খুঁজুন
                               
, ,
           

রোনালদোর গাড়ির বহরে বিরল সব মডেল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
রোনালদোর গাড়ির বহরে বিরল সব মডেল

ছোটবেলায় খেলনার বাক্স থাকে প্রায় সবারই। তবে সেই খেলনার বাক্সের ধারণাকে বাস্তবে বদলে যদি কেউ তৈরি করেন একটি বিশাল গাড়ির শোরুম, গল্পটা তখন আর সাধারণ থাকে না। ফুটবল মাঠে সাফল্যের পাশাপাশি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিলাসবহুল জীবনযাপনও বরাবরই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এবার নিজের ব্যক্তিগত গ্যারেজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।

ইনস্টাগ্রামে মাত্র দুই শব্দের ক্যাপশন—‘মাই টয়েজ’। সঙ্গে ব্যক্তিগত গ্যারেজ থেকে তোলা তিনটি ছবি। পোস্টটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পেয়েছে ২ কোটি ৬৫ লাখের বেশি লাইক। মন্তব্যও পড়েছে প্রায় চার লাখ। এতে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, মাঠের বাইরে রোনালদোর গাড়ির সংগ্রহও তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের মতোই দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়।

গ্যারেজে যেন এক বিলাসবহুল শোরুম

ছবি<< সংগৃহীত

রোনালদোর ব্যক্তিগত গ্যারেজকে সাধারণ কোনো পার্কিং স্পেস বলার সুযোগ নেই। কালো চকচকে মেঝে, ছাদজুড়ে সরলরেখার এলইডি আলো এবং বিশাল জায়গাজুড়ে সাজানো গাড়িগুলো মিলিয়ে এটি অনেকটা বিলাসবহুল গাড়ির শোরুমের মতো।

একসঙ্গে এক ডজনেরও বেশি গাড়ি অনায়াসে রাখা যায় সেখানে। আর প্রতিটি গাড়িই যেন আলাদা গল্প বলে—কোনোটির উৎপাদন সীমিত, কোনোটি বিশেষ সংস্করণের, আবার কোনোটি বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকজন সংগ্রাহকের মালিকানায় রয়েছে।

রোনালদোর গ্যারেজে এখন গাড়ির সংখ্যা আনুমানিক ৪০ থেকে ৪১টি।

এক গ্যারেজেই বুগাত্তির রাজত্ব

ছবি<< সংগৃহীত

রোনালদোর সংগ্রহের অন্যতম বড় আকর্ষণ বুগাত্তি। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে বুগাত্তি ভেরন ১৬.৪ গ্র্যান্ড স্পোর্ট ভিতেস, বিশেষভাবে তৈরি একটি বুগাত্তি শিরন এবং নতুন বুগাত্তি তুরবিইয়োঁ।

তুরবিইয়োঁর দাম প্রায় ৩২ লাখ পাউন্ড। গাড়িটির উপস্থিতিই বোঝায়, রোনালদোর সংগ্রহে শুধু পরিচিত বিলাসবহুল গাড়িই নেই, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বিশেষ ও ব্যয়বহুল গাড়িগুলোরও জায়গা রয়েছে।

তবে বুগাত্তির মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত গাড়িটি সেন্তোদিয়েচি। এটিই রোনালদোর সবচেয়ে দামি গাড়ি হিসেবে পরিচিত।

১০টি তৈরি, একটির মালিক রোনালদো

ছবি<< সংগৃহীত

বুগাত্তির ১১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেন্তোদিয়েচি তৈরি করা হয়েছিল। গাড়িটি নব্বইয়ের দশকের কিংবদন্তি সুপারকার ইবি ১১০-এর প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্যও।

শুরু থেকেই এটি ছিল সীমিত সংস্করণের প্রকল্প। বুগাত্তি গাড়িটি তৈরি করেছে মাত্র ১০টি। ফলে বাজারে আসার আগেই এর দুর্লভতা নিশ্চিত হয়ে যায়।

শুরুতে গাড়িটির দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৮৫ লাখ থেকে ১ কোটি ডলার। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হিসাবে এর মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত ধরা হয়েছে।

সেন্তোদিয়েচির বিশেষত্ব শুধু দাম বা গতি নয়। সীমিত উৎপাদন, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং স্বতন্ত্র নকশা—সব মিলিয়ে এটি গাড়ি সংগ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

১ হাজার ৬০০ হর্সপাওয়ারের দানব

ছবি<< সংগৃহীত

বুগাত্তি সেন্তোদিয়েচির বনেটের নিচে রয়েছে ৮ লিটারের ডব্লিউ১৬ ইঞ্জিন। চারটি টার্বোচার্জারের সমন্বয়ে ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ হর্সপাওয়ার শক্তি উৎপাদন করতে পারে।

শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে গাড়িটির সময় লাগে মাত্র ২.৪ সেকেন্ড। এর সর্বোচ্চ গতি প্রযুক্তিগতভাবে ঘণ্টায় ৩৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

এমন একটি গাড়ি বিশ্বের যেকোনো গাড়ি সংগ্রহের প্রধান আকর্ষণ হতে পারে। রোনালদোর গ্যারেজে সেটিও যেন আরও অনেক বিশেষ গাড়ির ভিড়ে একটি অংশমাত্র।

ফেরারির সংগ্রহও কম নয়

ছবি<< সংগৃহীত

রোনালদোর গাড়ির তালিকায় ফেরারির উপস্থিতিও বেশ শক্তিশালী। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ফেরারি পুরোসাংগে, দাইতোনা এসপি ৩, মনৎসা এসপি ১, কালো ৫৯৯ জিটিও এবং লাফেরারি।

এর মধ্যে লাফেরারির দাম সাড়ে তিন কোটি ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর মনৎসা এসপি ১ তৈরি হয়েছে পঞ্চাশের দশকের রেসিং কারের নকশা অনুসরণ করে। গাড়িটিতে নেই কোনো প্রচলিত ছাদ কিংবা সাধারণ উইন্ডশিল্ড। এর দাম প্রায় ১৮ লাখ ডলার।

মনৎসা এসপি ১ এবং দাইতোনা এসপি ৩—দুটিই ফেরারির সীমিত সংস্করণের ‘ইকোনা’ সিরিজের গাড়ি। এগুলো সাধারণ শোরুম থেকে ইচ্ছা করলেই কেনা যায় না; বরং ফেরারি নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে গাড়িগুলো বরাদ্দ করে।

ম্যাকলারেন সেনা থেকে স্পিডটেইল

ছবি<< সংগৃহীত

রোনালদোর সংগ্রহে রয়েছে ম্যাকলারেনেরও একাধিক বিশেষ গাড়ি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ম্যাকলারেন সেনা ও স্পিডটেইল।

ম্যাকলারেন সেনা তৈরি করা হয়েছে কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রেসিং চালক আইর্তন সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। বিশ্বজুড়ে গাড়িটির মাত্র ৫০০টি তৈরি করা হয়েছে।

শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এর সময় লাগে মাত্র ২.৮ সেকেন্ড। গাড়িটির দাম প্রায় ১০ লাখ ডলার।

রোনালদোর গ্যারেজে থাকা রুপালি রঙের ম্যাকলারেন সেনায় কার্বন ফাইবারের ট্রিমও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।

আরও আছে লাম্বরগিনি, পোর্শে, বেন্টলি

ছবি<< সংগৃহীত

বুগাত্তি, ফেরারি ও ম্যাকলারেনেই অবশ্য রোনালদোর সংগ্রহ শেষ নয়। তাঁর গ্যারেজে রয়েছে লাম্বরগিনি আভেন্তাদর, পোর্শে ৯১১, বেন্টলি ফ্লাইং স্পার এবং ব্রাবাসের হাতে বিশেষভাবে সাজানো একটি মার্সিডিজ জি-ওয়াগন।

আল নাসর ক্লাব থেকে রোনালদো ও তাঁর সতীর্থদের উপহার হিসেবে পাওয়া বিএমডব্লিউও রয়েছে তাঁর গাড়ির তালিকায়।

অন্য কারও জন্য এমন একটি গাড়ি হয়তো বিশেষ উপহার। কিন্তু রোনালদোর মতো গাড়ি সংগ্রাহকের বিশাল বহরের তুলনায় সেটি খুব বড় সংযোজন নয়।

শুধু অর্থ নয়, পছন্দও গুরুত্বপূর্ণ

রোনালদো নিজেই তাঁর গাড়ির সংখ্যা নিয়ে কখনো বিশেষ রাখঢাক করেননি। কতগুলো গাড়ি রয়েছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি একবার বলেছিলেন, অনুমান করলে সংখ্যাটি ৪০ বা ৪১টি হতে পারে। বুগাত্তির গাড়ির প্রতি নিজের বিশেষ পছন্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর পুরো গাড়ি সংগ্রহের মূল্য আনুমানিক ৪ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রোনালদোর গ্যারেজকে শুধু বিপুল অর্থের প্রদর্শন হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। কারণ তাঁর সংগ্রহের বেশ কিছু গাড়ি এমন, যেগুলো অর্থ থাকলেই সাধারণভাবে কেনা সম্ভব নয়।

সব গাড়ি টাকা থাকলেই কেনা যায় না

ছবি<< সংগৃহীত

মনৎসা এসপি ১, দাইতোনা এসপি ৩ কিংবা মার্সিডিজ এএমজি ওয়ানের মতো গাড়ি সাধারণ কোনো শোরুম থেকে চাইলেই কেনা যায় না। এগুলোর উৎপাদন সীমিত এবং নির্দিষ্ট ক্রেতাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।

বিশেষ করে এএমজি ওয়ান এমন একটি গাড়ি, যার উৎপাদন সংখ্যা মাত্র ২৭৫টি। ফলে শুধু অর্থের সামর্থ্য থাকলেই গাড়িটির মালিক হওয়া যায় না।

এ কারণেই রোনালদোর গ্যারেজের গল্পটা শুধু একজন ধনী ফুটবলারের দামি গাড়ি কেনার গল্প নয়। এখানে রয়েছে বিরল গাড়ি বেছে নেওয়া, সীমিত সংস্করণের মডেল সংগ্রহ করা এবং অটোমোবাইল জগতের বিশেষ ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ।

একজন ধনী ব্যক্তি অনেক দামি জিনিস কিনতে পারেন। কিন্তু রোনালদোর গ্যারেজে থাকা গাড়িগুলোর বৈচিত্র্য, দুর্লভতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সেটিকে অন্য অনেক সংগ্রহ থেকে আলাদা করে।

ফুটবল মাঠে রোনালদোর ট্রফি ও রেকর্ড যেমন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয়, তেমনি মাঠের বাইরে তাঁর এই গাড়ির সংগ্রহও হয়ে উঠেছে তাঁর বিলাসী রুচি ও গাড়ির প্রতি গভীর আগ্রহের অন্যতম পরিচায়ক।

কালের আলো/এসএ

এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যু সম্ভব: বিল গেটস

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যু সম্ভব: বিল গেটস

এআইয়ের ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটানো সম্ভব, যার পরিণতিতে ১০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর মতে, এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। এ জন্য সরকারের আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবহারের ওপর কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা কীভাবে তৈরি ও নজরদারি করা হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বেচ্ছানির্ভর নিরাপত্তায় আস্থা নয়

বিল গেটসের মতে, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করবে—শুধু এমন প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। বরং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে উন্নত এআই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ে আইন করা প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি সম্মতি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এআইয়ের নিরাপত্তা ও নজরদারি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাজনীতিবিদদেরও আলোচনায় যুক্ত হওয়া প্রয়োজন।

উন্নত এআই ভুল হাতে যাওয়ার আশঙ্কা

বিল গেটস মনে করেন, এআই নিয়ন্ত্রণে আইন করা হলে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এর ফলে প্রযুক্তির উন্নয়ন থেমে যাবে না।

বরং যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে আরও উন্নত এআই প্রযুক্তি এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের ক্ষতি করতে পারে। এ কারণেই প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

প্রযুক্তি খাতেও নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত

এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও আলোচনা করছেন। ইতিমধ্যে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রণমূলক আইন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

আমোদেইয়ের বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় উন্নত এআই ব্যবস্থার উন্নয়ন ধীর করতে রাজি না হলেও সরকারের নির্ধারিত নিরাপত্তা নিয়ম তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

অন্যদিকে ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চূড়ান্ত নয়

এআই নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের অভিন্ন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ে এআই ব্যবহারের নিরাপত্তা, ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন এর আগে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে তাড়াহুড়া করে এআই–সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিন্ন কাঠামো চূড়ান্ত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতিমধ্যে এআই নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।

এ অবস্থায় বিল গেটসের মন্তব্য এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, আইনগত কাঠামো এবং সরকারি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

কালের আলো/এসএ

কোপাইলটে এবার সফটওয়্যার বানাবে এআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
কোপাইলটে এবার সফটওয়্যার বানাবে এআই

চ্যাটবট থেকে পূর্ণাঙ্গ কাজের প্ল্যাটফর্ম

প্রোগ্রামিং কোড তৈরি, সফটওয়্যার নির্মাণ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের সুবিধা যুক্ত করে কোপাইলট অ্যাপ নতুন করে সাজিয়েছে মাইক্রোসফট। নতুন সংস্করণে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্টও সরাসরি কোপাইলটের মধ্যে ব্যবহার করা যাবে। ফলে আলাদা অ্যাপ চালু না করেই নথি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ ও উপস্থাপনা তৈরির মতো কাজ করা সম্ভব হবে।

চ্যাটভিত্তিক এআই সহকারী হিসেবে পরিচিত কোপাইলটকে আরও বিস্তৃত কাজের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব সুবিধা যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো এআই সেবাগুলো চ্যাটের পাশাপাশি কোড তৈরি ও স্বয়ংক্রিয় কাজের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ায় কোপাইলটেও একই ধরনের সুবিধা যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নতুন কোপাইলটের প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হোম’, ‘কোড’ ও ‘অটোপাইলট’।

এক জায়গায় চ্যাট ও কোওয়ার্ক

কোপাইলটের ‘হোম’ অংশে চ্যাট ও ‘কোওয়ার্ক’ সুবিধা এক জায়গায় রাখা হয়েছে। সাধারণ প্রশ্নের উত্তর, কোনো বিষয়ের খসড়া তৈরি কিংবা দ্রুত তথ্য খোঁজার মতো কাজে চ্যাট ব্যবহার করা যাবে।

অন্যদিকে একাধিক ধাপের জটিল কাজ কোওয়ার্কের মাধ্যমে কোপাইলটকে দিয়ে করানো যাবে। ফলে ব্যবহারকারীকে প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে নির্দেশ দেওয়ার পরিবর্তে তুলনামূলক জটিল কাজও এআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রোগ্রামিং না জেনেও সফটওয়্যার

নতুন কোপাইলটের ‘কোড’ সুবিধার মাধ্যমে প্রোগ্রামিং সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান না থাকলেও সাধারণ ভাষায় নির্দেশনা দিয়ে অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড ও বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করা যাবে।

এই সুবিধার পেছনে গিটহাব কোপাইলটে ব্যবহৃত একই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট। এর ফলে কারিগরি জ্ঞান কম থাকা কর্মীরাও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোটখাটো সফটওয়্যার কিংবা স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবেন।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফ্রন্টিয়ার প্রোগ্রামের আওতায় ‘কোড’ সুবিধাটি ধীরে ধীরে চালু করা হবে।

ব্যবহারকারী না থাকলেও কাজ করবে অটোপাইলট

নতুন কোপাইলটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ‘অটোপাইলট’। এটি এমন একটি এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারী কম্পিউটারের সামনে না থাকলেও নির্ধারিত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

জুন মাসে মাইক্রোসফট উন্মোচন করা ‘স্কাউট’ এআই এজেন্টের নতুন সংস্করণ হিসেবে অটোপাইলটকে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে এটিকে এক ধরনের ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টরিতে অটোপাইলটের আলাদা পরিচয় থাকবে এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিও দেওয়া যাবে। কোন কোন কাজ এআই এজেন্টটি করতে পারবে, সেটি ব্যবহারকারীরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব

মাইক্রোসফটের কোপাইলট বিভাগের করপোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানি পার্ল বলেন, নিরাপত্তা, আইন মেনে চলা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই এজেন্ট ব্যবহার করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই অটোপাইলট তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপরিবেশে যাতে এ ধরনের এআই এজেন্ট ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই সুবিধাটি তৈরি করা হয়েছে।

অটোপাইলট সুবিধা চলতি মাসের শেষ দিকে ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে মাইক্রোসফট।

কোপাইলটের মধ্যেই অফিস অ্যাপ

নতুন কোপাইলট সংস্করণে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট। ফলে ব্যবহারকারীরা কোপাইলটের ভেতর থেকেই সম্পাদনাযোগ্য নথি, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি এবং হালনাগাদ করতে পারবেন।

এসব ফাইলে একই দলের অন্য সদস্যরাও কাজ করতে পারবেন। ব্যবহারকারীদের করা পরিবর্তনগুলো মাইক্রোসফটের সংশ্লিষ্ট অফিস অ্যাপের সঙ্গেও সমন্বিত থাকবে।

এর ফলে একটি নথি তৈরি করতে কোপাইলট থেকে আলাদা করে ওয়ার্ড, এক্সেল বা পাওয়ারপয়েন্টে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।

এআই ব্যবহারের খরচও দেখা যাবে

কোপাইলটের নতুন সংস্করণে এআই ব্যবহারের খরচ ব্যবস্থাপনার সুবিধাও যুক্ত করেছে মাইক্রোসফট। এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এআই ও এআই এজেন্ট ব্যবহারের কারণে কত খরচ হচ্ছে, সে সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার। এর সঙ্গে অপ্রত্যাশিত খরচও বাড়তে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতে এআই ব্যবহারের ব্যয়ের ওপর নজর রাখার এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন কোপাইলটকে শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা লেখা তৈরির চ্যাটভিত্তিক সহকারী হিসেবে নয়, বরং সফটওয়্যার তৈরি, নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পাদনের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলছে মাইক্রোসফট।

কালের আলো/এসএ

আবারও পরিবর্তন আইডিআরএতে, পদত্যাগ করলেন আবু বকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
আবারও পরিবর্তন আইডিআরএতে, পদত্যাগ করলেন আবু বকর

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর আইডিআরএর সদস্য (আইন) তানজিনা ইসমাইলও পদত্যাগপত্র জমা দেন। ফলে নতুন করে চার সদস্য নিয়োগের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটিতে আবারও সদস্য পদে পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর আবু বকর সিদ্দিক ও তানজিনা ইসমাইলের পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও কার্যকর করা হবে। এরপর শূন্য পদগুলোতে নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

আপেল মাহমুদের পদত্যাগের সম্ভাবনা আইডিআরএর সদস্য (লাইফ) মো. আপেল মাহমুদেরও শিগগির পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তিনি পদত্যাগ করলে কর্তৃপক্ষের চার সদস্যের মধ্যে তিনটি পদই শূন্য হয়ে যাবে।

আবু বকর সিদ্দিক ও তানজিনা ইসমাইলের পদত্যাগ কার্যকর হলে সদস্য (নন-লাইফ) ও সদস্য (আইন) পদ শূন্য হবে। আপেল মাহমুদও পদত্যাগ করলে সদস্য (লাইফ) পদটিও শূন্য হবে। তখন চার সদস্যের মধ্যে শুধু সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক বহাল থাকবেন।

২০২৪ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন চার সদস্য
আইডিআরএর বর্তমান সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর সংস্থাটির চার সদস্য বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, মো. দলিল উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম ও কামরুল হাসান পদত্যাগ করেন।

পরে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইডিআরএর সদস্য (লাইফ), সদস্য (নন-লাইফ), সদস্য (প্রশাসন) ও সদস্য (আইন) পদে চারজনকে নিয়োগ দেয়।

নিয়োগ পাওয়া চারজন হলেন—সদস্য (লাইফ) মো. আপেল মাহমুদ, সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক এবং সদস্য (আইন) তানজিনা ইসমাইল।

তাঁদের তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগের দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একের পর এক সদস্যের পদত্যাগের ঘটনায় আইডিআরএতে নতুন করে সদস্য নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি