খুঁজুন
                               
, ,
           

৪ দিনে ৩০টি বৈঠকে সশরীরে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
৪ দিনে ৩০টি বৈঠকে সশরীরে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি আরও বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মাহদী বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আমরা নতুন পর্যায়ে নিতে চাই।

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

মাহদী বলেন, বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দিয়েছেন।

মাহদী আমিন বলেন, এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন বলে তিনি জানান।

চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাহদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দুর্গম কয়রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা, ভাসমান হাসপাতালে রোগীর ঢল

কয়রা(খুলনা)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
দুর্গম কয়রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা, ভাসমান হাসপাতালে রোগীর ঢল

খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন প্রত্যন্ত এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে ‘কিং আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ’ ভাসমান হাসপাতাল। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিনামূল্যের ওষুধ নিতে হাসপাতালটিতে ভিড় করছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়নি গ্রামে শাকবাড়িয়া নদীতে নোঙর করা হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই রোগীদের দীর্ঘ সারি। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, আবার কেউ একাই চিকিৎসা নিতে এসেছেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের সামনে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালটিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই কয়রার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এ সেবা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের জাহানারা পারভীন পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তিনি জানান, এখানে ভালো চিকিৎসা দেওয়া হয় শুনেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসেছেন।

বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামের বয়স্ক রোগী লতিকা ঘোড়ামীও চিকিৎসা নিতে এসেছেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন তিনি।

হাসপাতালটিতে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি দাঁত ও চোখের চিকিৎসা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছোটখাটো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ জন রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। গত ১৫ জুলাই মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়নি গ্রামে হাসপাতালটি নোঙর করা হয়। একজন মেডিকেল অফিসার, দুজন সহকারী, চারজন টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্টসহ মোট ২২ জন কর্মী হাসপাতালে কাজ করছেন।

ফ্রেন্ডশিপের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আক্তার বলেন, হাসপাতালটি এলাকায় তিন থেকে চার মাস অবস্থান করবে। এ সময়ে কয়রার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কয়রার দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। যাতায়াতের সমস্যার কারণে অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হন। এসব মানুষের কথা বিবেচনা করেই ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় কয়রার অনেক মানুষের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক মাসের জন্য হলেও ভাসমান হাসপাতালের সেবা স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালটি আরও কিছুদিন এলাকায় থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের আরও মানুষ চিকিৎসার আওতায় আসবেন বলে আশা করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

হিটলারের ভাগনির মৃত্যু, ৯৫ বছর পর রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
হিটলারের ভাগনির মৃত্যু, ৯৫ বছর পর রহস্য

প্রায় ৯৫ বছর আগে জার্মানির মিউনিখ শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল এক তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ। বুকে গুলি লেগে মারা যাওয়া ওই তরুণীর নাম অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবাল। বয়স মাত্র ২৩ বছর। তদন্তের পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছিল মিউনিখ পুলিশ। কিন্তু মৃত তরুণীর পরিচয় এবং ঘটনাস্থল সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রহস্যে পরিণত হয়।

গেলি ছিলেন নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সৎভাগনি। তাঁর মা অ্যাঞ্জেলা ফ্রান্সিসকা জোয়ান্না ছিলেন হিটলারের সৎবোন। হিটলারের সঙ্গে গেলির সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি ছিল হিটলারের। যে পিস্তল থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল, সেটিও হিটলারের বলে তদন্তে উঠে আসে।

এত বছর ধরে প্রচলিত ইতিহাস ছিল—গেলি ১৯৩১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে আত্মহত্যা করেন। আর তার আগের দিন ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে হিটলার মিউনিখ ছেড়ে নুরেমবার্গের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। ফলে গেলির মৃত্যুর সময় হিটলার ঘটনাস্থলে ছিলেন না—এই সময়রেখাই দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নকে দুর্বল করে রেখেছিল।

কিন্তু নতুন কিছু পুরোনো নথি সেই সময়রেখাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সরকারি নথিতে মৃত্যুর তারিখ এক দিন আগে

জার্মান ইতিহাসবিদ হ্যারল্ড স্যান্ডনার মিউনিখের সরকারি মৃত্যু নিবন্ধনের নথি পর্যালোচনা করে দাবি করেছেন, গেলি রাউবালের মৃত্যু ১৯ সেপ্টেম্বর নয়, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩১ সালের সকালেই হয়েছিল।

মিউনিখের সরকারি মৃত্যু নিবন্ধনের নথিতে তাঁর মৃত্যুর সময় উল্লেখ করা হয়েছে—১৮ সেপ্টেম্বর, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট। শুধু একটি নথিই নয়, আর্কাইভে পাওয়া দুটি মৃত্যুসংবাদেও ১৯৩১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখটি উল্লেখ রয়েছে।

নতুন এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এত দিন ধরে প্রচলিত পুলিশি বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে হিটলারের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে গেলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

অর্থাৎ নতুন নথিগুলো সঠিক হলে, গেলির মৃত্যুর সময়টি প্রচলিত সময়ের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে।

আর তখন হিটলার মিউনিখেই ছিলেন।

পুলিশের বর্ণনায় কী ছিল

মিউনিখ পুলিশের পুরোনো তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে গেলির ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় হিটলারের ব্যক্তিগত কর্মচারী জর্জ উইন্টার দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন।

সেখানে মেঝেতে পড়ে থাকা গেলির মরদেহ দেখতে পান তিনি। তাঁর বুকে গুলির আঘাত ছিল।

তদন্তের পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত বর্ণনায় বলা হয়, হিটলার এর আগের দিন বিকেলেই মিউনিখ ছেড়ে নুরেমবার্গের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

এই সময়ের হিসাবের ওপরই এত দিন দাঁড়িয়ে ছিল গেলির মৃত্যুকে ঘিরে প্রচলিত ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু সরকারি মৃত্যু নিবন্ধনের নথিতে যদি সত্যিই ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মৃত্যুর কথা লেখা থাকে, তাহলে সেই সময় হিটলার মিউনিখে ছিলেন।

হিটলার কি ঘটনাস্থলে ছিলেন?

নতুন নথির সবচেয়ে বড় তাৎপর্য এখানেই।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হিটলার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিউনিখ ছাড়েন। আর সরকারি মৃত্যু নিবন্ধন অনুযায়ী, গেলি মারা যান ওই দিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে।

অর্থাৎ গেলির মৃত্যুর সময় হিটলার মিউনিখেই ছিলেন।

শুধু তা-ই নয়, ঘটনাটি ঘটেছিল হিটলারের নিজের অ্যাপার্টমেন্টে। ব্যবহৃত পিস্তলটিও ছিল তাঁর।

তবে ইতিহাসবিদেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন—এই তথ্যগুলো হিটলারের উপস্থিতি ও ঘটনাটির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করলেও, এগুলো একা হিটলারই গেলিকে হত্যা করেছিলেন—এমন সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে না।

পুলিশের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন

নতুন নথি সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ইতিহাসবিদ হ্যারল্ড স্যান্ডনারের ধারণা, ঘটনাটি নিয়ে তৎকালীন তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু তথ্য আড়াল করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, তদন্তে যুক্ত কিছু পুলিশ কর্মকর্তা নাৎসি পার্টির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং হিটলারকে ঘটনাটির বাইরে রাখার চেষ্টা করে থাকতে পারেন।

স্যান্ডনারের এই অনুসন্ধান প্রথম প্রকাশ করে জার্মানির সংবাদ সাময়িকী ‘ডের স্পিগেল’। বিষয়টি নিয়ে তাঁর একটি বইও প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। বইটির নাম ‘দ্য ডেথ অব অ্যাঞ্জেলা “গেলি” রাউবাল: সুইসাইড অর ফাউল প্লে?’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কেন এমন কোনো পরিবর্তন বা তথ্য গোপনের প্রয়োজন হয়েছিল, সেটিও এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

হিটলার ও গেলির সম্পর্ক কেমন ছিল

গেলি রাউবাল ছিলেন হিটলারের সৎবোন অ্যাঞ্জেলা হামিটশের বড় মেয়ে। হিটলারের সৎবোন তাঁর মিউনিখের অ্যাপার্টমেন্টে পরিচারিকার দায়িত্বও পালন করতেন। ১৯২৯ সালে গেলি হিটলারের মিউনিখের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে থাকতে শুরু করেন।

মামা ও ভাগনির সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। তবে সময়ের সঙ্গে গেলির ব্যক্তিগত জীবনের ওপর হিটলারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।

ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, হিটলার গেলির প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন এবং তাঁর আচরণ ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রণমূলক। তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে আরও গুরুতর নানা দাবিও ইতিহাসে রয়েছে। তবে এসব দাবির অনেকটাই বিতর্কিত এবং এ বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

গেলি নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিয়েনায় যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ

গেলি সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করতে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় যেতে চেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উঠে এসেছে। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এ বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে হিটলারের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।

এ কারণেই পরে একটি তত্ত্ব সামনে আসে—গেলি হিটলারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে নিজের মতো জীবনযাপন করতে চেয়েছিলেন।

কেউ কেউ মনে করেন, গেলি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তা নিয়ে হিটলারের মধ্যে ঈর্ষা তৈরি হয়েছিল। এমনকি এই ঈর্ষার কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে।

তবে এসবই ঐতিহাসিক তত্ত্ব ও অনুমান; এগুলোর সবকটির পক্ষে সমান মাত্রার প্রমাণ নেই।

ইতিহাসবিদদের সতর্ক অবস্থান

স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এবারডিনের ইতিহাসবিদ টমাস ওয়েবার স্যান্ডনারের অনুসন্ধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন। স্যান্ডনার তাঁকে নতুন পাওয়া নথিগুলো দেখিয়েছেন।

ওয়েবারের মতে, নথিগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। বিশেষ করে তিনটি আলাদা নথিতে ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ পাওয়া যাওয়ায় এটিকে নিছক কোনো কেরানির ভুল বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বছর ধরে যে সময়ের হিসাব ধরে গেলির মৃত্যুর ঘটনা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, নতুন নথিগুলো সেটিকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে ওয়েবার সরাসরি হিটলারকে হত্যার জন্য দায়ী করার পক্ষে অবস্থান নেননি।

তাঁর মতে, গেলির মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা গোপন করার অন্য কারণও থাকতে পারে।

রাজনৈতিক ভাবমূর্তিও হতে পারে একটি কারণ

গেলির মৃত্যুর সময়টি যদি সত্যিই ১৮ সেপ্টেম্বর হয়ে থাকে, তাহলে হিটলার ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন—এমন প্রশ্ন উঠবে। কিন্তু কেন ঘটনাটি নিয়ে তথ্য গোপন করা হতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও ইতিহাসবিদ ওয়েবার দিয়েছেন।

১৯৩১ সালে হিটলার তখনো জার্মানির সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছাননি। তবে নাৎসি পার্টি দ্রুত রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছিল। হিটলার মূলধারার ডানপন্থী ও রক্ষণশীলদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এ সময় কোনো বড় ধরনের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কেলেঙ্কারি তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারত।

তাই ঘটনার প্রকৃত কারণ যাই হোক না কেন, সেটি গোপন রাখার রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথা ইতিহাসবিদেরা বিবেচনা করছেন।

আত্মহত্যা, নাকি অন্য কিছু?

গেলি রাউবালের মৃত্যু নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো একই রয়ে গেছে—তিনি কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন?

প্রচলিত ইতিহাসের উত্তর ছিল, হ্যাঁ। কিন্তু নতুন নথি সেই ইতিহাসের সময়রেখায় বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখিয়েছে।

যদি ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে গেলির মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে হিটলার তখন মিউনিখে ছিলেন। তিনি পরে ওই দিন বিকেলে শহর ছাড়েন। আবার মৃত্যুর ঘটনাস্থল ছিল তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট এবং ব্যবহৃত অস্ত্রও ছিল তাঁর।

এসব তথ্য একসঙ্গে রাখলে ঘটনাটি নতুন করে তদন্তের মতো প্রশ্ন তৈরি করে। তবে শুধু সময় ও স্থান মিলছে না—এমন তথ্যের ভিত্তিতে হিটলারই হত্যাকারী ছিলেন বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

প্রায় এক শতাব্দী পর নতুন নথিগুলো মূলত একটি পুরোনো রহস্যকে আবার সামনে এনেছে। গেলির মৃত্যুর প্রকৃত সময় নিয়ে এখন নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, পুলিশের পুরোনো তদন্ত নিয়েও সন্দেহ উঠেছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী ঘটেছিল, সে প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

ইতিহাসের পাতায় তাই অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবালের মৃত্যু এখনো একটি রহস্য হয়েই রয়েছে—তবে নতুন নথি সেই রহস্যের সময়রেখাটিকে অন্তত এক দিন পিছিয়ে দিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, ওসি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, ওসি প্রত্যাহার

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টার থেকে জারি করা এক কার্যালয় আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, শাহ আলী থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরের সদর সপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন।

পরে হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা নিশ্চিত করতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি