খুঁজুন
                               
, ,
           

এলপিজির সংকট কোথায়—আমদানিতে নাকি দামে?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
এলপিজির সংকট কোথায়—আমদানিতে নাকি দামে?

বাজারে এলপিজি আছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। সিলিন্ডারের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছেন ভোক্তা! কোথাও পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। আর এই সংকটের নেপথ্যে উঠে আসছে আমদানির খরচের বড় পরিবর্তন। এলপিজি আমদানিতে টনপ্রতি প্রিমিয়াম এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০০ ডলারে উঠেছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে সেই বাড়তি ব্যয় সমন্বয়ের সুযোগ নেই। ফলে অনেক আমদানিকারক নতুন করে এলপিজি আনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

  • বাজারে চাহিদার অর্ধেক সরবরাহ
  • প্রিমিয়াম দ্বিগুণ হলেও নির্ধারিত দামে সমন্বয় নেই
  • মুখোমুখি বিইআরসি–আমদানিকারক

খুচরা বাজারে এর প্রভাব ইতিমধ্যে স্পষ্ট। ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। গত দুই মাস ধরে বাজারে এটি প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও গত কয়েক দিনে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা; আর সরকারি দামের তুলনায় বেশি দিতে হচ্ছে ৫৬৫ টাকা পর্যন্ত।

চাহিদা ২০০, সরবরাহ ১০০
রাজধানীর খুচরা বাজারে সংকটের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে সরবরাহের হিসাবেই। বনশ্রী সি ব্লকের এক বিক্রেতা জানান, ২০০ সিলিন্ডারের অর্ডার দিলে এক সপ্তাহ পর পাওয়া যাচ্ছে ১০০টি। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেকও পূরণ হচ্ছে না। রামপুরার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, গত মাসেও ১ হাজার ৮০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছেন। বুধবার একই সিলিন্ডারের জন্য তাকে দিতে হয়েছে ২ হাজার ১৫০ টাকা। বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা জানিয়েছেন, কোম্পানি থেকেই দাম বেড়েছে।

খুচরা পর্যায়ের এই সংকটকে শুধু বাজার কারসাজি হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল জায়গাটি বাদ পড়ে যায়। কারণ সরবরাহ কমার সঙ্গে আমদানিকারকদের নতুন চালান আনার অনাগ্রহের সম্পর্ক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

প্রিমিয়ামই বড় বাধা
টিএমএসএস এলপিজির কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, গত মাসেও এলপিজি আমদানিতে টনপ্রতি প্রিমিয়াম ছিল ১২০ থেকে ১৬০ ডলারের মধ্যে। এখন তা বেড়ে প্রায় ৩০০ ডলারে উঠেছে। এই প্রিমিয়াম মূলত জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল দাম অপরিবর্তিত থাকলেও দেশে পৌঁছানোর আগেই আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

সমস্যা হচ্ছে, বিইআরসি মাসের শুরুতে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দেয়। চলতি মাসের দামও ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে সেই বাড়তি খরচ তাৎক্ষণিকভাবে খুচরা দামে সমন্বয়ের সুযোগ থাকে না। ফলে আমদানিকারকের সামনে তৈরি হচ্ছে কঠিন হিসাব—বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়ে এলপিজি আনলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করে লোকসানের ঝুঁকি, আর না আনলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা।

আমদানি থাকলেও সংকট
বিইআরসি অবশ্য বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা মানতে নারাজ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি এসেছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এসেছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন। আগের মাসগুলোতেও ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে।

তার বক্তব্য, আমদানির এই পরিমাণ বিবেচনায় বাজারে সংকট থাকার কথা নয়। আমদানিকারকেরা যে পরিমাণ প্রিমিয়াম বৃদ্ধির কথা বলছেন, সেটিও বিইআরসির কাছে অতিরিক্ত বলে মনে হচ্ছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে প্রিমিয়াম ছিল ১৬০ ডলার; এখন আমদানিকারকেরা ৩০০ ডলার চাইছেন।

এখানেই সংকটের দুটি ভিন্ন ছবি সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি আসছে। অন্যদিকে খুচরা বাজার বলছে, চাহিদা অনুযায়ী পণ্য মিলছে না। আর আমদানিকারকদের যুক্তি—বাড়তি প্রিমিয়ামের কারণে নতুন চালান আনা অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে।

দামের হিসাবেও ফাঁক
বিইআরসি প্রতি মাসে সৌদি আরামকোর নির্ধারিত প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। দেশে আমদানি করা এলপিজিতে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫।

গত মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী প্রোপেনের দাম ছিল টনপ্রতি ৬২৫ ডলার এবং বিউটেন ৬৬০ ডলার। গড় দাম দাঁড়ায় ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এর সঙ্গে টনপ্রতি ১৬০ ডলার জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম এবং ডলারের ১২৩ দশমিক ৩০ টাকা বিনিময় হার ধরে সেপ্টেম্বরের দাম নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু বাজারের বাস্তবতা যদি ১৬০ ডলারের জায়গায় ৩০০ ডলারের প্রিমিয়াম দাবি করে, তাহলে নির্ধারিত মূল্য ও আমদানি ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। এই ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত সরবরাহে প্রভাব ফেলছে কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

সংকট ঘনীভূত হওয়ার শঙ্কা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, আমদানিকারকদের কয়েকজন ইতিমধ্যে বিইআরসিকে জানিয়েছেন, আগামী মাসের এলপিজি আনার জন্য তারা জাহাজ পাচ্ছেন না। অর্থাৎ বর্তমান সংকট কেবল খুচরা বাজারের সাময়িক ঘাটতি নয়; আমদানি ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে আগামী মাসে সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশে এক কোটির বেশি পরিবার এলপিজি ব্যবহার করে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ সীমিত হওয়া এবং জ্বালানি কাঠের দাম বাড়ার কারণে আবাসিক বাজারে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও শিল্পেও এর ব্যবহার বাড়ছে। তাই এলপিজির সংকট মানে শুধু একটি সিলিন্ডারের দাম বাড়া নয়; এর প্রভাব পড়তে পারে কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

ইসরায়েল সরকারের সরকারি পাবলিক ম্যাপিং পরিষেবা ‘গভম্যাপ’-এ অল্প সময়ের জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলের উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি দেখা গেছে। এসব ছবিতে যুদ্ধের কারণে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি কয়েকটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও দৃশ্যমান হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে পরে গভম্যাপে গাজার ওই এলাকাগুলোর স্যাটেলাইট ছবি আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে বিষয়টি। অ্যাকাউন্টটি ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি নিয়ে কাজ করে এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর গাজার বিভিন্ন এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

গভম্যাপে দীর্ঘদিন ধরেই গাজা উপত্যকা, ইসরায়েল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি ঝাপসা করে দেখানো হয়। এ কারণে গাজার কিছু এলাকার তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হওয়ার ঘটনাটি ব্যতিক্রমী বলে মনে করা হচ্ছে।

ঝাপসা না থাকা ছবিগুলোর মধ্যে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের মতো এলাকাও ছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে উত্তর গাজার এসব এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় এগুলো ইসরায়েলি সেনাদের সামরিক ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা দেখায় না। তবে ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি সামরিক স্থাপনা বা ঘাঁটির চিত্রও এসব ছবিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এক্স ব্যবহারকারী ‘@Nrg8000’ ছবিগুলো ‘সোয়ার অ্যাটলাস’-এও প্রকাশ করেছেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ছবিগুলোর সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে প্রকাশিত ছবিগুলো গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বেইত হানুনে ব্যাপক ধ্বংস

উত্তর গাজার বেইত হানুন শহরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। ছবিতে অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে শহরটির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে এলাকাটির বড় অংশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুজাইয়ায় ধ্বংসস্তূপ

গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র ফুটে উঠেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে অনেক ভবন ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের চিত্রও স্পষ্ট বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কারনি ক্রসিংয়ে সামরিক উপস্থিতি

গাজা শহরের জেইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কারনি ক্রসিংয়ের আশপাশেও ইসরায়েলি সেনাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রকাশিত ছবির ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, গাজার আরও ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য এলাকাটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পূর্ব জাবালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি

পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মাটির তৈরি উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং বেশ কিছু সামরিক যান দেখা যায়।

যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৯২৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ৪০৮ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৯১৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন স্বাধীন হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

গভম্যাপে অল্প সময়ের জন্য প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিগুলো সেই ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভৌগোলিক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে ছবিগুলোর উৎস, সময়কাল ও নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনার পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা থাকায় এসব তথ্যকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

৩০০ ফিটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের দুই নারী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
৩০০ ফিটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের দুই নারী নিহত

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় এক পুলিশ সদস্যের মা ও স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসানের মা ও স্ত্রী আফরোজা আকতার।

মেহেদী হাসান জানান, রাতে তার মা ও স্ত্রী পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মেহেদী হাসানের মাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত স্ত্রী আফরোজা আকতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে আফরোজা আকতারের মৃত্যু হয়।

মেহেদী হাসান আরও জানান, তাদের বাসা ঢাকার কদমতলী থানার শ্রীধারা এলাকায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আফরোজা আকতারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে নিয়োগ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১২ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে মোট ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬।

পদ ও বেতন

১. হিসাবরক্ষক
পদসংখ্যা: ১টি।
গ্রেড: ১২।
বেতন স্কেল: ১১,৩০০ থেকে ২৭,৩০০ টাকা।

২. সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ৩টি।
গ্রেড: ১৩।
বেতন স্কেল: ১১,০০০ থেকে ২৬,৫৯০ টাকা।

৩. অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
পদসংখ্যা: ৩টি।
গ্রেড: ১৬।
বেতন স্কেল: ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা।

৪. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ৮টি।
গ্রেড: ২০।
বেতন স্কেল: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা।

সব মিলিয়ে চারটি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে মোট ১৫ জনকে।

বয়সসীমা

আবেদনকারীর বয়স ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আবেদন পদ্ধতি

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।

আবেদন ফি

পদের ধরন অনুযায়ী আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

হিসাবরক্ষক পদে আবেদন ফি ১৬৮ টাকা,সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আবেদন ফি ১১২ টাকা,অফিস সহায়ক পদে আবেদন ফি ৫৬ টাকা।

আবেদনের শেষ সময়

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এই নিয়োগে আবেদন করার শেষ তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ