খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর নিয়ে এখনো ইতিবাচক দিল্লি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর নিয়ে এখনো ইতিবাচক দিল্লি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দিল্লির অবস্থান এখনো ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠক উভয় পক্ষের জন্য সুবিধাজনক সময়ে হবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

আমন্ত্রণ এখনো উন্মুক্ত

এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দিনেশ ত্রিবেদী। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আমন্ত্রণ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।

দিনেশ ত্রিবেদী জানান, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো দেখছেন না তিনি। উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক সময়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরেও ভারতীয় হাইকমিশনার তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে সফরটি হতে পারে।

বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা হয়নি বলে জানান দিনেশ ত্রিবেদী। তবে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশন (ইউএনজিএ) নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতমুখী ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিকভাবে কাজ করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার রয়েছে।

এর আগে ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরও দিনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছিলেন, ভারতীয় পক্ষ তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় রয়েছে এবং দুই দেশের নেতাদের বৈঠক হলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

নিরাপত্তা পরীক্ষায় ব্যর্থ, নতুন এআই মডেলের মুক্তি স্থগিত করল ওপেনএআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তা পরীক্ষায় ব্যর্থ,  নতুন এআই মডেলের মুক্তি স্থগিত করল ওপেনএআই

নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর নির্দেশনা মেনে চলার পরীক্ষায় প্রত্যাশিত মান পূরণ করতে না পারায় নিজেদের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল ‘GPT-6.1 Astra’ প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেনএআই। অক্টোবর মাসে মডেলটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট-সংক্রান্ত কিছু দুর্বলতা ধরা পড়ার পর সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

ওপেনএআইয়ের সেফটি সিস্টেম বিভাগের প্রধান সাচি জৈন জানিয়েছেন, GPT-6.1 Astra আগের সংস্করণের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি করলেও ব্যবহারকারীর অনুমোদনের সীমার মধ্যে থাকা এবং মডেলটি কী ধরনের কাজ করেছে তা সঠিকভাবে জানাতে গিয়ে প্রত্যাশিত মান পূরণ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের কাছে নিরাপদ প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে মডেল প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখাই তাদের অগ্রাধিকার।

অনুমোদনের সীমা মানতে সমস্যা

GPT-6.1 Astra মূলত আরও জটিল কাজ মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই সম্পন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি ChatGPT ও কোডিং প্ল্যাটফর্ম Codex-এ ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

তবে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় দেখা যায়, কিছু পরিস্থিতিতে মডেলটি ব্যবহারকারীর নির্ধারিত কাজের সীমার বাইরে যাওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে। কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়েই কোনো কাজ এগিয়ে নেওয়া বা বাহ্যিক টুল ও সেবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করার মতো আচরণও পরীক্ষায় ধরা পড়ে।

এ ছাড়া মডেলটি কোনো কাজ করার পর সেটি কী করেছে বা করেনি—সে বিষয়ে ব্যবহারকারীকে সব সময় নির্ভুল তথ্য জানাতে পারেনি। নিরাপত্তা পরীক্ষায় এ ধরনের আচরণকে গুরুতর অ্যালাইনমেন্ট সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগের মডেলের তুলনায় ‘ডিসেপশন’ বেড়েছে

অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার আরেকটি উদ্বেগের বিষয় ছিল মডেলটির ‘ডিসেপশন’ বা প্রতারণামূলক আচরণের মাত্রা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু পরীক্ষায় GPT-6.1 Astra নিজের সম্পাদিত কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যবহারকারীর কাছে পুরোপুরি স্বচ্ছ ছিল না।

অর্থাৎ, কোনো কাজ করার পর সেটি কীভাবে কাজটি সম্পন্ন করেছে কিংবা আদৌ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সব সময় সঠিকভাবে তথ্য প্রকাশ করেনি মডেলটি। এর পাশাপাশি মানুষের দেওয়া নির্দেশনা ও অনুমোদনের সীমা যথাযথভাবে অনুসরণ করার পরীক্ষাতেও এটি প্রত্যাশিত ফল দেখাতে পারেনি।

‘নিরাপত্তার মানদণ্ড খুব কঠোর’

ওপেনএআইয়ের সেফটি সিস্টেম বিভাগের প্রধান সাচি জৈনের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মডেলকে শুধু বেশি সক্ষম হলেই হবে না; সেটিকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি জানান, GPT-6.1 Astra কাজের ক্ষেত্রে কিছু উন্নতি করলেও নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্টের নির্দিষ্ট পরীক্ষায় আগের সংস্করণের তুলনায় পিছিয়ে ছিল। ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য মডেলটি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত উচ্চ মানদণ্ড পূরণ হয়নি।

এআই নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

GPT-6.1 Astra-এর প্রকাশ আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

ওপেনএআই সম্প্রতি জানিয়েছে, তাদের কিছু পরীক্ষামূলক এআই সিস্টেম নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সিস্টেমে প্রবেশের মতো আচরণ করেছে। এসব ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

একই সময়ে Anthropic-এর প্রধান দারিও আমোদিসহ প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন নেতা অত্যন্ত সক্ষম এআই মডেলের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

নতুন মডেলের বদলে নিরাপত্তায় জোর

GPT-6.1 Astra প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের পর ওপেনএআইয়ের সামনে এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মডেলটির নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট ব্যবস্থা আরও উন্নত করা।

প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট, নতুন মডেল কতটা শক্তিশালী বা জটিল কাজ করতে পারে—তার পাশাপাশি সেটি ব্যবহারকারীর নির্দেশনা কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে অনুসরণ করে, অনুমোদনের সীমা মেনে চলে এবং নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কতটা স্বচ্ছ থাকে—এসব বিষয়ও প্রকাশের আগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফলে পরিকল্পিত সময়ের আগে নতুন মডেল বাজারে না এনে নিরাপত্তা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে GPT-6.1 Astra আটকে দিয়েছে ওপেনএআই। এ সিদ্ধান্ত এআই খাতে ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার সঙ্গে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, সেটিও সামনে এনেছে।

কালের আলো/এসএ

একটি রাজনৈতিক দল পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা :মীর শাহে আলম

রংপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
একটি রাজনৈতিক দল পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা :মীর শাহে আলম

একটি রাজনৈতিক দল বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের অপতৎপরতাই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং সরকার নিজস্ব গতিতেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

‘পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা’

মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সমর্থন না দিয়ে একটি পক্ষ দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অপতৎপরতাই কাজে আসবে না। সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।’

ধর্মীয় খাত নিয়ে মন্তব্য

একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছে। কিন্তু মসজিদ, মাদ্রাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের নিয়ে তারা চিন্তা করেনি বলে দাবি করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, এসব বিষয় নিয়ে চিন্তা করেছেন তারেক রহমান।

আবু সাঈদের কবর ও বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধনে অর্থ বরাদ্দ

এ সময় শহীদ আবু সাঈদের কবর ও বাড়ির সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।

কবর জিয়ারতকালে জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া রংপুরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মীর শাহে আলমের।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

হাতিরঝিল: রক্ষার প্রকল্পেই নতুন সংকট

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
হাতিরঝিল: রক্ষার প্রকল্পেই নতুন সংকট

ঢাকার জলাধার রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত পরিসর তৈরির লক্ষ্য ছিল হাতিরঝিল উন্নয়ন প্রকল্পের। সেই লক্ষ্যে দুই হাজার ২৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হাতিরঝিল এখন উল্টো উন্নয়ন ও দূষণের চাপে সংকুচিত ও বিপর্যস্ত। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ র‌্যাম্প নির্মাণে লেকের একাধিক অংশ বালু দিয়ে ভরাট করে পিলার বসানো হচ্ছে। এর সঙ্গে আশপাশের এলাকার নালা দিয়ে নিয়মিত ঢুকছে পয়ঃবর্জ্য ও নোংরা পানি।

  • একদিকে এক্সপ্রেসওয়ের পিলার, অন্যদিকে পয়ঃবর্জ্য
  • জলাধার রক্ষায় ব্যয়ের পরও ফিরছে পুরোনো সংকট
  • নতুন করে লেক ভরাট করে চলছে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ
  • দূষণের উৎস বন্ধ হয়নি, সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন

ফলে কোথাও থমকে যাচ্ছে পানিপ্রবাহ, কোথাও জমে থাকছে দূষিত পানি। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, কালচে হচ্ছে পানি, ঘটছে মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনাও। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশে। পাঁচতারকা হোটেলটির পাশের ঝিলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নোংরা পানি ও বর্জ্যের দুর্গন্ধ এখন হাতিরঝিলের পরিবেশগত সংকটের স্পষ্ট চিত্র হয়ে উঠেছে।

এক লেক, দুই সরকারি প্রকল্প
হাতিরঝিলের সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা। জলাধার সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরবাসীর জন্য একটি নান্দনিক ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি ছিল প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। অথচ সেই জলাধারেরই অংশ এখন আরেক সরকারি মেগাপ্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সোনারগাঁও লিংক র‌্যাম্পের জন্য হাতিরঝিলের ইস্কাটন অংশে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। কারওয়ানবাজারের রেললাইন থেকে ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনের গেট পর্যন্ত অংশে পাইলিং চলছে। সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশেও বসানো হয়েছে পিলার।

মগবাজার অংশে কুতুবখালীমুখী লাইনের জন্যও ভরাট করা হয়েছে লেকের জায়গা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকটি পিলার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। দুই পিলারের মধ্যে গার্ডার বসিয়ে সংযোগ তৈরির কাজও এগিয়েছে।

নকশায় ছিল না হাতিরঝিল
বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের চুক্তি হয় ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়। তবে মূল পরিকল্পনায় হাতিরঝিলের ওপর দিয়ে সংযোগ র‌্যাম্পের ব্যবস্থা ছিল না। পরে এই অংশ প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর থেকে বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট ও হাতিরঝিলের বিএফডিসি পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে।

প্রকল্পের কুতুবখালী পর্যন্ত অংশের কাজও চলছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রকল্পের অগ্রগতি এখন প্রায় ৭৭ শতাংশ। ২০২৩ সালে রাজউকের সঙ্গে আলোচনার পর হাতিরঝিলে ৪০৭ থেকে ৪১৮ নম্বর পিয়ারের পাইল ড্রাইভিং শুরু হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০টি পিলার বসানো হয়েছে। আরও ২১টি পিলার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আপত্তি ছিল রাজউকের
হাতিরঝিলে পিলার বসানোর বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। ২০২৩ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সমন্বয় কমিটির সভায় রাজউক জানিয়েছিল, ৪১টি পিলার হাতিরঝিলের সৌন্দর্য ও জলাধারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। সংস্থাটি বিকল্প রুট বিবেচনার পরামর্শও দিয়েছিল। রাজউকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পিলার নির্মাণের জন্য মৌখিকভাবে ছয় মাসের অনুমতি দেওয়া হলেও লেক ভরাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই কিংবা নকশা করার পর্যায়েও রাজউককে জানানো হয়নি। সবকিছু চূড়ান্ত করার পর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় পিলার না বসানোর চেষ্টা করা হলেও বৃহৎ সরকারি পরিকল্পনার বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত অনুমতি দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘কাজ শেষে আগের অবস্থায়’
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা বলেন, উন্নয়নকাজের জন্য হাতিরঝিলের কিছু অংশ ভরাট করা হয়েছে। কাজ শেষে লেকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ শুধু ভরাট করা জায়গা পরে পুনরুদ্ধার করা হবে কি না, তা নিয়ে নয়। তাদের আশঙ্কা, নির্মাণকাজের সময় ও পরবর্তী সময়ে পিলারের অবস্থান এবং স্থাপনার কারণে লেকের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জলাধারের পরিবেশগত ভারসাম্যে।

এরই মধ্যে সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশে সেই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে দূষিত পানি আটকে থাকছে। কয়েক বছর আগে ওই অংশে শত শত মাছ মরে ভেসে ওঠে। পরে রাজউকের কর্মীরা মৃত মাছ সরিয়ে মাটিচাপা দেন। পরিবেশবাদীদের মতে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া এবং বর্জ্য জমে থাকাই ওই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

নালায় নালায় বর্জ্য, ঝিলে কালো পানি
তবে হাতিরঝিলের দুরবস্থার দায় কেবল এক্সপ্রেসওয়ের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। লেকের দূষণের আরেক বড় উৎস আশপাশের এলাকার পয়ঃবর্জ্য। পান্থপথ, তেজগাঁও, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার নালা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার মাধ্যমে নোংরা পানি ও পয়ঃবর্জ্য হাতিরঝিলে ঢুকছে। এর সঙ্গে মিশছে পচা আবর্জনা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রবাহের কারণে লেকের পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।

ফলে পানি কালচে হয়ে যাচ্ছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। নগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি পাঁচতারকা হোটেলের পেছনে জলাধারের এমন অবস্থা হাতিরঝিলের ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

৪৮ কোটি টাকার শোধনেও সমাধান নেই
হাতিরঝিলের দূষিত পানি শোধনে সরকার অর্থও ব্যয় করেছে। ২০১৮ সালে ‘হাতিরঝিল লেকের দূষিত পানি পরিশোধন’ প্রকল্পে ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় রাজউক।

বিভিন্ন সময়ে লেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও হয়েছে। কিন্তু দূষণের উৎস বন্ধ না হওয়ায় পরিস্থিতি বারবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। একদিকে পানি শোধন করা হয়েছে, অন্যদিকে ছোট ছোট নালা দিয়ে আবার ঢুকেছে স্যুয়ারেজের পানি ও বর্জ্য।এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পানি শোধনের উদ্যোগ স্থায়ী সুফল দিতে পারেনি।

মূল সংকট ব্যবস্থাপনায়
হাতিরঝিলের বর্তমান পরিস্থিতি আসলে দুটি সমস্যার যোগফল—উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জলাধারের অংশ ব্যবহার এবং নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা। একদিকে লেকের ভেতরে পিলার বসছে, অন্যদিকে বাইরে থেকে বর্জ্য ঢুকছে। মাঝখানে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক চলাচল। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, লেকের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ঠিক রাখতেও কাজ চলছে। ঢাকার খাল ও লেক নিয়ে একাধিক কমিটি করা হয়েছে এবং উন্নয়নে কয়েকটি কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন।

তবে হাতিরঝিলের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, শুধু পরিষ্কার করা বা সৌন্দর্যায়ন দিয়ে জলাধার রক্ষা সম্ভব নয়। দূষণের উৎস বন্ধ করা, পানিপ্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখা এবং অবকাঠামো নির্মাণের আগে জলাধারের পরিবেশগত সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ। দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে যে হাতিরঝিলকে ঢাকার পরিবেশ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, সেই জলাধার এখন উন্নয়ন ও দূষণের দ্বৈত চাপে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একটি সরকারি প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে গিয়ে আরেক সরকারি প্রকল্পের পরিবেশগত উদ্দেশ্য কতটা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে? আর জলাধার রক্ষার নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর সেই জলাধারকেই যদি বারবার নতুন চাপের মুখে পড়তে হয়, তাহলে ঢাকার টেকসই নগর পরিকল্পনার হিসাবটি কোথায়?

কালের আলো/এএইচ/এমকে