খুঁজুন
                               
, ,
           

৫৫ খাল, পাঁচ নদী—বদলের পথে ঢাকা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
৫৫ খাল, পাঁচ নদী—বদলের পথে ঢাকা

ঢাকার খালপাড়ের বাঁশের সেতুগুলো এবার স্থায়ীভাবে বিদায় নেওয়ার পথে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সেতু পর্যায়ক্রমে আরসিসিতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে খাল দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও অনুমোদনহীন সেতুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫৫টি খাল পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, পাঁচ নদীকে পুরোনো নাব্যতায় ফেরানো এবং স্যুয়ারেজের বর্জ্য শোধন করে নদীতে পরিষ্কার পানি ছাড়ার সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

  • বাঁশের সেতু হবে আরসিসি
  • খালপাড়ে হবে ওয়াকওয়ে
  • দখল-দূষণ ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগের ঘোষণা মীর শাহে আলমের

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘোষণায় উঠে এসেছে রাজধানীর জলপথ ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে সরকারের এই নতুন কর্মপরিকল্পনা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ত্রিমোহনী খাল ব্রিজ এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জিরানি খাল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকায় কোনো বাঁশের সেতু থাকবে না। ত্রিমোহনী এলাকার বাঁশের সেতুটিও অল্পদিনের মধ্যে আরসিসি সেতুতে রূপান্তর করা হবে।

‘ঢাকায় কোনো বাঁশের সেতু থাকবে না’
বাঁশের সাঁকো রাজধানীর কিছু এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের ভরসা হলেও নগর অবকাঠামোর স্থায়ী সমাধান নয়। সেই বাস্তবতায় বাঁশের সেতুর পরিবর্তে আরসিসি সেতু নির্মাণকে নিরাপদ ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছে সরকার।

মীর শাহে আলম বলেন, শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই খালগুলোর চলমান কাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। এতে মানুষের চলাচলের সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি খালের পানিপ্রবাহ সচল করে জলাবদ্ধতা নিরসনের পথও সহজ হবে। তবে অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে খাল দখলমুক্ত রাখাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, খাল দখল করে গড়ে ওঠা স্থাপনা এবং অবৈধভাবে নির্মিত সেতুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি বছর সব ধরনের অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৫৫ খালে ফিরবে পানির গতি
ঢাকার জলাবদ্ধতা ও জলপথের সংকট সমাধানে দুই সিটি করপোরেশনের ৫৫টি খালকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বড় পরিকল্পনা। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খাল রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, এসব খাল পরিষ্কার করে পানিপ্রবাহ সচল করা হবে। খালের দুই পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী গাইডওয়াল, রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। নেটিংয়ের মাধ্যমে সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি দখল ও দূষণ থেকে খালগুলোকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

জিরানীসহ চার খালে ৮৯৮ কোটি টাকার কর্মযজ্ঞ
৫৫ খাল ঘিরে বৃহত্তর পরিকল্পনার পাশাপাশি ডিএসসিসির মান্ডা, জিরানী, কালুনগর ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পৃথক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় পরিদর্শন করা জিরানী খালের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৯০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৪ থেকে ২৫ মিটার।

৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার এবং ৩০ শতাংশ ডিএসসিসি বহন করছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

খালভিত্তিক অগ্রগতির হিসাবে মান্ডা খালের কাজ এগিয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানীর ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগরের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুরের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

খালপাড়ে ওয়াকওয়ে, সুরক্ষা বেষ্টনী ও সবুজায়ন
প্রকল্পের আওতায় চারটি খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ করা হবে। একই সঙ্গে খালের সীমানা নির্ধারণ ও স্লোপ প্রটেকশনের কাজ থাকবে। পরিকল্পনায় রয়েছে ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ। খালপাড়ে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে আটটি ইটিপি নির্মাণ করা হবে।

ফলে প্রকল্পটি শুধু খনন বা দখলমুক্ত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; খালের পানিপ্রবাহ, পাড়ের স্থায়িত্ব, নাগরিক চলাচল এবং পরিবেশ—সবগুলো বিষয়কে একই অবকাঠামোগত পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।

পাঁচ নদীকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য
খালের পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের পাঁচ নদী নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তাঁর বক্তব্য, নদীগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি পাড় সংরক্ষণে গাইডওয়াল ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ করা হবে।

নদীগুলোকে ৪০ থেকে ৫০ বছর আগের মতো সচল করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে। নদী পুনরুদ্ধারে স্টিমার ও ফেরিতে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদনের কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

স্যুয়ারেজের বর্জ্য যাবে শোধনাগারে
ঢাকার নদী-খাল দূষণের বড় উৎস পয়ঃবর্জ্য। এই সংকট মোকাবিলায় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ঢাকার স্যুয়ারেজ লাইন শহরের বাইরে নিয়ে দাসেরকান্দি, পাগলা, মিরপুর, উত্তরা ও রায়েরবাজার-মাদানীসহ নির্ধারিত স্থানে শোধনাগারের মাধ্যমে পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন করা হবে। এরপর শোধিত পানি নদীতে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘উন্নয়নের গ্যারান্টি দেব’
নগর উন্নয়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, সরকার বেহেশতের গ্যারান্টি দেবে না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দেবে। রাস্তাঘাট ঠিক করা, খাল সচল করা এবং স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে দুর্গন্ধমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে যাচ্ছে। যেখানে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে, সেখানে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে। জনগণের দেওয়া দায়িত্বকে সম্মান করে আগামী পাঁচ বছর প্রয়োজনীয় কাজ করে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

অন্যরা কে কী বলেছেন?
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, ঢাকায় প্রায় তিন কোটি মানুষের বসবাস। ফলে নগরে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নদী, খাল ও জলাশয়ের দুই পাড় গাইডওয়াল দিয়ে সংরক্ষণের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করা হবে। নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এসব বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় শোধন করা হবে।

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, গত ১৫ বছরে খালগুলো অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। যারা দখল করেছে, তাদের পরিচয় শুধু অবৈধ দখলদার। রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে তাদের বিবেচনা করার সুযোগ নেই। খাল দখলমুক্ত করে এলাকার উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। বাঁশের সাঁকোগুলো আরসিসি সেতুতে রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর জলপথ ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনায় ঢাকার দখল, দূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো পুরোনো সংকটগুলোকে একটি সমন্বিত কাঠামোয় মোকাবিলার চেষ্টা স্পষ্ট। বাঁশের সেতুর পরিবর্তে স্থায়ী অবকাঠামো, ৫৫ খালে পানিপ্রবাহ, পাঁচ নদীর পুনরুদ্ধার, খালপাড়ে ওয়াকওয়ে ও সবুজায়ন এবং স্যুয়ারেজ শোধন—সব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর জলপথ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। তবে সেই পরিবর্তনের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্পের গতি, দখল উচ্ছেদের ধারাবাহিকতা এবং পুনরায় দখল-দূষণ ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থার ওপর।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে কারও কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রকৃত সৈনিক, শহীদ জিয়ার কর্মী, দেশনেত্রীর কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ হতে পারে না, সে দখলবাজ হতে পারে না, সে সন্ত্রাসী হতে পারে না। যদি কেউ হয়, সে বিএনপি নয়।’

দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ—এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অস্থিরতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি