খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধ থামাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ থামাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা হামলাকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের মধ্যে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। এবার আবারও যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান যে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তার একটি সংশোধিত রূপ নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। ওই প্রস্তাব অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন।

মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় চালুর শর্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

আরাগচির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা যদি সত্যিই কোনো চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে থাকেন, তাহলে ইরান সেই সুযোগ ইতিমধ্যে তৈরি করেছে।

ইরানের প্রস্তাবে যেসব শর্ত

ইরানের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাতের অবসান, জব্দ করা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান রয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।

তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

এর আগে দুবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর কয়েক মাস ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে। এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাইরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে এবং বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল—একবার এপ্রিলে এবং আরেকবার জুনে। তবে উভয় উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত টেকসই হয়নি।

ট্রাম্পের ভিন্ন অবস্থান

ইরানের সর্বশেষ সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা গত শনিবার জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সে কারণেই দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে।

তবে এর এক দিন পর রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় বসতে পারেন বলে তিনি আশা করছেন।

ফলে একদিকে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানালেও অন্যদিকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তেহরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা মধ্যস্থতাকারীরা এখনো তেহরানকে দেয়নি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

আরাগচি বলেন, ইরানের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ ওই শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছানোই বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ‘ভয়ংকর যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়।

ইরান বলছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এ অবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনা যুদ্ধবিরতির দিকে কতটা এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ওলিসের জাদুতে মাঠে ফিরলেন জিদান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
ওলিসের জাদুতে মাঠে ফিরলেন জিদান

অসাধারণ খেলোয়াড়দের একটি বিশেষ ক্ষমতা থাকে—তাঁদের নৈপুণ্য শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারি ও ডাগআউটেও। দর্শকদের আবেগে ভাসিয়ে দেয় তাঁদের খেলা। ব্রাসেলসে গতকাল রাতেও তেমনই এক দৃশ্যের জন্ম হলো। ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত গোলে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন ফ্রান্সের কোচ জিনেদিন জিদান যে, ডাগআউট ছেড়ে টাচলাইনের পাশে দৌড়াতে শুরু করেন তিনি।

মাঠে ছিলেন ওলিসে, ডাগআউটে জিদান। কিন্তু ৮৮ মিনিটে ওলিসের করা অসাধারণ গোলের মুহূর্তে সেই দূরত্ব যেন আর থাকল না। গোলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জিদানও হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ এক ফুটবল দর্শক।

ওলিসের দৌড়ে দৌড়ালেন জিদান

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই বদলি হিসেবে নামা ওলিসে বদলে দেন পুরো ম্যাচের চিত্র। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে মাঝমাঠ পেরিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণে ঢুকে পড়েন তিনি। পথে এক ডিফেন্ডারকে অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে বিপৎসীমায় পৌঁছে যান।

ওলিসের সেই মুভ দেখেই যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি জিদান। টাচলাইন ধরে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করেন ফ্রান্সের কোচ। ওলিসে গোল করার পরও থামেননি জিদান। উত্তেজনার মুহূর্তে সামনে থাকা একটি বলে কিকও মেরে বসেন তিনি।

ফুটবল যে কতটা আবেগের খেলা, সেই দৃশ্যই যেন তার প্রমাণ হয়ে ওঠে।

‘ওর পেছন পেছন গেলাম’

ম্যাচ শেষে নিজের এমন উদযাপনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন জিদান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরাসি কিংবদন্তি জানান, ওলিসের ড্রিবলিং দেখে তিনি মুহূর্তটির অংশ হয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

জিদানের ব্যাখ্যায়, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ওলিসে ড্রিবলিং শুরু করেছেন এবং দুর্দান্ত একটি মুভ তৈরি করেছেন। তাই নিজের অজান্তেই তাঁর পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করেন। এরপর সামনে একটি বল দেখতে পেয়ে আনন্দের বশে সেটিতে কিক মেরে দেন।

জিদানের কাছে ঘটনাটি হয়তো কিছুটা হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু সেই মুহূর্তে আবেগের কাছে যুক্তির কোনো জায়গা ছিল না।

ওলিসেকে ‘নিখাদ প্রতিভা’ বললেন জিদান

শুধু গোল বা উদযাপন নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই ওলিসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ জিদান। ফরাসি মিডফিল্ডারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, ওলিসে নিখাদ প্রতিভা। সে ফুটবল খেলতে ভালোবাসে এবং তার খেলায় সেই আবেগ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

জিদানের মতে, ওলিসে ফুটবলকে নিজের অনুভূতির সঙ্গে ধারণ করে খেলেন। এমন একজন খেলোয়াড়ের পাশে থাকতে পারাকে নিজের জন্যও আনন্দের বলে মনে করেন ফ্রান্সের কোচ।

এমবাপ্পে না থাকলেও জয় পেল ফ্রান্স

চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের একাদশেও বড় পরিবর্তন আনতে হয় জিদানকে। আগের ম্যাচের তুলনায় নয়টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ফরাসিরা।

তবু শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে কোনো গোলই যথেষ্ট ছিল—আর সেই গোল এসেছে ওলিসের পা থেকে। ৮৮ মিনিটে তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বেলজিয়ামকে ১–০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।

এই জয়ের ফলে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেলেন জিদান। ১৯৯৪ সালে আইমে জ্যাকের পর ফ্রান্সের চতুর্থ কোচ হিসেবে দায়িত্বের প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি।

জিদানের প্রথম দুই ম্যাচেই ওলিসের সরাসরি অবদান

জিদানের অধীনে ফ্রান্সের প্রথম দুই ম্যাচেই ওলিসের রয়েছে সরাসরি অবদান। আগের ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে ১–০ গোলে জয়ের ম্যাচে গোলটির উৎস ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার। আর বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবার নিজেই করলেন জয়সূচক গোল।

অর্থাৎ জিদানের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচে ফ্রান্সের দুটি গোলেই সরাসরি অবদান রয়েছে ওলিসের।

ফ্রান্সের কোনো কোচের অধীনে দায়িত্বের প্রথম দুই গোলেই এমন সরাসরি অবদান সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এরিক ক্যান্টোনার ক্ষেত্রে। ১৯৯২ সালে জেরার্ড হুলিয়ের কোচ হওয়ার পর তাঁর অধীনে ফ্রান্সের প্রথম দুই গোলেই একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন ক্যান্টোনা।

জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ওলিসে

ফ্রান্সের জার্সিতে ওলিসের দুর্দান্ত ফর্ম অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২৭ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে গোল করেছেন ৮টি এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১০টি।

অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ১৮টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তাঁর।

ফ্রান্সের হয়ে প্রথম ২৭ ম্যাচে এমন পরিসংখ্যান খুব কম খেলোয়াড়েরই ছিল। সর্বশেষ কাছাকাছি উদাহরণ খুঁজতে ফিরে যেতে হয় ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৩ সালে অভিষেকের পর প্রথম ২৭ ম্যাচে ইউরি দিয়োরকায়েফের গোল ছিল ১৪টি, সঙ্গে ছিল ৮টি অ্যাসিস্ট।

জিদানের সঙ্গে যেন পুরোনো এক মিল

দিয়োরকায়েফের সঙ্গে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জিদান। তবে ওলিসের খেলার ধরন ও পরিসংখ্যান তাঁকে আলাদা করে তুলছে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে যাওয়া, ড্রিবলিং, গতি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতায় ওলিসে ইতিমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন।

জিদানের চোখেও সেটিই ধরা পড়েছে। তাঁর মতে, ওলিসে এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি শুধু ফলের জন্য খেলেন না; নিজের খেলার মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিতে চান।

এই কথার মধ্যে যেন জিদানের নিজের ফুটবল-দর্শনেরও প্রতিফলন রয়েছে। একসময় তিনিও মাঝমাঠ থেকে ড্রিবলিং, নিয়ন্ত্রিত গতি আর অসাধারণ ফুটবলশৈলী দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। মাঠে জিদানের খেলা দেখে যেমন দর্শকেরা আবেগে ভেসেছেন, এবার সেই জিদানই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ওলিসের খেলায় সেই আবেগের স্বাদ পেলেন।

ওলিসের একটি অসাধারণ গোল তাই শুধু ফ্রান্সকে জয় এনে দেয়নি, কয়েক মুহূর্তের জন্য কিংবদন্তি জিদানকেও ফিরিয়ে নিয়েছিল তাঁর নিজের ফুটবল-দিনগুলোতে। ফুটবল যে সত্যিই সংক্রামক এক আবেগ—ব্রাসেলসের সেই রাত যেন তারই আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

কালের আলো/এসএ

না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামতে হলো না বাংলাদেশ দলকে। বৃষ্টির কারণে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি একটি বলও মাঠে গড়ানোর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো ক্ষতি হয়নি লিটন দাসের দলের। টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিশিনো কোরোগি স্পোর্টস পার্কে হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল। আগের দিন থেকেই বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি নিয়ে শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়। টসের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

চার কোয়ার্টার ফাইনালই বৃষ্টির কবলে

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচের পাশাপাশি আজ শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মধ্যকার অন্য কোয়ার্টার ফাইনালটিও পরিত্যক্ত হয়েছে।

নিশিনো কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এটি ছিল টানা ষষ্ঠ ম্যাচ, যা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলো। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। সবচেয়ে হতাশার বিষয়, চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের সব কটিই বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে।

মাঠে না নেমেই শেষ চারে লিটনরা

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মালয়েশিয়ার চেয়ে ভালো হওয়ায় পরিত্যক্ত ম্যাচের পর বাংলাদেশকেই বিজয়ী হিসেবে ধরা হয়েছে এবং শেষ চারে জায়গা পেয়েছে লিটন দাসের দল।

অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হলো ম্যাচ না খেলেই। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নামার সুযোগ না পেলেও সরাসরি সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে দলটি।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান

আগামী ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও ভারত।

তবে সেমিফাইনালের আগে বৃষ্টি নিয়ে নতুন করে চিন্তায় পড়তে পারে বাংলাদেশ দল। কারণ, পাকিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচটিও যদি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে এবার আর র‍্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা বাংলাদেশের পক্ষে যাবে না।

বৃষ্টি হলে ফাইনালের সমীকরণ কঠিন

পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে কোনো বল মাঠে না গড়ালে বা ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে পাকিস্তানই ফাইনালে উঠে যাবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে একের পর এক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশের নজর থাকবে আবহাওয়ার দিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে না খেলেই শেষ চারে পৌঁছে গেলেও ফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমে লড়াই করার সুযোগ পাওয়াটাই লিটনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

আইসিবিতে ২২ পদে চাকরি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আইসিবিতে ২২ পদে চাকরি

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসিতে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডে মোট সাত ধরনের পদে ২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

কোন পদে কত নিয়োগ

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে সিনিয়র অফিসার পদে। এ পদে পাঁচজন নেওয়া হবে। পদটির বেতন স্কেল ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা এবং গ্রেড-৯।

একই গ্রেডে অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট পদে দুজন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার পদে চারজন নিয়োগ দেওয়া হবে। উভয় পদের বেতন স্কেলও ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা।

অফিসার পদে দুজন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের গ্রেড-১০ এবং বেতন স্কেল ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর) পদে চারজন এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশিয়ার) পদে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে। দুটি পদই গ্রেড-১৬-এর। এ গ্রেডের বেতন স্কেল ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা।

এ ছাড়া অফিস সহায়ক পদে চারজন নেওয়া হবে। এ পদটি গ্রেড-২০-এর এবং বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

পদ ও বেতন স্কেল

১. সিনিয়র অফিসার
পদসংখ্যা: ৫
গ্রেড: ৯
বেতন স্কেল: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা

২. অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট
পদসংখ্যা: ২
গ্রেড: ৯
বেতন স্কেল: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা

৩. অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার
পদসংখ্যা: ৪
গ্রেড: ৯
বেতন স্কেল: ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা

৪. অফিসার
পদসংখ্যা: ২
গ্রেড: ১০
বেতন স্কেল: ১৬,০০০–৩৮,৬৪০ টাকা

৫. অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ডাটা এন্ট্রি অপারেটর)
পদসংখ্যা: ৪
গ্রেড: ১৬
বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

৬. অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশিয়ার)
পদসংখ্যা: ১
গ্রেড: ১৬
বেতন স্কেল: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা

৭. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ৪
গ্রেড: ২০
বেতন স্কেল: ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা

যেভাবে আবেদন

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসির এই নিয়োগে আবেদন করতে হবে অনলাইনে। আবেদন শুরু হবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২৬।

আবেদন ফি

পদভেদে আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ থেকে ৪ নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা। ৫ ও ৬ নম্বর পদের জন্য ফি ১০০ টাকা। আর ৭ নম্বর অর্থাৎ অফিস সহায়ক পদের জন্য আবেদন ফি ৫০ টাকা।

মোট ২২টি পদে নিয়োগের এই বিজ্ঞপ্তিতে নবম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রার্থীদের জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগ্রহীদের আবেদন করার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

কালের আলো/এসএ