খুঁজুন
                               
, ,
           

সিভিল সার্ভিসে বৈষম্য নিরসনে কোটা বাতিলসহ একাধিক দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
সিভিল সার্ভিসে বৈষম্য নিরসনে কোটা বাতিলসহ একাধিক দাবি

রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গঠনে ডিএস পুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষি গবেষণা কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার সমন্বয় পরিষদ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে মেধা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ জন্য ডিএস পুলে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা বাতিলের পাশাপাশি পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সেক্টরের নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এতে সরকারি সেবায় পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়বে বলে তারা মত দেন।

অনুষ্ঠানে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের পক্ষ থেকে কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিও তুলে ধরা হয়। বক্তাদের মতে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে জনসেবার মান উন্নত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, ১৯৮০ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) আহ্বায়ক ড. মো. কামরুজ্জামান কায়সারসহ বিভিন্ন ক্যাডারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি প্রফেসর নাসরিন বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহফুজ আহমেদ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কৃষিবিদ মো. আরিফ হোসেন বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সদস্য ড. মুহম্মদ মফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন ক্যাডারের সাবেক সদস্যদের লেখা ‘লাল ফিতায় বন্দি জনসেবা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এসএম জিলানীর

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এসএম জিলানীর

মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ উল্লেখ করে মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জিলানী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার আরডিএ হলরুমে উপজেলা ওলামা দল আয়োজিত ‘মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

এসএম জিলানী বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, সমাজ এমনকি পুরো রাষ্ট্রকেও ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে ইমাম, মুয়াজ্জিন, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এ অবস্থায় সরকারকে সময় দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের সব ইমাম-মুয়াজ্জিনকে পর্যায়ক্রমে ভাতার আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন এসএম জিলানী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিনি জীবদ্দশায় ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে কটাক্ষ বা বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি সব সময় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বসেছেন, তাদের কথা শুনেছেন এবং পরামর্শ নিয়েছেন।

আলোচনা সভায় মাওলানা আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা ওবায়দুল ইসলাম, মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রাক্তনের প্রোফাইল বারবার দেখছেন? অভ্যাস ছাড়ার ৫ সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
প্রাক্তনের প্রোফাইল বারবার দেখছেন? অভ্যাস ছাড়ার ৫ সহজ উপায়

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে বারবার ঢুঁ মারা অনেকের কাছেই পরিচিত অভ্যাস। তিনি কেমন আছেন, নতুন কোনো সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি না, আপনাকে মনে করছেন কি না—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকে বারবার তাঁর পোস্ট, ছবি কিংবা স্টোরি দেখতে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেই মানুষের আবেগ বা মানসিক টান সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় না। বিচ্ছেদের পরও সাবেক সঙ্গীর জীবন নিয়ে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক। সেই কৌতূহল থেকেই ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করার অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

তবে এই অভ্যাস অনেক সময় নিজের মানসিক শান্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সাবেক সঙ্গীর নতুন কোনো ছবি, সম্পর্ক কিংবা আনন্দের মুহূর্ত দেখলে নিজের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করাই উপকারী।

এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে কয়েকটি সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে।

চোখের আড়ালে রাখুন

প্রাক্তনের পোস্ট বা স্টোরি বারবার সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়তে পারে। তাই কিছুদিনের জন্য তাঁকে মিউট বা আনফলো করে রাখতে পারেন। এতে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ না করেও তাঁর আপডেট আপনার সামনে আসা কমানো সম্ভব।

প্রয়োজনে কয়েক দিনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও বিরতি নেওয়া যেতে পারে। অবশ্যই সবাইকে ব্লক করতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। নিজের মানসিক স্বস্তির জন্য যে সিদ্ধান্তটি স্বস্তিদায়ক মনে হয়, সেটিই নেওয়া যেতে পারে।

প্রোফাইলে ঢোকার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন

হঠাৎ সাবেক সঙ্গীর প্রোফাইল দেখার ইচ্ছা হলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ঢুকে না পড়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—আসলে আপনি কী জানতে চাইছেন?

তিনি আপনাকে মিস করছেন কি না, নতুন সম্পর্কে আছেন কি না, নাকি শুধু অভ্যাসের কারণে তাঁর প্রোফাইল খুলতে চাইছেন—কারণটি বোঝার চেষ্টা করুন।

অনেক সময় নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য নয়, শুধু কৌতূহল বা পুরোনো অভ্যাসের কারণেই মানুষ সাবেকের প্রোফাইলে ঢোকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না।

অন্য কাজে মন দিন

প্রোফাইল দেখার তাগিদ অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন হাতে না নিয়ে অন্য কোনো কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। গান শোনা, হাঁটতে বের হওয়া, বন্ধুকে ফোন বা মেসেজ করা, বই পড়া কিংবা সিনেমা দেখার মতো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে।

মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্যদিকে মনোযোগ ধরে রাখতে পারলেও অনেক সময় প্রোফাইল দেখার তীব্র ইচ্ছা কমে যায়। নিয়মিত এমনটি করতে পারলে ধীরে ধীরে পুরোনো অভ্যাসটিও দুর্বল হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে বাস্তব জীবনকে তুলনা করবেন না

সাবেক সঙ্গী হয়তো নতুন ছবি পোস্ট করেছেন, বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরছেন কিংবা বেশ হাসিখুশি সময় কাটানোর ছবি দিয়েছেন। এসব দেখে মনে হতে পারে, তিনি আপনাকে ছাড়াই খুব ভালো আছেন।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনের পুরো চিত্র দেখা যায় না। সাধারণত আনন্দের মুহূর্ত, ভ্রমণ, সাফল্য কিংবা বিশেষ ঘটনাগুলোই বেশি প্রকাশ করা হয়। ফলে অনলাইনে কাউকে দেখে তাঁর পুরো মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ধারণা করা ঠিক নয়।

তাই সাবেক সঙ্গীর অনলাইন জীবনের সঙ্গে নিজের বর্তমান অবস্থার তুলনা না করাই ভালো। কে কত দ্রুত এগিয়ে গেলেন—এমন কোনো প্রতিযোগিতাও নেই।

নিজেকে সাত দিনের চ্যালেঞ্জ দিন

অভ্যাসটি কমানোর জন্য ছোট একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। যেমন—টানা সাত দিন সাবেক সঙ্গীর কোনো পোস্ট, স্টোরি বা প্রোফাইল দেখবেন না।

প্রথম কয়েক দিন বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। বারবার প্রোফাইলে ঢোকার ইচ্ছাও হতে পারে। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে সেই তাগিদ অনুযায়ী কাজ না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং অন্য কোনো কাজে মন দিন।

সাত দিন পর নিজের অনুভূতি খেয়াল করুন। অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে, আগের তুলনায় প্রোফাইল দেখার তাড়না কিছুটা কমে গেছে।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক সঙ্গীর প্রতি কৌতূহল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে তাঁর জীবনে কী ঘটছে তা জানতে গিয়ে যদি নিজের মন খারাপ হয়, উদ্বেগ বাড়ে বা স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেকের জীবন অনুসরণ করার বদলে নিজের দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক, কাজ, বন্ধু ও পছন্দের কাজগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়াই ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: এই সময়

কালের আলো/এসএ

ইউএনজিএর ফাঁকে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ইউএনজিএর ফাঁকে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য শুধু বৈশ্বিক ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরার মঞ্চ হয়ে থাকছে না; এর ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্ত করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার মতো খাত সামনে এসেছে। ফলে এবারের সফরে বাংলাদেশের কূটনীতিতে রাজনৈতিক যোগাযোগের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।

  • নিউইয়র্কে বৈঠকের টেবিলে বাংলাদেশের নতুন অংশীদারত্ব
  • ধারাবাহিক আলোচনায় সামনে এলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও স্বাস্থ্য

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেসসচিব এ কে এম নাজমুল হক জানান, বিভিন্ন দেশের সরকার ও মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ইউরোপের দরজায় ক্রোয়েশিয়া
২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনার তাৎপর্য কেবল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি আরও বহুমুখী হতে পারে। একই সঙ্গে জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর আলোচনা সম্পর্কটিকে অর্থনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করছে।

থাইল্যান্ডে আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাবনা
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকেও উঠে আসে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করেন।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে আনুতিন চার্নভিরাকুলের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। একই মঞ্চে ধারাবাহিক উপস্থিতির বাইরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠক আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগও তৈরি করেছে।

বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এ সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের অবকাশ তৈরি হয়েছে।

সুইডেনের সঙ্গে স্বাস্থ্য কূটনীতিতে জোর
সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের স্টেনারগার্ডের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। ইউএনএফপিএ আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারির ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতের এই সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

অর্থনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি মানব উন্নয়নভিত্তিক সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক অংশীদারত্বের পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কেন্দ্রে অর্থনীতি
নিউইয়র্কের বৈঠকগুলোর দিকে একসঙ্গে তাকালে একটি অভিন্ন প্রবণতা চোখে পড়ে—বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কগুলোকে আরও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে যুক্ত করা হচ্ছে একই কাঠামোয়।

এর ফলে ইউএনজিএর মতো বহুপক্ষীয় আয়োজন বাংলাদেশের জন্য শুধু বৈশ্বিক বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ নয়, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ গভীর করার ক্ষেত্রও হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার আলাদা আলাদা ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য একটি বিস্তৃত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক সফরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করা। এখন এসব আলোচনাকে কার্যকর প্রকল্প, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগে রূপ দেওয়া গেলে ইউএনজিএর কূটনৈতিক যোগাযোগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে আরও দৃশ্যমান ফল বয়ে আনতে পারে।

কালের আলো/টিই/এমকে