পোশাক বিতর্কের পর কৃতির বার্তা, ‘লড়াইটা পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে’
পোশাক নিয়ে বিতর্কের কয়েক সপ্তাহ পর এবার নারীর স্বাধীনতা, পোশাক ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন।
কৃতি বলেছেন, বিষয়টি কোনোভাবেই ‘পুরুষ বনাম নারী’র লড়াই নয়। বরং এটি পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সেই মানসিকতাকে সমর্থন করে চলা মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই।
সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেন কৃতি। সেখানে বলা হয়েছে, নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে শুধু নারী-পুরুষের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং পিতৃতান্ত্রিক ও নারীবিদ্বেষী চিন্তাধারার বিরুদ্ধেই মূল লড়াই।
কৃতির এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বিহারের জমুইয়ে এক কিশোরী ও তার সহপাঠীকে একদল যুবকের আটকে রেখে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে দেশটিতে যখন ব্যাপক আলোচনা চলছে, তখনই কৃতির এই পোস্ট সামনে আসে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ মামলা করে। পরে এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে কৃতি তাঁর পোস্টে জমুইয়ের ঘটনার কোনো সরাসরি উল্লেখ করেননি। তাঁর পোস্টের সময়কাল ও বক্তব্যের বিষয়বস্তুর কারণে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।
নারীদের প্রতি সহিংসতা এবং অভিনেত্রীদের পোশাক নিয়ে সামাজিক প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য তুলে ধরা আরেকটি পোস্টেও কৃতি ‘লাইক’ দিয়েছেন। ওই পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়, নারীর পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে মাত্রায় ক্ষোভ দেখা যায়, নারী নির্যাতন, গার্হস্থ্য সহিংসতা কিংবা পণপ্রথাজনিত মৃত্যুর মতো ঘটনায় কেন একই মাত্রার প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
এর আগে গত আগস্টে রাখিবন্ধন উপলক্ষে একটি গহনার বিজ্ঞাপনে কৃতির পোশাক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিজ্ঞাপনে তাঁর আধুনিক পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেন অনেকে।
পরে সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে কৃতি বলেছিলেন, উৎসবের মূল বিষয় আবেগ ও ঐতিহ্য। কোনো নারীর পোশাকের ধরন দিয়ে তাঁর সংস্কৃতির প্রতি সম্মান বা মূল্যবোধ বিচার করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
বিতর্কের পর সংশ্লিষ্ট গহনা প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কারও অনুভূতিতে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। সম্মানের বিষয়টি বিবেচনা করে বিজ্ঞাপনটি সব মাধ্যম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর পর আবারও নারীর নিরাপত্তা, পোশাক এবং পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে কৃতির নতুন পোস্ট আলোচনায় এসেছে। তবে অভিনেত্রী নিজে তাঁর বক্তব্যকে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেননি।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array