১১১ বছর পর ইতালির একাদশে দুই ভাই
দীর্ঘ ১১১ বছর পর ইতালির জাতীয় দলের শুরুর একাদশে একসঙ্গে মাঠে নামলেন দুই ভাই। উয়েফা নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে পিও এস্পোসিতো ও সেবাস্তিয়ানো এস্পোসিতোকে একাদশে রেখে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিল ইতালি। তাদের হাত ধরে এস্পোসিতো পরিবারও গড়েছে জাতীয় দলের ফুটবল ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি।
শতবর্ষ পর একই একাদশে দুই ভাই
তুরস্কের বিপক্ষে ইতালির ৪-১ ব্যবধানের জয়ে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন পিও ও সেবাস্তিয়ানো। এর আগে সর্বশেষ ১৯১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ইতালির হয়ে একই সঙ্গে শুরুর একাদশে খেলেছিলেন আলদো চেভেনিনি ও লুইজি চেভেনিনি।
এরপর পেরিয়ে গেছে এক শতকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে ইতালির জাতীয় দলের জার্সিতে অনেক ভাই খেলেছেন, কিন্তু দুই ভাইকে একসঙ্গে শুরুর একাদশে দেখা যায়নি।
২০০০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিলিপ্পো ইনজাঘি ও সিমোনে ইনজাঘি একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন। তবে তারা শুরু থেকে খেলেননি; ম্যাচের শেষ দিকে মাত্র ১১ মিনিটের জন্য দুজন একসঙ্গে মাঠে ছিলেন।
তিন ভাইয়ের বিরল কীর্তি এস্পোসিতোদের
তবে চেভেনিনি ও ইনজাঘিদের ছাড়িয়ে আরও বড় কীর্তি গড়েছে এস্পোসিতো পরিবার। ইতালির সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন পরিবারের তিন ভাই—সালভাতোর, সেবাস্তিয়ানো ও পিও এস্পোসিতো।
বড় ভাই সালভাতোর এস্পোসিতো ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইতালির জাতীয় দলে অভিষেক করেন। এরপর জাতীয় দলের নীল জার্সিতে নাম লেখান তার দুই ছোট ভাই সেবাস্তিয়ানো ও পিও।
ফলে ইতালির ফুটবল ইতিহাসে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের জাতীয় দলে খেলার বিরল কীর্তি এখন এস্পোসিতোদের দখলে। আর তুরস্কের বিপক্ষে পিও ও সেবাস্তিয়ানোর একসঙ্গে শুরুর একাদশে মাঠে নামা সেই ইতিহাসকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
তুরস্ককে উড়িয়ে স্বস্তিতে ইতালি
দুই ভাইয়ের ইতিহাসের রাতটি আরও স্মরণীয় হয়েছে ইতালির বড় জয়ে। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আজ্জুরিরা।
প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ইতালি। আলেসান্দ্রো বাস্তোনি ও দাভিদে ফ্রাত্তেসির পর অভিষিক্ত মাইকেল কায়ো গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
বিরতির পর ফিরতি বলে নিখুঁত হেডে ইতালির চতুর্থ গোলটি করেন পিও এস্পোসিতো। ফলে নিজের ভাইয়ের সঙ্গে ইতিহাস গড়ার রাতেই গোলের খাতাতেও নাম লেখান তিনি।
২০১৯ সালের পর বড় অ্যাওয়ে জয়
তুরস্কের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়টি ইতালির জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম দেশের বাইরে কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জয় পেল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফলে এস্পোসিতো ভাইদের ঐতিহাসিক উপস্থিতি, পিওর গোল এবং দলের বড় জয়—সব মিলিয়ে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচটি ইতালির ফুটবল ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিল।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array