সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ নাহিদের
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় বিবেচনার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে চাকরিপ্রার্থীদের বাদ দেওয়ার যে প্রবণতার অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকারের সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন কারণে জনগণ দুর্ভোগে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে দলীয়করণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
নাহিদ ইসলামের দাবি, আগের সরকারের আমলে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভেরিফিকেশন ও ভাইবার সময় রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় নেওয়া হতো এবং রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
বর্তমান সরকারের সময়ও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভাইবার নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইবার সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রবেশপত্র নিয়ে গেলে চাকরি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে—এমন বক্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
একজন প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সব চাকরি দলের লোকেরা পাবে।
প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সেখানে প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী পরীক্ষায় যোগ্য হলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না থাকলে শুধু ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি কিংবা নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আগের দিন জানিয়েছেন, বাদ পড়া প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে আবার নেওয়া বা সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। আন্দোলন ও প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই এমন বক্তব্য এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাকরিপ্রার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো প্রার্থী অন্যায়ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়লে এনসিপি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে এবং প্রয়োজনে আন্দোলনে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাঁকে অন্যায়ভাবে চাকরির প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং এর পক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে এনসিপির কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। দলটি তাঁদের পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি



আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]