খুঁজুন
                               
, ,
           

তিন মাসে দুই বিশ্বকাপ, স্পেনের হাতে আরও এক শিরোপা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
তিন মাসে দুই বিশ্বকাপ, স্পেনের হাতে আরও এক শিরোপা

একটা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আরেকটা—শিরোপার মঞ্চে যেন থামছেই না স্পেন। বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকে শুরু করে সিনিয়র পর্যায়, ফিফার একের পর এক বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিচ্ছে দেশটির নারী ও পুরুষ দল। সর্বশেষ সেই তালিকায় যোগ হলো অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা।

রোববার রাতে পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে উত্তর কোরিয়াকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে স্পেনের গোলকিপার লাইয়া লোপেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শিরোপা নিশ্চিত হয়।

টাইব্রেকারে নায়ক লাইয়া লোপেজ

ফাইনালের ১২০ মিনিটে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণে দুই দলকে যেতে হয় টাইব্রেকারে।

সেখানে স্পেনের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলকিপার লাইয়া লোপেজ। তার নৈপুণ্যে ৪–৩ ব্যবধানে উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে ট্রফি নিশ্চিত করে স্পেন।

ফাইনালের ১২০ মিনিটে গোল না হলেও টাইব্রেকারের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল নাটকীয়। শেষ শটের পরই উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেনের খেলোয়াড়েরা। অন্যদিকে হতাশায় মাঠ ছাড়তে হয় উত্তর কোরিয়ার মেয়েদের।

অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় শিরোপা

এই জয় স্পেনের জন্য অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।

তবে শুধু অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়েই নয়, বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলেও গত কয়েক বছরে স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপ জেতার একই বছরে অনূর্ধ্ব–১৭ নারী বিশ্বকাপও জিতেছিল স্পেন।

এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে, সিনিয়র নারী বিশ্বকাপের ট্রফিও নিজেদের করে নেয় স্পেন।

অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অনূর্ধ্ব–১৭, অনূর্ধ্ব–২০ এবং সিনিয়র—নারী ফুটবলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে স্পেন।

যে ট্রফিটা হাতছাড়া হয়েছিল

স্পেনের সামনে ২০২৪ সালে আরও বিরল একটি কীর্তি গড়ার সুযোগ এসেছিল। অনূর্ধ্ব–১৭ নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারলে নারী ফুটবলের সব ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিই তাদের দখলে চলে আসত।

কিন্তু সেই আসরের ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় স্পেন। ফলে অধরা থেকে যায় সেই কীর্তি।

দুই বছর পর সেই উত্তর কোরিয়াকেই আবার ফাইনালে পেল স্পেন। এবার অবশ্য গল্পটা হয়েছে পুরোপুরি ভিন্ন। আবারও ম্যাচ গড়িয়েছে টাইব্রেকারে, কিন্তু এবার জয় পেয়েছে স্পেনই।

তিন মাসে দুই বিশ্বকাপ

স্পেনের সাম্প্রতিক সাফল্যের আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো সময়ের ব্যবধান। মাত্র তিন মাসের মধ্যে দুটি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছে দেশটি।

জুলাইয়ে নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সিনিয়র পুরুষ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল স্পেন। সেই শিরোপার উৎসব শেষ হওয়ার আগেই এবার পোল্যান্ডে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপের ট্রফিও উঠল স্পেনের হাতে।

ফলে সিনিয়র পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরও এখন স্পেনের দখলে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলেও স্পেনের আধিপত্য

স্পেনের এই সাফল্যকে শুধু একটি টুর্নামেন্টের জয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা ফুটবল কাঠামোর ফল হিসেবেও এই ধারাবাহিক সাফল্যকে দেখা হচ্ছে।

অনূর্ধ্ব–১৭ থেকে অনূর্ধ্ব–২০ হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে খেলোয়াড় উঠে আসার পথটি স্পেনের নারী ফুটবলে বেশ কার্যকরভাবে কাজ করছে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় দলের পর্যায়েও সাফল্যের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।

২০২২ সালে অনূর্ধ্ব–১৭ ও অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ জয়, ২০২৩ সালে সিনিয়র নারী বিশ্বকাপ জয় এবং এবার আবার অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ—সব মিলিয়ে গত কয়েক বছরে স্পেনের নারী ফুটবলের সাফল্যের তালিকা বেশ সমৃদ্ধ।

একই প্রতিপক্ষ, বদলে গেল ফল

এই ফাইনালের আরেকটি বিশেষত্ব উত্তর কোরিয়া। ২০২৪ সালে যে দল স্পেনের স্বপ্ন ভেঙেছিল টাইব্রেকারে, এবার সেই দলকেই একই পদ্ধতিতে হারিয়ে ট্রফি জিতেছে স্পেন।

ফলে আগের হতাশার এক ধরনের জবাবও যেন দেওয়া হলো মাঠেই। তবে ম্যাচের ১২০ মিনিটে দুই দলের কেউ গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে টাইব্রেকারে।

সেখানে নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ শটগুলো কাজে লাগিয়েছে স্পেন। গোলকিপার লাইয়া লোপেজের পারফরম্যান্সও হয়ে উঠেছে শিরোপা জয়ের অন্যতম বড় কারণ।

থামছে না স্পেনের শিরোপাযাত্রা

সিনিয়র থেকে বয়সভিত্তিক—ফিফার বিশ্বকাপ মঞ্চে স্পেনের সাফল্যের তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। একদিকে সিনিয়র পুরুষ দলের বিশ্বকাপ জয়, অন্যদিকে নারী ফুটবলের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিক শিরোপা—সব মিলিয়ে স্পেনের ফুটবলে এখন চলছে সাফল্যের সময়।

আর এবার উত্তর কোরিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অনূর্ধ্ব–২০ নারী বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি ট্রফি।

এক বিশ্বকাপের উৎসব শেষ হওয়ার আগেই আরেক বিশ্বকাপের শিরোপা—স্পেনের ফুটবলে যেন এখন এটাই নতুন বাস্তবতা।

কালের আলো/জেএন

৫ রুটে বাস বন্ধ থাকায় চুয়াডাঙ্গায় চরম যাত্রীভোগান্তি

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
৫ রুটে বাস বন্ধ থাকায় চুয়াডাঙ্গায় চরম যাত্রীভোগান্তি

চুয়াডাঙ্গায় পাঁচটি আন্তঃজেলা ও আঞ্চলিক রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং মহাসড়কে যানবাহন আটকে রাখার প্রতিবাদে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে এ ধর্মঘট পালন করছেন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব রুটের যাত্রীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুর এবং জেলার হাসাদহ ও আলমডাঙ্গা রুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তবে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার জেলার দামুড়হুদার ফকিরপাড়ায় থ্রি-হুইলার ইজিবাইক ও পাখিভ্যানচালকদের সঙ্গে লোকাল বাসের শ্রমিকদের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের এক চালকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

এর প্রতিবাদে ইজিবাইকচালকেরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তারা ব্যারিকেড তুলে নেন।

এদিকে বাস ধর্মঘটের কারণে সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও দৌলতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ডে সারিবদ্ধভাবে বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাস না পেয়ে যাত্রীরা ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

শহরের একাডেমি মোড়, কোর্ট মোড় ও বড়বাজার এলাকায় ইজিবাইকের সংখ্যাও বেড়েছে। এতে এসব এলাকায় যাত্রীদের চাপ এবং ভোগান্তি বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা এবং মহাসড়কে গাড়ি আটকে রাখার প্রতিবাদে শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। মহাসড়কে ইজিবাইকের এ ধরনের চলাচল ও যানবাহন আটকে রাখার ঘটনা মেনে নেওয়া হবে না।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মধুপুরে চুরির অপবাদে ৮ বছরের শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

টাংগাইল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
মধুপুরে চুরির অপবাদে ৮ বছরের শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চুরির অভিযোগ তুলে আট বছরের এক শিশুকে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শিশুটির নানি মোছা. বকুলি বেগম জানান, জিহাদ এতিম। তার বাবা-মা কেউ নেই। গত ছয় বছর ধরে তারা তাকে লালন-পালন করছেন। জিহাদ গুবুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নানার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে দোকানে যায় জিহাদ। সেখানে কাউকে না পেয়ে সে ডাকাডাকি করে। পরে গুবুদিয়া গ্রামের মৃত তুফাইনা ফকিরের ছেলে মফেজ উদ্দিন সেখানে এসে শিশুটির বিরুদ্ধে দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে অন্য দুই শিশুর মাধ্যমে জিহাদকে ডেকে আনা হয়। পরে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয় এবং মারধর করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো শিশুর ওপর এ ধরনের শারীরিক নির্যাতন যেন না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মফেজ উদ্দিনের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক জানান, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত মফেজ উদ্দিন পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে