খুঁজুন
                               
, ,
           

নদী দূষণের ৪২৪ দরজা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
নদী দূষণের ৪২৪ দরজা

নদী বাঁচাতে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। হয়েছে দখল উচ্ছেদ, ড্রেজিং, তীর রক্ষা, ট্যানারি স্থানান্তর, সৌন্দর্যবর্ধন—বাদ যায়নি বড় কোনো উদ্যোগই। তবু ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণের স্রোত থামেনি। বরং দুই যুগের নানা কর্মযজ্ঞের পরও প্রতিদিন নতুন করে নদীতে ঢুকছে প্রায় ৩৩০ টন তরল ও কঠিন বর্জ্য।

  • আড়াই হাজার কোটি টাকার নদী রক্ষা কর্মযজ্ঞ
  • তবু বন্ধ হয়নি বর্জ্য প্রবেশ
  • প্রতিদিন চার নদীতে যাচ্ছে ৩৩০ টন
  • নদী রক্ষায় বদলাতে হবে কৌশল

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) জরিপে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যায় শনাক্ত হয়েছে ৪২৪টি বর্জ্য নির্গমনমুখ। সর্বশেষ জরিপে শুধু বুড়িগঙ্গাতেই মিলেছে ৩০৭টি দূষণমুখ। অর্থাৎ নদীর ওপর যতই পরিচ্ছন্নতার অভিযান চলুক, বর্জ্য ঢোকার দরজা খোলা থাকলে সেই নদী কতটা বাঁচানো সম্ভব—এখন সামনে এসেছে সেই মৌলিক প্রশ্ন।

নদী পরিষ্কার হচ্ছে, দূষণও ঢুকছে
নদী রক্ষার এতদিনের উদ্যোগের বড় অংশ ছিল নদীর ভেতর ও তীরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য অপসারণ কিংবা ড্রেজিংয়ে নদীর চেহারা বদলেছে। কিন্তু দূষণের উৎস বন্ধ না হওয়ায় সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয়নি।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারের বক্তব্যেও উঠে এসেছে সমস্যার মূল জায়গাটি। তাঁর মতে, অভিযান বা জরিমানায় সাময়িকভাবে দূষণ কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফলের জন্য বর্জ্যের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা জরুরি।

বিআইডাব্লিউটিএর জরিপে উঠে এসেছে আরও অস্বস্তিকর তথ্য। দূষণের জন্য শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যাচ্ছে না; সরকারি সংস্থার ড্রেনও সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলছে। ঢাকা ওয়াসার ৬৬টি ড্রেনের ৫৭টি বুড়িগঙ্গা ও ৯টি তুরাগে গিয়ে পড়ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১টি ড্রেনের ১৯টি বুড়িগঙ্গা ও দুটি শীতলক্ষ্যায় যুক্ত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬টির মধ্যে ১৫টি তুরাগ এবং একটি বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিশেছে।

৬০ শতাংশই শিল্পবর্জ্য
বিআইডাব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, নদীতে পড়া বর্জ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ শিল্পবর্জ্য। ঢাকার চারপাশে নদীর তীরে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় সাত হাজার শিল্প-কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশে কার্যকর তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নেই। ফলে শিল্পের রাসায়নিক, রং, তেল ও ভারী ধাতুসহ নানা বিষাক্ত উপাদান খাল ও ড্রেন পেরিয়ে সরাসরি নদীতে যাচ্ছে।

নৌবাহিনীর এক প্রতিবেদনে বুড়িগঙ্গাকে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ এবং তুরাগকে ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধলেশ্বরীকে বলা হয়েছে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’। প্রতিবেদনে বুড়িগঙ্গা-তুরাগের দূষণের ৮০ শতাংশের জন্য শিল্প ও জৈব বর্জ্যকে দায়ী করা হয়েছে।

দূষণের ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) পরিমাপে। জলজ প্রাণীর টিকে থাকার জন্য সাধারণভাবে ডিও পাঁচ মিলিগ্রামের ওপরে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বুড়িগঙ্গায় এর গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৭ থেকে ২ দশমিক ৬৮ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ নদীর অনেক অংশে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনধারণের পরিবেশ নেই।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মীর মোহাম্মদ আলীর মতে, বুড়িগঙ্গার পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি ক্যাডমিয়াম ও পারদের মতো ভারী ধাতুও পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় মাছ বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ নেই। সংকটে পড়েছে বহু জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব।

লক্ষ্য ‘দূষণের দরজা’ বন্ধ করা
নতুন উদ্যোগে এবার নদী পরিষ্কারের চেয়ে বর্জ্য ঢোকার পথ বন্ধ করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ৬ আগস্ট ঢাকার চারপাশের নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকের পর সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের ৩৮ কিলোমিটার নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নদীর তীর ও আশপাশের সব দূষণমুখ চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনী, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এতে যুক্ত রয়েছে।

শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নেই, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইটিপি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে নদী দূষণের দীর্ঘ ইতিহাস বলছে, শুধু সময়সীমা বেঁধে দিলেই হবে না; কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে।

৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় সেল
দখল ও দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবেশ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক, বিআইডাব্লিউটিএ, ঢাকা ওয়াসা, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নদী রক্ষা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

সেলের অধীনে তিনটি উপকমিটি কাজ করবে। এর একটি শিল্পবর্জ্যসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নদীতে বর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, খাল-ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদীর তলদেশের কঠিন বর্জ্য সরানো এবং পানিপ্রবাহ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করবে।

বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপণ্য
শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, নদী রক্ষায় এবার সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বুড়িগঙ্গায় চালু হয়েছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’। নদী থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য সংগ্রহ করে জমা দিলে বিনিময়ে মিলছে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপণ্য।

উদ্যোগটি নদী থেকে কতটা বর্জ্য সরাতে পারবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন—মানুষের আচরণে এটি কতটা পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ নদীর বর্জ্য কমাতে শুধু দূষণকারী প্রতিষ্ঠান নয়, নদীতীরবর্তী জনপদ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যাসও বদলাতে হবে।

হিসাব হবে নদীর পানিতে
দুই যুগে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও যদি প্রতিদিন ৩৩০ টন বর্জ্য নদীতে ঢোকে, তাহলে নদী রক্ষার সাফল্য শুধু কতটি অভিযান হলো বা কত টন বর্জ্য তোলা হলো—এ দিয়ে মাপার সুযোগ নেই।

এবার সাফল্যের মাপকাঠি হতে হবে আরও কঠিন: ৪২৪টি দূষণমুখের কতটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হলো, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নিয়ম মানল, নদীতে বর্জ্য প্রবেশ কতটা কমল এবং পানির ডিওসহ সামগ্রিক গুণমান কতটা ফিরল। কারণ নদীর পাড় পরিষ্কার করে নদী বাঁচে না। নদীতে বর্জ্য ঢোকার পথ বন্ধ হলেই শুরু হবে সত্যিকারের নদী রক্ষা।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখলেই ফোনে ঢুকছে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন বিজ্ঞাপন দেখলেই ফোনে ঢুকছে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার

অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখার সময় কোনো লিংকে ক্লিক না করলেও স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্রে গোপনে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করতে পারে। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীদের যন্ত্রে নজরদারির সফটওয়্যার ছড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্র সিটিজেন ল্যাবের এক অনুসন্ধানে ইসরায়েলভিত্তিক একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিরুদ্ধে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, এ ধরনের সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীর কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। বিজ্ঞাপন দেখার সময়ই যন্ত্রের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানো সম্ভব। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার কয়েক ডজন যন্ত্র এ ধরনের স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপনের আড়ালে স্পাইওয়্যার ছড়ানোর অভিযোগ
সিটিজেন ল্যাবের গবেষকদের ধারণা, ‘ডিসকভার-টেক’ নামের একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনী সংস্থার বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে স্পাইওয়্যার ছড়ানো হয়েছে। অনলাইন বিজ্ঞাপনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং তাঁদের যন্ত্রে গোপনে নজরদারির সফটওয়্যার প্রবেশ করানোর বিষয়টি নিয়ে গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্পাইওয়্যার একধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর অজান্তে তাঁর যন্ত্রের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, অনলাইন কার্যক্রম এবং অন্যান্য সংবেদনশীল উপাত্তে অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী, এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নজরদারিও চালানো সম্ভব।

সাধারণত সাইবার অপরাধীরা ক্ষতিকর লিংক, সংক্রমিত ফাইল কিংবা প্রতারণামূলক অ্যাপের মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে থাকে। তবে বিজ্ঞাপনকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীর কোনো সরাসরি পদক্ষেপ ছাড়াই যন্ত্রে প্রবেশের এই পদ্ধতি সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কীভাবে কাজ করে ‘জিরো-ক্লিক’ হামলা?
প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অনেক সময় কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে হয় কিংবা সংক্রমিত ফাইল খুলতে হয়। কিন্তু ‘জিরো-ক্লিক’ হামলায় ব্যবহারকারীর এমন কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। যন্ত্রের অপারেটিং সিস্টেম, ব্রাউজার বা সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারের কোনো দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণকারী স্পাইওয়্যার প্রবেশ করানোর সুযোগ পেতে পারে।

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এমন হামলা চালানো হলে ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়েই ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেও হামলার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ফলে শুধু সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকলেই সব ধরনের সাইবার হামলা ঠেকানো সম্ভব নয়।

এ ধরনের হামলা শনাক্ত করাও কঠিন হতে পারে। কারণ, ব্যবহারকারী কোনো অস্বাভাবিক কার্যক্রম না করলেও তাঁর যন্ত্রে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশের চেষ্টা হতে পারে।

সরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কেও বিজ্ঞাপন পৌঁছেছে
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কনফিয়েন্টের গবেষকেরাও ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিয়েছেন। তাঁদের তথ্যমতে, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের কাছে এসব বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ, ন্যাটো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের কাছেও বিজ্ঞাপনগুলো পৌঁছেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন পৌঁছানো এবং সেই প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রে সফলভাবে স্পাইওয়্যার প্রবেশ—দুটি বিষয় এক নয়। তাই এসব তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের যন্ত্র আক্রান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার প্রমাণ
সিটিজেন ল্যাবের গবেষক বিল মারচাক জানিয়েছেন, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর যন্ত্রে সাইবার হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে তাঁদের অনুসন্ধানে এবার এ ধরনের কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

গবেষণাটি অনলাইন বিজ্ঞাপনব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সাধারণত পণ্য বা সেবা প্রচারের কাজে ব্যবহৃত হলেও একই ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করে নজরদারি বা সাইবার হামলা চালানো হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

স্পাইওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, অবিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল না করা এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অনুমতি বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিরাপত্তা সতর্কতা উপেক্ষা না করা এবং সন্দেহজনক ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলাও ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে জিরো-ক্লিক হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কোনো পদক্ষেপ ছাড়াই আক্রমণ হতে পারে বলে শুধু সতর্কভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। যন্ত্রের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা দ্রুত সমাধান করা এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ

‘আরেকটু ভালো বুট পেলে সুবিধা হতো’, অধিনায়কের কথায় সাড়া প্রতিমন্ত্রীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
‘আরেকটু ভালো বুট পেলে সুবিধা হতো’, অধিনায়কের কথায় সাড়া প্রতিমন্ত্রীর

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের কিশোর ফুটবলাররা। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে যাওয়ার আগে তাদের জন্য এলো বিশেষ উপহার। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের অধিনায়ক ফাহিম হাসানের আবদারে দলের ১৪ জন খেলোয়াড়কেই নিজ খরচে পছন্দমতো উন্নত মানের ফুটবল বুট কিনে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশ ছাড়ার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ দল। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর কাছে নিজেদের চাওয়ার কথা সরাসরি তুলে ধরে কিশোর অধিনায়ক ফাহিম হাসান। বাফুফের পক্ষ থেকে বুট দেওয়া হলেও আরও উন্নত মানের বুটের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান ফাহিম। তিনি আমিনুল হককে বলেন, ‘স্যার, বাফুফে থেকে আমাদের বুট দেওয়া হয়েছে। তবে আরেকটু ভালো গ্রেডের বুট পেলে মাঠে আমাদের জন্য খুব সুবিধা হতো।’ কিশোর অধিনায়কের এমন সরাসরি আবদারে বিরক্ত না হয়ে বরং খুশি হন প্রতিমন্ত্রী। খেলোয়াড়দের উন্নত সরঞ্জামের চাহিদাকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে তিনি বলেন, ‘না, ওরা আরেকটু বেটার চাচ্ছে। এতে কোনো অসুবিধা বা সমস্যা নেই।’

এরপরই দলের ১৪ জন খেলোয়াড়ের পছন্দ ও পায়ের মাপ জেনে দ্রুত বুটের ব্যবস্থা করতে বাফুফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আমিনুল হক। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা এখনই চলে যাও। গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো বুটের সাইজ দাও। আমাকে জানালেই আমি এখনই পাঠিয়ে দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমার তরফ থেকে এটা তোমাদের জন্য উপহার।’ কিশোর ফুটবলারদের জন্য শুধু উন্নত মানের বুটের ব্যবস্থাই নয়, প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার জন্য বাড়তি উৎসাহও দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বড় উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আমিনুল হক বলেন, ‘ওদের বড় কিছু চাওয়ার সাহস হয়েছে। তোমরা টুর্নামেন্ট খেলে আসো, আল্লাহর রহমতে ভালো কিছু করতে পারলে পরবর্তীতে তোমাদের আরও দারুণ কিছু উপহার দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।’

প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণায় বিশ্বমঞ্চে খেলতে যাওয়া কিশোর ফুটবলারদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিজেদের পছন্দের উন্নত মানের বুট নিয়ে মাঠে নামার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ‘জি’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, ওয়েলস, ইন্দোনেশিয়া, বুরুন্ডি ও ফিজি। আগামী ২৪ অক্টোবর ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। আটজনের দল নিয়ে ছোট মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধ হবে ২০ মিনিট করে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইয়ের ওপর ভরসা কতটা নিরাপদ

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য পরামর্শে এআইয়ের ওপর ভরসা কতটা নিরাপদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে চ্যাটবটের কাছে জানতে চান, কী কারণে এমন হচ্ছে বা কী ওষুধ খাওয়া উচিত। সহজে ও দ্রুত উত্তর পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্যবিষয়ক এসব পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ, এআইয়ের দেওয়া সব উত্তর নির্ভুল নয়। ভুল পরামর্শের কারণে কোনো গুরুতর রোগকে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করার ঝুঁকিও রয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে চিকিৎসাবিষয়ক জার্নাল বিএমজে ওপেন–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় চ্যাটবটের স্বাস্থ্যবিষয়ক উত্তর পর্যালোচনা করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, চ্যাটবটগুলোর প্রায় অর্ধেক উত্তর ছিল সমস্যাজনক এবং প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ উত্তরকে গুরুতর সমস্যাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ফলাফল স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর নির্ভর করার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সামান্য উপসর্গের আড়ালে থাকতে পারে বড় বিপদ
ধরা যাক, রাত দুইটার দিকে মিনহাজের (ছদ্মনাম) বুকে হালকা ব্যথা শুরু হলো। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার আগে সে একটি এআই চ্যাটবটের কাছে জানতে চাইল, কেন এমন ব্যথা হচ্ছে। উত্তরে চ্যাটবট জানাল, এটি সম্ভবত গ্যাসের সমস্যা। সেই পরামর্শে আশ্বস্ত হয়ে মিনহাজ ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর সে জানতে পারল, বুকের ব্যথাকে এভাবে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ, বুকব্যথার পেছনে গ্যাসের সমস্যা ছাড়াও হৃদ্‌যন্ত্রের অসুস্থতাসহ বিভিন্ন গুরুতর কারণ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে এআইয়ের ভুল বা অসম্পূর্ণ পরামর্শ মানুষকে সাময়িকভাবে আশ্বস্ত করলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করাতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পেতে দেরি হলে বিপদের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

কেন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশ্নে ভুল করে এআই
এআই চ্যাটবট মানুষের মতো রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা করতে পারে না। রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসার ইতিহাস যাচাই করার সুযোগও সাধারণত তার থাকে না। ব্যবহারকারী যেসব তথ্য দেন, সেগুলোর ভিত্তিতেই চ্যাটবট সম্ভাব্য উত্তর তৈরি করে। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধু উপসর্গের বর্ণনা যথেষ্ট নয়। একই উপসর্গের পেছনে একাধিক রোগ বা শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। বয়স, পূর্ববর্তী রোগ, চলমান ওষুধ, উপসর্গের তীব্রতা এবং অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ বিবেচনা না করে নির্দিষ্ট কোনো রোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অক্সফোর্ডের একটি গবেষণায় দেখা যায়, চ্যাটবটের সহায়তা নিয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্যসমস্যা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, এআই থেকে তথ্য পাওয়া গেলেও সেই তথ্যের ভিত্তিতে নিজের রোগ সঠিকভাবে বুঝে ওঠা সব সময় সম্ভব হয় না।

এআইয়ের পরামর্শ কীভাবে কাজে লাগাবেন
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য জানার ক্ষেত্রে এআইকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই। বরং এর ব্যবহার কোথায় উপকারী এবং কোথায় ঝুঁকিপূর্ণ, তা বুঝে নেওয়া জরুরি। কোনো রোগ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা পাওয়া, চিকিৎসক ব্যবহৃত কোনো শব্দের অর্থ বোঝা, ওষুধের নির্দেশনায় লেখা বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া কিংবা চিকিৎসকের কাছে কী কী প্রশ্ন করা উচিত, তার একটি তালিকা তৈরিতে এআই সহায়ক হতে পারে। তবে চ্যাটবটের দেওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত চিকিৎসা-পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। কোনো ওষুধ শুরু করা, বন্ধ করা বা তার মাত্রা পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও শুধু এআইয়ের কথায় নেওয়া নিরাপদ নয়। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ প্রয়োজন।

জরুরি উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট নয়
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা তীব্র বা দ্রুত অবনতিশীল উপসর্গ দেখা দিলে এআইয়ের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে বুকব্যথার সঙ্গে ঘাম, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। তীব্র জ্বরের সঙ্গে বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। এআই কোনো উপসর্গকে সাধারণ সমস্যা বলে উল্লেখ করলেও সেটি গুরুতর অসুস্থতার সম্ভাবনা বাতিল করে না। তাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চ্যাটবটের পরামর্শের চেয়ে সরাসরি চিকিৎসা নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এআই ভালো না মন্দ নয় মূল প্রশ্ন আস্থার সীমা
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগও বাড়ছে। তবে দ্রুত উত্তর পাওয়া আর সঠিক চিকিৎসা পাওয়া এক বিষয় নয়। এআইয়ের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপিত হলেও তা ভুল, অসম্পূর্ণ বা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার জন্য অনুপযুক্ত হতে পারে।

তাই প্রশ্নটি শুধু এআই ভালো না মন্দ, তা নিয়ে নয়। বরং কোন কাজে এর সহায়তা নেওয়া যায় এবং কোন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে একে ব্যবহার করা উচিত নয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাধারণ তথ্য জানার জন্য এআই সহায়ক হতে পারে, কিন্তু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে পেশাদার চিকিৎসকের ভূমিকা অপরিহার্য।

কালের আলো/জেএন/এসএ