর্জাতিক মুহূর্ত।

কালের আলো/জেএন