ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে চলমান ১১৫টি মামলার মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক। তবে এখনো শাস্তি ঘোষণা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
শাস্তির ধরন কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর্থিক জরিমানা কিংবা সীমিত পয়েন্ট কেটে নেওয়ার মতো শাস্তি হলে পরিস্থিতি এক রকম থাকবে। কিন্তু বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তনের ফলে যদি সিটির অবনমন হয়, কিংবা আরও কঠোর কোনো শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে ক্লাবটির খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন আর্লিং হলান্ড।
২০৩৪ পর্যন্ত চুক্তি হলান্ডের
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন হলান্ড। চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। অর্থাৎ কাগজে-কলমে আরও প্রায় আট বছর সিটির সঙ্গে থাকার কথা নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের।
নতুন চুক্তিতে সই করার সময় হলান্ড জানিয়েছিলেন, সিটিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কঠিন ছিল না। তখনও ক্লাবটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। তবে এসব অভিযোগ তাঁর চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু চুক্তি সইয়ের সময়কার পরিস্থিতি আর শাস্তি ঘোষণার পরের পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে। বিশেষ করে সিটি যদি প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হলান্ডের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অবনমনে মুক্তির সুযোগ আছে কি?
হলান্ডের বর্তমান চুক্তিতে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে মুক্ত করে দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট রিলিজ ক্লজ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
স্কাই স্পোর্টসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হলান্ডের পূর্ববর্তী চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজগুলো নতুন চুক্তিতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অবনমনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শর্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ফলে সিটি অবনমিত হলে হলান্ড চুক্তি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে যেতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে বলেই যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি সিটিতে থাকবেন, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
শাস্তির ধরনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
এখন হলান্ডের ভবিষ্যৎ আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সিটির সম্ভাব্য শাস্তির মাত্রা।
যদি ম্যানচেস্টার সিটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়, কিংবা এমন মাত্রায় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয় যাতে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে থেকে যায় এবং প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে নিজেদের ধরে রাখতে পারে, তাহলে হলান্ডের সিটিতে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
কিন্তু অবনমনের মতো কঠোর শাস্তি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু হলান্ড নয়, দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা না হওয়ায় হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলো এখনো সম্ভাবনা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর্যায়েই রয়েছে।
রিয়াল-বার্সার সঙ্গে নাম জড়াচ্ছে
সিটির সম্ভাব্য কঠোর শাস্তির আলোচনা সামনে আসার পর ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাবের সঙ্গে হলান্ডের নাম নতুন করে জড়াতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে হলান্ডের যোগাযোগের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগেও স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছিল।
তবে এখন রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা রয়েছেন এবং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। ফলে হলান্ডকে দলে নেওয়ার বাস্তবতা আগের তুলনায় আলাদা।
বার্সেলোনার আগ্রহও আলোচনায়
হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বার্সেলোনার নামও বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে নরওয়েজিয়ান তারকার নাম আগেও জড়িয়েছে।
বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকো হলান্ডের এজেন্ট রাফায়েলা পিমেন্তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বার্সেলোনার আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এত বড় অঙ্কের চুক্তি কীভাবে সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই শুধু আগ্রহ বা যোগাযোগের খবরের ভিত্তিতে হলান্ডের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নির্ধারিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
পিএসজিও আলোচনায়
হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের নামও রয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব হিসেবে পিএসজির আর্থিক সক্ষমতা এবং বড় তারকা দলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তবে হলান্ডের বর্তমান চুক্তি, তাঁর বাজারমূল্য এবং ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি ও চুক্তিগত পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে কোনো ক্লাবের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সিটিতে পঞ্চম মৌসুমে হলান্ড
ম্যানচেস্টার সিটিতে বর্তমানে পঞ্চম মৌসুম কাটাচ্ছেন হলান্ড। এই সময়ের মধ্যে ক্লাবটির হয়ে তিন শর বেশি গোল করেছেন তিনি। সিটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।
তাই সিটি বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়লে হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে তাঁর ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি এবং সম্ভাব্য শাস্তির প্রকৃতি—দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর আসেনি—ম্যানচেস্টার সিটিকে শেষ পর্যন্ত কী শাস্তি দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্তই অনেকটা নির্ধারণ করতে পারে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ এবং তারকা খেলোয়াড়দের অবস্থান।
শাস্তি ঘোষণার আগে হলান্ডের সিটি ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্যও নেই। ফলে আপাতত তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা কিংবা পিএসজির সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, সেগুলো সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
কালের আলো/এসএ
আপনার মতামত লিখুন
Array