একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশ থেকে সিনেমাটি নির্বাচিত হয়েছে।
আজ রোববার ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রইদ’ নির্বাচনের বিষয়টি জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সিনেমা আবারও বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে নিজেদের গল্প ও নির্মাণশৈলী তুলে ধরার সুযোগ পেল।
পাঁচ সিনেমার প্রতিযোগিতা
এবার অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য মোট পাঁচটি সিনেমা জমা পড়ে। এগুলো হলো নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, রেদওয়ান রনির ‘দম’, মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’।
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর চারটি সিনেমা পরবর্তী ধাপে বিবেচনায় আসে। সেখান থেকেই চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের অস্কার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয় ‘রইদ’।
অস্কার বাংলাদেশ কমিটির সাত সদস্যের মূল্যায়ন ও আলোচনার ভিত্তিতে সিনেমাটি নির্বাচন করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারপারসন জহিরুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে ছিলেন সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, অপি করিম, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।
বাংলাদেশের গল্প নিয়ে অস্কারের পথে ‘রইদ’
অস্কারের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। নিজের সিনেমাকে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই অঞ্চলের গল্প হিসেবেও দেখছেন তিনি।
দুপুরে প্রথম আলোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সুমন বলেন, অনুভূতিটা আনন্দের। কারণ, ‘রইদ’ বাংলাদেশের এবং এই অঞ্চলের গল্প। স্থানীয় সংস্কৃতি ও চিন্তার ভেতর দিয়েই সিনেমাটির গল্প এগিয়েছে।
নির্মাতার ভাষ্যে, সিনেমাকে শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিষয় নয়। এর একাডেমিক ও নান্দনিক দিকও রয়েছে। ‘রইদ’-এর মাধ্যমে দর্শকদের সেই অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন সুমন। তাঁর মতে, একটা সময় অস্কারে বাংলাদেশের হয়ে যাওয়ার মতো সিনেমা খুব বেশি ছিল না। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে ভালো মানের সিনেমা দেশের হয়ে অস্কারে প্রতিনিধিত্ব করছে। এটি বাংলাদেশের সিনেমার জন্য আশার দিক।
সাধু-পাগলির সম্পর্কের গল্প
‘রইদ’ মূলত সাধু ও তাঁর স্ত্রী পাগলির সম্পর্কের একটি সরল অথচ গভীর আখ্যান। প্রেম ও নীরবতার মধ্য দিয়ে মানবজীবনের চিরন্তন এক আদিম প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে।
সিদ্দিক আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিদ ফারুক ও শুকর্ণ শাহেদ ধীমানের চিত্রনাট্যে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
‘রইদ’-এর গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। সিনেমাটির শুটিংয়ের বিভিন্ন মুহূর্ত ইতিমধ্যে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
নাজিফা তুষির প্রত্যাশা
অস্কারে ‘রইদ’ নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অভিনেত্রী নাজিফা তুষিও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, অস্কারের জন্য বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে ‘রইদ’ নির্বাচিত হওয়া দেশের চলচ্চিত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।
এখন সিনেমাটির সামনে রয়েছে আরও বড় ধাপ। বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে নির্বাচিত হওয়ার পর অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার অপেক্ষা।
সামনে চূড়ান্ত মনোনয়নের অপেক্ষা
অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশ থেকে ‘রইদ’ নির্বাচিত হলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও বাকি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত সিনেমাগুলোর মধ্য থেকে পরবর্তী ধাপে মনোনয়ন তালিকা তৈরি হবে।
ফলে বাংলাদেশের জন্য ‘রইদ’-এর অস্কারযাত্রা এখানেই শেষ নয়; বরং শুরু হলো নতুন এক প্রতিযোগিতার অধ্যায়।
মেজবাউর রহমান সুমনের এই সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মানুষের সম্পর্ক, প্রেম ও নীরবতার একটি নিজস্ব গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নির্মাতার প্রত্যাশা, বাংলাদেশের সিনেমা একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় স্বীকৃতি অর্জন করবে। ‘রইদ’ সেই দীর্ঘ যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে।
কালের আলো/এসএ
আপনার মতামত লিখুন
Array