খুঁজুন
                               
, ,
           

শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতরা, সচিবালয়ে ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
শাহবাগে প্রাথমিকের নিয়োগবঞ্চিতরা, সচিবালয়ে ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল

নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা। তাদের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সচিবালয়ে গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে সড়কে অবস্থান নেন তারা।

‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে চলা এ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থানার সামনে টিএসসি অভিমুখী সড়কে মেট্রোরেলের নিচে অবস্থান করছেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল কিছুটা ধীরগতিতে চলছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে গেছে। প্রতিনিধিদল ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

ভোলা থেকে আসা আন্দোলনকারী এস এম খোকন বলেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করায় তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কথা বলতে সাতজন প্রতিনিধি সচিবালয়ে গেছেন। প্রতিনিধিদল ফিরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত রুবেল বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। শিক্ষক পদে যোগদানের প্রত্যাশায় মার্চ ও এপ্রিলে ১৫তম গ্রেডের দুটি সরকারি চাকরির ভাইভাতেও অংশ নেননি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি সরকারি চাকরিতেও যোগ দেননি। তবে দীর্ঘ সময় পরও তার নামে নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেল বলেন, তার ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই নিয়োগপত্র পাননি।

আন্দোলনকারীরা দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়: আটক ২৪৯ জন মুক্ত, হেফাজতে ২৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়: আটক ২৪৯ জন মুক্ত, হেফাজতে ২৯

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর আটক ২৭৮ জনের মধ্যে ২৪৯ জনকে যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের পরিচয় যাচাই চলছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) সাকিবুল আলম ভূঁইয়া।

তিনি জানান, জাসদের নেতাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নেতা-কর্মীদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

পুলিশের হেফাজতে থাকা ২৯ জনের বিষয়ে এসি সাকিবুল আলম বলেন, তাদের পরিচয়ও যাচাই করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাদের নিরাপদে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।

এখনো মামলা হয়নি

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচি পালনের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাসদের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেখানে মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

জাসদ কার্যালয় দখলের কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যালয় দখলের কোনো সুযোগ নেই। কার্যালয়টি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

যেভাবে অভিযান

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড় এলাকায় জাসদের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে আওয়ামী লীগের গোপন বৈঠক চলছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা পুলিশকে খবর দেন।

পরে পল্টন থানা পুলিশ জাসদ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা লোকজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয়ে একত্রিত হয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

এর আগে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, জাসদ এবং তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে নাশকতা বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে তিন ক্যাটাগরির পদে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। রাজস্ব খাতভুক্ত এসব পদে সরাসরি নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ৯ম বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে বেতন স্কেল উল্লেখ করে নতুন এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

যে তিন পদে নিয়োগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন ক্যাটাগরির মোট ১৬টি পদে জনবল নেওয়া হবে। এর মধ্যে—সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর-৪ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক- ৪ জন, অফিস সহায়ক-৮ জন

সব মিলিয়ে ১৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

এই পদে চারজন নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি ১৩তম গ্রেডের। এ পদের বেতন স্কেল ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা।

আবেদনের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

এই পদে চারজন নিয়োগ পাবেন। পদটি ১৬তম গ্রেডের। এ পদে বেতন স্কেল ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

প্রার্থীকে স্বীকৃত বোর্ড থেকে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

এ ছাড়া কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে দক্ষতাও থাকতে হবে। বাংলায় প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২০ শব্দ এবং ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে ২০ শব্দ লেখার গতি থাকতে হবে।

অফিস সহায়ক পদে ৮ নিয়োগ

অফিস সহায়ক পদে সবচেয়ে বেশি আটজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। পদটি ২০তম গ্রেডের। এ পদের বেতন স্কেল ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।

এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে স্বীকৃত বোর্ড থেকে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

আবেদনের বয়সসীমা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছর হতে হবে। নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরে কোনো প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না।

আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হবে ১৭ অক্টোবর ২০২৬।

আবেদন ফি কত

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ ও ২ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা। এর সঙ্গে সার্ভিস চার্জ ১২ টাকা যোগ হয়ে মোট আবেদন ফি দাঁড়াবে ১১২ টাকা।

তবে অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য ফি কম। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের আবেদন ফি ৫০ টাকা এবং সার্ভিস চার্জ ৬ টাকা। অর্থাৎ তাঁদের মোট ৫৬ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পরীক্ষার ধরন ও অন্যান্য শর্ত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সব নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে আয়ারল্যান্ড, কালো বাহুবন্ধনী

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে আয়ারল্যান্ড, কালো বাহুবন্ধনী

গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে ম্যাচ খেলার পক্ষে মত দেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড়।

ফলে সূচি অনুযায়ী আজ রাতে হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামছে আয়ারল্যান্ড। তবে ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিহত সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো বাহুবন্ধনী পরে খেলবেন।

বাজুনুর আপত্তিতে শুরু হয় আলোচনা

ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি সামনে আসে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনুর অবস্থানকে কেন্দ্র করে। ইংলিশ ক্লাব বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের এই ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে জানান, তিনি ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিতে চান না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বাজুনু বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির বিরুদ্ধে তাঁর নীতিগত অবস্থানের কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

বাজুনুর এই অবস্থানের পর আয়ারল্যান্ড দলের অনুশীলন ও নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। এরপর দলের হোটেলে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) কর্মকর্তা, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়।

ভোটাভুটিতে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত

আলোচনার সময় দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন বলে জানা যায়। পরে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।

এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কারেল জানান, খেলোয়াড়দের ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় মাঠে নামার পক্ষে মত দেন।

আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক ডারা ও’শি বলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান করা এবং মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবে দল

ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত হলেও মানবিক সংকটের বিষয়টি দলটি পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছে না। আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবেন।

এর মাধ্যমে ম্যাচে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অবস্থান তুলে ধরতে চায় দলটি।

কোচের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল আগেই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হলগ্রিমসন বলেছিলেন, তাঁদের দল ‘গণহত্যার পক্ষে’ খেলছে না, বরং ‘গণহত্যার বিরুদ্ধে’ খেলছে।

কোচের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) উয়েফার কাছে অভিযোগ করার হুমকি দেয়।

এরপর বিষয়টি দুই দেশের ফুটবল অঙ্গন ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।

আয়ারল্যান্ডে বয়কটের আহ্বান

ম্যাচটি বয়কটের দাবিতে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদও হয়েছে। ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে শতাধিক অ্যাথলেটের স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

প্রতিবাদকারীদের একটি অংশ ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের অভ্যন্তরীণ ভোটে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফিরতি ম্যাচ সার্বিয়ায়

নেশনস লিগের নিয়ম অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েল দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রথম ম্যাচটি হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামী ৪ অক্টোবর ফিরতি ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের মাঠে হওয়ার কথা থাকলেও সেটি দেশটিতে আয়োজন করা হচ্ছে না। নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ম্যাচটি সার্বিয়ায় দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ড দলের ভেতরের মতপার্থক্য, খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং মাঠের বাইরের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে নেশনস লিগের এই দ্বৈরথ ইতিমধ্যেই আলাদা মাত্রা পেয়েছে।

কালের আলো/এসএ