খুঁজুন
                               
, ,
           

সব খাতের শ্রমিকের জন্য কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা স্কিম চায় বিলস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
সব খাতের শ্রমিকের জন্য কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা স্কিম চায় বিলস

দেশের তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি সব খাতের শ্রমিকের জন্য অ্যামপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদেরও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) আয়োজিত এক মিডিয়া ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। ইআইএস পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইআইএস পাইলট প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত ২৪৮টি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে ১৬১ জন নিহত শ্রমিকের উত্তরাধিকারী এবং ৮৭ জন স্থায়ীভাবে অক্ষম শ্রমিককে মোট ৪ কোটি ২৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭১ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।

রানা প্লাজা ও তাজরিন দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ইআইএস প্রকল্পটি বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে পাইলট হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কর্মক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে একটি পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। তাই শ্রমিক ও তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

আইএলও-ইআইএসের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ সাদ হুসাইন গিলানী জানান, প্রকল্পের আওতায় শ্রমিক ও তাদের পরিবার তিন ধরনের সুবিধা পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মজুরির ৫০ শতাংশ হারে আর্থিক সহায়তা, অক্ষম শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তা।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, ২০২২ সালে প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকার, মালিকপক্ষ ও আইএলওর যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করেন তিনি।

স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী এএএম ফয়েজ হোসেন বলেন, পাইলট প্রকল্পটি শুরুতে শুধু তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ছিল। এখন দেশের সব খাতের শ্রমিককে এর আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ডিসি পদে রদবদল, চার জেলায় নতুন নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
ডিসি পদে রদবদল, চার জেলায় নতুন নিয়োগ

জনপ্রশাসনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার। চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি তিন জেলা প্রশাসককে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নীলফামারীর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. হুমায়ূন কবির।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক করা হয়েছে একই বিভাগের উপসচিব চৌধুরী আশরাফুল করিমকে। পিরোজপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।

এদিকে পিরোজপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক আবু সাঈদকে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নীলফামারীর ডিসি মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, টাঙ্গাইলের ডিসি শরীফা হককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং পটুয়াখালীর ডিসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় এই তিন কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাধারণত উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ইতিহাস বলে, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টের ফেরার সুযোগ নেই: আমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
ইতিহাস বলে, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টের ফেরার সুযোগ নেই: আমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, ইতিহাস বলে কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আর ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে’ এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টরা এখন বিভিন্ন ধরনের হুংকার দিচ্ছে এবং দেশে ফেরার কথা বলছে। পলাতক নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকটে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল। জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে জনগণের নিরাপত্তা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছেন। পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকার জনগণের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করছে দাবি করে আমান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মতো এখনো দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান আমান।

বিএনপির নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করতে না পারে এবং পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফুসহ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

শরিয়াহসম্মত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা চালুর লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মদ, জুয়া, নাইটক্লাবসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ (আইবিআরপিডি) থেকে জারি করা সার্কুলারে নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যেকোনো তফসিলি ব্যাংক টাকায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নগদ উত্তোলন বা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য দায় ‘কার্দে হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাহককে কেবল মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংক কার্ড ইস্যু, নেটওয়ার্ক সুবিধা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ‘উজরাহ’ বা সেবা ফি নিতে পারবে।

তবে এসব ফি বকেয়া স্থিতি, ক্রেডিট সীমা কিংবা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়ানো যাবে না। প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গেও কোনো ফি যুক্ত করা যাবে না।

নীতিমালায় ব্যাংকগুলোকে ফি ও চার্জ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু ফিতে মুনাফার উপাদান থাকতে পারবে। অন্যদিকে ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বকেয়া স্থিতি, বিলম্বের সময় বা ক্রেডিট সীমার ভিত্তিতে বাড়ে—এমন ফি নেওয়া যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তির সময় নির্ধারিত একটি অর্থ দান হিসেবে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন। এ অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে দেখানো যাবে না; পুরো অর্থই দাতব্য খাতে দিতে হবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে অনুমোদন পর্যায়েই নিষিদ্ধ খাতের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। নীতিমালায় মদ ও মদজাতীয় পণ্য, জুয়া ও ক্যাসিনো, বেটিং, নাইটক্লাব ও বার, তামাকজাত পণ্য, শুকরের মাংস ও অ-হালাল মাংস, অশ্লীল কনটেন্ট, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, জ্যোতিষ ও ভাগ্য গণনার মতো খাতকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই তালিকা অন্তত বছরে একবার পর্যালোচনা করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির (এসএসসি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি