খুঁজুন
                               
, ,
           

ভূমি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দেশের সেরা চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ভূমি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দেশের সেরা চট্টগ্রাম

অনলাইনে ভূমিসেবা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দেশের সব জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। গত চার মাসে জেলায় অনলাইনে জমা পড়া ৮৮২টি অভিযোগের মধ্যে ৪৮৬টি নিষ্পত্তি করেছে সংশ্লিষ্ট ভূমি কার্যালয়গুলো। অভিযোগ নিষ্পত্তির সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ময়মনসিংহের চেয়ে চট্টগ্রামে ২৮৯টি বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (জিআরএস) থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ মে থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে অনলাইনে ভূমিসেবা-সংক্রান্ত এসব অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে ময়মনসিংহে ১৯৭টি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, যার হার ৪১ শতাংশ।

অভিযোগ নিষ্পত্তির সংখ্যার হিসাবে চট্টগ্রামের পর রয়েছে ময়মনসিংহ ১৯৭টি, পাবনা ১৭০, বগুড়া ১৬২, যশোর ১৬০, নোয়াখালী ১৫৭, ঢাকা ১৪৪ এবং রাজশাহী ১৪৩টি।

এদিকে, একই সময়ে সারা দেশে অনলাইনে মোট ১৫ হাজার ২০১টি ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৩৮৪টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে ১০ হাজার ৮১৭টি অভিযোগ। জাতীয় পর্যায়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ২৯ শতাংশ। সে হিসাবে চট্টগ্রামের নিষ্পত্তির হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

অনলাইনে অভিযোগ করে ভূমিসেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন চট্টগ্রামের কয়েকজন নাগরিক। নগরের কাট্টলী সার্কেল ভূমি কার্যালয়ের অধীন একজন অভিযোগকারী শফিকুল ইসলাম খান জানান, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে তিনি জিআরএসে অভিযোগ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। এরপর তার ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সমস্যা সমাধান হয় এবং তিনি অনলাইনে দাখিলাও পান।

হাটহাজারী উপজেলার আরেক অভিযোগকারী নুরদ্দীন জানান, অনলাইনে অভিযোগ করার পর তার সমস্যার সমাধান হয়েছে। পরে ডাকযোগে তিনি নামজারি খতিয়ানও পেয়েছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশের অনেক মামলা ও বিরোধের পেছনে ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতার কারণে নাগরিকদের যাতে মামলা, হয়রানি ও ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ ও সমস্যা সমাধানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভূমিসেবা সহজ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ভূমিসেবা-সংক্রান্ত অভিযোগ অনলাইনে দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা ও ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা

দেশের চার বিভাগে তুলনামূলক ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতে তাপমাত্রা কমতে পারে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদফতর।

পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, স্থল নিম্নচাপটি বর্তমানে উত্তর ছত্রিশগড় ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ মধ্য প্রদেশ, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামীকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আগামী মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামন্য কমতে পারে।

আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মরসিংহ ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বর্ধিত পাঁচদিন আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অন্যের জায়গায় ১২ বছর, এবার আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিনমজুর আশরাফ

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
অন্যের জায়গায় ১২ বছর, এবার আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিনমজুর আশরাফ

নিজের নামে একটুকরো জমিও নেই। বাঁশের খুঁটি, বনের বেড়া ও টিনের চালের জরাজীর্ণ একটি ঘরই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ১২ বছর ধরে দিনমজুর আশরাফ আলীর আশ্রয়। অন্যের জায়গায় কোনোভাবে সংসার চললেও এবার সেই আশ্রয়টুকুও ছাড়তে হবে তাকে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ঘর সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে জায়গার মালিকের পক্ষ থেকে।

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর এলাকার খামারনাচকৈড় খোয়ারপাড়া মহল্লায় স্ত্রী, তিন কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও এক স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন ৫৭ বছর বয়সী আশরাফ আলী। জায়গার মালিক সেখানে বাড়ি নির্মাণ করবেন। ফলে ঘর সরিয়ে নেওয়ার পর পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

আশরাফ আলী মৃত শুকুর মাহমুদের ছেলে। তার বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বাকি তিন মেয়ে কলেজে পড়ছেন। একমাত্র ছেলে স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি চাঁচকৈড় বাজারের একটি দোকানে কাজ করে। ছয় সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের প্রধান দায়িত্ব আশরাফের ওপর।

দিনমজুরি করেই চলে তার সংসার। কখনো ইট ভাঙেন, কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন, আবার কখনো কৃষিশ্রমিকের কাজ করেন। প্রতিদিন কাজও মেলে না। যেদিন কাজ থাকে, সেদিন কোনোভাবে সংসারের খরচ চলে; কাজ না থাকলে নিত্যপ্রয়োজন মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, নওশের মোল্লার জায়গায় ছোট একটি ছাপরা ঘর তুলে প্রায় ১২ বছর ধরে বসবাস করছে আশরাফের পরিবার। জরাজীর্ণ ঘরটির অবস্থা খুবই নাজুক। বৃষ্টি হলে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে, মেঝেতে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় চাল উড়ে যাওয়ার আশঙ্কাতেও আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারটিকে।

একটি ঘরেই পরিবারের সদস্যদের থাকা, খাওয়া ও পড়াশোনা। তিন কলেজপড়ুয়া মেয়ের আলাদা করে পড়ার জায়গা নেই। রাতে ঘুমানোর সময় বই-খাতা গুটিয়ে রাখতে হয়। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আশরাফ আলী বলেন, ‘জায়গার মালিক তাঁর বাড়ি করবেন, এটা তাঁর অধিকার। কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তিন মেয়ে কলেজে পড়ে, ছেলেটাও ছোট। সরকার যদি মাথা গোঁজার মতো একটু জায়গা আর একটা ঘর করে দেয়, সন্তানদের নিয়ে অন্তত নিশ্চিন্তে থাকতে পারতাম।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন হাসান ও স্বাধীন তালুকদার বলেন, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে বসবাস করছে। তাদের নিজেদের কোনো জমি নেই এবং আয়ও অনিয়মিত। সরকারি পুনর্বাসন বা আবাসন সহায়তা পেলে পরিবারটির স্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা হতে পারে। এতে সন্তানদের পড়াশোনাও নিরাপদ পরিবেশে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, পরিবারটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। সরকারি কোনো সহায়তার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিন মাস পর জরাজীর্ণ ঘরটিও হারাবেন আশরাফ আলী। দীর্ঘদিনের এই আশ্রয় হারানোর আগে সরকারি সহায়তায় একটি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়াই এখন পরিবারটির একমাত্র প্রত্যাশা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

কিশোর গ্যাংয়ের সুতো কার হাতে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
কিশোর গ্যাংয়ের সুতো কার হাতে?

কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান হচ্ছে নিয়মিত। ধরা পড়ছে কিশোররা। হচ্ছে মামলা। কাউকে পাঠানো হচ্ছে আদালতে। কাউকে মুচলেকায় তুলে দেওয়া হচ্ছে অভিভাবকের হাতে। কিন্তু অপরাধের নেপথ্যে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ‘বড় ভাই’দের বড় অংশই থেকে যাচ্ছে অদৃশ্য। ধরা পড়ছে অপরাধের দৃশ্যমান মুখ। যদিও অক্ষত থাকছে তার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

  • সামনে কিশোর, পেছনে প্রাপ্তবয়স্কদের নেটওয়ার্ক
  • চার হাজারের বেশি সক্রিয় সদস্য, গ্যাং ৩৮৬
  • অভিযান ও গ্রেপ্তারের বাইরে নেপথ্যের অর্থ
  • পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি

সম্প্রতি কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সি ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে ৪৫১ কিশোরকে মুচলেকায় অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৭৩ জনকে সোপর্দ করা হয় আদালতে।

কিন্তু এত বড় অভিযানের পরও প্রশ্ন থেকে যায়—এই কিশোরদের অপরাধে নামাল কারা? অস্ত্র, অর্থ কিংবা আশ্রয় এল কোথা থেকে? আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো ‘বড় ভাই’ বা শেল্টারদাতা ছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

গ্যাং বাড়ছে, থামছে না অভিযানেও
পুলিশের তথ্যেই সংকটের বিস্তার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে কিশোর গ্যাং ছিল ১৭৩টি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হিসাবে সেই সংখ্যা ৩৮৬। চার বছরেরও কম সময়ে সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। সক্রিয় সদস্য চার হাজারের ওপরে।

রাজধানীতে দেড় শতাধিক গ্যাংয়ের সদস্য প্রায় দুই হাজার। ঢাকার বাইরে সক্রিয় ২২৭টি গ্যাংয়ের সদস্য প্রায় ২ হাজার ৫৫০ জন। চট্টগ্রাম মহানগরেই রয়েছে ৯৮টি গ্যাং। সিলেটে ১৫টি, রাজশাহী ও গাজীপুরে ১৩টি করে এবং খুলনায় সাতটি।

সংখ্যার এই বৃদ্ধি দেখাচ্ছে, কিশোর গ্যাং আর বিচ্ছিন্ন কিছু কিশোরের অপরাধ নয়। এটি এখন স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত একটি অপরাধী কাঠামো—যার সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

সামনে ‘ছোট ভাই’, পেছনে বড়রা
ডিএমপির একটি থানার সাবেক ওসি এস এম জাকারিয়ার অভিজ্ঞতায় অনেক কিশোর গ্যাংয়ে তিন স্তরের কাঠামো রয়েছে—‘বড় ভাই’, ‘মেজো ভাই’ ও ‘ছোট ভাই’। ২৫ বছরের বেশি বয়সিরা বড় ভাই, ১৮ থেকে ২৩ বছর বয়সিরা মেজো ভাই এবং ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সিরা ছোট ভাই গ্রুপে থাকে।

বড়দের ছত্রচ্ছায়ায় মেজো ভাইয়েরা চাঁদাবাজি, খুন, অস্ত্র দিয়ে হামলা ও মারামারির মতো গুরুতর অপরাধে জড়ায়। ছোটদের ব্যবহার করা হয় চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে। এই কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—অপরাধের সময় সামনে থাকে কিশোর, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে পেছনে। ফলে পুলিশের হাতে সহজে আসে ‘হাত’, অথচ ‘মাথা’ থেকে যায় আড়ালে।

পৃষ্ঠপোষক বদলালেও কাঠামো বহাল
কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রভাবশালীদের সম্পর্কের অভিযোগও পুরোনো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে পুলিশের এক প্রতিবেদনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২১ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর আগেও পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে শেল্টারদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু অভিযোগের পর কতজন পৃষ্ঠপোষকের বিরুদ্ধে তদন্ত, মামলা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হয়েছে—তার পরিষ্কার হিসাব নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পৃষ্ঠপোষক বদলালেও মাঠপর্যায়ের গ্যাং কাঠামো টিকে আছে। কোথাও কোথাও যুক্ত হয়েছে নতুন সদস্যও।

বয়সের সুরক্ষায় প্রভাবশালীদের সুযোগ
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুকের মতে, শিশু-কিশোরদের বয়স বিবেচনায় আইনে থাকা সুযোগকে ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের সহজ টার্গেটে পরিণত করছেন।

তার মতে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আইনের দুর্বলতাও কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বিস্তারের পেছনে ভূমিকা রাখছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এক দশকের বেশি সময় ধরে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটলেও রাষ্ট্র এখনো এর মূল চালিকাশক্তিকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি। স্থানীয় পর্যায়ে কারা কিশোরদের আশ্রয় দিচ্ছে, কারা অর্থ বা অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে—অনেক ক্ষেত্রেই তা জানা থাকলেও ভয় ও প্রভাবের কারণে তা প্রকাশ্যে আসে না।

আইনের আওতায় আনতে হবে পৃষ্ঠপোষকদেরও
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার করে সমস্যার সমাধান হবে না; তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এখানেই কিশোর গ্যাং দমনের প্রচলিত পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়। ৬২৪ জনকে আটক করা হলো—কিন্তু তাদের মধ্যে কতজন সক্রিয় গ্যাং সদস্য, কারা নির্দেশদাতা এবং কারা নেপথ্যে অর্থ-আশ্রয় দিচ্ছে, সেই স্তরগুলো আলাদা করে বের করতে হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে