খুঁজুন
                               
, ,
           

‘ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটে রাজত্ব করবে চীন’

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
‘ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটে রাজত্ব করবে চীন’

‘এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচটা হলে হয়তো বুঝতে পারতেন, কতটা উন্নতি করেছে চীন। মিংইউ ঝু কিছুটা হলেও চমকে দিতে পারত’—চীনের নারী ক্রিকেট দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশি কোচ ফাতেমা তুজ জোহরা।

চীনের নারী ক্রিকেটের সাম্প্রতিক উত্থানের গল্পের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই বাংলাদেশি কোচের নাম। প্রায় দুই বছর দলটির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কাছ থেকে দেখেছেন কীভাবে পিছিয়ে থাকা একটি দল ধীরে ধীরে নিজেদের গড়ে তুলছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ফাতেমার বিশ্বাস, এশিয়ার নারী ক্রিকেটে চীন এখন আর শুধু অংশগ্রহণকারী দল নয়; নিজেদের জায়গা তৈরির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে কাতার জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফাতেমা। অস্ট্রেলিয়া ও মালদ্বীপের পর চীন হয়ে এখন কাতারে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ার। তবে চীনের নারী ক্রিকেট নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসটা আলাদা। তাঁর মতে, খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না—নারী ক্রিকেটে চীন বড় চমক দেখাতে পারে।

কালবেলার সঙ্গে আলাপে ফাতেমা বলেন, চীনের ক্রিকেটাররা অত্যন্ত পরিশ্রমী। খাদ্যাভ্যাস, শৃঙ্খলা ও অনুশীলনের ব্যাপারেও তাঁরা যথেষ্ট সচেতন। দ্রুত শেখার সক্ষমতাও তাঁদের বড় শক্তি।

তিনি বলেন, মাত্র দুই বছরেই আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে চীন ১০ ধাপ এগিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটে দেশটি বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা হংকং চায়না, ইন্দোনেশিয়া ও ওমানের মতো দলকে হারিয়েও নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দিয়েছে চীন নারী দল।

ভাষার বাধা পেরিয়ে শুরু

২০২৩ সালের মাঝামাঝি চীন নারী ক্রিকেট দলের সঙ্গে যুক্ত হন ফাতেমা। তখন দলটি নারী ক্রিকেটে খুব একটা এগিয়ে ছিল না। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল চীন।

ঠিক সেই সময়েই নতুন একটি সমস্যার মুখে পড়তে হয় দলটিকে। একাডেমিক পর্যায়ে স্নাতক শেষ করে ক্রিকেট ছেড়ে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক চাকরিতে যোগ দেন দলের ছয় অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ফলে নতুন খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাঁদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলার বড় দায়িত্ব এসে পড়ে কোচ ফাতেমার ওপর।

শুধু খেলোয়াড় সংকটই নয়, ফাতেমার সামনে ছিল আরও বড় বাধা—ভাষা।

চীনের একমাত্র বিদেশি কোচ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে ভাষাগত সমস্যায় পড়েন তিনি। দোভাষী থাকলেও ক্রিকেট মাঠে কোচিং করানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্দেশ অনুবাদ করে বোঝানো সহজ ছিল না। এমনকি ক্রিকেটের মৌলিক শব্দগুলোর সঙ্গেও অনেক খেলোয়াড় পরিচিত ছিলেন না।

ফাতেমা বলেন, বল, রানসহ ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় খেলোয়াড়েরা নিজেদের ভাষায় বুঝতেন। এর মধ্যেই ছয়জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অবসর নেওয়ায় তাঁর চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে যায়।

১৫ দিনের ভাষা কোর্স

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বসে থাকেননি ফাতেমা। শুরুতেই নিজেকে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেন। ইউটিউবের মাধ্যমে ১৫ দিনের একটি ভাষা কোর্স করেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল পুরো ভাষা শেখা নয়, অন্তত ক্রিকেটের প্রয়োজনীয় শব্দগুলো যেন খেলোয়াড়দের সহজভাবে বোঝাতে পারেন।

এরপর শুরু হয় নতুন ক্রিকেটার খোঁজার কাজ।

স্কুল থেকে স্থানীয় লিগ—বিভিন্ন জায়গায় নজর দিতে থাকেন তিনি। স্থানীয় লিগে অংশ নেওয়া স্কুলগুলোর খেলোয়াড়দেরও পর্যবেক্ষণ করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে নতুন ক্রিকেটার বাছাই ও তাঁদের গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ফাতেমার ভাষায়, স্কুল পর্যায় থেকেই খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাঁদের ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।

মিংইউ ঝুর উত্থানের গল্প

চীনের বর্তমান অধিনায়ক মিংইউ ঝুর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্পটিও ফাতেমার কাছে বিশেষ। কারণ তাঁর মধ্যে ক্রিকেটার হিসেবে সম্ভাবনা দেখেছিলেন এই বাংলাদেশি কোচ।

চীনে নির্দিষ্ট পেশায় যেতে একাডেমিক ডিগ্রিকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মিংইউ ঝুও ক্রিকেটের পাশাপাশি আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তবে ফাতেমা তাঁর মধ্যে ক্রিকেটার হিসেবে বড় সম্ভাবনা দেখতে পান।

একাডেমিক ডিগ্রি শেষ করার পর তাঁকে পুরোপুরি ক্রিকেটে মনোযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শুরুতে মিংইউ ছিলেন ব্যাটার। পরে তাঁকে বোলিংও শেখানো শুরু হয়। ধীরে ধীরে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি করে দলের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারে পরিণত হন তিনি।

তবে চীনা ক্রিকেটারদের শেখানোর ক্ষেত্রে একটি মৌলিক পার্থক্যের কথাও উল্লেখ করেন ফাতেমা। বাংলাদেশ বা উপমহাদেশের অনেক ক্রিকেটার যেখানে ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হন, চীনের মেয়েরা সাধারণত তুলনামূলক বেশি বয়সে ক্রিকেট শুরু করেন। ফলে তাঁদের মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো এবং ক্রিকেটের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করানোও বড় চ্যালেঞ্জ।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন

মিংইউ ঝু ছাড়াও চীন নারী দলের বর্তমান স্কোয়াডের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের উত্থানের গল্পের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে ফাতেমার নাম। ফলে দলটির বর্তমান উন্নতি খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রত্যাশা তাঁর।

ফাতেমার মতে, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম, দ্রুত শেখার সক্ষমতা এবং ক্রিকেট অবকাঠামো নিয়ে কাজ করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে চীন নারী ক্রিকেটে দ্রুতই বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে ২০৩২ অলিম্পিককে সামনে রেখে চীনের নারী ক্রিকেট নিয়ে যে বড় পরিকল্পনা রয়েছে, সেটিও আশাবাদী করে তুলেছে তাঁকে।

একসময় এশিয়ার নারী ক্রিকেটে চীনের নাম খুব একটা আলোচনায় না থাকলেও এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। আর সেই পরিবর্তনের গল্পে একজন বাংলাদেশি কোচের দুই বছরের শ্রম ও অভিজ্ঞতাও হয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এসএম জিলানীর

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এসএম জিলানীর

মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জিলানী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আরডিএ হলরুমে উপজেলা ওলামা দল আয়োজিত ‘মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

এসএম জিলানী বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, সমাজ এমনকি পুরো রাষ্ট্রকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে ইমাম, মুয়াজ্জিন, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এ অবস্থায় সরকারকে সময় দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের সব ইমাম-মুয়াজ্জিনকে পর্যায়ক্রমে ভাতার আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন এসএম জিলানী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি জীবদ্দশায় ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে কটাক্ষ বা বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি সব সময় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বসেছেন, তাদের কথা শুনেছেন এবং পরামর্শ নিয়েছেন।

আলোচনা সভায় মাওলানা আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা ওবায়দুল ইসলাম, মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সিভিল সার্ভিসে বৈষম্য নিরসনে কোটা বাতিলসহ একাধিক দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
সিভিল সার্ভিসে বৈষম্য নিরসনে কোটা বাতিলসহ একাধিক দাবি

রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গঠনে ডিএস পুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার সমন্বয় পরিষদ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য ডিএস পুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের পাশাপাশি পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সেক্টরের নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে সরকারি সেবায় পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়বে বলে তারা মত দেন।

অনুষ্ঠানে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের পক্ষ থেকে কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও তুলে ধরা হয়। বক্তাদের মতে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে জনসেবার মান উন্নত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, ১৯৮০ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক ড. মো. কামরুজ্জামান কায়সারসহ বিভিন্ন ক্যাডারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর নাসরিন বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহফুজ আহমেদ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. আরিফ হোসেন বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সদস্য ড. মুহম্মদ মফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন ক্যাডারের সাবেক সদস্যদের লেখা ‘লাল ফিতায় বন্দি জনসেবা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রাক্তনের প্রোফাইল বারবার দেখছেন? অভ্যাস ছাড়ার ৫ সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
প্রাক্তনের প্রোফাইল বারবার দেখছেন? অভ্যাস ছাড়ার ৫ সহজ উপায়

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে বারবার ঢুঁ মারা অনেকের কাছেই পরিচিত অভ্যাস। তিনি কেমন আছেন, নতুন কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না, আপনাকে মনে করছেন কি না—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকে বারবার তাঁর পোস্ট, ছবি কিংবা স্টোরি দেখতে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেই মানুষের আবেগ বা মানসিক টান সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না। বিচ্ছেদের পরও সাবেক সঙ্গীর জীবন নিয়ে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক। সেই কৌতূহল থেকেই ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

তবে এই অভ্যাস অনেক সময় নিজের মানসিক শান্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাবেক সঙ্গীর নতুন কোনো ছবি, সম্পর্ক কিংবা আনন্দের মুহূর্ত দেখলে নিজের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করাই উপকারী।

এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

চোখের আড়ালে রাখুন

প্রাক্তনের পোস্ট বা স্টোরি বারবার সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়তে পারে। তাই কিছুদিনের জন্য তাঁকে মিউট বা আনফলো করে রাখতে পারেন। এতে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ না করেও তাঁর আপডেট আপনার সামনে আসা কমানো সম্ভব।

প্রয়োজনে কয়েক দিনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বিরতি নেওয়া যেতে পারে। অবশ্যই সবাইকে ব্লক করতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। নিজের মানসিক স্বস্তির জন্য যে সিদ্ধান্তটি স্বস্তিদায়ক মনে হয়, সেটিই নেওয়া যেতে পারে।

প্রোফাইলে ঢোকার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন

হঠাৎ সাবেক সঙ্গীর প্রোফাইল দেখার ইচ্ছা হলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ঢুকে না পড়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—আসলে আপনি কী জানতে চাইছেন?

তিনি আপনাকে মিস করছেন কি না, নতুন সম্পর্কে আছেন কি না, নাকি শুধু অভ্যাসের কারণে তাঁর প্রোফাইল খুলতে চাইছেন—কারণটি বোঝার চেষ্টা করুন।

অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য নয়, শুধু কৌতূহল বা পুরোনো অভ্যাসের কারণেই মানুষ সাবেকের প্রোফাইলে ঢোকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।

অন্য কাজে মন দিন

প্রোফাইল দেখার তাগিদ অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন হাতে না নিয়ে অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। গান শোনা, হাঁটতে বের হওয়া, বন্ধুকে ফোন বা মেসেজ করা, বই পড়া কিংবা সিনেমা দেখার মতো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে।

মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্যদিকে মনোযোগ ধরে রাখতে পারলেও অনেক সময় প্রোফাইল দেখার তীব্র ইচ্ছা কমে যায়। নিয়মিত এমনটি করতে পারলে ধীরে ধীরে পুরোনো অভ্যাসটিও দুর্বল হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে বাস্তব জীবনকে তুলনা করবেন না

সাবেক সঙ্গী হয়তো নতুন ছবি পোস্ট করেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরছেন কিংবা বেশ হাসিখুশি সময় কাটানোর ছবি দিয়েছেন। এসব দেখে মনে হতে পারে, তিনি আপনাকে ছাড়াই খুব ভালো আছেন।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনের পুরো চিত্র দেখা যায় না। সাধারণত আনন্দের মুহূর্ত, ভ্রমণ, সাফল্য কিংবা বিশেষ ঘটনাগুলোই বেশি প্রকাশ করা হয়। ফলে অনলাইনে কাউকে দেখে তাঁর পুরো মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ধারণা করা ঠিক নয়।

তাই সাবেক সঙ্গীর অনলাইন জীবনের সঙ্গে নিজের বর্তমান অবস্থার তুলনা না করাই ভালো। কে কত দ্রুত এগিয়ে গেলেন—এমন কোনো প্রতিযোগিতাও নেই।

নিজেকে সাত দিনের চ্যালেঞ্জ দিন

অভ্যাসটি কমানোর জন্য ছোট একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। যেমন—টানা সাত দিন সাবেক সঙ্গীর কোনো পোস্ট, স্টোরি বা প্রোফাইল দেখবেন না।

প্রথম কয়েক দিন বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। বারবার প্রোফাইলে ঢোকার ইচ্ছাও হতে পারে। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই তাগিদ অনুযায়ী কাজ না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং অন্য কোনো কাজে মন দিন।

সাত দিন পর নিজের অনুভূতি খেয়াল করুন। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় প্রোফাইল দেখার তাড়না কিছুটা কমে গেছে।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর প্রতি কৌতূহল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁর জীবনে কী ঘটছে তা জানতে গিয়ে যদি নিজের মন খারাপ হয়, উদ্বেগ বাড়ে বা স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেকের জীবন অনুসরণ করার বদলে নিজের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, কাজ, বন্ধু ও পছন্দের কাজগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়াই ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: এই সময়

কালের আলো/এসএ