খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী সিদ্ধান্ত, জ্বালানিমন্ত্রীর প্রচেষ্টা

জ্বালানি সংকট কাটাতে স্বস্তির পথে বিদ্যুৎ খাত

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট কাটাতে স্বস্তির পথে বিদ্যুৎ খাত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের চাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বেড়েছে। এতে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ১১টায় দেশে লোডশেডিং ছিল মাত্র ৭২ মেগাওয়াট। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৫২ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় লোডশেডিং বেড়ে ১৭৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। এর আগের দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৫৬৮ মেগাওয়াট।

অথচ ১০ দিন আগেও দিনের বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছিল। ফলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উন্নতি বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬১৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ১ হাজার ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট। দুই সপ্তাহ আগেও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গিয়েছিল।

সংকট মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে ৩০টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে।

শিল্পে গ্যাস দিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল

শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহার কমিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে ৬ হাজার কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্প খাতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ভোলার গ্যাস সিএনজি আকারে এনে শিল্পে সরবরাহ, মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও পদ্ধতিতে গ্যাস আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের পাশাপাশি পুরনো ক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে সংকট মোকাবিলায় উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির কারণে সরকারের আর্থিক চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, শিগগিরই জ্বালানি সংকট কেটে যাবে। কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন উৎস অনুসন্ধান এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বড় পর্দায় প্রথমবার নিশো-মেহজাবীন

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ
বড় পর্দায় প্রথমবার নিশো-মেহজাবীন

টেলিভিশন নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। ছোট পর্দায় তাদের অভিনীত বহু নাটক দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে। এবার সেই পরিচিত রসায়ন দেখা যাবে আরও বড় পরিসরে—বড় পর্দায়।

প্রথমবারের মতো সিনেমায় জুটি বাঁধছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। নির্মাতা ভিকি জাহেদের ‘পুলসিরাত’ সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যাবে তাদের। এর মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় এই জুটির।

জানুয়ারিতেই শুরু শুটিং

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘পুলসিরাত’ নামটি নিবন্ধন করা হয়েছিল। তখন সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও নিশো ও মেহজাবীনের অভিনয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত ছিল না।

তবে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল নিশো ও মেহজাবীনের সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এরপরই নতুন করে আলোচনায় আসে সিনেমাটি। তার ওই পোস্টকে নিশো-মেহজাবীনের ‘পুলসিরাত’-এ যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন দর্শকরা।

প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রের দাবি, বর্তমানে সিনেমাটির প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী জানুয়ারির শুরুতেই শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক মাস টানা শুটিং করে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের।

ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা

শুধু শুটিং নয়, সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনাও ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, আগামী রোজার ঈদকে লক্ষ্য করেই এগোচ্ছে ‘পুলসিরাত’-এর কাজ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জানুয়ারিতে শুটিং শেষ করে ফেব্রুয়ারিতে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে মার্চে রোজার ঈদে বড় পর্দায় অভিষেক হতে পারে নিশো-মেহজাবীনের।

একই সিনেমার মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবেও বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করবেন ভিকি জাহেদ।

নিশো-মেহজাবীনের পুরোনো রসায়ন

ভিকি জাহেদের নির্মাণে এর আগেও একাধিক নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে একসঙ্গে কাজ করেছেন নিশো ও মেহজাবীন। ‘পুনর্জন্ম’, ‘চিরকাল আজ’ ও ‘রেডরাম’-এর মতো আলোচিত কাজেও দেখা গেছে এই জুটিকে।

তাদের অভিনয় ও পর্দার রসায়ন বরাবরই দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। এবার সেই পরিচিত জুটি সিনেমার বড় পর্দায় কতটা সাড়া ফেলতে পারে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

‘পুলসিরাত’ প্রযোজনা করছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনায় বেশ কয়েকটি আলোচিত ও সফল সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। ফলে নিশো-মেহজাবীনের জুটি এবং ভিকি জাহেদের বড় পর্দার অভিষেক—দুই মিলিয়ে ‘পুলসিরাত’ ঘিরে দর্শকের আগ্রহও তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/জেএন

লটারির পর দক্ষতা অনুযায়ী ঢাকায় পদায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
লটারির পর দক্ষতা অনুযায়ী ঢাকায় পদায়ন

ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হলেও কর্মকর্তাদের দক্ষতা, কাজের ধরন এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর নির্ধারিত পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রম অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ঢাকায় কাজের চাপ বেশি, তাই দক্ষতাকে গুরুত্ব

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কাজের চাপ সমান নয়। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে তুলনামূলক বেশি চাপ থাকে। ফলে লটারিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম ও দক্ষ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৩১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ১৮ জনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কাজের চাপ বিবেচনা করে পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজের চাপ বেশি। তাই লটারিতে যেসব কর্মকর্তার নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ ও বেশি কাজের চাপ সামলাতে সক্ষম কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

লটারির মাধ্যমে বদলি, ধাপে ধাপে অন্য এলাকাতেও

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে লটারির এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োগ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, লটারির মাধ্যমে বদলির প্রক্রিয়াটি কেবল শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও এভাবে সমস্যার সমাধানের পথ বের করা হবে।

তিনি বলেন, কোনো না কোনো জায়গা থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। সেই শুরুটি তারা করেছেন এবং এটি পর্যায়ক্রমে চলমান থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, লটারিতে যাদের নাম উঠবে, তাদের মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের কাজের ধরন ও চাপ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে লটারির কারণে কোনো অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

ঢাকায় আগে দায়িত্ব পালন করলেও বৈষম্য নয়

কোনো কর্মকর্তা এর আগে ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকলে লটারির মাধ্যমে আবারও ঢাকায় পদায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি র‌্যান্ডম বা লটারিভিত্তিক, তাই কাউকে বৈষম্যের শিকার করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা র‌্যান্ডম একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু করছি, আমরা কোনো ডিসক্রিমিনেশন দিতে চাই না।’

তবে ঢাকায় দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাকে দায়িত্বে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘উনি কালকে জয়েন করে দুর্নীতি শুরু করলে আমি তো তাকে রাখতে পারব না।’

সার্ভিস রুলস মেনেই পদায়ন

সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সার্ভিস রুলস অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও কাজের সুযোগ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিমালাই বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মোট ৩৭২টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে এসব নিয়োগ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

অন্য দপ্তরেও লটারি ব্যবহারের বিষয়ে যা বললেন মন্ত্রী

সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা দপ্তরেও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে লটারির পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, কোন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের প্রশাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা কর্তৃপক্ষ নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, তার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বলতে পারেন। অন্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মত দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।

লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রমকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের পদ্ধতিতে প্রশাসনিক সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জিটিএ ৬ খেলতে বাংলাদেশি গেমারদের কত টাকা খরচ হবে?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
জিটিএ ৬ খেলতে বাংলাদেশি গেমারদের কত টাকা খরচ হবে?

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘গ্র্যান্ড থেফট অটো সিক্স’ (GTA 6) নিয়ে গেমারদের উত্তেজনা চরমে। বহুল প্রতীক্ষিত এই গেমটির মুক্তির তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকস্টার গেমস। আগামী ১৯ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে গেমটি বাজারে আসার কথা রয়েছে।

তবে শুরুতেই সব গেমার এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রথম ধাপে গেমটি পাওয়া যাবে প্লে স্টেশন ৫ (PS5), এক্সবক্স সিরিজ এক্স ও সিরিজ এস কনসোলে। ফলে বাংলাদেশি গেমারদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—জিটিএ ৬ খেলতে হলে সব মিলিয়ে কত টাকা খরচ করতে হবে?

কনসোল কিনতেই লাখের কাছাকাছি

বাংলাদেশে জিটিএ ৬ খেলার জন্য কনসোল হিসেবে PS5 হতে পারে গেমারদের অন্যতম প্রধান পছন্দ। বাজারে বর্তমানে মডেল ও স্টোরেজভেদে PS5-এর দামে পার্থক্য রয়েছে।

ডিজিটাল, স্লিম কিংবা প্রো সংস্করণের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে একটি PS5 কিনতে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ শুধু কনসোল কিনতেই গেমারদের বড় অঙ্কের বাজেট রাখতে হবে।

গেমের জন্য আলাদা বাজেট

কনসোল কেনার পরও শেষ হচ্ছে না খরচ। মূল ব্যয় করতে হবে জিটিএ ৬-এর গেম কপির জন্য।

আন্তর্জাতিক বাজারে গেমটির স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণের দাম প্রায় ৭০ ডলার হতে পারে। বিশেষ বা কালেক্টরস এডিশনের ক্ষেত্রে খরচ আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতার কাছ থেকেও গেমটির ডিজিটাল কপি পাওয়া যেতে পারে।

প্রাথমিক হিসাবে বাংলাদেশি গেমারদের একটি কপির জন্য প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

এবার থাকছে না ট্র্যাডিশনাল ডিস্ক?

জিটিএ ৬-এর ক্ষেত্রে গেমারদের জন্য আরেকটি পরিবর্তনও নজরে আসছে। প্রচলিত গেম ডিস্ক বা সিডির পরিবর্তে ডিজিটাল ডাউনলোড কোডের মাধ্যমে গেমটি পাওয়া যেতে পারে।

PS5 ব্যবহারকারীরা প্লেস্টেশন স্টোরের মাধ্যমে সরাসরি গেমটি ডাউনলোড করতে পারবেন। আবার দোকান থেকে পাওয়া ডিজিটাল কোড থাকলেও সেটি রিডিম করে কনসোলে গেমটি ইনস্টল করা সম্ভব হবে।

পিসি গেমারদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে

কনসোল গেমাররা নভেম্বরেই জিটিএ ৬-এর স্বাদ পেতে যাচ্ছেন। কিন্তু পিসি গেমারদের জন্য এখনো নেই সুখবর।

উইন্ডোজ বা পিসির জন্য গেমটি ঠিক কবে মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে রকস্টার গেমস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তারিখ জানায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আগের গেমগুলোর মুক্তির ধারা বিবেচনায় কনসোল সংস্করণের পর পিসি সংস্করণ আসতে আরও সময় লাগতে পারে।

তাই সম্ভাব্য সময় হিসেবে ২০২৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৮ সাল নিয়ে আলোচনা থাকলেও এটি এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নয়।

পিসিতে খেলতে হলে কেমন হার্ডওয়্যার লাগতে পারে?

পিসি সংস্করণের আনুষ্ঠানিক সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট এখনো প্রকাশিত না হওয়ায় নির্দিষ্ট কনফিগারেশন নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রচলিত অনুমান অনুযায়ী, গেমটি স্বাচ্ছন্দ্যে চালাতে শক্তিশালী প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, পর্যাপ্ত র‍্যাম এবং দ্রুতগতির SSD প্রয়োজন হতে পারে।

উচ্চ গ্রাফিক্স ও স্মুথ পারফরম্যান্সের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর এবং RTX সিরিজের উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স কার্ডের মতো হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাই-এন্ড পিসিতে খরচ কয়েক লাখ টাকা

বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গেমিং পিসি তৈরি করতে এরই মধ্যে বেশ বড় বাজেট প্রয়োজন হয়। উচ্চক্ষমতার গ্রাফিক্স কার্ড, প্রসেসর, র‍্যাম, SSD ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মিলিয়ে একটি হাই-এন্ড গেমিং পিসি বানাতে ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকারও বেশি খরচ হতে পারে।

এর সঙ্গে জিটিএ ৬-এর কপি যোগ হলে মোট বাজেট আরও বাড়বে। তবে গেমটির পিসি সংস্করণের প্রকৃত সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট ও মূল্য প্রকাশের পরই সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশি গেমারদের সামনে বড় বাজেটের সমীকরণ

সবকিছু মিলিয়ে জিটিএ ৬ খেলতে আগ্রহী বাংলাদেশি গেমারদের জন্য এটি নিছক একটি গেম কেনার বিষয় নয়—বরং বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

PS5 দিয়ে খেলতে চাইলে কনসোল ও গেম মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বা তার বেশি বাজেট প্রয়োজন হতে পারে। আর ভবিষ্যতে পিসিতে সর্বোচ্চ মানের গ্রাফিক্সে খেলতে চাইলে হাই-এন্ড কম্পিউটারসহ মোট ব্যয় ২ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।

অবশ্য গেমটির চূড়ান্ত মূল্য ও পিসি সংস্করণের হার্ডওয়্যার চাহিদা প্রকাশের পর এই হিসাব আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত বাংলাদেশি গেমারদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জিটিএ ৬-এর উন্মাদনায় আপনি কত টাকা খরচ করতে প্রস্তুত?

কালের আলো/জেএন