খুঁজুন
                               
, ,
           

হাতিরঝিল: রক্ষার প্রকল্পেই নতুন সংকট

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
হাতিরঝিল: রক্ষার প্রকল্পেই নতুন সংকট

ঢাকার জলাধার রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত পরিসর তৈরির লক্ষ্য ছিল হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের। সেই লক্ষ্যে দুই হাজার ২৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হাতিরঝিল এখন উল্টো উন্নয়ন ও দূষণের চাপে সংকুচিত ও বিপর্যস্ত। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ র‌্যাম্প নির্মাণে লেকের একাধিক অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে পিলার বসানো হচ্ছে। এর সঙ্গে আশপাশের এলাকার নালা দিয়ে নিয়মিত ঢুকছে পয়ঃবর্জ্য ও নোংরা পানি।

  • একদিকে এক্সপ্রেসওয়ের পিলার, অন্যদিকে পয়ঃবর্জ্য
  • জলাধার রক্ষায় ব্যয়ের পরও ফিরছে পুরোনো সংকট
  • নতুন করে লেক ভরাট করে চলছে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ
  • দূষণের উৎস বন্ধ হয়নি, সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন

ফলে কোথাও থমকে যাচ্ছে পানিপ্রবাহ, কোথাও জমে থাকছে দূষিত পানি। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, কালচে হচ্ছে পানি, ঘটছে মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনাও। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশে। পাঁচতারকা হোটেলটির পাশের ঝিলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানি ও বর্জ্যের দুর্গন্ধ এখন হাতিরঝিলের পরিবেশগত সংকটের স্পষ্ট চিত্র হয়ে উঠেছে।

এক লেক, দুই সরকারি প্রকল্প
হাতিরঝিলের সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। জলাধার সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরবাসীর জন্য একটি নান্দনিক ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি ছিল প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। অথচ সেই জলাধারেরই অংশ এখন আরেক সরকারি মেগাপ্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সোনারগাঁও লিংক র‌্যাম্পের জন্য হাতিরঝিলের ইস্কাটন অংশে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। কারওয়ানবাজারের রেললাইন থেকে ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনের গেট পর্যন্ত অংশে পাইলিং চলছে। সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশেও বসানো হয়েছে পিলার।

মগবাজার অংশে কুতুবখালীমুখী লাইনের জন্যও ভরাট করা হয়েছে লেকের জায়গা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকটি পিলার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। দুই পিলারের মধ্যে গার্ডার বসিয়ে সংযোগ তৈরির কাজও এগিয়েছে।

নকশায় ছিল না হাতিরঝিল
বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের চুক্তি হয় ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়। তবে মূল পরিকল্পনায় হাতিরঝিলের ওপর দিয়ে সংযোগ র‌্যাম্পের ব্যবস্থা ছিল না। পরে এই অংশ প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর থেকে বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট ও হাতিরঝিলের বিএফডিসি পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে।

প্রকল্পের কুতুবখালী পর্যন্ত অংশের কাজও চলছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রকল্পের অগ্রগতি এখন প্রায় ৭৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে রাজউকের সঙ্গে আলোচনার পর হাতিরঝিলে ৪০৭ থেকে ৪১৮ নম্বর পিয়ারের পাইল ড্রাইভিং শুরু হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০টি পিলার বসানো হয়েছে। আরও ২১টি পিলার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আপত্তি ছিল রাজউকের
হাতিরঝিলে পিলার বসানোর বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। ২০২৩ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সমন্বয় কমিটির সভায় রাজউক জানিয়েছিল, ৪১টি পিলার হাতিরঝিলের সৌন্দর্য ও জলাধারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। সংস্থাটি বিকল্প রুট বিবেচনার পরামর্শও দিয়েছিল। রাজউকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পিলার নির্মাণের জন্য মৌখিকভাবে ছয় মাসের অনুমতি দেওয়া হলেও লেক ভরাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই কিংবা নকশা করার পর্যায়েও রাজউককে জানানো হয়নি। সবকিছু চূড়ান্ত করার পর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পিলার না বসানোর চেষ্টা করা হলেও বৃহৎ সরকারি পরিকল্পনার বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত অনুমতি দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘কাজ শেষে আগের অবস্থায়’
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা বলেন, উন্নয়নকাজের জন্য হাতিরঝিলের কিছু অংশ ভরাট করা হয়েছে। কাজ শেষে লেকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ শুধু ভরাট করা জায়গা পরে পুনরুদ্ধার করা হবে কি না, তা নিয়ে নয়। তাদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজের সময় ও পরবর্তী সময়ে পিলারের অবস্থান এবং স্থাপনার কারণে লেকের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জলাধারের পরিবেশগত ভারসাম্যে।

এরই মধ্যে সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশে সেই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে দূষিত পানি আটকে থাকছে। কয়েক বছর আগে ওই অংশে শত শত মাছ মরে ভেসে ওঠে। পরে রাজউকের কর্মীরা মৃত মাছ সরিয়ে মাটিচাপা দেন। পরিবেশবাদীদের মতে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং বর্জ্য জমে থাকাই ওই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

নালায় নালায় বর্জ্য, ঝিলে কালো পানি
তবে হাতিরঝিলের দুরবস্থার দায় কেবল এক্সপ্রেসওয়ের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। লেকের দূষণের আরেক বড় উৎস আশপাশের এলাকার পয়ঃবর্জ্য। পান্থপথ, তেজগাঁও, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার নালা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার মাধ্যমে নোংরা পানি ও পয়ঃবর্জ্য হাতিরঝিলে ঢুকছে। এর সঙ্গে মিশছে পচা আবর্জনা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রবাহের কারণে লেকের পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।

ফলে পানি কালচে হয়ে যাচ্ছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। নগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি পাঁচতারকা হোটেলের পেছনে জলাধারের এমন অবস্থা হাতিরঝিলের ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

৪৮ কোটি টাকার শোধনেও সমাধান নেই
হাতিরঝিলের দূষিত পানি শোধনে সরকার অর্থও ব্যয় করেছে। ২০১৮ সালে ‘হাতিরঝিল লেকের দূষিত পানি পরিশোধন’ প্রকল্পে ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় রাজউক।

বিভিন্ন সময়ে লেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও হয়েছে। কিন্তু দূষণের উৎস বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি বারবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। একদিকে পানি শোধন করা হয়েছে, অন্যদিকে ছোট ছোট নালা দিয়ে আবার ঢুকেছে স্যুয়ারেজের পানি ও বর্জ্য।এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পানি শোধনের উদ্যোগ স্থায়ী সুফল দিতে পারেনি।

মূল সংকট ব্যবস্থাপনায়
হাতিরঝিলের বর্তমান পরিস্থিতি আসলে দুটি সমস্যার যোগফল—উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জলাধারের অংশ ব্যবহার এবং নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা। একদিকে লেকের ভেতরে পিলার বসছে, অন্যদিকে বাইরে থেকে বর্জ্য ঢুকছে। মাঝখানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক চলাচল। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, লেকের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ঠিক রাখতেও কাজ চলছে। ঢাকার খাল ও লেক নিয়ে একাধিক কমিটি করা হয়েছে এবং উন্নয়নে কয়েকটি কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন।

তবে হাতিরঝিলের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, শুধু পরিষ্কার করা বা সৌন্দর্যায়ন দিয়ে জলাধার রক্ষা সম্ভব নয়। দূষণের উৎস বন্ধ করা, পানিপ্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখা এবং অবকাঠামো নির্মাণের আগে জলাধারের পরিবেশগত সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ। দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে যে হাতিরঝিলকে ঢাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, সেই জলাধার এখন উন্নয়ন ও দূষণের দ্বৈত চাপে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একটি সরকারি প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে গিয়ে আরেক সরকারি প্রকল্পের পরিবেশগত উদ্দেশ্য কতটা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে? আর জলাধার রক্ষার নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর সেই জলাধারকেই যদি বারবার নতুন চাপের মুখে পড়তে হয়, তাহলে ঢাকার টেকসই নগর পরিকল্পনার হিসাবটি কোথায়?

কালের আলো/এএইচ/এমকে

পদক তালিকায় চীন শীর্ষে, নিচের দিকে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
পদক তালিকায় চীন শীর্ষে, নিচের দিকে বাংলাদেশ

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের মাঠের লড়াই জমে উঠেছে। এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে বরাবরের মতোই পদক তালিকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে চীন। স্বর্ণপদকের সংখ্যায় অন্য দেশগুলোর তুলনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দেশটি। অন্যদিকে বাংলাদেশের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত রয়েছে একটি ব্রোঞ্জ পদক।

২৮ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ প্রকাশিত পদক তালিকা অনুযায়ী, চীন ১৩২টি স্বর্ণ, ৫৩টি রৌপ্য ও ৪৫টি ব্রোঞ্জসহ মোট ২৩০টি পদক নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। স্বাগতিক জাপান ৪১টি স্বর্ণ, ৬৮টি রৌপ্য ও ৬৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৭২টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। দক্ষিণ কোরিয়া ২১টি স্বর্ণ, ২৬টি রৌপ্য ও ৪৩টি ব্রোঞ্জসহ ৯০টি পদক নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

চীনের একক আধিপত্য

এশিয়ান গেমসে চীনের শক্তিশালী অবস্থান এবারও স্পষ্ট। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে স্বর্ণপদকের তালিকায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে দেশটি। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের স্বর্ণের সংখ্যা ১৩২, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের ৪১টি স্বর্ণের তিন গুণেরও বেশি।

জাপান স্বাগতিক হিসেবে ১৭২টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও স্বর্ণের সংখ্যায় চীনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। দক্ষিণ কোরিয়াও ৯০টি পদক নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ভারতের অবস্থান

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। ২৯ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, ভারত পাঁচটি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য ও ২১টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৭টি পদক অর্জন করেছে। পদক এসেছে কাবাডি, শুটিং, ক্রিকেট, কুরাশ, ভারোত্তোলন, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে।

বাংলাদেশের ঝুলিতে এক ব্রোঞ্জ

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। ফলে পদক তালিকার নিচের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

তবে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামনে আরও পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ সরাসরি সেমিফাইনালে উঠেছে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

জমে উঠেছে শেষ পর্বের লড়াই

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে শেষ কয়েক দিনে অ্যাথলেটিকস, শুটিং, বক্সিং, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ইভেন্টে আরও পদক নির্ধারিত হবে।

চীনের শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানও নজরে রয়েছে। আর বাংলাদেশের জন্য সামনে রয়েছে ক্রিকেটসহ কয়েকটি ইভেন্টে পদক জয়ের সুযোগ। ফলে আসর শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের পদকসংখ্যা আরও বাড়ে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশে প্রস্তুত আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশে প্রস্তুত আইসিসি

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরুর এক বছর আগে পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। আগামী বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি উন্মোচন করা হবে।

শুধু সূচি প্রকাশ নয়, একই দিন থেকে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর টিকিট কেনার জন্য ব্যালট ও নাম নিবন্ধনের প্রক্রিয়াও শুরু হবে। ফলে সূচি প্রকাশের দিনটিকে ঘিরে এরই মধ্যে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

২ অক্টোবর শুরু, ফাইনাল ২১ নভেম্বর

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিনে মাঠে গড়াতে পারে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। প্রায় দেড় মাসের লড়াই শেষে ২১ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে টুর্নামেন্টের দ্বাদশ আসর।

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ম্যাচ। তিন দেশই যৌথভাবে আয়োজন করবে বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিকেট আসরটি।

১৪ দলের মধ্যে ১০ দল চূড়ান্ত

২০২৭ বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ১৪টি দল। এর মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ১০টি দলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার কথা।

স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে। অন্য সহ-আয়োজক নামিবিয়ার অংশগ্রহণ অবশ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

স্বাগতিক কোটার বাইরে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পাবে। বাকি চার দলকে বাছাইপর্বের কঠিন পথ পেরিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নিতে হবে।

সরাসরি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সুযোগ

বর্তমানে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে নবম অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশের সামনে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা র‌্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একটি জায়গা দখল করলেও তারা স্বাগতিক কোটায় মূল পর্বে জায়গা পেয়েছে।

ফলে র‌্যাংকিংয়ের নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার পথ খুলে গেছে। নাজমুল হোসেন শান্তদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।

অন্যদিকে, বর্তমানে ভারতের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে বাছাইপর্বের বাধা পেরোতে হবে।

কীভাবে হবে বিশ্বকাপের লড়াই

২০২৭ বিশ্বকাপের মূল প্রতিযোগিতাকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের আগে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে র‌্যাংকিংয়ের নিচের দিকে থাকা তিন দলকে নিয়ে আয়োজন করা হবে একটি ‘সুপার সিরিজ’। রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এই পর্ব থেকে শুধু পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১২টি দল নিয়ে শুরু হবে মূল লড়াই। দলগুলো দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। এই পর্বে মোট ৩০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

‘সুপার সেভেন’ নির্ধারণ করবে শেষ চার

দুই গ্রুপের সেরা তিনটি করে মোট ছয়টি দল পরের ধাপে যাবে। এর সঙ্গে দুই গ্রুপের পরবর্তী সেরা দলগুলোর মধ্যে সামগ্রিকভাবে সপ্তম অবস্থানে থাকা একটি দল যুক্ত হয়ে গঠন করবে ‘সুপার সেভেন’।

এই পর্বে সাতটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২১টি ম্যাচ।

সুপার সেভেন পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চার দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে।

২১ নভেম্বর ফাইনাল

সেমিফাইনালে পয়েন্ট টেবিলের প্রথম স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের। অন্য সেমিফাইনালে লড়বে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের দল।

দুটি সেমিফাইনালের বিজয়ী দল ২১ নভেম্বর মুখোমুখি হবে শিরোপার লড়াইয়ে। সেদিনই নির্ধারিত হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন।

সূচি প্রকাশের মধ্য দিয়ে তাই বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। আর ১ অক্টোবর কেপটাউনের অনুষ্ঠানেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কোন দল কোন গ্রুপে, কোন ভেন্যুতে এবং কখন নিজেদের ম্যাচ খেলবে।

কালের আলো/এসএ

‘অর্ধশতাধিক’ ককটেল বিস্ফোরণ আতঙ্ক পদ্মার চরে 

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
‘অর্ধশতাধিক’ ককটেল বিস্ফোরণ আতঙ্ক পদ্মার চরে 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে বিকট শব্দে ‘অর্ধশতাধিক’ ককটেল বিস্ফোরণে ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। এতে দুর্গম চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

স্থানীয়দের দাবি, অন্তত অর্ধশতাধিক ককটেল বা হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে বাড়িটির দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

‎সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটিতে বিপুল সংখ্যক ককটেল মজুদ ছিল।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের ইউনূস আলীর ছেলে ইয়াহিয়ার বাড়িতে এসব ককটেল রাখা হয়েছিল।

বিস্ফোরণের পর বাড়িটির একটি দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে এতে কোনো আগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
‎ঘটনার পর বিস্ফোরণের কারণ ও ককটেল মজুদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

‎তবে বিস্ফোরিত ককটেলের সংখ্যা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের কথা বললেও, ঠিক কতটি বিস্ফোরিত হয়েছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ, বিজিবি কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা। ফলে ককটেলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার উদ্দেশে এসব ককটেল মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে। অপর একটি সূত্রের দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে সরবরাহের জন্য এসব ককটেল মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবিগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলগুলো কারা, কেন এবং কীভাবে সেখানে মজুদ করেছিল তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।

৫৩ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বিজিবি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

তিনি জানান, জহুরপুর ক্যাম্প থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নরোশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি