খুঁজুন
                               
, ,
           

হুতিদের হামলার শঙ্কায় রিয়াদে স্কুল বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
হুতিদের হামলার শঙ্কায় রিয়াদে স্কুল বন্ধ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এক সপ্তাহের জন্য সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকবে। রোববার শেষ মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা অভিভাবকদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দুটি স্কুলের পাঠানো ই-মেইল দেখেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই স্কুলগুলোকে জানানো হয়েছে যে পুরো সপ্তাহজুড়েই স্কুল বন্ধ রাখতে হবে।

তবে স্কুল বন্ধ রাখার আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ কর্তৃপক্ষ জানায়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেষ মুহূর্তে স্কুল বন্ধের ঘোষণা

অভিভাবকদের পাঠানো ই-মেইলে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শেষ মুহূর্তে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা পাওয়া গেছে। ফলে রিয়াদের স্কুলগুলোতে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে।

এর পরিবর্তে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

তবে হঠাৎ করে এক সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

রিয়াদে বসবাসকারী এক অভিভাবক এএফপিকে বলেন, যখন একটি সিদ্ধান্ত পুরো এক সপ্তাহের জন্য সব স্কুলকে প্রভাবিত করে, তখন পরিবারগুলোর সঙ্গে স্বচ্ছভাবে যোগাযোগ করা এবং সিদ্ধান্তের কারণ জানানো প্রয়োজন।

লেবাননের এক প্রবাসী অভিভাবকও সিদ্ধান্তটিকে শেষ মুহূর্তের বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, কী ঘটছে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের কোনো ধারণা নেই।

সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা

রিয়াদে স্কুল বন্ধের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতি যোদ্ধাদের হামলা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযানে রয়েছে।

স্কুল বন্ধের ঘোষণার মাত্র এক দিন আগে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দেশটির দিকে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির বিভিন্ন স্থাপনা। তবে স্কুল বন্ধের সঙ্গে এসব হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

জুলাই থেকে হামলা বেড়েছে

হুতিদের হামলা গত জুলাই থেকে আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কয়েক বছর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে হামলা শুরু করে সংগঠনটি।

এরপর আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হুতিদের সামরিক তৎপরতাও বাড়তে থাকে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

রিয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে বলেনি, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই রিয়াদের সব স্কুল এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না।

বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

হুতিদের হামলা নিয়ে আগেও উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সৌদি আরবে হুতি যোদ্ধাদের ক্রমবর্ধমান হামলার নিন্দা জানিয়ে পরিষদ বলেছিল, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের জন্য হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ধারাবাহিকতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গে এর যোগসূত্র নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের স্কুলগুলোতে সরাসরি পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইন শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিভাবকদের প্রশ্ন, কারণ জানানো হয়নি কেন

স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন এর কারণ নিয়ে। এক সপ্তাহের মতো দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

ফলে অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সিদ্ধান্তটি শেষ মুহূর্তে জানানোয় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অনলাইনে ক্লাস চালু রাখার সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রিয়াদের স্কুলগুলো কবে আবার সরাসরি পাঠদানে ফিরবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুতি হামলার ধারাবাহিকতা এবং হঠাৎ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে রিয়াদের বাসিন্দাদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে স্কুল বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই এখনো পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসএ

শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতরা, সচিবালয়ে ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতরা, সচিবালয়ে ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল

নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা। তাদের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে সড়কে অবস্থান নেন তারা।

‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে চলা এ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থানার সামনে টিএসসি অভিমুখী সড়কে মেট্রোরেলের নিচে অবস্থান করছেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গেছে। প্রতিনিধিদল ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

ভোলা থেকে আসা আন্দোলনকারী এস এম খোকন বলেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করায় তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কথা বলতে সাতজন প্রতিনিধি সচিবালয়ে গেছেন। প্রতিনিধিদল ফিরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত রুবেল বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শিক্ষক পদে যোগদানের প্রত্যাশায় মার্চ ও এপ্রিলে ১৫তম গ্রেডের দুটি সরকারি চাকরির ভাইভাতেও অংশ নেননি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি সরকারি চাকরিতেও যোগ দেননি। তবে দীর্ঘ সময় পরও তার নামে নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেল বলেন, তার ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নিয়োগপত্র পাননি।

আন্দোলনকারীরা দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জার্মানির আইটি চাকরিতে বিদেশিদের সুযোগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
জার্মানির আইটি চাকরিতে বিদেশিদের সুযোগ

জার্মানিতে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে চাকরি করতে আগ্রহী বিদেশি প্রার্থীদের জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটি। চাকরির আবেদন করার আগে কোন ভাষায় আবেদন করতে হবে, কী কী নথি প্রস্তুত করতে হবে এবং প্রাথমিক বাছাইয়ের পর কীভাবে সাক্ষাৎকার হতে পারে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।

বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত ভালোভাবে যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত এবং পেশাদারভাবে আবেদনপত্র উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আবেদনের ভাষা আগে যাচাই

জার্মানির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন জার্মান ভাষায় জমা দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয়। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান ইংরেজি ভাষাতেও আবেদন গ্রহণ করে।

তাই কোনো প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে প্রতিষ্ঠানটির চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ভাষাসংক্রান্ত শর্ত কী দেওয়া হয়েছে, তা ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত ভাষা অনুসরণ না করে আবেদন করলে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করার আগেই আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে আবেদন তৈরির শুরুতেই ভাষার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণত যেসব নথি লাগে

জার্মানিতে চাকরির আবেদনে সাধারণত তিন ধরনের প্রধান নথি প্রস্তুত করতে হয়। এগুলো হলো কভার লেটার, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) এবং সুপারিশপত্র বা অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র।

১. কভার লেটার

কভার লেটারে প্রার্থীকে নির্দিষ্ট পদ ও প্রতিষ্ঠানে কাজ করার আগ্রহের কারণ তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার বিষয়গুলো উল্লেখ করে ব্যাখ্যা করতে হবে—কেন তিনি ওই পদের জন্য উপযুক্ত।

কভার লেটার তৈরির সময় আবেদন করা পদের দায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের সঙ্গে নিজের দক্ষতার সম্পর্ক স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২. জীবনবৃত্তান্ত

চাকরির আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি। এটি ছকবদ্ধ, পরিষ্কার ও সহজে বোঝা যায় এমনভাবে সাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিভিতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য যোগ্যতা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

বিশেষ করে আইটি খাতের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাগুলো সিভিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. সুপারিশপত্র ও অভিজ্ঞতার প্রমাণ

প্রাসঙ্গিক রেফারেন্স, সুপারিশপত্র কিংবা পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতার সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করতে হতে পারে।

প্রার্থী যে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা সিভিতে উল্লেখ করছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী তার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিভিতে ছবি বাধ্যতামূলক নয়

জার্মানিতে চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে সিভির সঙ্গে ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে দেশটিতে সিভিতে ছবি যুক্ত করার প্রচলন রয়েছে।

প্রার্থীরা চাইলে সিভিতে পেশাদার ছবি ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এমন ছবি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা প্রার্থীকে পেশাদার ও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে উপস্থাপন করে।

অর্থাৎ ছবি না থাকলেও আবেদন করা সম্ভব; তবে ছবি যুক্ত করার ক্ষেত্রে তা যেন পেশাদার মানের হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রাথমিক বাছাইয়ের পর সাক্ষাৎকার

আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পর প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হতে পারে।

সাক্ষাৎকারের ধরন একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম হতে পারে। এটি সরাসরি, ভিডিও কলের মাধ্যমে অথবা টেলিফোনে নেওয়া হতে পারে।

ফলে বিদেশি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার জন্য প্রাথমিক পর্যায়েই জার্মানিতে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনলাইন বা টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেও নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

আবেদনের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

জার্মানিতে আইটি খাতে চাকরির জন্য আবেদন করতে আগ্রহী বিদেশি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া ভাষার শর্ত যাচাই করতে হবে।

এরপর নির্ধারিত ফরম্যাট ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে আবেদন করতে হবে। কভার লেটারে নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি সিভিতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

প্রয়োজনীয় সুপারিশপত্র বা অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র থাকলে সেগুলোও প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলে সম্ভাব্য সাক্ষাৎকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত এসব নির্দেশনায় মূলত সঠিক ভাষায় আবেদন, পূর্ণাঙ্গ নথি প্রস্তুত এবং পেশাদার উপস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে জার্মানির আইটি খাতে চাকরির আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শর্তগুলো ভালোভাবে যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

অনন্ত আম্বানিকে অধ্যাপক নিয়োগে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
অনন্ত আম্বানিকে অধ্যাপক নিয়োগে প্রশ্ন

ভারতের শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর নিয়োগের ঘোষণা দেয়। সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য, প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ এবং রিলায়েন্স গ্রুপের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে অনন্ত আম্বানির প্রতিষ্ঠিত গুজরাটের বন্য প্রাণী সংরক্ষণকেন্দ্র ভান্তারায় প্রাণী সংগ্রহ ও আমদানি নিয়ে আগে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের কারণে এই নিয়োগ নিয়ে পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

সংরক্ষণকাজের স্বীকৃতি হিসেবে নিয়োগ

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অনন্ত আম্বানিকে দেওয়া ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস ইন সাসটেইনেবিলিটি’ তাঁর প্রচলিত একাডেমিক গবেষণার পদ নয়; বরং বাস্তব ক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অনন্তের ভান্তারা উদ্যোগের কাজ তাদের বৈশ্বিক সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্যবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভান্তারা আহত, নির্যাতিত ও বিপন্ন প্রাণীর উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় কাজ করে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

অনন্ত আম্বানি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ভান্তারায় দেড় লাখের বেশি প্রাণী

৩১ বছর বয়সী অনন্ত আম্বানি রিলায়েন্স গ্রুপের নির্বাহী পর্ষদে পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভান্তারা ভারতের গুজরাটের জামনগরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ একর এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভান্তারায় ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে সিংহ, চিতাবাঘ, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। ভান্তারা নিজেদের বন্য প্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে পরিচয় দেয়।

তবে বিপুলসংখ্যক প্রাণী বিভিন্ন দেশ থেকে ভান্তারায় আনার প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাণী আমদানি নিয়ে কী প্রশ্ন

জার্মান সংবাদপত্র সুড্ডয়চে সাইটুং-এর ২০২৫ সালের এক অনুসন্ধানে ভান্তারায় প্রাণী আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের রুট ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসে। এরপর প্রাণী আমদানির নথিপত্র ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী সংগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

পরবর্তী সময়ে বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সাইটিস (CITES) ভান্তারায় প্রাণী আমদানির বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে। প্রতিবেদনে কিছু আমদানির অনুমতিপত্র নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয় এবং বিপুলসংখ্যক প্রাণী আমদানির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে বিষয়টির আইনগত অবস্থান নিয়ে ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হওয়া তদন্তে ভান্তারার পরিচালকদের কোনো অনিয়মের জন্য দায়ী করা হয়নি বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে CITES-সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়েও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের আপত্তি ছিল।

অর্থাৎ প্রাণী আমদানি নিয়ে প্রশ্ন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উদ্বেগ থাকলেও ভান্তারার বিরুদ্ধে অবৈধ বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগ আদালতের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিয়োগ নিয়ে শিক্ষাবিদদের আপত্তি

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের পর কয়েকজন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভারতের ইতিহাসবিদ ও পরিবেশবিষয়ক লেখক রামচন্দ্র গুহ এই নিয়োগকে ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আরও অনেক গবেষক ও বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, যাঁদের অবদানও এমন স্বীকৃতির যোগ্য।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি অনন্ত আম্বানিকে নিয়োগের আগে কতটা যাচাই-বাছাই করেছে, সে প্রশ্নও তুলেছেন। তাঁর মতে, সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেও আপত্তি

শুধু বাইরের পরিবেশবিদ বা শিক্ষাবিদ নন, নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের মধ্যেও এই নিয়োগ নিয়ে আপত্তির কথা উঠে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরি জানিয়েছেন, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মী নিয়োগটির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়লা মেহতাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অর্থায়ন কমে যাওয়ার সময়ে ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য কী

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, অনন্ত আম্বানিকে দেওয়া অধ্যাপক পদটি তাঁর বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, প্রাণী কল্যাণ ও পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার কাজের স্বীকৃতি।

এ ছাড়া রিলায়েন্স গ্রুপের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে তাঁর কাজও এই স্বীকৃতির বিবেচনায় ছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, অনন্ত আম্বানি বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই অধ্যাপক পদ দেওয়ার বিনিময়ে অনুদান নেওয়া হয়নি।

ভান্তারার নতুন পদক্ষেপ

প্রাণী আমদানি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভান্তারা গত আগস্টে তাদের কার্যক্রমে নতুন করে পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি সাবেক এক CITES প্রধানকে কার্যক্রম তদারকির সঙ্গে যুক্ত করে এবং আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বন্য প্রাণী আমদানি বন্ধ রাখার কথা জানায়।

ভান্তারা ও আম্বানি পরিবার এর আগে বন্য প্রাণী পাচার বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রাণীদের উদ্ধার, পুনর্বাসন ও যত্ন নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

নতুন করে আলোচনায় একাডেমিক স্বীকৃতি

অনন্ত আম্বানির অধ্যাপক নিয়োগের ঘটনাটি তাই একদিকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে ভান্তারার প্রাণী সংগ্রহ ও আমদানি নিয়ে আগে ওঠা প্রশ্নগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

গত এপ্রিল অনন্ত আম্বানি ‘ভান্তারা ইউনিভার্সিটি’ চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও পশুচিকিৎসাবিজ্ঞানে বৈশ্বিক পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের উদ্যোগকে তুলে ধরছে।

নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চললেও বিশ্ববিদ্যালয়টি বলছে, সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ক্ষেত্রে অনন্ত আম্বানির কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকেরা নিয়োগের মানদণ্ড, যাচাই-বাছাই এবং ভান্তারাকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলোর বিষয়টি সামনে আনছেন।

কালের আলো/এসএ