খুঁজুন
                               
, ,
           

ওলিসের জাদুতে মাঠে ফিরলেন জিদান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
ওলিসের জাদুতে মাঠে ফিরলেন জিদান

অসাধারণ খেলোয়াড়দের একটি বিশেষ ক্ষমতা থাকে—তাঁদের নৈপুণ্য শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারি ও ডাগআউটেও। দর্শকদের আবেগে ভাসিয়ে দেয় তাঁদের খেলা। ব্রাসেলসে গতকাল রাতেও তেমনই এক দৃশ্যের জন্ম হলো। ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত গোলে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন ফ্রান্সের কোচ জিনেদিন জিদান যে, ডাগআউট ছেড়ে টাচলাইনের পাশে দৌড়াতে শুরু করেন তিনি।

মাঠে ছিলেন ওলিসে, ডাগআউটে জিদান। কিন্তু ৮৮ মিনিটে ওলিসের করা অসাধারণ গোলের মুহূর্তে সেই দূরত্ব যেন আর থাকল না। গোলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জিদানও হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ এক ফুটবল দর্শক।

ওলিসের দৌড়ে দৌড়ালেন জিদান

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই বদলি হিসেবে নামা ওলিসে বদলে দেন পুরো ম্যাচের চিত্র। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে মাঝমাঠ পেরিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণে ঢুকে পড়েন তিনি। পথে এক ডিফেন্ডারকে অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে বিপৎসীমায় পৌঁছে যান।

ওলিসের সেই মুভ দেখেই যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি জিদান। টাচলাইন ধরে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করেন ফ্রান্সের কোচ। ওলিসে গোল করার পরও থামেননি জিদান। উত্তেজনার মুহূর্তে সামনে থাকা একটি বলে কিকও মেরে বসেন তিনি।

ফুটবল যে কতটা আবেগের খেলা, সেই দৃশ্যই যেন তার প্রমাণ হয়ে ওঠে।

‘ওর পেছন পেছন গেলাম’

ম্যাচ শেষে নিজের এমন উদযাপনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন জিদান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরাসি কিংবদন্তি জানান, ওলিসের ড্রিবলিং দেখে তিনি মুহূর্তটির অংশ হয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

জিদানের ব্যাখ্যায়, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ওলিসে ড্রিবলিং শুরু করেছেন এবং দুর্দান্ত একটি মুভ তৈরি করেছেন। তাই নিজের অজান্তেই তাঁর পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করেন। এরপর সামনে একটি বল দেখতে পেয়ে আনন্দের বশে সেটিতে কিক মেরে দেন।

জিদানের কাছে ঘটনাটি হয়তো কিছুটা হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু সেই মুহূর্তে আবেগের কাছে যুক্তির কোনো জায়গা ছিল না।

ওলিসেকে ‘নিখাদ প্রতিভা’ বললেন জিদান

শুধু গোল বা উদযাপন নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই ওলিসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ জিদান। ফরাসি মিডফিল্ডারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, ওলিসে নিখাদ প্রতিভা। সে ফুটবল খেলতে ভালোবাসে এবং তার খেলায় সেই আবেগ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

জিদানের মতে, ওলিসে ফুটবলকে নিজের অনুভূতির সঙ্গে ধারণ করে খেলেন। এমন একজন খেলোয়াড়ের পাশে থাকতে পারাকে নিজের জন্যও আনন্দের বলে মনে করেন ফ্রান্সের কোচ।

এমবাপ্পে না থাকলেও জয় পেল ফ্রান্স

চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের একাদশেও বড় পরিবর্তন আনতে হয় জিদানকে। আগের ম্যাচের তুলনায় নয়টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ফরাসিরা।

তবু শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে কোনো গোলই যথেষ্ট ছিল—আর সেই গোল এসেছে ওলিসের পা থেকে। ৮৮ মিনিটে তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বেলজিয়ামকে ১–০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।

এই জয়ের ফলে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেলেন জিদান। ১৯৯৪ সালে আইমে জ্যাকের পর ফ্রান্সের চতুর্থ কোচ হিসেবে দায়িত্বের প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি।

জিদানের প্রথম দুই ম্যাচেই ওলিসের সরাসরি অবদান

জিদানের অধীনে ফ্রান্সের প্রথম দুই ম্যাচেই ওলিসের রয়েছে সরাসরি অবদান। আগের ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে ১–০ গোলে জয়ের ম্যাচে গোলটির উৎস ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার। আর বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবার নিজেই করলেন জয়সূচক গোল।

অর্থাৎ জিদানের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচে ফ্রান্সের দুটি গোলেই সরাসরি অবদান রয়েছে ওলিসের।

ফ্রান্সের কোনো কোচের অধীনে দায়িত্বের প্রথম দুই গোলেই এমন সরাসরি অবদান সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এরিক ক্যান্টোনার ক্ষেত্রে। ১৯৯২ সালে জেরার্ড হুলিয়ের কোচ হওয়ার পর তাঁর অধীনে ফ্রান্সের প্রথম দুই গোলেই একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন ক্যান্টোনা।

জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ওলিসে

ফ্রান্সের জার্সিতে ওলিসের দুর্দান্ত ফর্ম অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২৭ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে গোল করেছেন ৮টি এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১০টি।

অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ১৮টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তাঁর।

ফ্রান্সের হয়ে প্রথম ২৭ ম্যাচে এমন পরিসংখ্যান খুব কম খেলোয়াড়েরই ছিল। সর্বশেষ কাছাকাছি উদাহরণ খুঁজতে ফিরে যেতে হয় ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৩ সালে অভিষেকের পর প্রথম ২৭ ম্যাচে ইউরি দিয়োরকায়েফের গোল ছিল ১৪টি, সঙ্গে ছিল ৮টি অ্যাসিস্ট।

জিদানের সঙ্গে যেন পুরোনো এক মিল

দিয়োরকায়েফের সঙ্গে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জিদান। তবে ওলিসের খেলার ধরন ও পরিসংখ্যান তাঁকে আলাদা করে তুলছে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে যাওয়া, ড্রিবলিং, গতি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতায় ওলিসে ইতিমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন।

জিদানের চোখেও সেটিই ধরা পড়েছে। তাঁর মতে, ওলিসে এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি শুধু ফলের জন্য খেলেন না; নিজের খেলার মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিতে চান।

এই কথার মধ্যে যেন জিদানের নিজের ফুটবল-দর্শনেরও প্রতিফলন রয়েছে। একসময় তিনিও মাঝমাঠ থেকে ড্রিবলিং, নিয়ন্ত্রিত গতি আর অসাধারণ ফুটবলশৈলী দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। মাঠে জিদানের খেলা দেখে যেমন দর্শকেরা আবেগে ভেসেছেন, এবার সেই জিদানই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ওলিসের খেলায় সেই আবেগের স্বাদ পেলেন।

ওলিসের একটি অসাধারণ গোল তাই শুধু ফ্রান্সকে জয় এনে দেয়নি, কয়েক মুহূর্তের জন্য কিংবদন্তি জিদানকেও ফিরিয়ে নিয়েছিল তাঁর নিজের ফুটবল-দিনগুলোতে। ফুটবল যে সত্যিই সংক্রামক এক আবেগ—ব্রাসেলসের সেই রাত যেন তারই আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

কালের আলো/এসএ

এআই-সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
এআই-সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির ইস্ট পালো আল্টোতে আয়োজিত ‘সিইও অ্যান্ড সিনিয়র এক্সিকিউটিভস রাউন্ডটেবিল’ আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানান।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় এআই ও ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিজিবির হেফাজত থেকে ভারতীয় চোরাকারবারী, ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার নেপথ্যে কারা?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজিবির হেফাজত থেকে ভারতীয় চোরাকারবারী, ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার নেপথ্যে কারা?

রাঙামাটির রাজস্থলীর দমদমিয়া এলাকায় সীমান্ত চেকপোস্টে বিজিবির হেফাজত থেকে দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। একই সঙ্গে এই ঘটনাটি সামনে এনেছে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন। বিজিবির হেফাজতে থাকা বিদেশি নাগরিককে স্থানীয় পাহাড়ি গোষ্ঠী কি নিজেদের ইচ্ছামাফিক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে? কারা তাদের হেফাজত থেকে সরিয়ে নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিল? কেনই বা থানায় নেওয়ার সময় পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠল? আর ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন ছড়িয়ে পড়ল একপাক্ষিক ভিডিও ও বয়ান?

  • রাজস্থলীর ঘটনায় উত্তেজনা
  • প্রশ্ন উঠছে আটক ব্যক্তিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপাক্ষিক বয়ান ছড়ানো নিয়ে

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ৪১ বিজিবির কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের একটি চেকপোস্টে দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় প্রসাধনী, শাড়িসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্য, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধারের কথা জানানো হয়। পরে তাদের রাজস্থলী থানায় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু থানায় পৌঁছানোর আগেই তৈরি হয় চরম উত্তেজনা।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে পাহাড়ি কুচক্রী মহলের অঙ্গুলী হেলনে নারীসহ স্থানীয় কয়েকজন বিজিবির হেফাজত থেকে আটক ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্নটি সরাসরি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত—কোনো বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অধিকার কি স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রয়েছে? আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের চোরাচালানে জড়িত থাকা অথবা আটকের প্রক্রিয়ায় কোনো আইনগত ত্রুটি ছিল কি না—এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আদালত রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে, প্রশাসন রয়েছে। অভিযোগ থাকলে সেসব জায়গায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কিন্তু কোনো অভিযোগের সমাধান হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে দলবদ্ধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটিকে কোনোভাবেই সাধারণ প্রতিবাদ বলা যাবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কেউ কি নিজের হাতে বিচার বা হেফাজতের দায়িত্ব তুলে নিতে পারে? বিশেষ করে এখানে আটক ব্যক্তিরা যদি ভারতীয় চোরাকারবারী হন, তাহলে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদেশি নাগরিক বা চোরাকারবারী আটক হওয়ার ঘটনা শুধু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তাও যুক্ত। পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে—সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা আদালতের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা যেত। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা কাউকে দলবদ্ধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে সেটিও আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর বিষয়। এখানে কোনো রকম ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নতুন করে আরেক বিতর্ক তৈরি করেছে। যেখানে এই ঘটনাকে পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু ভিডিওটি ঠিক কোন মুহূর্ত থেকে শুরু হয়েছে? তার আগে কী ঘটেছিল? কারা প্রথম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল? আটক ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কেন করা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর না জেনে কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্যকে পুরো ঘটনার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক, এই প্রশ্নও মোটা দাগে সামনে এসেছে। এছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত বল প্রয়োগ পরিস্থিতির তুলনায় যথাযথ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া সম্ভব। নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেই আটক ব্যক্তিকে হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কখনও বৈধ হতে পারে না বলে একমত সবাই।

এখানে আরেকটি বিষয় বেশ প্রাসঙ্গিক। প্রতিবাদ আর হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কি এক? কেউ যদি মনে করেন দুই ভারতীয় চোরাকারবারীকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। অভিযোগ জানানোর অধিকার রয়েছে। আইনগত প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদের সীমা কোথায় শেষ এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোথা থেকে শুরু—এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আটক ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে সেটিকে নিছক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং এর সঙ্গে জড়িত স্থানীয় পাহাড়ি কুচক্রী মহলকেও সনাক্ত করতে হবে। কারণ, আজ যদি কোনো আটক ব্যক্তিকে দলবদ্ধভাবে একটি বাহিনীর হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়া স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে আগামী দিনে যেকোনো আইনগত পদক্ষেপই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।

রাজস্থলীর ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর আরও একটি হলো—ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর প্রবণতা লক্ষণীয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি খণ্ডিত ভিডিও, কয়েকটি পোস্ট কিংবা এক পক্ষের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে পুরো ঘটনাকে নিরাপত্তা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা প্রশ্নবোধক। তবে ঘটনাটির একটি দিক স্পষ্টভাবে আলোচনার দাবি রাখে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো ঘটনার আদালত নয়।

সেখানে সবচেয়ে আগে ছড়িয়ে পড়া বয়ানটিই সত্য, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছে, সেটিই আসল। কে কী বলেছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রমাণ কী বলছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সীমান্তবর্তী একটি সংবেদনশীল এলাকায় এমন ঘটনা যদি যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একপাক্ষিক বয়ান তৈরির উপকরণে পরিণত হয়, তাহলে তা স্থানীয় জনগণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারে। অতীতেও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনা জনপরিসরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটিকেও আবেগ বা পরিচয়ভিত্তিক অবস্থানের পরিবর্তে তথ্য, প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার আলোকে দেখা জরুরি।

রাজস্থলীর এই ঘটনা তাই কয়েকটি সরল প্রশ্নের মধ্যে আটকে নেই। এর পেছনে আরও বড় প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একটি ঘটনার প্রভাব ঘটনাস্থলেই থেমে থাকে না। একটি সংঘর্ষ থেকে তৈরি হতে পারে অবিশ্বাস, একটি খণ্ডিত ভিডিও থেকে তৈরি হতে পারে একপাক্ষিক জনমত, আর একটি ভুল বয়ান থেকে বাড়তে পারে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের দূরত্ব। তাই রাজস্থলীর ঘটনায় এখন সবচেয়ে প্রয়োজন কোনো পক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে দাঁড়ানো নয়; বরং পুরো ঘটনাটির প্রতিটি ধাপ খুঁজে দেখা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেমন জবাবদিহি প্রয়োজন, তেমনি তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাও কোনোভাবেই উৎসাহিত করা উচিত নয়। একটি ঘটনার আংশিক দৃশ্য দিয়ে পুরো ঘটনার বিচার না করে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, কেন উত্তেজনা সৃষ্টি হলো এবং পরবর্তীতে কীভাবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপিত হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার প্রয়োজন। সেই আস্থাকে দুর্বল করে এমন কোনো ঘটনাই—তা নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ হোক কিংবা স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া—উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

কালের আলো/এমএএএমকে

না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামতে হলো না বাংলাদেশ দলকে। বৃষ্টির কারণে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি একটি বলও মাঠে গড়ানোর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো ক্ষতি হয়নি লিটন দাসের দলের। টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিশিনো কোরোগি স্পোর্টস পার্কে হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল। আগের দিন থেকেই বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি নিয়ে শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়। টসের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।

চার কোয়ার্টার ফাইনালই বৃষ্টির কবলে

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচের পাশাপাশি আজ শ্রীলঙ্কা ও নেপালের মধ্যকার অন্য কোয়ার্টার ফাইনালটিও পরিত্যক্ত হয়েছে।

নিশিনো কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এটি ছিল টানা ষষ্ঠ ম্যাচ, যা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হলো। এর মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। সবচেয়ে হতাশার বিষয়, চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের সব কটিই বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে।

মাঠে না নেমেই শেষ চারে লিটনরা

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হলেও বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান মালয়েশিয়ার চেয়ে ভালো হওয়ায় পরিত্যক্ত ম্যাচের পর বাংলাদেশকেই বিজয়ী হিসেবে ধরা হয়েছে এবং শেষ চারে জায়গা পেয়েছে লিটন দাসের দল।

অর্থাৎ এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিযান শুরু হলো ম্যাচ না খেলেই। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে নামার সুযোগ না পেলেও সরাসরি সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে দলটি।

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান

আগামী ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। একই দিনে অন্য সেমিফাইনালে খেলবে শ্রীলঙ্কা ও ভারত।

তবে সেমিফাইনালের আগে বৃষ্টি নিয়ে নতুন করে চিন্তায় পড়তে পারে বাংলাদেশ দল। কারণ, পাকিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচটিও যদি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে এবার আর র‍্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা বাংলাদেশের পক্ষে যাবে না।

বৃষ্টি হলে ফাইনালের সমীকরণ কঠিন

পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে কোনো বল মাঠে না গড়ালে বা ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে পাকিস্তানই ফাইনালে উঠে যাবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য সেমিফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে একের পর এক ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশের নজর থাকবে আবহাওয়ার দিকে। কোয়ার্টার ফাইনালে না খেলেই শেষ চারে পৌঁছে গেলেও ফাইনালে যেতে হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমে লড়াই করার সুযোগ পাওয়াটাই লিটনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ