খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান চীনা রাষ্ট্রদূতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান চীনা রাষ্ট্রদূতের

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ দুই দেশ। দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। বিশেষ করে চীনের ইউনান প্রদেশ ও বাংলাদেশের মধ্যে পরিবহন, কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সংস্কৃতি, পর্যটন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও বাণিজ্যিক সংগঠন বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর দুই দেশের সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে চীনা দূতাবাস সেতু হিসেবে কাজ করে যাবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনে চীন দৃঢ় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য চাও চুনমিন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল হক নান্নু।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

ঘরের মাঠে প্রায় ১০ দিনের ক্যাম্প। এর মধ্যে খেলেছে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের প্রস্তুতিটা বেশ ভালোভাবেই সেরে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রস্তুতি নিয়ে দলের মধ্যে রয়েছে সন্তুষ্টিও। এবার সেই প্রস্তুতির পরীক্ষা দেওয়ার পালা।

আগামী পরশু মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নিজেদের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ঘিরে দলের প্রত্যাশা যেমন রয়েছে, তেমনি প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে চাইছে না বাংলাদেশ।

২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসেও কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মালয়েশিয়া। সেবার সাইফ হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলকে জিততে বেশ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। শেষ বল পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচে মাত্র ২ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

এবার অবশ্য তুলনামূলক শক্তিশালী দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে গেছে বাংলাদেশ। তার ওপর কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে ৫০ ওভারের সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় পেয়েছে।

তবুও অতীতের ফল বা সাম্প্রতিক সাফল্যকে সামনে রেখে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

‘আগেই জিতে যাওয়া উচিত নয়’

জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহউদ্দীন জানান, এ ধরনের টুর্নামেন্টে যেকোনো দলই অপ্রত্যাশিত ফল করতে পারে। তাই প্রতিপক্ষকে নিয়ে আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চান না তিনি।

সালাহউদ্দীন বলেন, এ ধরনের টুর্নামেন্টে আপসেট হতেই পারে। একই উইকেটে বারবার খেলার কারণে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এমনকি টসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠে নামার আগেই জয় নিশ্চিত ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচ খেলে নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই জয় নিশ্চিত করতে হবে।

বৃষ্টির বাধা নিয়েও ভাবনা

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত একাধিক ম্যাচে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালও বৃষ্টিতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হলে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ।

তবে এমনভাবে পরের রাউন্ডে যেতে চান না সালাহউদ্দীন। তাঁর পছন্দ ম্যাচ খেলে জয় পাওয়া।

কোচের মতে, ম্যাচ না খেলে সরাসরি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে খেলতে গেলে ছন্দ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। কয়েক দিন ম্যাচের বাইরে থাকার পর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সরাসরি মাঠে নামার বিষয়টি খেলোয়াড়দের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তাই প্রথম ম্যাচটি খেলা এবং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটি শেষ করাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরের ম্যাচের চিন্তা না করে আপাতত মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়েই মনোযোগ রাখতে হবে।

প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট দল

এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশে প্রায় ১০ দিন ক্যাম্প করেছে দল। এই সময়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। ফলে জাপানে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে ক্রিকেটাররা।

প্রস্তুতি পর্বে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। এখন সেই প্রস্তুতিকে মূল প্রতিযোগিতায় কাজে লাগানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের।

ক্রিকেটে দেশের প্রত্যাশা বেশি

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ওপর প্রত্যাশাটাও তুলনামূলক বেশি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন বলতে উশুতে একটি ব্রোঞ্জ পদক। মেয়েদের ক্রিকেট দলও প্রত্যাশা জাগালেও পদক এনে দিতে পারেনি।

এ কারণে ছেলেদের ক্রিকেট দলের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। কোচ ও অধিনায়কও দেশ ছাড়ার আগে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন।

সালাহউদ্দীনের কথাতেও সেই প্রত্যাশার চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজে মূলত ক্রিকেটসংশ্লিষ্টরাই বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু এশিয়ান গেমসের মতো আসরে পুরো দেশের মানুষ ফলের দিকে তাকিয়ে থাকে।

‘পদকের গুরুত্ব আমরা জানি’

দেশের মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে দলের খেলোয়াড়েরাও সচেতন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দীন। তাঁর মতে, একটি পদক জয়ের আকাঙ্ক্ষা দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে মোটিভেশন তৈরি করেছে।

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে শুধু নিজেদের পারফরম্যান্স নয়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিও ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করছে। তাই বাড়তি প্রত্যাশার চাপ থাকলেও সেটিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চান তাঁরা।

বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম লক্ষ্য মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই মাঠে নামতে চায় দল। বৃষ্টি বা অন্য কোনো সমীকরণের ওপর নির্ভর না করে ম্যাচ খেলেই জয় তুলে নেওয়া—এটাই আপাতত বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা।

কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে সামনে থাকবে সেমিফাইনাল। তবে সালাহউদ্দীনের পরিকল্পনা পরিষ্কার—দূরের হিসাব নয়, আগে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। আর সেই ম্যাচ থেকেই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক-স্বপ্নের পথচলা শুরু হবে।

কালের আলো/এসএ

আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি, সালমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
আইএফআইসি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি, সালমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আইএফআইসি ব্যাংক থেকে অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সালমান এফ রহমান, তার ছেলে এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সাবেক পরিচালক ও কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে ‘স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামে একটি অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। পরে ব্যাংকের নীতিমালা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ও জামানত ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির নামে ঋণ অনুমোদন ও বাড়ানো হয়।

দুদক জানায়, তিন দফায় প্রতিষ্ঠানটির নামে মোট ৫৪৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদ উত্তোলন ও বিভিন্নভাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্যাংকের ক্ষতি ৬০৪ কোটি টাকা

দুদকের হিসাবে, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ আইএফআইসি ব্যাংকের মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা ৩ পয়সা।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, আত্মসাৎ করা অর্থের উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে নগদ উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণ দেওয়ার সময় গ্রাহকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদাম যথাযথভাবে পরিদর্শন করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের পরিচিতি, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ-দায়, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও আয়কর সংক্রান্ত তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

এ ঘটনায় সালমান এফ রহমান ও আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সিটির শাস্তি হলে বদলাবে হলান্ডের ভবিষ্যৎ?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
সিটির শাস্তি হলে বদলাবে হলান্ডের ভবিষ্যৎ?

ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে চলমান ১১৫টি মামলার মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক। তবে এখনো শাস্তি ঘোষণা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

শাস্তির ধরন কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর্থিক জরিমানা কিংবা সীমিত পয়েন্ট কেটে নেওয়ার মতো শাস্তি হলে পরিস্থিতি এক রকম থাকবে। কিন্তু বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তনের ফলে যদি সিটির অবনমন হয়, কিংবা আরও কঠোর কোনো শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে ক্লাবটির খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন আর্লিং হলান্ড।

২০৩৪ পর্যন্ত চুক্তি হলান্ডের

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন হলান্ড। চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। অর্থাৎ কাগজে-কলমে আরও প্রায় আট বছর সিটির সঙ্গে থাকার কথা নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের।

নতুন চুক্তিতে সই করার সময় হলান্ড জানিয়েছিলেন, সিটিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কঠিন ছিল না। তখনও ক্লাবটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। তবে এসব অভিযোগ তাঁর চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু চুক্তি সইয়ের সময়কার পরিস্থিতি আর শাস্তি ঘোষণার পরের পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে। বিশেষ করে সিটি যদি প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হলান্ডের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অবনমনে মুক্তির সুযোগ আছে কি?

হলান্ডের বর্তমান চুক্তিতে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে মুক্ত করে দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট রিলিজ ক্লজ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

স্কাই স্পোর্টসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হলান্ডের পূর্ববর্তী চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজগুলো নতুন চুক্তিতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অবনমনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শর্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে সিটি অবনমিত হলে হলান্ড চুক্তি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে যেতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে বলেই যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি সিটিতে থাকবেন, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

শাস্তির ধরনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

এখন হলান্ডের ভবিষ্যৎ আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সিটির সম্ভাব্য শাস্তির মাত্রা।

যদি ম্যানচেস্টার সিটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়, কিংবা এমন মাত্রায় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয় যাতে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে থেকে যায় এবং প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে নিজেদের ধরে রাখতে পারে, তাহলে হলান্ডের সিটিতে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

কিন্তু অবনমনের মতো কঠোর শাস্তি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু হলান্ড নয়, দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা না হওয়ায় হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলো এখনো সম্ভাবনা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর্যায়েই রয়েছে।

রিয়াল-বার্সার সঙ্গে নাম জড়াচ্ছে

সিটির সম্ভাব্য কঠোর শাস্তির আলোচনা সামনে আসার পর ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাবের সঙ্গে হলান্ডের নাম নতুন করে জড়াতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে হলান্ডের যোগাযোগের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগেও স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছিল।

তবে এখন রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা রয়েছেন এবং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। ফলে হলান্ডকে দলে নেওয়ার বাস্তবতা আগের তুলনায় আলাদা।

বার্সেলোনার আগ্রহও আলোচনায়

হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বার্সেলোনার নামও বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে নরওয়েজিয়ান তারকার নাম আগেও জড়িয়েছে।

বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকো হলান্ডের এজেন্ট রাফায়েলা পিমেন্তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বার্সেলোনার আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এত বড় অঙ্কের চুক্তি কীভাবে সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই শুধু আগ্রহ বা যোগাযোগের খবরের ভিত্তিতে হলান্ডের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নির্ধারিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

পিএসজিও আলোচনায়

হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের নামও রয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব হিসেবে পিএসজির আর্থিক সক্ষমতা এবং বড় তারকা দলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তবে হলান্ডের বর্তমান চুক্তি, তাঁর বাজারমূল্য এবং ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি ও চুক্তিগত পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে কোনো ক্লাবের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সিটিতে পঞ্চম মৌসুমে হলান্ড

ম্যানচেস্টার সিটিতে বর্তমানে পঞ্চম মৌসুম কাটাচ্ছেন হলান্ড। এই সময়ের মধ্যে ক্লাবটির হয়ে তিন শর বেশি গোল করেছেন তিনি। সিটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।

তাই সিটি বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়লে হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে তাঁর ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি এবং সম্ভাব্য শাস্তির প্রকৃতি—দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর আসেনি—ম্যানচেস্টার সিটিকে শেষ পর্যন্ত কী শাস্তি দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্তই অনেকটা নির্ধারণ করতে পারে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ এবং তারকা খেলোয়াড়দের অবস্থান।

শাস্তি ঘোষণার আগে হলান্ডের সিটি ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্যও নেই। ফলে আপাতত তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা কিংবা পিএসজির সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, সেগুলো সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কালের আলো/এসএ