খুঁজুন
                               
, ,
           

সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরেও বিদ্যুৎ দেবে সৌরপ্যানেল, চীনা বিজ্ঞানীদের নতুন সাফল্য

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরেও বিদ্যুৎ দেবে সৌরপ্যানেল, চীনা বিজ্ঞানীদের নতুন সাফল্য

সমুদ্রের পানির নিচে সূর্যের আলো দ্রুত কমে যায়। গভীরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলো শোষিত ও বিচ্ছুরিত হওয়ায় প্রচলিত সৌরপ্যানেলের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিবেশেই ১০ মিটার বা প্রায় ৩২ ফুট গভীরে সৌরকোষ স্থাপন করে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা।

দক্ষিণ চীন সাগরে পরিচালিত বাস্তব পরীক্ষায় গবেষকদের তৈরি সৌরকোষ দুই ঘণ্টায় ৩২৪ মিলিওয়াট-আওয়ার (mWh) বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এই শক্তি একটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি আলো জ্বালানোর জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণাটি Joule জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক ওয়েন-হুয়া ঝাং বলেন, পানির নিচে সৌরকোষ নিয়ে এখন পর্যন্ত খুব কম গবেষণা হয়েছে এবং আগের অধিকাংশ পরীক্ষাই দুই মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ মিটার গভীর সমুদ্রের পরিবেশে সৌরকোষের কার্যকারিতা বাস্তবে যাচাই করা হয়েছে।

অন্ধকার পানির নিচে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন?

সমুদ্রের পানির নিচে সব ধরনের সূর্যালোক সমানভাবে পৌঁছায় না। পানির ওপরের স্তরেই লাল ও দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর বড় অংশ শোষিত হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৫ থেকে ১০ মিটার গভীরতায় তুলনামূলকভাবে নীল ও সবুজ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোই বেশি পাওয়া যায়।

গবেষকেরা এই বিষয়টি মাথায় রেখে প্রচলিত সৌরকোষের বদলে লিড হ্যালাইড পেরোভস্কাইট ব্যবহার করেছেন। এর সঙ্গে পলিহেক্সামেথিলিন গুয়ানিডিন হাইড্রোক্লোরাইড নামের একটি পলিমার যুক্ত করা হয়েছে। এই উপাদান সৌরকোষের বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য ও স্থিতিশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করে।

গবেষণাগারে ১০ মিটার গভীর পানির আলো অনুকরণ করে পরীক্ষা চালানো হলে সৌরকোষটি প্রায় ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ শক্তি রূপান্তর দক্ষতা অর্জন করে। এরপর গবেষকেরা বড় আকারের মডিউল তৈরি করে সেগুলো পানির নিচে পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করেন।

রোবট দিয়ে সমুদ্রের গভীরে পরীক্ষা

গবেষকেরা বিশেষভাবে তৈরি পানির নিচের রোবটের মাধ্যমে সৌরকোষগুলো দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপের কাছে সমুদ্রে নামান। ২, ৬ ও ১০ মিটার গভীরতায় চালানো পরীক্ষায় দেখা যায়, গভীরতা বাড়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমলেও ১০ মিটার গভীরতাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করা সম্ভব।

দুই ঘণ্টার পরীক্ষায় ২ মিটার গভীরতায় সৌরকোষগুলো ১,৪১৬ mWh, ৬ মিটারে ৭৫২ mWh এবং ১০ মিটারে ৩২৪ mWh বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সংগৃহীত শক্তি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে সেই ব্যাটারি দিয়ে এলইডি আলো জ্বালানো হয়।

পাঁচ বছরের বেশি চলার সম্ভাবনা

শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, দীর্ঘ সময় পানির নিচে কাজ করার সক্ষমতাও পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাগারের ত্বরিত বার্ধক্য পরীক্ষার ভিত্তিতে তাঁদের হিসাব, ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০ মিটার গভীরে সৌরকোষগুলো প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর পর্যন্ত কাজ করতে পারে। তবে এই সময়কাল বাস্তব সমুদ্রে পাঁচ বছরের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার ফল নয়; এটি পরীক্ষাগারভিত্তিক মূল্যায়ন থেকে পাওয়া অনুমান।

কোথায় কাজে লাগবে?

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ব্যবহার হতে পারে সমুদ্রের নিচে থাকা সেন্সর, ক্যামেরা, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের রোবটকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। বর্তমানে এ ধরনের যন্ত্রে ব্যাটারি ব্যবহার করতে হয়, ফলে নির্দিষ্ট সময় পর সেগুলো তুলে এনে চার্জ বা পরিবর্তন করতে হয়।

পানির নিচেই যদি সৌরকোষের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করা যায়, তাহলে এসব যন্ত্র দীর্ঘ সময় মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই কাজ করতে পারবে। ভবিষ্যতে সামুদ্রিক গবেষণা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যন্ত্র পরিচালনায় এটি কাজে লাগতে পারে।

তবে প্রযুক্তিটির সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাস্তব সমুদ্রের পানিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, পানির স্বচ্ছতার পরিবর্তন এবং সৌরকোষে সামুদ্রিক জীবের আস্তরণ জমার মতো বিষয়গুলো আরও পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহৃত পেরোভস্কাইটে সিসা থাকায় পরিবেশগত নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষক দল এখন আরও বেশি গভীরতায় সৌরকোষ পরীক্ষা করে এর কার্যকর সীমা নির্ধারণ এবং পানির নিচের সৌরবিদ্যুতের জন্য মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি তৈরির দিকে এগোচ্ছে।

সূত্র: ScienceAlert, Joule, Cell Press

কালের আলো/এসএ

প্রাক্তনের প্রোফাইল বারবার দেখছেন? অভ্যাস ছাড়ার ৫ সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
প্রাক্তনের প্রোফাইল বারবার দেখছেন? অভ্যাস ছাড়ার ৫ সহজ উপায়

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে বারবার ঢুঁ মারা অনেকের কাছেই পরিচিত অভ্যাস। তিনি কেমন আছেন, নতুন কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না, আপনাকে মনে করছেন কি না—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকে বারবার তাঁর পোস্ট, ছবি কিংবা স্টোরি দেখতে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেই মানুষের আবেগ বা মানসিক টান সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না। বিচ্ছেদের পরও সাবেক সঙ্গীর জীবন নিয়ে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক। সেই কৌতূহল থেকেই ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

তবে এই অভ্যাস অনেক সময় নিজের মানসিক শান্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাবেক সঙ্গীর নতুন কোনো ছবি, সম্পর্ক কিংবা আনন্দের মুহূর্ত দেখলে নিজের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করাই উপকারী।

এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

চোখের আড়ালে রাখুন

প্রাক্তনের পোস্ট বা স্টোরি বারবার সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়তে পারে। তাই কিছুদিনের জন্য তাঁকে মিউট বা আনফলো করে রাখতে পারেন। এতে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ না করেও তাঁর আপডেট আপনার সামনে আসা কমানো সম্ভব।

প্রয়োজনে কয়েক দিনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বিরতি নেওয়া যেতে পারে। অবশ্যই সবাইকে ব্লক করতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। নিজের মানসিক স্বস্তির জন্য যে সিদ্ধান্তটি স্বস্তিদায়ক মনে হয়, সেটিই নেওয়া যেতে পারে।

প্রোফাইলে ঢোকার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন

হঠাৎ সাবেক সঙ্গীর প্রোফাইল দেখার ইচ্ছা হলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ঢুকে না পড়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—আসলে আপনি কী জানতে চাইছেন?

তিনি আপনাকে মিস করছেন কি না, নতুন সম্পর্কে আছেন কি না, নাকি শুধু অভ্যাসের কারণে তাঁর প্রোফাইল খুলতে চাইছেন—কারণটি বোঝার চেষ্টা করুন।

অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য নয়, শুধু কৌতূহল বা পুরোনো অভ্যাসের কারণেই মানুষ সাবেকের প্রোফাইলে ঢোকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।

অন্য কাজে মন দিন

প্রোফাইল দেখার তাগিদ অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন হাতে না নিয়ে অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। গান শোনা, হাঁটতে বের হওয়া, বন্ধুকে ফোন বা মেসেজ করা, বই পড়া কিংবা সিনেমা দেখার মতো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে।

মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্যদিকে মনোযোগ ধরে রাখতে পারলেও অনেক সময় প্রোফাইল দেখার তীব্র ইচ্ছা কমে যায়। নিয়মিত এমনটি করতে পারলে ধীরে ধীরে পুরোনো অভ্যাসটিও দুর্বল হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে বাস্তব জীবনকে তুলনা করবেন না

সাবেক সঙ্গী হয়তো নতুন ছবি পোস্ট করেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরছেন কিংবা বেশ হাসিখুশি সময় কাটানোর ছবি দিয়েছেন। এসব দেখে মনে হতে পারে, তিনি আপনাকে ছাড়াই খুব ভালো আছেন।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনের পুরো চিত্র দেখা যায় না। সাধারণত আনন্দের মুহূর্ত, ভ্রমণ, সাফল্য কিংবা বিশেষ ঘটনাগুলোই বেশি প্রকাশ করা হয়। ফলে অনলাইনে কাউকে দেখে তাঁর পুরো মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ধারণা করা ঠিক নয়।

তাই সাবেক সঙ্গীর অনলাইন জীবনের সঙ্গে নিজের বর্তমান অবস্থার তুলনা না করাই ভালো। কে কত দ্রুত এগিয়ে গেলেন—এমন কোনো প্রতিযোগিতাও নেই।

নিজেকে সাত দিনের চ্যালেঞ্জ দিন

অভ্যাসটি কমানোর জন্য ছোট একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। যেমন—টানা সাত দিন সাবেক সঙ্গীর কোনো পোস্ট, স্টোরি বা প্রোফাইল দেখবেন না।

প্রথম কয়েক দিন বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। বারবার প্রোফাইলে ঢোকার ইচ্ছাও হতে পারে। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই তাগিদ অনুযায়ী কাজ না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং অন্য কোনো কাজে মন দিন।

সাত দিন পর নিজের অনুভূতি খেয়াল করুন। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় প্রোফাইল দেখার তাড়না কিছুটা কমে গেছে।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর প্রতি কৌতূহল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁর জীবনে কী ঘটছে তা জানতে গিয়ে যদি নিজের মন খারাপ হয়, উদ্বেগ বাড়ে বা স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেকের জীবন অনুসরণ করার বদলে নিজের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, কাজ, বন্ধু ও পছন্দের কাজগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়াই ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: এই সময়

কালের আলো/এসএ

ইউএনজিএর ফাঁকে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ইউএনজিএর ফাঁকে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য শুধু বৈশ্বিক ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরার মঞ্চ হয়ে থাকছে না; এর ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্ত করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার মতো খাত সামনে এসেছে। ফলে এবারের সফরে বাংলাদেশের কূটনীতিতে রাজনৈতিক যোগাযোগের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।

  • নিউইয়র্কে বৈঠকের টেবিলে বাংলাদেশের নতুন অংশীদারত্ব
  • ধারাবাহিক আলোচনায় সামনে এলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও স্বাস্থ্য

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব এ কে এম নাজমুল হক জানান, বিভিন্ন দেশের সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইউরোপের দরজায় ক্রোয়েশিয়া
২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনার তাৎপর্য কেবল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি আরও বহুমুখী হতে পারে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর আলোচনা সম্পর্কটিকে অর্থনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করছে।

থাইল্যান্ডে আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকেও উঠে আসে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করেন।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে আনুতিন চার্নভিরাকুলের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। একই মঞ্চে ধারাবাহিক উপস্থিতির বাইরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠক আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে।

বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এ সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের অবকাশ তৈরি হয়েছে।

সুইডেনের সঙ্গে স্বাস্থ্য কূটনীতিতে জোর
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের স্টেনারগার্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। ইউএনএফপিএ আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারির ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতের এই সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

অর্থনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি মানব উন্নয়নভিত্তিক সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অংশীদারত্বের পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কেন্দ্রে অর্থনীতি
নিউইয়র্কের বৈঠকগুলোর দিকে একসঙ্গে তাকালে একটি অভিন্ন প্রবণতা চোখে পড়ে—বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে আরও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে যুক্ত করা হচ্ছে একই কাঠামোয়।

এর ফলে ইউএনজিএর মতো বহুপক্ষীয় আয়োজন বাংলাদেশের জন্য শুধু বৈশ্বিক বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ নয়, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করার ক্ষেত্রও হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার আলাদা আলাদা ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য একটি বিস্তৃত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক সফরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করা। এখন এসব আলোচনাকে কার্যকর প্রকল্প, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগে রূপ দেওয়া গেলে ইউএনজিএর কূটনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে আরও দৃশ্যমান ফল বয়ে আনতে পারে।

কালের আলো/টিই/এমকে

ভালোবাসা, শক্তি ও শুভ সূচনার প্রতীক—লাল বেনারসির পেছনে যে কারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ভালোবাসা, শক্তি ও শুভ সূচনার প্রতীক—লাল বেনারসির পেছনে যে কারণ

বিয়ে শুধু দুজন মানুষের একসঙ্গে জীবন শুরু করার আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শতাব্দীপ্রাচীন নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতি। সময়ের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন, পোশাক ও সাজসজ্জায় অনেক পরিবর্তন এলেও কনের পোশাকে লাল রঙের আধিপত্য এখনো বেশ শক্তিশালী।

বিশেষ করে বাঙালি বিয়ের কথা বললে লাল বেনারসির কথা যেন অবধারিতভাবেই চলে আসে। টুকটুকে লাল শাড়ি, সোনালি জরির কাজ, গয়না ও ঐতিহ্যবাহী সাজে নববধূর উপস্থিতি বিয়ের অনুষ্ঠানে আলাদা আবহ তৈরি করে। যদিও এখন অনেক কনে লালের বদলে প্যাস্টেল, গোলাপি, মেরুন, সবুজ কিংবা অন্য নানা রঙের পোশাক বেছে নিচ্ছেন, তবু বিয়ের পোশাক হিসেবে লালের জনপ্রিয়তা এখনো কমেনি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিয়েতে কনের পোশাকের ক্ষেত্রে লাল রঙই এত বেশি প্রচলিত হলো কেন?

লালের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে লাল রঙের সঙ্গে শক্তি, প্রাণশক্তি, সৌভাগ্য ও শুভ সূচনার ধারণা জড়িয়ে আছে। তাই বিয়ের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন অধ্যায়ের শুরুতে লাল রঙকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

বিয়ের প্রেক্ষাপটে লালকে অনেক সময় ভালোবাসা, আবেগ, উর্বরতা, সমৃদ্ধি ও দাম্পত্য সুখের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। ফলে নববধূর পোশাকে এই রঙের ব্যবহার শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিশ্বাসও জড়িয়ে রয়েছে।

পারিবারিক ও সামাজিক ঐতিহ্য

বিয়েতে লাল পোশাক জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য। অনেক পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কনেকে লাল শাড়িতে দেখার একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে লাল বেনারসি এখনো বিয়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রতীক। ফলে কনের নিজের পছন্দের পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক রীতির বিষয়টিও পোশাক নির্বাচনে প্রভাব ফেলে।

ধর্মীয় ও আঞ্চলিক প্রভাব

হিন্দু বিয়েতে লাল রঙের পোশাকের ব্যবহার দীর্ঘদিনের পরিচিত রীতি। বাঙালি হিন্দু কনের সাজে লাল বেনারসির উপস্থিতি তাই খুবই স্বাভাবিক। অন্যদিকে মুসলিম বিয়েতেও দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক প্রভাবে লাল পোশাকের জনপ্রিয়তা রয়েছে।

অবশ্য বিয়ের পোশাকের রীতি অঞ্চল, পরিবার, ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে বদলে যায়। তাই সব বিয়েতেই কনের পোশাক লাল হবে—এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই।

লাল কেন এত আকর্ষণীয়?

লাল একটি উজ্জ্বল ও দৃষ্টিনন্দন রং। বিয়ের অনুষ্ঠানের আলো, সাজসজ্জা ও গয়নার সঙ্গে লাল শাড়ি বা লেহেঙ্গার সমন্বয় সহজেই নজর কাড়ে। সোনালি জরির কাজ কিংবা গয়নার সঙ্গে লালের বৈপরীত্য কনের সাজকে আরও জমকালো করে তোলে।

এ কারণেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লাল বেনারসি বাঙালি বিয়ের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হয়ে আছে।

বদলাচ্ছে কনের পছন্দ

সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি ও ফ্যাশনে পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক কনে ঐতিহ্যবাহী লালের বদলে হালকা বা প্যাস্টেল রঙের শাড়ি, লেহেঙ্গা কিংবা গাউন বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার মেরুন, গোলাপি, কমলা, সবুজ কিংবা অফ-হোয়াইটের মতো রঙও পছন্দ করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফ্যাশন ট্রেন্ড ও আন্তর্জাতিক বিয়ের সাজের প্রভাবেও এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবু লাল এখনো বিয়ের পোশাকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী রঙগুলোর একটি।

নতুন জীবনের প্রতীক

বিয়ে অনেকের কাছে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আর লাল রঙকে যেহেতু ভালোবাসা, আবেগ ও প্রাণশক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তাই নতুন জীবনের শুরুতে এই রঙ বেছে নেওয়ার মধ্যে একটি প্রতীকী অর্থও খুঁজে পাওয়া যায়।

সুতরাং বিয়ের কনের লাল পোশাক শুধু একটি ফ্যাশন বা সাজের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংস্কৃতি, পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি, ভালোবাসা এবং নতুন জীবনের প্রত্যাশা। সময়ের সঙ্গে কনের পোশাকে নতুন নতুন রং যোগ হলেও লাল বেনারসির সেই চিরচেনা আবেদন এখনো বাঙালি বিয়ের অন্যতম পরিচিত অনুষঙ্গ।

সূত্র: এই সময়

কালের আলো/এসএ