খুঁজুন
                               
, ,
           

৫০০ টাকা থেকে সাড়ে চার কোটি—এক শহরে কবরের দুই হিসাব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
৫০০ টাকা থেকে সাড়ে চার  কোটি—এক শহরে কবরের দুই হিসাব

ঢাকায় একটি ঘর পাওয়া কঠিন। মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য জীবনের বড় একটি সময় কেটে যায় সংগ্রামে। অথচ জীবন শেষে চাওয়াটা তো খুব সামান্য—কয়েক হাত মাটি। প্রিয়জনকে শুইয়ে দেওয়ার মতো একটি জায়গা। সেই জায়গাটুকুও এই শহরে সবার ভাগ্যে জোটে না। কারও কবর থাকে মাত্র দুই বছর, কারও কবর ধরে রাখতে লাগে লাখ লাখ টাকা। আর রাজধানীর বনানীতে মাত্র ২০ বর্গফুটের মতো একটি কবর ২৫ বছর সংরক্ষণ করতে গুনতে হয় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।

  • জীবনে ঘরের লড়াই, মৃত্যুতেও জায়গার সংকট
  • ৫০০ টাকার দাফন থেকে কোটি টাকার কবর
  • ঢাকায় শেষ ঠিকানাও এখন সামর্থ্যের হিসাব

একই শহরে সাধারণ দাফনের সরকারি নিবন্ধন ফি মাত্র ৫০০ টাকা। অর্থাৎ মৃত্যুর পরও ঢাকার মাটিতে যেন থেকে যাচ্ছে সামর্থ্যের হিসাব—কারও জন্য কবর সাময়িক, কারও জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষিত, আবার কারও জন্য কয়েক হাত মাটির নিশ্চয়তার দাম কোটি টাকা। কিন্তু এই গল্প শুধু টাকার নয়। এর গভীরে রয়েছে আরও বড় এক সংকট—জমি নেই। ঢাকা বাড়ছে। মানুষ বাড়ছে। ভবন উঠছে একের পর এক। অথচ মানুষের শেষ ঠিকানার জন্য জমি বাড়ছে না সেই অনুপাতে।

প্রিয়জনের কবর, কিন্তু কতদিন?
কবরস্থানে স্বজনের মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের প্রথম চাওয়া—প্রিয় মানুষটিকে একটু শান্তিতে শুইয়ে দেওয়া। তারপর আসে আরেক প্রশ্ন—কবরটি কতদিন থাকবে? ঢাকার সাধারণ কবরের উত্তরটি অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট। নির্ধারিত সময় পার হলে সেই জায়গায় আবার দাফন করতে হয় অন্য কাউকে। একটি পরিবারের কাছে যে জায়গাটি হয়ে ওঠে স্মৃতির ঠিকানা, নগরের কাছে সেটি সীমিত জমির একটি অংশ। সেখানে আবেগের কোনো মেয়াদ নেই, কিন্তু কবরের আছে।

বনানীতে ২০ বর্গফুটের জন্য সাড়ে চার কোটি
অভিজাত বনানী। চারপাশে বহুতল ভবন, দামি ফ্ল্যাট, করপোরেট অফিস, রেস্তোরাঁ। সেই বনানীতেই মৃত্যুর পর কয়েক হাত মাটির দামও আকাশছোঁয়া। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সারিতে দাফনের পর একটি কবর ১৫ বছর সংরক্ষণ করতে খরচ প্রায় তিন কোটি টাকা। ২৫ বছরের জন্য দিতে হয় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। কবরটির আয়তন প্রায় সাত ফুট লম্বা ও তিন ফুট চওড়া—২০ বর্গফুটের কিছু বেশি। সংরক্ষিত এলাকার খালি জায়গা থাকা সাপেক্ষে অন্য কাঠামোয় ১০ বছরের জন্য এক কোটি এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা দিয়েও কবর সংরক্ষণ করা যায়। কয়েক হাত মাটির জন্য এই অঙ্কটি তাই শুধু বিস্ময় জাগায় না; ঢাকার জমির মূল্য এবং শেষ ঠিকানার সংকট—দুটোকেই চোখের সামনে এনে দাঁড় করায়।

৫০০ টাকার দাফন থেকে কোটি টাকার নিশ্চয়তা
বনানী কবরস্থানে ৯ হাজারের বেশি কবর রয়েছে। সাধারণ দাফনের সরকারি নিবন্ধন ফি ৫০০ টাকা। কবর খনন, বাঁশ, চাটাইসহ অন্যান্য নির্ধারিত খরচ আলাদা। সাধারণ কবরের মেয়াদ দুই বছর। এরপর জায়গাটি পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু কোনো পরিবার যদি কবরটি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চায়, তখন হিসাব বদলে যায়। সংরক্ষিত কবরে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের পুনরায় দাফনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিবার পুনর্দাফনের জন্য দিতে হয় ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। সংশ্লিষ্টদের যুক্তি, জায়গার সংকটের কারণেই দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে বেশি ফি। কারণ সাধারণ কবরও যদি বছরের পর বছর ধরে রাখা হয়, তাহলে নতুন মরদেহ দাফনের জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে যাবে।

মিরপুরে ২৫ বছরের কবর ৩০ লাখ
উত্তর ঢাকার চিত্রও খুব একটা আলাদা নয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাতটি নিবন্ধিত পাবলিক কবরস্থানের অন্যতম মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান। ৬৩ দশমিক ৫৪০ একরজুড়ে থাকা এই কবরস্থানে ১৯৮৩ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত দাফন হয়েছে ৬৩ হাজার ৯১৭টি মরদেহ। সাধারণ দাফনে নিবন্ধন ফি ৫০০ টাকা। বাঁশ, চাটাই ও কবর খননসহ নির্ধারিত খরচ যোগ হয় আরও ১ হাজার ৪৫৬ টাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন কবর ধরে রাখতে চাইলে ১৫ বছরের জন্য লাগে ২০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা।

সাধারণ এলাকার কোনো কবর দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে চাইলে ব্যয় বেড়ে ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। রায়েরবাজারে ১৫ বছরের জন্য ১০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ১৫ লাখ টাকা লাগে।

আজিমপুরে প্রতিদিন ৩০–৩৫টি শেষযাত্রা
দক্ষিণ ঢাকার চিত্রও জায়গার সংকটের একই গল্প বলে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় মুসলিমদের দাফনের জন্য তালিকাভুক্ত কবরস্থান রয়েছে পাঁচটি—আজিমপুর, জুরাইন, ধলপুর ব্রাহ্মণচিরণ, মুরাদপুর ও খিলগাঁও। আজিমপুরে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি মরদেহ দাফন করা হয়। কিন্তু কবরস্থানের আয়তন বাড়ছে না। সাধারণ দাফনে নিবন্ধন ফি ৫০০ টাকা। বড়দের দাফনে কবর খনন, বাঁশ ও চাটাইসহ খরচ প্রায় ১ হাজার ৫৮০ টাকা। কিন্তু কবরটি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চাইলে ১০ বছরের জন্য ৫ লাখ, ১৫ বছরে ১০ লাখ, ২০ বছরে ১৫ লাখ এবং ২৫ বছরে ২০ লাখ টাকা দিতে হয়। অর্থাৎ শেষ বিদায়ের খরচ আর শেষ স্মৃতিটুকু ধরে রাখার খরচ—দুটির মধ্যে তৈরি হচ্ছে বিশাল ব্যবধান।

এক কবরের জায়গায় আরেক কবর
ঢাকার কবরস্থানের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা সম্ভবত এখানেই। সাধারণ কবরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে সেই জায়গায় দাফন করা হয় নতুন মরদেহ। কোথাও দুই বছর পর, দক্ষিণ সিটির কিছু কবরস্থানে প্রায় এক বছর পরও পুরোনো কবরের জায়গা পুনর্ব্যবহার করা হয়। নগর ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিতে এটি প্রয়োজনীয়। কিন্তু স্বজনের কাছে একটি কবর শুধু মাটি নয়।

সেখানে থাকে বাবা-মায়ের স্মৃতি, সন্তানের শেষ ঠিকানা, স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে কাটানো জীবনের স্মৃতি। তাই কবরের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতির মেয়াদ শেষ হয় না। কিন্তু জায়গার সংকট সেই আবেগকে জায়গা দেয় না।

২৫১ একর জমিতে ঢাকার শেষ ঠিকানা
দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, উত্তর সিটির কবরস্থানগুলোর মোট জমি প্রায় ১৯২ একর। দক্ষিণ সিটির প্রায় ৫৯ একর। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫১ একর জমিতে একটি বিশাল নগরের মানুষের দাফনের ব্যবস্থা চলছে। এদিকে, ঢাকা প্রতিদিনই বাড়ছে। নতুন মানুষ আসছে, অনেকে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ছেন। ফলে ভবিষ্যতে ঢাকায় দাফনের চাহিদাও বাড়তে পারে। দক্ষিণ সিটি নতুন কবরস্থানের জন্য জমি খুঁজছে। কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীতে নতুন জমি পাওয়া কঠিন। আবাসন, সড়ক, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিক প্রয়োজনের সঙ্গে কবরস্থানের জমিও প্রতিযোগিতায় পড়ছে।

নগর পরিকল্পনায় মৃত্যুর জন্য কতটা জায়গা?
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি শহরের পরিকল্পনা শুধু জীবিত মানুষের প্রয়োজন ঘিরে হলে চলে না। মানুষের জন্ম, বসবাস, চিকিৎসা এবং মৃত্যুর পর দাফন—সবই নগর ব্যবস্থাপনার অংশ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ মনে করেন, কবরস্থান মানুষের আবেগ ও সামাজিক স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণে উচ্চ ফি রাজধানীতে জায়গার সংকট কতটা তীব্র, সেটিও তা থেকে বোঝা যায়।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালায় প্রতি ৫০ হাজার মানুষের জন্য এক একর কবরস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। ড্যাপেও প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট ছোট কবরস্থান রাখার সুপারিশ রয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনের হিসাব আছে। প্রশ্ন এখন বাস্তবায়নের।

শেষ ঠিকানারও কি সামর্থ্য লাগে?
একজন মানুষ সারা জীবন যে শহরকে নিজের করে নিতে চান, মৃত্যুর পর সেই শহরেই কয়েক হাত মাটি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠছে। কেউ ৫০০ টাকা দিয়ে প্রিয়জনকে শেষ বিদায় দিচ্ছেন। কেউ কবরটি আরও কিছু বছর ধরে রাখতে লাখ লাখ টাকা দিচ্ছেন। কেউ সেই নিশ্চয়তার জন্য কোটি টাকা খরচ করছেন। আর বনানীতে সেই অঙ্ক পৌঁছে যাচ্ছে সাড়ে চার কোটিতে। শহরের উঁচু ভবনগুলো যত ওপরে উঠছে, মানুষের শেষ ঠিকানার জায়গা যেন ততই নিচে নেমে যাচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

যাত্রীসেবা না বাড়ালে রুট বাতিলের হুঁশিয়ারি সড়কমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
যাত্রীসেবা না বাড়ালে রুট বাতিলের হুঁশিয়ারি সড়কমন্ত্রীর

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার মান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নত করা না হলে সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানির রুট বাতিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রয়োজনে নতুন বাস কোম্পানি গঠন এবং তাতেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনের অডিটোরিয়ামে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বাসমালিকদের সঙ্গে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বাসমালিকদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসের মান, যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোম্পানির। কোনো মালিক বাস যথাযথভাবে সংস্কার না করলে কিংবা চালক-কর্মচারীরা নিয়ম না মানলে এর দায় কোম্পানিকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো বাসমালিক চিনব না, কোম্পানি চিনব। বাসটি আপনার কোম্পানির অধীনে চলে। মালিক মানসম্মতভাবে বাস সংস্কার না করলে, যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত না হলে, চালক কথা না শুনলে এবং কর্মচারীরা শৃঙ্খলা না মানলে সেই বাসের দায় আপনাদের নিতে হবে।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাসের সেবা ও শৃঙ্খলায় পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে প্রয়োজনে নতুন কোম্পানি গঠন করা হবে। এরপরও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা না গেলে রুট বাতিল করে সরকারি পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বাসমালিকদের লোকসানের যুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে, এরপর ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয়ে সরকার আলোচনা করবে।

তিনি বলেন, ‘সেবার মান উন্নত না করে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাওয়া যাবে না। আপনারা মানসম্মত যাত্রী পরিবহন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করুন। বাসে চড়তে মানুষকে আগ্রহী করার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন সড়কমন্ত্রী। উপযুক্ত চালকদের দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাস কোম্পানিগুলোকে দক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম চালক চিহ্নিত করে বিআরটিএতে পাঠাতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, উপযুক্ত চালক চিহ্নিত করে পাঠালে পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। চালককে সংশ্লিষ্ট যান চালানোর নিয়ম ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে জানতে হবে।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসস্টপেজ চিহ্নিত ও সেগুলোর মান উন্নয়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। রুটভিত্তিক বাস কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করার পর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সেগুলো যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাসের সেবার মান উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমান পরিবর্তনে উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে নিয়েই পরিবর্তন আনতে চায়। তবে অনিয়ম, গাফিলতি ও অসহযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

এদিকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চার্জিং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা করা হচ্ছে বলেও জানান সড়কমন্ত্রী। নির্দিষ্ট এলাকা ও নিয়মের মধ্যে এসব যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ নাহিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ নাহিদের

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় বিবেচনার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার যে প্রবণতার অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকারের সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন কারণে জনগণ দুর্ভোগে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দলীয়করণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

নাহিদ ইসলামের দাবি, আগের সরকারের আমলে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভেরিফিকেশন ও ভাইবার সময় রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় নেওয়া হতো এবং রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ ছিল।

বর্তমান সরকারের সময়ও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভাইবার নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইবার সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রবেশপত্র নিয়ে গেলে চাকরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে—এমন বক্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে।

একজন প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সব চাকরি দলের লোকেরা পাবে।

প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সেখানে প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী পরীক্ষায় যোগ্য হলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না থাকলে শুধু ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি কিংবা নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আগের দিন জানিয়েছেন, বাদ পড়া প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে আবার নেওয়া বা সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আন্দোলন ও প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই এমন বক্তব্য এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চাকরিপ্রার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো প্রার্থী অন্যায়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়লে এনসিপি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে এবং প্রয়োজনে আন্দোলনে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাঁকে অন্যায়ভাবে চাকরির প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এর পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে এনসিপির কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। দলটি তাঁদের পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করবেন ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করবেন ডা. শফিকুর রহমান

হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করবেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এলাকায় অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখোশধারী একদল ব্যক্তি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে মালামাল লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবারের পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে দেখবেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি