খুঁজুন
                               
, ,
           

কঠোরতার ঘোষণা, জবাবদিহির বার্তা—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ভেতরে কী?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
কঠোরতার ঘোষণা, জবাবদিহির বার্তা—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ভেতরে কী?

দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান কী—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের রোববারের (২৭ সেপ্টেম্বর) বক্তব্যে তাঁর একটি সমন্বিত চিত্র মিলেছে। মন্ত্রীর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একটি বার্তা—আইন ভাঙার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো সুরক্ষা দেবে না; একইভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য দায়িত্বে ব্যর্থ হলেও তাঁকে জবাবদিহির বাইরে রাখা হবে না।

  • অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক, ব্যবস্থা হবে; পুলিশের গাফিলতিতেও একই নীতি
  • প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

এদিন সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী একদিকে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, অন্যদিকে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। ফলে তাঁর বক্তব্যকে শুধু ‘কঠোর হওয়ার’ ঘোষণা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আড়ালে থেকে যায়। বরং বক্তব্যজুড়ে অপরাধ দমন, প্রমাণ যাচাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় পাশাপাশি এসেছে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে অপরাধ
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর সবচেয়ে স্পষ্ট বার্তা এসেছে অপরাধীর পরিচয় প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।’ এই বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, অপরাধের বিচার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়—অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে করার নীতির কথা বলা হয়েছে।

একই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’ অর্থাৎ সরকারের ঘোষিত অবস্থান হচ্ছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি বা মতাদর্শের পরিচয় নয়, আইন ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডই হবে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রধান ভিত্তি।

জাসদ কার্যালয়ের অভিযান: আটক থেকে প্রমাণের প্রশ্ন
এই অবস্থানের বাস্তব প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী তুলে ধরেন রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানকে। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। সে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৮০ জনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তবে পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী—অধিকাংশকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।

উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও অনুসন্ধানে নাশকতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়নি।’ এখানে মন্ত্রীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সন্দেহের ভিত্তিতে প্রাথমিক পদক্ষেপের পর চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থার জন্য প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের রাজনীতির বদলে সুনির্দিষ্ট মামলা
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির বিতর্ক প্রসঙ্গেও একই ধরনের অবস্থান দেখা যায়। মন্ত্রীর বর্ণনায় ঘটনাটির পেছনে মূলত জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং গুলির খোসাসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানান তিনি। তবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে অভিযোগের প্রসঙ্গে মন্ত্রী একটি মৌলিক আইনি প্রশ্ন সামনে আনেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগী নিজেই বলেছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা ছাড়া ঢালাও অভিযোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মন্ত্রী মূলত অভিযোগ এবং প্রমাণের মধ্যে পার্থক্যটি স্পষ্ট করেছেন। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে; কিন্তু অভিযোগকে আইনি সত্যে পরিণত করতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত ও প্রমাণ প্রয়োজন—মন্ত্রীর বক্তব্যে সেই কাঠামোটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা—বার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থানের আরেকটি পরীক্ষা আসে পুলিশের নিজেদের ভূমিকা নিয়ে। মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। ঘটনার পর শাহআলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার কথা বলা হয়েছে। একই ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের তথ্যও দেন তিনি। এখানে মন্ত্রীর বক্তব্যের তাৎপর্য আরও বিস্তৃত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তাঁদের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

‘শুধু বদলি’ নয়, অপরাধ হলে মামলা
পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু প্রশাসনিক বদলিই যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রদ্রোহিতা কিংবা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধে জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তাঁর সরাসরি ঘোষণা, ‘পুলিশ বাহিনীতে অপরাধ বরদাশত করা হবে না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জবাবদিহিকে আইনশৃঙ্খলা নীতির অংশ হিসেবেই তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। অর্থাৎ অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেও একই আইনি কাঠামো কার্যকর থাকবে—এটাই তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

কঠোরতার সঙ্গে প্রমাণের ভারসাম্যই বড় পরীক্ষা
পুরো ব্রিফিং পর্যালোচনা করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু দাঁড়ায়—নাশকতা বা অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কঠোর থাকবে, কিন্তু সেই কঠোরতার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে পুলিশকে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অপরাধের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। মন্ত্রী তাঁর অবস্থানকে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এদিনের ব্রিফিংয়ে তাই শুধু কঠোরতার ঘোষণা নয়, একটি প্রশাসনিক বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাষ্ট্র যেমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হবে, তেমনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি ও প্রমাণের গুরুত্বকে উপেক্ষা করা হবে না।

কালের আলো/এমএএএমকে

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পানিসম্পদমন্ত্রী

নদী রক্ষা ও সংরক্ষণে সরকার, জনগণ, গবেষক ও পরিবেশবিদদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবন মিলনায়তনে বিশ্ব নদী দিবস ও মার্ক এ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নদী দখল ও দূষণ রোধের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। নদীকে শুধু পানি প্রবাহের মাধ্যম হিসেবে দেখলে হবে না; দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও নদীকে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নদী ও জলাভূমি সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। নদীকে কেন্দ্র করে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদীকে নিরাপদ ও জীবন্ত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নদী সংরক্ষণে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মার্ক এ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড নদী ও জলসম্পদ সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ ধরনের সম্মাননা অন্যদেরও নদী রক্ষায় উৎসাহিত করবে।

নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাঁচ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পেল রিভার অ্যাওয়ার্ড

নদী রক্ষা ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে পাঁচ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মার্ক এ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ দেওয়া হয়।

লেখক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন সেভ দ্য রিভার মুভমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল কবির সিদ্দিকী। গবেষণা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন নদী গবেষক ও রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন।

সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সাজ্জাদ পারভেজ এবং দৈনিক বণিক বার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আল ফাতাহ। সংগঠন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে নোঙর ট্রাস্ট। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সুমন শামস পুরস্কার গ্রহণ করেন।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোলায়মান হায়দার এবং বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির হোসেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পোশাকের ছায়া পেরিয়ে রপ্তানির নতুন চার মুখ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
পোশাকের ছায়া পেরিয়ে রপ্তানির নতুন চার মুখ

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মূল ভরকেন্দ্র এখনো তৈরি পোশাক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক থেকেই এসেছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, অর্থাৎ মোট রপ্তানির প্রায় ৮১ শতাংশ।

  • চামড়া, পাট, কৃষি ও প্রকৌশল পণ্যে প্রবৃদ্ধি
  • বৈচিত্র্যের সম্ভাবনার পাশাপাশি কমপ্লায়েন্স
  • মান ও মূল্য সংযোজনই বড় পরীক্ষা

তবে পোশাকের বাইরে থাকা খাতগুলোও ধীরে ধীরে নিজেদের পরিসর বাড়াচ্ছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি এবং প্রকৌশল পণ্যে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রবৃদ্ধির চার ইঞ্জিন
তৈরি পোশাকের বাইরে সবচেয়ে আলোচিত খাতগুলোর একটি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের চামড়ার বৈশ্বিক চাহিদা থাকলেও রপ্তানির বড় অংশ এখনো তুলনামূলক কম মূল্য সংযোজনের পণ্যে সীমিত। এই জায়গাতেই রয়েছে বড় সুযোগ। জুতা, ব্যাগ, ওয়ালেট, বেল্টসহ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল পণ্যে উৎপাদন বাড়ানো গেলে একই কাঁচামাল থেকে বেশি রপ্তানি আয় সম্ভব। তবে সেই সম্ভাবনার পথে বড় বাধা পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স।

বিশেষ করে ট্যানারিশিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. শাখাওয়াত উল্লাহর ভাষ্য, সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার পুরোপুরি কার্যকর না হলে বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা কঠিন।

পাটে ফিরছে নতুন বাজারের সম্ভাবনা
পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পাট আবারও নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি এসেছে প্রায় ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

শুধু জুন মাসে এ খাতের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে জুট ব্যাগ, হোম ডেকর, কার্পেট ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের বাজার বাড়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাজার সম্প্রসারণের জন্য শুধু কাঁচা পাট বা প্রচলিত পণ্য যথেষ্ট নয়। ডিজাইন, প্রযুক্তি, মাননিয়ন্ত্রণ ও ব্র্যান্ডিংয়ে বিনিয়োগ করেই পাটকে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ডাইভারসিফায়েড জুট পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. রাশেদুল করিম মুন্না বলেন, ইউরোপের ক্রেতারা এখন ডিজাইন করা ও সার্টিফায়েড পণ্য চাইছেন; তাই বিনিয়োগের কেন্দ্র হওয়া উচিত ডিজাইন ও উদ্ভাবন।

কৃষিতে উৎপাদনের চেয়ে বড় প্রশ্ন মান
বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য এ খাতের অন্যতম শক্তি। সবজি, ফল, মসলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও শুকনা খাবারের আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুনে কৃষিপণ্য রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।

তবে উৎপাদন বাড়ালেই রপ্তানি বাড়বে—এমন সমীকরণ এখানে কার্যকর নয়। পণ্যের মান, সংরক্ষণব্যবস্থা, শীতল সরবরাহব্যবস্থা, পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক সনদ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে কৃষি রপ্তানির পরবর্তী ধাপ হতে পারে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পোস্ট-হারভেস্ট ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ।

প্রকৌশলে দ্রুত বাড়ছে সক্ষমতা
প্রকৌশল পণ্যও পোশাকের বাইরে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে উঠে আসছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, আগের বছরের তুলনায় যা ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। জুন মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, হালকা প্রকৌশল সামগ্রী, যন্ত্রাংশ ও ধাতব পণ্যে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ছে। এই খাতের গুরুত্ব শুধু রপ্তানি আয়ে নয়; শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে।

বৈচিত্র্যের পথে বাধা কোথায়
পরিসংখ্যান বলছে, পোশাকের বাইরে বাংলাদেশের রপ্তানির একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এই অংশকে বড় করতে হলে শুধু নতুন বাজার খোঁজা যথেষ্ট নয়। প্রতিটি খাতেই আলাদা ধরনের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে—চামড়ায় পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স, পাটে ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং, কৃষিতে মান ও সরবরাহব্যবস্থা এবং প্রকৌশলে প্রযুক্তি ও উৎপাদন দক্ষতা।

ফলে রপ্তানি বহুমুখীকরণের মূল প্রশ্ন এখন আর শুধু ‘কোন খাতে সম্ভাবনা আছে’—তা নয়; বরং সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যে রূপান্তর করার সক্ষমতা কত দ্রুত তৈরি করা যায়। তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমানোর বাস্তব পথও শেষ পর্যন্ত সেখানেই।

কালের আলো/এএইচ/এমকে