খুঁজুন
                               
, ,
           

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।  তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ। সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ।

সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

একজন তরুণের হাতে মুঠোফোন বা মাদকের বদলে যদি থাকে খেলার সরঞ্জাম, সামনে থাকে নিয়মিত অনুশীলন আর লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব—তাহলে বদলে যেতে পারে তার ভবিষ্যতের গতিপথ। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে। তাঁর ভাষায়, ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে যুবসমাজই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এদিন, মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা—একদিকে মাদক থেকে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, অন্যদিকে তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা।

  • ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়’—কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে সমাজকল্যাণমন্ত্রী
  • শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান,
  • ৭৯ দলের প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ

মাদক থেকে দূরে রাখতে চাই বিকল্প ও সম্ভাবনার পথ
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার আলোচনা প্রায়ই সচেতনতা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে তরুণদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত করার বিষয়টি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র পাবে।

খেলাধুলা নিয়মশৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু এসব সুফল পেতে শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ প্রশিক্ষক, সহজলভ্য মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পরিচর্যা।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়াতে পারবে। এ বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবারের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ক্রীড়াচর্চায় অংশগ্রহণের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে।

দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি চিন্তা ও কাজের শুরুতেই থাকতে হবে দেশ। তাঁর এই বক্তব্যে তরুণদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মিলিতভাবে লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫৯ ইভেন্টে লড়াই, অংশ নিলেন প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগী
দুই দিনব্যাপী ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ দেশের ৭৯টি দলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। মোট ৫৯টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খেলোয়াড়েরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, সোতোকান কারাতে দো ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শাহজাদা আলম। এ ছাড়া ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়েরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে