‘অর্ধশতাধিক’ ককটেল বিস্ফোরণ আতঙ্ক পদ্মার চরে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের একটি বাড়িতে বিকট শব্দে ‘অর্ধশতাধিক’ ককটেল বিস্ফোরণে ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে। এতে দুর্গম চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
স্থানীয়দের দাবি, অন্তত অর্ধশতাধিক ককটেল বা হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে বাড়িটির দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, বাড়িটিতে বিপুল সংখ্যক ককটেল মজুদ ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহুরপুর নরোশিয়া গ্রামের ইউনূস আলীর ছেলে ইয়াহিয়ার বাড়িতে এসব ককটেল রাখা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের পর বাড়িটির একটি দেয়ালসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে এতে কোনো আগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পর বিস্ফোরণের কারণ ও ককটেল মজুদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে বিস্ফোরিত ককটেলের সংখ্যা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের কথা বললেও, ঠিক কতটি বিস্ফোরিত হয়েছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ, বিজিবি কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা। ফলে ককটেলের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতার উদ্দেশে এসব ককটেল মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে। অপর একটি সূত্রের দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে সরবরাহের জন্য এসব ককটেল মজুদ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবিগুলোর সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলগুলো কারা, কেন এবং কীভাবে সেখানে মজুদ করেছিল তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে।
৫৩ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বিজিবি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
তিনি জানান, জহুরপুর ক্যাম্প থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নরোশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array