খুঁজুন
                               
, ,
           

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮, বাড়ছে যুদ্ধের তীব্রতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮, বাড়ছে যুদ্ধের তীব্রতা

রাশিয়ার একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। রোববারের এসব হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে। একই সময়ে জাপোরিঝঝিয়া, কিয়েভ ও ওদেসাসহ বিভিন্ন এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে।

সুমিতে শিশু কেন্দ্রে হামলা, নিহত ৩

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানিয়েছেন, সুমি শহরের একটি শিশু কেন্দ্রে রুশ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। ঘটনাটি হামলার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতের হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভে একটি রুশ ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

কিয়েভে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ স্থাপনা

রাজধানী কিয়েভেও রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকোর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কিয়েভের আঞ্চলিক প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় মোট ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি আবাসিক ভবন, একটি গুদাম ও একটি উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়।

ওদেসায়ও ব্যাপক হামলা

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলেও বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গভর্নর ওলেহ কিপার জানিয়েছেন, হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি আবাসিক ভবন, একটি দোকান, হোটেল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও শস্যগুদাম।

এর ফলে একদিনের হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত আটজনে।

এক সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ হামলা

জেলেনস্কির দাবি, গত সাত দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ড্রোন, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ওই সময়ে রাশিয়া ২ হাজার ২০০টির বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি আকাশ বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলেনস্কির ভাষ্য, এসব হামলায় আবাসিক ভবনের পাশাপাশি দুটি কিন্ডারগার্টেন, দুটি স্কুলসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘শাহেদ’ হামলা নিয়ে জেলেনস্কির অভিযোগ

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে চাইত, তাহলে সাম্প্রতিক সময়ে ‘শাহেদ’ ড্রোনের এমন ধারাবাহিক হামলা দেখা যেত না।

রাশিয়ার পক্ষ অবশ্য বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভভিত্তিক কিয়েভস্টার ও ওমেগা টেলিকমের দুটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে আসছিল।

যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মস্কোর

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শনিবার দেওয়া বক্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, মস্কো তাদের সামরিক অভিযান ‘শেষ পর্যন্ত’ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই সময়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের সীমান্তবর্তী খ্রিপুনি গ্রাম দখলের দাবি করেছে।

খারকিভ অঞ্চলকে অবশ্য রাশিয়া নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে না। যুদ্ধের সময় অঞ্চলটির কিছু এলাকায় রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাশিয়া দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। একই সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের আরও এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যও মস্কো প্রকাশ্যে জানিয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগেও নেই বড় অগ্রগতি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক হামলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

কালের আলো/জেএন

বাণিজ্যমেলার মাঠে পরিত্যক্ত ১৫ ককটেল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
বাণিজ্যমেলার মাঠে পরিত্যক্ত ১৫ ককটেল উদ্ধার

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগারগাঁও বাণিজ্যমেলার মাঠের একটি অংশে অভিযান চালিয়ে ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে এসআরবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫টি ককটেল দেখতে পান। পরে সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের অন্তর্গত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি নিরাপত্তার জন্য কর্ডন করে।

পরে নিরাপদ পরিবেশে ককটেলগুলো উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এসব ককটেল কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে রেখে গেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ইরানের আকাশে মার্কিন চাপের কালো মেঘ

কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ইরানের আকাশে মার্কিন চাপের কালো মেঘ

যুদ্ধের আগুন কিছুটা নিভেছে। কিন্তু ইরানের চারপাশের পথগুলো একে একে বন্ধ হচ্ছে। কোথাও ফ্লাইট নেই, কোথাও বিমানবন্দরসেবা অনিশ্চিত, কোথাও জ্বালানি দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিধায়। আকাশ খোলা থাকলেও ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক আকাশপথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।

  • ৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা
  • বিদেশি এয়ারলাইন ও সেবা প্রতিষ্ঠানও পড়ছে ওয়াশিংটনের নজরে
  • মিত্র দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানকে ওয়াশিংটনের কড়া বার্তা

এবার যুদ্ধের ময়দানে নয়—ইরানের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে আকাশে, ব্যাংকে ও বাণিজ্যের পথে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞায় শুধু ইরানি বিমান সংস্থাকে নিশানা করা হয়নি। তাদের সঙ্গে কাজ করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।

জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কিংবা টিকিট বিক্রিতে সহায়তা করলেও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা এখন শুধু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়; হয়ে উঠছে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির হিসাব।

৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানে নতুন নিষেধাজ্ঞা
গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান চলাচল খাতসংশ্লিষ্ট ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তালিকায় রয়েছে ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থা। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বেসামরিক যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থানান্তরে ব্যবহৃত হয়েছে। ইরান অবশ্য এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞার আসল অভিঘাত তালিকার বাইরেও।

কারণ ইরানি কোনো এয়ারলাইনকে জ্বালানি দেওয়া, বিমানবন্দরে সেবা দেওয়া কিংবা আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে ইরানের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের পরোক্ষ অবরোধ।

একের পর এক রুট হারাচ্ছে তেহরান
এরই মধ্যে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। মাহান এয়ার তেহরান থেকে ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার ফ্লাইট বন্ধ করেছে। তুরস্কের টার্কিশ এয়ারলাইনস, পেগাসাস ও আজেটও ইরানের সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

মাসকাট, ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা কিংবা জর্জিয়ার পথ—বিকল্প যত কমছে, ততই কঠিন হচ্ছে ইরান থেকে বেরিয়ে আসা বা সেখানে পৌঁছানো। তবে পুরো আকাশ বন্ধ হয়ে যায়নি। ইরানের জাতীয় বিমান সংস্থার কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু রয়েছে। ইস্তাম্বুল, বাকু ও নাজাফের মতো কিছু রুটও কার্যকর থাকার তথ্য রয়েছে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গেও বিমান যোগাযোগ অব্যাহত আছে। অর্থাৎ ইরান এখনো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয়। কিন্তু তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিধি সংকুচিত হচ্ছে—এটাই নতুন বাস্তবতা।

আকাশ বন্ধ করতে হয় না, পথ বন্ধ করলেই হয়
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো দেশের আকাশসীমা বন্ধ করতে পারে না। কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালাতে শুধু আকাশসীমার অনুমতি যথেষ্ট নয়। লাগে জ্বালানি। লাগে বিমানবন্দর। লাগে গ্রাউন্ড সার্ভিস। লাগে রক্ষণাবেক্ষণ। লাগে বিমা ও ব্যাংকিং সুবিধা। লাগে আন্তর্জাতিক টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা। এই প্রতিটি জায়গায় যদি নিষেধাজ্ঞার চাপ তৈরি হয়, তাহলে আকাশ খোলা রেখেও একটি দেশের বিমান যোগাযোগ কার্যত সংকুচিত করা সম্ভব। ইরানের ক্ষেত্রে এখন সেই চাপই দৃশ্যমান হচ্ছে।

ব্যাংকের দরজাও সংকুচিত
বিমানপথের পাশাপাশি আর্থিক যোগাযোগেও চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনের অভিযোগে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংককে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হচ্ছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও বলেছেন, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন অগ্রগতি করছে। অর্থাৎ লক্ষ্য শুধু একটি দেশের বিমান চলাচল সীমিত করা নয়; আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে তেহরানের সংযোগ দুর্বল করাও এর অংশ। এখানেই নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত শক্তি। ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের সামনে ঝুঁকি তৈরি করা।

বিপদে পড়ছে সাধারণ মানুষ
এই ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের সবচেয়ে বাস্তব চাপ পড়ে যাত্রীদের ওপর। যুদ্ধের সময় ইরান থেকে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মার্চে আজারবাইজানের মাধ্যমে ১৮৬ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এপ্রিলে আরও ১৪ বাংলাদেশিকে ফেরানোর ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ দূতাবাস। তাঁদের মধ্যে বন্দর আব্বাসে আটকে পড়া ব্যক্তি, জেনাভেহ বন্দরে থাকা নাবিক এবং চিকিৎসার জন্য গিয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশিও ছিলেন। অনেককেই ইরান থেকে স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে পরে বিমানে দেশে ফিরতে হয়েছে। অর্থাৎ একটি ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার অর্থ শুধু একটি রুটের সূচি বদলে যাওয়া নয়। এর অর্থ—আরও দীর্ঘ পথ, বেশি খরচ, বাড়তি ঝুঁকি এবং অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন।

যুদ্ধের পর নতুন যুদ্ধ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিও ইরানের আকাশসীমাকে উচ্চঝুঁকির এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছে। সংস্থাটির সতর্কতা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রয়েছে। ফলে তেহরানের ওপর চাপ এখন তিন দিক থেকে—নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ। যুদ্ধের সময় বোমা যেমন একটি বিমানবন্দর অচল করে দিতে পারে, নিষেধাজ্ঞা তেমনি অচল করে দিতে পারে তার চারপাশের পুরো সেবাব্যবস্থা। ইরানের সামনে তাই নতুন লড়াই। এবার রণক্ষেত্রে নয়। একটি একটি করে বন্ধ হচ্ছে পথ। কমছে আকাশের দরজা। সংকুচিত হচ্ছে ব্যাংক ও বাণিজ্যের জানালা।

কালের আলো/জিকেএম/এমকে

কার্গো সংকটে এলপিজি, বাড়ছে সিলিন্ডারের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
কার্গো সংকটে এলপিজি, বাড়ছে সিলিন্ডারের দাম

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) আমদানি কমে যাওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বর্তমানে প্রতি সিলিন্ডারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

বিইআরসি ও আমদানিকারক সূত্র জানায়, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হলেও সেপ্টেম্বরে তা কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন বা ২৫ শতাংশ।

গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে বর্তমানে বাজারে একই সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে আমদানিতে প্রভাব

আমদানিকারকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে জাহাজ সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। বাংলাদেশের এলপিজির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া। আগে একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে বিকল্প পথে কার্গো আনা সম্ভব হতো। এখন সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকার পরও অনেক বৈশ্বিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের দাবি, কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে।

অক্টোবরেও সংকটের আশঙ্কা

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদক পর্যায় থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ যথাসময়ে দেশে না পৌঁছানোয় সেপ্টেম্বরে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট কাটাতে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দ্রুত না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এলপিজির সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি