খুঁজুন
                               
, ,
           

কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম  বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

একটি বন্দরের সক্ষমতা শুধু জাহাজ ভেড়ানো কিংবা পণ্য ওঠানামায় মাপা হয় না; কত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নে সেই সেবা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার ওপরও নির্ভর করে বন্দরটির কার্যকারিতা। সেই জায়গাতেই বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। কাগজের ফাইল, কাউন্টারের অপেক্ষা ও ম্যানুয়াল অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে পেছনে ফেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি পেপারলেস ও ‘স্মার্ট পোর্টে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

  • চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের উদ্যোগে সমন্বিত অটোমেশন
  • ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য
  • এক প্ল্যাটফর্মে বিল, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও গেট ব্যবস্থাপনা
  • কমবে সময়, কাগজ ও শারীরিক উপস্থিতি

এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা—যেখানে বিল পরিশোধ থেকে পণ্য ডেলিভারি, গেট পাস থেকে জাহাজের অনুমোদন এবং ট্রাকের প্রবেশ থেকে পার্কিং পর্যন্ত সেবার বড় অংশই পরিচালিত হবে অনলাইনে। চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের দক্ষ নেতৃত্ব ও কার্যকর ধারাবাহিক উদ্যোগে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সেবা ডিজিটাল কাঠামোয় এসেছে। এখন লক্ষ্য সেগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ব্যবস্থায় যুক্ত করা।

কাউন্টার ছাড়াই বন্দরের সেবা
চট্টগ্রাম বন্দরের শতভাগ বিল ইতোমধ্যে অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিলও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপনের পাশাপাশি এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে চালু হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট। ফলে ছুটির দিন কিংবা প্রচলিত ব্যাংকিং সময়ের বাইরেও বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য এর অর্থ সরাসরি—বিল পরিশোধে কাউন্টারে যেতে হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষাও করতে হবে না। একই সঙ্গে কমছে কাগজপত্রের ব্যবহার ও শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন।

৭২ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয় আদায়
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় শুধু গতি নয়, আর্থিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দরের কোনো মাশুল বা ফি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না হলে ‘অটো পুল পেমেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, টিওএসের মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্টের অনলাইন অনুমোদন এবং এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআই ব্যবহার করে অকশন ডেলিভারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলে অনুমোদন, মাশুল আদায় ও পণ্য ডেলিভারির বিভিন্ন ধাপে কাগজনির্ভরতা কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চবকের পরিকল্পনার বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই—আলাদা আলাদা সেবা অনলাইনে নেওয়ার পরিবর্তে পুরো কার্যপ্রবাহকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা।

গেটেই বদলাবে বন্দরের চিত্র
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যানজটের বিষয়টি জড়িয়ে আছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় গেট ব্যবস্থাপনাতেও আনা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন। ই-গেট পাস ইস্যু এবং গেটের ইন-আউট কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। টিওএসের মাধ্যমে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ড টিকিট, ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি চালুর কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

নতুন টিওএস সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে বন্দরে যানবাহনের প্রবেশ, পণ্য সংগ্রহ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও পরিকল্পিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাকের অপেক্ষা কমাতে প্রযুক্তি
বন্দরের ভেতরের যানজট কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে আরও নির্দিষ্টভাবে। টার্মিনালে রুট-বাই-রুট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চালু করা হচ্ছে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা। এর ফলে নির্দিষ্ট রুট ও ব্যবস্থাপনার আওতায় ট্রাক চলাচল করতে পারবে। অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও ঘোরাফেরা কমলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ চাপ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সময়ও সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতৃত্বে গতি, পরিকল্পনায় সমন্বয়
চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেবার গতি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি সফটওয়্যার চালুর বদলে বিলিং, পেমেন্ট, ডেলিভারি, গেট, জাহাজ ও ট্রাক ব্যবস্থাপনাকে একই ডিজিটাল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিয়েল-টাইম ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিল জেনারেশন ও কনফার্মেশনের পাশাপাশি অফডকের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীর একটি কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন কমবে।

চবক কর্মকর্তাদের মতে, এর প্রভাব শুধু সেবা গ্রহণের সময় কমানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দ্রুত মাশুল আদায়, স্বচ্ছ আর্থিক হিসাব, পণ্য খালাসে গতি এবং যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমানোর মাধ্যমে বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতাও বাড়বে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্য, বদলে যাবে সেবার সংস্কৃতি
চট্টগ্রাম বন্দরকে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য প্রযুক্তি সংযোজনের চেয়েও বেশি—এটি বন্দরের সেবা প্রদানের সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। যেখানে একটি বিলের জন্য কাউন্টারে দাঁড়ানো, একটি অনুমোদনের জন্য ফাইল খোঁজা কিংবা গেট পার হওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ধীরে ধীরে অতীতের দৃশ্যে পরিণত হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ পেপারলেস বন্দর গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন হবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ। চবক চেয়ারম্যানও এ লক্ষ্য অর্জনে বন্দর ব্যবহারকারী ও সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা চেয়েছেন। সফল হলে চট্টগ্রাম বন্দরের এই পরিবর্তন শুধু একটি আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থার সংযোজন হবে না; বরং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সেবা ব্যবস্থাপনাকে কাগজের ফাইল থেকে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল অপারেশনে নেওয়ার একটি দৃশ্যমান রূপান্তর হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমকে

তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৬ অপরাহ্ণ
তরুণদের সুস্থ রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

মাদকাসক্তি, মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও হতাশা থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে খেলাধুলার মাঠে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের নেতিবাচক আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।’

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাঠগুলো অবৈধ দখলমুক্ত রেখে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলার মাঠ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দ্রুত স্কুল পর্যায়ে ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ চালুর আহ্বান জানান। বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের ক্রীড়ানুরাগের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনসহ ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন। পরে খেলোয়াড় ও বিচারকদের শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণে শুরু হয় এবারের প্রতিযোগিতা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

ঢাকা–টোকিও সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছে জাপান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

  • জাপানের সঙ্গে আলোচনায় ৮ সমঝোতা স্মারক
  • সই হতে পারে ৪–৫টি; বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা

জাপানের এই বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সফরটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা প্রটোকলভিত্তিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়ছে
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে টোকিওর। একই সঙ্গে হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থান থেকে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা জোরদার হলে তা উন্নয়ন অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত প্রত্যাশাকে কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, তার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আলোচনায় আট সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবগুলো চূড়ান্ত না-ও হতে পারে; এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনাধীন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

এই খাতগুলোর বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো বা উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও সম্পর্কের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান, ভাষাগত দক্ষতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা?
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি বড় সুযোগ হলো উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল কাজে লাগাতে পারলে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ নিতে পারে।

তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সংখ্যাই সম্পর্কের সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। এসব সমঝোতার আওতায় কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ কতটা সরাসরি উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে