খুঁজুন
                               
, ,
           

এফবিআই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
এফবিআই কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের শঙ্কা

হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সংস্থাটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। হ্যাকারদের হাতে থাকা তথ্য অনলাইনে প্রকাশ হলে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এফবিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, হ্যাকারদের হাতে যদি কর্মকর্তাদের নাম, বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি চলে যায়, তাহলে এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা, হয়রানি, ভয় দেখানো কিংবা শারীরিক হামলার চেষ্টা হতে পারে।

এফবিআইয়ের এক সাবেক সাইবার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি বিশেষ করে ছদ্মবেশী কর্মকর্তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধী ও বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন হ্যাকারদের হাতে চলে গেলে তা ব্যবহার করে খুব বিশ্বাসযোগ্য ফিশিং বার্তা ও প্রতারণার কৌশল তৈরি করা সম্ভব।

এমনকি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঘুষ বা অর্থ আদায়ের চেষ্টাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। একই সঙ্গে অতীতে যেসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন, তাঁদের কেউ ফাঁস হওয়া তথ্য ব্যবহার করে কর্মকর্তা বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন।

হাজারো কর্মকর্তার তথ্য চুরির দাবি

‘শাইনিহান্টার্স’ নামের একটি হ্যাকিং গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা এফবিআইয়ের সিস্টেমে ঢুকে বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরি করেছে। গোষ্ঠীটি চুরি করা তথ্য ও নথি চার দিনের মধ্যে প্রকাশ করার হুমকি দিয়েছে।

তবে এর আগে এফবিআইকে তাদের একটি দাবি মেনে নিতে হবে বলেও জানিয়েছে হ্যাকাররা। শাইনিহান্টার্স সাংবাদিকদের চুরি করা তথ্যের কিছু নমুনাও দিয়েছে। এসব নমুনা আসল বলে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নমুনা তথ্যের মধ্যে কর্মকর্তাদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিচয়পত্রের নম্বর, পদবি এবং স্বামী বা স্ত্রীর বিষয়ে তথ্য রয়েছে। চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে হাজারো এফবিআই কর্মকর্তার তথ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটির উপপরিচালকের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের তথ্যও এতে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো, হাজারো বিশেষ এজেন্টের চিকিৎসাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্যও হ্যাকারদের হাতে চলে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিবিসি চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে এফবিআই কর্মকর্তাদের কাজের উপযোগিতা যাচাইয়ের জন্য করা কিছু চিকিৎসা পরীক্ষার নথি দেখেছে। এসব নথিতে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসকদের বিভিন্ন নোট রয়েছে। কিছু নথিতে খাবারে অ্যালার্জি, প্রস্রাবে রক্ত এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো শারীরিক সমস্যার তথ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ফলে কিছু কর্মকর্তার পুরো নাম, বাড়ির ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্যও হ্যাকারদের হাতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঝুঁকিতে কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও

এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল ম্যাকফারসন বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান রিলিয়াকোয়েস্টের নিরাপত্তা কার্যক্রমের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই ঘটনা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ম্যাকফারসনের মতে, এফবিআই কর্মকর্তারা তাঁদের পেশার কারণে কিছুটা ঝুঁকি থাকার বিষয়টি জানেন। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত চিকিৎসা তথ্যও যদি প্রকাশ পায়, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে যায়। এ ধরনের তথ্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সাবেক উপপরিচালক সিনথিয়া কাইজার বলেন, শাইনিহান্টার্স এরই মধ্যে চুরি করা তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে। এসব তথ্য সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি জানান।

কাইজারের মতে, তথ্য একবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা কঠিন। অতীতেও এফবিআইয়ের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় দেখা গেছে, চুরি হওয়া তথ্য বহু বছর ধরে ডার্ক ওয়েবে ঘুরে বেড়িয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

এই হ্যাকিংয়ের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গেলে এফবিআই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যোগাযোগ বা নিয়োগের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা, পারিবারিক তথ্য কিংবা যোগাযোগের মাধ্যম সম্পর্কে জানা থাকলে তাঁকে লক্ষ্য করে চাপ তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে।

হামলার কারণে আতঙ্কের পাশাপাশি এফবিআইয়ের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিবিসির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কীভাবে হ্যাকারদের হাতে গেল।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ঘটনাটি এফবিআইয়ের জন্য উদ্বেগের বলে মনে করছেন সাবেক কর্মকর্তারা। তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, শাইনিহান্টার্সকে সবচেয়ে দক্ষ বা অত্যাধুনিক হ্যাকিং গোষ্ঠীগুলোর একটি হিসেবে সাধারণত বিবেচনা করা হয় না। তাই এই ঘটনায় এফবিআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই

শাইনিহান্টার্স সোমবার এফবিআইয়ের সিস্টেমে ঢোকার দাবি করার পর নিজেদের ডার্কনেট সাইটে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। তবে গোষ্ঠীটির সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এফবিআই প্রথমে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। পরে বুধবার সংস্থাটি হ্যাকিংয়ের ঘটনা স্বীকার করে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ‘জোরালোভাবে তদন্ত’ করা হচ্ছে।

তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেট থেকে সরাতে সাহায্য করে এমন ‘ডিলিটমি’ নামের একটি সেবায় নিবন্ধনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানান এক সাবেক কর্মকর্তা। তবে তাঁর মতে, এত বড় ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।

শাইনিহান্টার্স জানিয়েছে, তারা নিজেদের ডার্কনেট সাইটে চুরি করা তথ্য প্রকাশ করবে। এবার গোষ্ঠীটি সরাসরি অর্থ বা মুক্তিপণ দাবি করেনি। তারা মে মাসে এফবিআই প্রকাশ করা একটি সতর্কবার্তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। হ্যাকারদের দাবি, ওই সতর্কবার্তায় তাদের ‘অপমান’ করা হয়েছিল।

গোষ্ঠীটিকে তরুণ ইংরেজিভাষী সাইবার অপরাধীদের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এখন চুরি করা তথ্য প্রকাশের হুমকির পর পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিই এফবিআইয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্য সত্যিই ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, তাঁদের পরিবারের সুরক্ষা এবং সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম—তিন ক্ষেত্রেই নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাবেক কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসএ

উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

ইসরায়েল সরকারের সরকারি পাবলিক ম্যাপিং পরিষেবা ‘গভম্যাপ’-এ অল্প সময়ের জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলের উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি দেখা গেছে। এসব ছবিতে যুদ্ধের কারণে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি কয়েকটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও দৃশ্যমান হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে পরে গভম্যাপে গাজার ওই এলাকাগুলোর স্যাটেলাইট ছবি আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে বিষয়টি। অ্যাকাউন্টটি ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি নিয়ে কাজ করে এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর গাজার বিভিন্ন এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

গভম্যাপে দীর্ঘদিন ধরেই গাজা উপত্যকা, ইসরায়েল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি ঝাপসা করে দেখানো হয়। এ কারণে গাজার কিছু এলাকার তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হওয়ার ঘটনাটি ব্যতিক্রমী বলে মনে করা হচ্ছে।

ঝাপসা না থাকা ছবিগুলোর মধ্যে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের মতো এলাকাও ছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে উত্তর গাজার এসব এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় এগুলো ইসরায়েলি সেনাদের সামরিক ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা দেখায় না। তবে ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি সামরিক স্থাপনা বা ঘাঁটির চিত্রও এসব ছবিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এক্স ব্যবহারকারী ‘@Nrg8000’ ছবিগুলো ‘সোয়ার অ্যাটলাস’-এও প্রকাশ করেছেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ছবিগুলোর সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে প্রকাশিত ছবিগুলো গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বেইত হানুনে ব্যাপক ধ্বংস

উত্তর গাজার বেইত হানুন শহরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। ছবিতে অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে শহরটির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে এলাকাটির বড় অংশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুজাইয়ায় ধ্বংসস্তূপ

গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র ফুটে উঠেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে অনেক ভবন ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের চিত্রও স্পষ্ট বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কারনি ক্রসিংয়ে সামরিক উপস্থিতি

গাজা শহরের জেইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কারনি ক্রসিংয়ের আশপাশেও ইসরায়েলি সেনাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রকাশিত ছবির ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, গাজার আরও ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য এলাকাটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পূর্ব জাবালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি

পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মাটির তৈরি উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং বেশ কিছু সামরিক যান দেখা যায়।

যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৯২৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ৪০৮ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৯১৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন স্বাধীন হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

গভম্যাপে অল্প সময়ের জন্য প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিগুলো সেই ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভৌগোলিক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে ছবিগুলোর উৎস, সময়কাল ও নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনার পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা থাকায় এসব তথ্যকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

৩০০ ফিটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের দুই নারী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
৩০০ ফিটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের দুই নারী নিহত

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় এক পুলিশ সদস্যের মা ও স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসানের মা ও স্ত্রী আফরোজা আকতার।

মেহেদী হাসান জানান, রাতে তার মা ও স্ত্রী পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মেহেদী হাসানের মাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত স্ত্রী আফরোজা আকতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে আফরোজা আকতারের মৃত্যু হয়।

মেহেদী হাসান আরও জানান, তাদের বাসা ঢাকার কদমতলী থানার শ্রীধারা এলাকায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আফরোজা আকতারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে নিয়োগ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১২ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে মোট ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬।

পদ ও বেতন

১. হিসাবরক্ষক
পদসংখ্যা: ১টি।
গ্রেড: ১২।
বেতন স্কেল: ১১,৩০০ থেকে ২৭,৩০০ টাকা।

২. সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ৩টি।
গ্রেড: ১৩।
বেতন স্কেল: ১১,০০০ থেকে ২৬,৫৯০ টাকা।

৩. অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
পদসংখ্যা: ৩টি।
গ্রেড: ১৬।
বেতন স্কেল: ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা।

৪. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ৮টি।
গ্রেড: ২০।
বেতন স্কেল: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা।

সব মিলিয়ে চারটি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে মোট ১৫ জনকে।

বয়সসীমা

আবেদনকারীর বয়স ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আবেদন পদ্ধতি

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।

আবেদন ফি

পদের ধরন অনুযায়ী আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

হিসাবরক্ষক পদে আবেদন ফি ১৬৮ টাকা,সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আবেদন ফি ১১২ টাকা,অফিস সহায়ক পদে আবেদন ফি ৫৬ টাকা।

আবেদনের শেষ সময়

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এই নিয়োগে আবেদন করার শেষ তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ