ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলবে আয়ারল্যান্ড, কালো বাহুবন্ধনী
গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে ম্যাচ খেলার পক্ষে মত দেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড়।
ফলে সূচি অনুযায়ী আজ রাতে হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামছে আয়ারল্যান্ড। তবে ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিহত সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো বাহুবন্ধনী পরে খেলবেন।
বাজুনুর আপত্তিতে শুরু হয় আলোচনা
ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি সামনে আসে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনুর অবস্থানকে কেন্দ্র করে। ইংলিশ ক্লাব বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের এই ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে জানান, তিনি ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিতে চান না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বাজুনু বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানির বিরুদ্ধে তাঁর নীতিগত অবস্থানের কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
বাজুনুর এই অবস্থানের পর আয়ারল্যান্ড দলের অনুশীলন ও নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। এরপর দলের হোটেলে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) কর্মকর্তা, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়।
ভোটাভুটিতে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত
আলোচনার সময় দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন বলে জানা যায়। পরে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।
এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কারেল জানান, খেলোয়াড়দের ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতেই ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় মাঠে নামার পক্ষে মত দেন।
আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক ডারা ও’শি বলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান করা এবং মানবিক বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবে দল
ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত হলেও মানবিক সংকটের বিষয়টি দলটি পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছে না। আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামবেন।
এর মাধ্যমে ম্যাচে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অবস্থান তুলে ধরতে চায় দলটি।
কোচের মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক
আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল আগেই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হলগ্রিমসন বলেছিলেন, তাঁদের দল ‘গণহত্যার পক্ষে’ খেলছে না, বরং ‘গণহত্যার বিরুদ্ধে’ খেলছে।
কোচের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) উয়েফার কাছে অভিযোগ করার হুমকি দেয়।
এরপর বিষয়টি দুই দেশের ফুটবল অঙ্গন ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও মানবিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।
আয়ারল্যান্ডে বয়কটের আহ্বান
ম্যাচটি বয়কটের দাবিতে আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদও হয়েছে। ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে শতাধিক অ্যাথলেটের স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদকারীদের একটি অংশ ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের অভ্যন্তরীণ ভোটে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফিরতি ম্যাচ সার্বিয়ায়
নেশনস লিগের নিয়ম অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েল দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েলের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় প্রথম ম্যাচটি হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী ৪ অক্টোবর ফিরতি ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের মাঠে হওয়ার কথা থাকলেও সেটি দেশটিতে আয়োজন করা হচ্ছে না। নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ম্যাচটি সার্বিয়ায় দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ড দলের ভেতরের মতপার্থক্য, খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং মাঠের বাইরের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে নেশনস লিগের এই দ্বৈরথ ইতিমধ্যেই আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
কালের আলো/এসএ









আপনার মতামত লিখুন
Array