খুঁজুন
                               
, ,
           

রিয়াদে ড্রোন হামলার চেষ্টা, হুতিদের দুই ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
রিয়াদে ড্রোন হামলার চেষ্টা, হুতিদের দুই ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি জোট।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক মুখপাত্র এসব তথ্য জানান। তার দাবি, হুতিদের ছোড়া ড্রোন দুটি রিয়াদ এলাকার দিকে এগিয়ে আসছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত করার পর ধ্বংস করে।

খামিস মুশাইতের দিকেও ক্ষেপণাস্ত্র

সৌদি জোটের মুখপাত্র আরও জানান, খামিস মুশাইতের দিকে হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খামিস মুশাইত সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। সেখানে একটি বিমানঘাঁটিও রয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

জাতিসংঘের নিন্দার মধ্যেই নতুন হামলার দাবি

সৌদি আরবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হুতিদের হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব হামলার নিন্দা জানানোর মধ্যেই রিয়াদ ও খামিস মুশাইতকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার অভিযোগ সামনে এলো। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র হুতিদের ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

লোহিত সাগর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর অঞ্চল। হুতিরা ইয়েমেনের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সমুদ্রপথে বিভিন্ন জাহাজ ও ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ রয়েছে।

তাদের সামরিক তৎপরতার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হওয়ায় লোহিত সাগর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

হুতি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হেজাম আল-আসাদ বলেছেন, অভিযানের শক্তি, ব্যাপ্তি ও প্রভাব যতই হোক না কেন, তাদের সশস্ত্র বাহিনী এটিকে পূর্ণ মাত্রার উত্তেজনার প্রস্তুতি হিসেবে একটি ছোট পরিসরের মহড়া হিসেবে দেখছে।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের সংঘাত

ইয়েমেনে কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির পর জুলাইয়ে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গেও ইয়েমেন জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এদিকে হুতি বাহিনী ও ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে স্থল সংঘাতও নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে ইয়েমেনজুড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার শিশু রয়েছে।

সৌদির পাশে মিত্ররা

হুতিদের হামলার অভিযোগ বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি মিত্রদেশ। রিয়াদকে সামরিক সহায়তার উপায় নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানদের একটি জরুরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

এর আগে নিউইয়র্কে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বৈঠক করেছেন। গত আগস্টে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির ভিত্তিতে এই আলোচনা হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি এখনো অনুমোদিত হয়নি। ফলে দেশটির সামরিক সহায়তা আপাতত দ্বিপক্ষীয় ও কারিগরি সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা রয়েছে।

ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় ফ্রান্সের সহায়তা

সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ইয়ানবুর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বন্দরটির সুরক্ষায় সেনাসদস্য, রাডার ও আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতির উদ্দেশ্য সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পরিস্থিতির দিকে নজর আন্তর্জাতিক মহলের

এর আগে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল। অন্যদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হুতিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে।

এ ছাড়া মক্কা, জেদ্দা ও গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

নতুন করে রিয়াদের দিকে ড্রোন ও খামিস মুশাইতের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হামলার পাল্টাপাল্টি দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং সৌদি আরবের পাশে মিত্রদের অবস্থান—সব মিলিয়ে ইয়েমেন ও সৌদি আরব ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর আরও বাড়ছে।

সূত্রঃ এএফপি

কালের আলো/জেএন

দক্ষিণ আফ্রিকার পানশালায় গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ আফ্রিকার পানশালায় গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পশ্চিমাঞ্চলে একটি পানশালায় বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। রোববার দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর ঘটনাস্থলেই ১৭ জনকে মৃত ঘোষণা করেন জরুরি চিকিৎসাসেবা বিভাগের কর্মীরা। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পানশালায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি

জোহানেসবার্গের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওয়েডেলা এলাকায় পানশালাটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, কয়েকজন বন্দুকধারী সেখানে ঢুকে গুলি চালায়।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের কাছে একে-৪৭ রাইফেল ও পিস্তল ছিল। তারা পানশালার কয়েকজন গ্রাহকের দেহ তল্লাশি করে এবং তাঁদের মুঠোফোন নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।হামলার পর বন্দুকধারীরা দুটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে গাড়ি দুটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

হামলার উদ্দেশ্য এখনো অজানা

পুলিশ বলেছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা, নাকি অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য পথগুলোও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক সহিংসতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পাশাপাশি পানশালা ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলেও গুলির ঘটনা ঘটে থাকে।তবে জোহানেসবার্গের এই হামলায় একসঙ্গে ১৭ জন নিহত হওয়ায় ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে হামলার সঠিক কারণ এবং নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়নি পুলিশ।

কালের আলো/এসএ

 

হুতিদের হামলার শঙ্কায় রিয়াদে স্কুল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
হুতিদের হামলার শঙ্কায় রিয়াদে স্কুল বন্ধ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক সপ্তাহের জন্য সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকবে। রোববার শেষ মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা অভিভাবকদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দুটি স্কুলের পাঠানো ই-মেইল দেখেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই স্কুলগুলোকে জানানো হয়েছে যে পুরো সপ্তাহজুড়েই স্কুল বন্ধ রাখতে হবে।

তবে স্কুল বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ কর্তৃপক্ষ জানায়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেষ মুহূর্তে স্কুল বন্ধের ঘোষণা

অভিভাবকদের পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শেষ মুহূর্তে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা পাওয়া গেছে। ফলে রিয়াদের স্কুলগুলোতে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে।

এর পরিবর্তে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

তবে হঠাৎ করে এক সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

রিয়াদে বসবাসকারী এক অভিভাবক এএফপিকে বলেন, যখন একটি সিদ্ধান্ত পুরো এক সপ্তাহের জন্য সব স্কুলকে প্রভাবিত করে, তখন পরিবারগুলোর সঙ্গে স্বচ্ছভাবে যোগাযোগ করা এবং সিদ্ধান্তের কারণ জানানো প্রয়োজন।

লেবাননের এক প্রবাসী অভিভাবকও সিদ্ধান্তটিকে শেষ মুহূর্তের বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কী ঘটছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের কোনো ধারণা নেই।

সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা

রিয়াদে স্কুল বন্ধের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতি যোদ্ধাদের হামলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযানে রয়েছে।

স্কুল বন্ধের ঘোষণার মাত্র এক দিন আগে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দেশটির দিকে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা। তবে স্কুল বন্ধের সঙ্গে এসব হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

জুলাই থেকে হামলা বেড়েছে

হুতিদের হামলা গত জুলাই থেকে আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে হামলা শুরু করে সংগঠনটি।

এরপর আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুতিদের সামরিক তৎপরতাও বাড়তে থাকে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে বলেনি, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই রিয়াদের সব স্কুল এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না।

বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

হুতিদের হামলা নিয়ে আগেও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সৌদি আরবে হুতি যোদ্ধাদের ক্রমবর্ধমান হামলার নিন্দা জানিয়ে পরিষদ বলেছিল, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের জন্য হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ধারাবাহিকতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে এর যোগসূত্র নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের স্কুলগুলোতে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইন শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, কারণ জানানো হয়নি কেন

স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন এর কারণ নিয়ে। এক সপ্তাহের মতো দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

ফলে অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সিদ্ধান্তটি শেষ মুহূর্তে জানানোয় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অনলাইনে ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদের স্কুলগুলো কবে আবার সরাসরি পাঠদানে ফিরবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতি হামলার ধারাবাহিকতা এবং হঠাৎ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে রিয়াদের বাসিন্দাদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে স্কুল বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই এখনো পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ

এপেক্স ফুটওয়্যারের লভ্যাংশ ৩০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
এপেক্স ফুটওয়্যারের লভ্যাংশ ৩০ শতাংশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চামড়াশিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে ৭ টাকা ৯১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের বছরের পুনর্মূল্যায়িত ইপিএস ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা।

এদিকে, ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ টাকা ২৫ পয়সায়। আগের বছর এ মূল্য ছিল ৩৪৯ টাকা ৩৫ পয়সা।

এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৯৭ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ৪৫ টাকা ১৯ পয়সা।

কোম্পানির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ অক্টোবর। এছাড়া বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি