খুঁজুন
                               
, ,
           

যাত্রীসেবা না বাড়ালে রুট বাতিলের হুঁশিয়ারি সড়কমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
যাত্রীসেবা না বাড়ালে রুট বাতিলের হুঁশিয়ারি সড়কমন্ত্রীর

ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার মান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নত করা না হলে সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানির রুট বাতিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। প্রয়োজনে নতুন বাস কোম্পানি গঠন এবং তাতেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনের অডিটোরিয়ামে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বাসমালিকদের সঙ্গে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বাসমালিকদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসের মান, যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোম্পানির। কোনো মালিক বাস যথাযথভাবে সংস্কার না করলে কিংবা চালক-কর্মচারীরা নিয়ম না মানলে এর দায় কোম্পানিকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো বাসমালিক চিনব না, কোম্পানি চিনব। বাসটি আপনার কোম্পানির অধীনে চলে। মালিক মানসম্মতভাবে বাস সংস্কার না করলে, যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত না হলে, চালক কথা না শুনলে এবং কর্মচারীরা শৃঙ্খলা না মানলে সেই বাসের দায় আপনাদের নিতে হবে।’

সড়কমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাসের সেবা ও শৃঙ্খলায় পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে প্রয়োজনে নতুন কোম্পানি গঠন করা হবে। এরপরও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা না গেলে রুট বাতিল করে সরকারি পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বাসমালিকদের লোকসানের যুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আগে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে, এরপর ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয়ে সরকার আলোচনা করবে।

তিনি বলেন, ‘সেবার মান উন্নত না করে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাওয়া যাবে না। আপনারা মানসম্মত যাত্রী পরিবহন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করুন। বাসে চড়তে মানুষকে আগ্রহী করার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন সড়কমন্ত্রী। উপযুক্ত চালকদের দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বাস কোম্পানিগুলোকে দক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম চালক চিহ্নিত করে বিআরটিএতে পাঠাতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, উপযুক্ত চালক চিহ্নিত করে পাঠালে পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। চালককে সংশ্লিষ্ট যান চালানোর নিয়ম ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে জানতে হবে।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসস্টপেজ চিহ্নিত ও সেগুলোর মান উন্নয়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) দায়িত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। রুটভিত্তিক বাস কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করার পর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সেগুলো যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাসের সেবার মান উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমান পরিবর্তনে উদ্যোক্তাদের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে নিয়েই পরিবর্তন আনতে চায়। তবে অনিয়ম, গাফিলতি ও অসহযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

এদিকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চার্জিং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা করা হচ্ছে বলেও জানান সড়কমন্ত্রী। নির্দিষ্ট এলাকা ও নিয়মের মধ্যে এসব যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শব্দদূষণ কমাতে গাজীপুরে ৫৫০ বাসে হর্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
শব্দদূষণ কমাতে গাজীপুরে ৫৫০ বাসে হর্ন পরিবর্তনের উদ্যোগ

গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত করতে গণপরিবহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলার গণপরিবহনে ব্যবহৃত সাড়ে পাঁচশর বেশি বাস থেকে হাইড্রোলিক হর্ন খুলে সহনীয় মাত্রার মিউজিক হর্ন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পরিবহন মালিক ও চালকেরা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া।

জেলা প্রশাসক বলেন, গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত করার অন্যতম উপায় হলো গাড়ির হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধ করা। এ বিষয়ে পর্যায়ক্রমে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, গণপরিবহনের চালকসহ শব্দদূষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের সঙ্গে আলোচনায় তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সাড়ে পাঁচশর বেশি বাস হাইড্রোলিক হর্নমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এসব বাসে মানুষের কানের জন্য সহনীয় ও শ্রুতিমধুর হর্ন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া হর্ন না বাজানোর বিষয়েও তারা সম্মত হয়েছেন।

নুরুল করিম ভূঁইয়া জানান, গত দুই মাসে শব্দদূষণবিরোধী কর্মসূচির সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ প্রায় ৯০০ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করেছে। জেলা পুলিশও এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের একটাই উদ্দেশ্য—মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং একটি শান্ত ও শব্দদূষণমুক্ত গাজীপুর গড়ে তোলা।’

সভায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, জিএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজিরসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ক্রসফায়ার মামলায় সাবেক ডিআইজির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
ক্রসফায়ার মামলায় সাবেক ডিআইজির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিআইজি মো. হুমায়ুন কবিরের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিষয়ে আদেশ দেন। হুমায়ুন কবির বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাধীন থাকায় সরাসরি ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চারজন আসামি রয়েছেন। অন্য আসামিরা হলেন উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মো. মাহাবুল ইসলাম, মো. জসিম উদ্দিন এবং তৎকালীন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ। মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ও জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

জবানবন্দিতে হুমায়ুন কবির দাবি করেন, একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর টিপু ও কবিরকে পুলিশ সুপার এহসানউল্লাহর নির্দেশে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার নির্দেশ দেওয়া হলেও আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা এতে রাজি হননি। এরপর অন্য থানার পুলিশ সদস্যদের দিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয় বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর এসপি এহসানউল্লাহ থানায় গিয়ে জিডিতে নোট করেন এবং বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। পরে এসপির পেশাগত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরূপ মন্তব্যসহ এসিআর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো হয়েছিল বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, এহসানউল্লাহ সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার প্রভাবের কারণে নানা ধরনের ‘অপেশাদার’ কর্মকাণ্ড করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ‘অজানা শক্তির’ কারণেই এহসানউল্লাহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানোর সাহস পেয়েছিলেন।

প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল হুমায়ুন কবিরের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

১১ সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী বাছাই, শেষ দুইয়ের খোঁজে জামায়াত

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
১১ সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী বাছাই, শেষ দুইয়ের খোঁজে জামায়াত

সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে প্রায় শেষ ধাপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ১১টিতে মেয়র পদে প্রার্থীর নাম প্রাথমিকভাবে ঠিক করেছে দলটি। বাকি দুই সিটি—কুমিল্লা ও নবগঠিত বগুড়ায়—একাধিক নাম নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। তবে ১১ সিটির তালিকাও এখনো চূড়ান্ত নয়। কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অনুমোদনের পরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। জামায়াতের এই তৎপরতায় সিটি ভোটে দলটির নিজস্ব সাংগঠনিক প্রস্তুতির একটি প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোটভিত্তিক রাজনীতির বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিতও রয়েছে।

  • কুমিল্লা ও বগুড়ায় একাধিক প্রার্থী আলোচনায়
  • স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াইয়ের প্রস্তুতি জামায়াতের
  • সমঝোতার সুযোগ রাখছে দল

আট সিট থেকে ১১
গত ২২ জুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে প্রথম দফায় আট সিটির প্রার্থী বাছাই করে জামায়াত। ওই তালিকায় ছিল ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ। পরে তালিকায় যুক্ত হয় রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ। ১১ আগস্ট রাজশাহীতে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নাম প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর সিলেটে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নূরুল ইসলাম বাবুলের নাম ঘোষণা করা হয়। ময়মনসিংহে প্রায় দুই মাস আগে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। ফলে ১৩ সিটির মধ্যে ১১টিতে দলটির প্রার্থী বাছাই এখন প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন।

তালিকায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা
ঢাকা উত্তর সিটিতে মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিকের নাম রয়েছে। চট্টগ্রামে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বরিশালে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খানকে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। খুলনায় মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জে মহানগর আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নাম রয়েছে।

রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহের জন্যও স্থানীয় সাংগঠনিক নেতৃত্ব থেকেই প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। তবে এসব নামকে এখনই চূড়ান্ত প্রার্থী বলতে নারাজ জামায়াত। দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে ১১ সিটির প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলেও কেন্দ্রীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়।

কুমিল্লা-বগুড়ায় থামেনি দৌড়
বাকি দুই সিটিতে সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলক বেশি সময় নিচ্ছে দলটি। কুমিল্লায় মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বগুড়ায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক জিএস আ খ ম আব্দুল মালেক ও শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল। স্থানীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাওয়া এসব নাম নিয়ে এখনো পর্যালোচনা চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থীদের বিষয়ে আরও পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী মাসে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে।

জোটের রাজনীতিতে ভিন্ন সমীকরণ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে একই প্রার্থী দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখছে না জামায়াত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, সিটি নির্বাচনে দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রার্থী দেবে। তবে কোনো এলাকায় শরিকরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ স্থানীয় ভোটে দলীয় অবস্থানের পাশাপাশি আসনভিত্তিক সমঝোতার সুযোগও থাকছে।

এর ফলে সিটি নির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোটগত হিসাব সরাসরি কার্যকর না-ও হতে পারে। স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর পরিচিতি এবং শরিকদের অবস্থান—সব মিলিয়েই তৈরি হতে পারে পৃথক নির্বাচনী সমীকরণ।

শেষ সিদ্ধান্ত শুরার
১৩ সিটির মধ্যে ১১টিতে প্রাথমিক প্রার্থী বাছাই শেষ করলেও জামায়াত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। দলটির প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মজলিশে শুরার অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। তাই আপাতত জামায়াতের সিটি ভোটের প্রস্তুতিতে তিনটি স্তর স্পষ্ট—১১ সিটে প্রার্থী বাছাই, কুমিল্লা ও বগুড়ায় যাচাই-বাছাই এবং শরিকদের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানীয় সমঝোতার সুযোগ।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ১১ প্রার্থীর কতজন শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকছেন। একই সঙ্গে কুমিল্লা ও বগুড়ায় কারা দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেটিও নির্ধারণ করবে ১৩ সিটে জামায়াতের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপ।

কালের আলো/জেএন/এমকে