খুঁজুন
                               
, ,
           

উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

ইসরায়েল সরকারের সরকারি পাবলিক ম্যাপিং পরিষেবা ‘গভম্যাপ’-এ অল্প সময়ের জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলের উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি দেখা গেছে। এসব ছবিতে যুদ্ধের কারণে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি কয়েকটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও দৃশ্যমান হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে পরে গভম্যাপে গাজার ওই এলাকাগুলোর স্যাটেলাইট ছবি আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে বিষয়টি। অ্যাকাউন্টটি ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি নিয়ে কাজ করে এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর গাজার বিভিন্ন এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

গভম্যাপে দীর্ঘদিন ধরেই গাজা উপত্যকা, ইসরায়েল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি ঝাপসা করে দেখানো হয়। এ কারণে গাজার কিছু এলাকার তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হওয়ার ঘটনাটি ব্যতিক্রমী বলে মনে করা হচ্ছে।

ঝাপসা না থাকা ছবিগুলোর মধ্যে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের মতো এলাকাও ছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে উত্তর গাজার এসব এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় এগুলো ইসরায়েলি সেনাদের সামরিক ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা দেখায় না। তবে ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি সামরিক স্থাপনা বা ঘাঁটির চিত্রও এসব ছবিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এক্স ব্যবহারকারী ‘@Nrg8000’ ছবিগুলো ‘সোয়ার অ্যাটলাস’-এও প্রকাশ করেছেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ছবিগুলোর সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে প্রকাশিত ছবিগুলো গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বেইত হানুনে ব্যাপক ধ্বংস

উত্তর গাজার বেইত হানুন শহরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। ছবিতে অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে শহরটির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে এলাকাটির বড় অংশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুজাইয়ায় ধ্বংসস্তূপ

গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র ফুটে উঠেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে অনেক ভবন ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের চিত্রও স্পষ্ট বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কারনি ক্রসিংয়ে সামরিক উপস্থিতি

গাজা শহরের জেইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কারনি ক্রসিংয়ের আশপাশেও ইসরায়েলি সেনাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রকাশিত ছবির ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, গাজার আরও ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য এলাকাটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পূর্ব জাবালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি

পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মাটির তৈরি উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং বেশ কিছু সামরিক যান দেখা যায়।

যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৯২৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ৪০৮ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৯১৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন স্বাধীন হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

গভম্যাপে অল্প সময়ের জন্য প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিগুলো সেই ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভৌগোলিক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে ছবিগুলোর উৎস, সময়কাল ও নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনার পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা থাকায় এসব তথ্যকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

হাসপাতালে তাসনুভা তিশার মা, দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে তাসনুভা তিশার মা, দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনুভা তিশার মা। চার দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

মায়ের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন তাসনুভা তিশা। মায়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য ভক্ত-অনুরাগীসহ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মায়ের অসুস্থতার খবর জানান তিশা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মায়ের একটি ছবি প্রকাশ করে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, চার দিন আগে তাঁর মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

মায়ের অসুস্থতাকে পরিবারের জন্য কঠিন সময় হিসেবে উল্লেখ করে তিশা সবার কাছে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

পোস্টে মায়ের জন্য দোয়া চেয়ে অভিনেত্রী বলেন, সবাই যেন তাঁর মায়ের জন্য প্রার্থনা করেন, যাতে আল্লাহ তাঁকে ‘শেফা-ই-কামেলা’ দান করেন, শক্তি দেন এবং হৃদযন্ত্র হেফাজত করেন। একই সঙ্গে দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে মাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও প্রার্থনা করেন তিনি।

তিশার এই আবেগঘন পোস্টের পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের ঘরে অনেকে অভিনেত্রীর মায়ের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

পরিবারের এই কঠিন সময়ে তাসনুভা তিশার পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁর ভক্তরা। মায়ের সুস্থতার জন্য তাঁদের প্রার্থনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

কালের আলো/এসএ

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ের সামনে আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ের সামনে আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আটক

রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাসদ কার্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি বৈঠকের প্রস্তুতির খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় জাসদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করা শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হলে তা জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

‘আমাকে ট্রল করার মতো কোনো কাজই করিনি’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
‘আমাকে ট্রল করার মতো কোনো কাজই করিনি’

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নানা ধরনের ট্রল ও মন্তব্য দেখা যায়। তবে এসব নিয়ে খুব একটা ভাবেন না এই অভিনেতা। তাঁর দাবি, জীবনে এমন কোনো কাজ করেননি, যা নিয়ে তাঁকে ট্রল করা যায়। বরং তাঁর সরাসরি ও প্রতিবাদী স্বভাবকেই অনেকে নিজেদের মতো করে ট্রলের বিষয় বানিয়ে ফেলেন।

সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর সানী বলেন, তাঁকে নিয়ে ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ তিনি জীবনে করেননি। তাঁর কর্মকাণ্ডকে কেউ কেউ নিজেরাই ট্রলের মতো করে উপস্থাপন করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের স্বভাবের কথা তুলে ধরে অভিনেতা বলেন, তিনি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন এবং কিছু বিষয়ে প্রতিবাদী। তাঁর এই সরাসরি কথা বলা অনেকের পছন্দ হয় না বলেও মনে করেন তিনি। তবে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেন না বলে জানান ওমর সানী।

সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যবহৃত একটি ঘড়ির প্রসঙ্গও তোলেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর হাতের ঘড়ি নিয়ে কেউ কেউ সেটির দাম প্রায় ২৯ লাখ টাকা বলে প্রচার করেছেন। অথচ তাঁর দাবি, ঘড়িটির প্রকৃত দাম মাত্র ১১০০ টাকা।

নিজের সামর্থ্য কিংবা সম্পদ নিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করেন না বলেও দাবি করেন ওমর সানী। তাঁর ভাষ্য, মার্সিডিজ গাড়ি থাকলেও সেটি নিয়ে তিনি কখনো ফুটানি করেন না। কোনো সম্পদ থাকা নিয়ে বড় করে কথা বলারও প্রয়োজন দেখেন না তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট কখনো মুছে ফেলেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, এ ধরনের ঘটনা তাঁর ক্ষেত্রে খুব কমই ঘটেছে। একবার বা দুবার কোনো পোস্ট মুছে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি। তবে কাউকে ছোট করে কখনো পোস্ট করেননি বলে দাবি করেন এই অভিনেতা।

শিল্পীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা নিয়েও নিজের মতামত জানান ওমর সানী। তাঁর মন্তব্য, অনেক শিল্পীই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম কথা বলেন, অথচ যাঁরা শিল্পী নন, তাঁরাই বেশি কথা বলেন।

কালের আলো/এসএ