খুঁজুন
                               
, ,
           

‘বিষয় না বুঝে কথা বলবেন না’, জামায়াত আমিরকে হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
‘বিষয় না বুঝে কথা বলবেন না’, জামায়াত আমিরকে হুমায়ুন কবির

আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে বিষয়টি না বুঝে মন্তব্য না করার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, কাউকে খুশি করার জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিমান চলাচল খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর প্রয়োজন বিবেচনায় অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরকালে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতি, মালদ্বীপের উপরাষ্ট্রপতি এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সুনাম ও সম্মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন—এটি সরকারের মূল্যায়ন।

বোয়িং প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির কথা প্রকাশ্যে এসেছে। এ চুক্তিতে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বোরকা পরে ভূমি অফিসে গেলেন ঢাকার ডিসি, নিলেন সেবার খোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
বোরকা পরে ভূমি অফিসে গেলেন ঢাকার ডিসি, নিলেন সেবার খোঁজ

ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাচ্ছেন, সেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কি না—তা সরেজমিনে জানতে সাধারণ সেবাগ্রহীতার বেশে ভূমি অফিস পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বোরকা পরে পরিচয় গোপন রেখে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান তিনি। সেখানে সাধারণ নাগরিকের মতো ভূমিসেবা নেওয়ার পাশাপাশি সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় তিনি জানতে চান, ভূমিসেবা নিতে গিয়ে কেউ হয়রানি, ভোগান্তি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি কিংবা অন্য কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম, সেবার পরিবেশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষকে দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

ফরিদা খানম বলেন, তিনি নিয়মিত আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি অফিসগুলো পরিদর্শন করেন। তবে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের সময় অনেক ক্ষেত্রে সেবার প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি জানা সম্ভব হয় না। সাধারণ মানুষ ভূমিসেবা নিতে গিয়ে বাস্তবে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা জানতেই সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে তিনি সেখানে গিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ভূমিসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং সেবাগ্রহীতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এ ধরনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার বাস্তব চিত্র জানা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সেবার প্রকৃত চিত্র জানতে আকস্মিক ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে জামায়াত আমির, ৫০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে জামায়াত আমির, ৫০ লাখ টাকা অনুদান ঘোষণা

রাজধানীর মিরপুরে হামলা ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনরায় চালু করতে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনুদানের অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা কিছুটা সচল করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হবে। এর মাধ্যমে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত আমির দাবি করেন, হামলার সময় পুলিশের উপস্থিতি ছিল এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি সেখানে ভাঙচুর চালিয়েছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গডফাদারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার দরিদ্র মানুষ, শিশু ও সন্তানসম্ভবা নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং টিকাদান কর্মসূচি দিয়ে আসছিল। ভাঙচুরের কারণে এখন সেটি সেবা দেওয়ার উপযোগী নেই।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অপরাধের সঙ্গে যে দলের লোকজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঘটনাটির সঙ্গে বিরোধী দলের কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। এমনকি তিনি নিজে জড়িত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ইইউ

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তারা এ অঙ্গীকার করেন। এ সময় ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি তাদের অভিনন্দনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউ ও সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। অভিবাসন প্রসঙ্গে তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য দেশকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

ইইউ রাষ্ট্রদূতরা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগেও অব্যাহত সহযোগিতার কথা জানান তারা।

সাক্ষাতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউর আরও জোরালো ভূমিকা চান তিনি।

রাষ্ট্রদূতরা রোহিঙ্গা সংকটে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলারসহ সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতরা এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি