খুঁজুন
                               
, ,
           

কারা পাবেন টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
কারা পাবেন টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড

ভর্তুকি ও সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে ফ্যামিলি কার্ড নিতে হলে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। কারা এ কার্ড পাবেন, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী, হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের মানুষ, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বিবেচিত হবেন।

এ ছাড়া বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার এবং যেসব দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কার্ড পেতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং নিজ এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডির তথ্যও দিতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি টিসিবির সুবিধাভোগী হতে পারবেন না।

টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার নিয়মিত ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি পাবে। ভোজ্যতেলের প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে দেওয়া হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরিবারগুলোকে ৫ কেজি চালও দেওয়া হবে।

অনিয়ম ঠেকাতে ডিলারের দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগীদের তথ্য ‘টিসিবি সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করা হবে।

এ ছাড়া রমজান ও ঈদুল আজহায় সাধারণ মানুষের জন্য ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রির ব্যবস্থাও থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানিদের আমন্ত্রণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানিদের আমন্ত্রণ

জাপানি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করতে টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে জাপানি ভ্রমণপ্রেমীদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানানো হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ব্যক্তি ও ভ্রমণকারীদের প্রায় ৮০ জন অংশ নেন।

সেমিনারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদার। প্রচলিত খাতের পাশাপাশি পর্যটনের মতো উদীয়মান খাতেও বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও বাগেরহাটের মতো পর্যটন আকর্ষণগুলোর কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের হস্তশিল্প, বাউল সংগীতসহ লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং খাবারের ঐতিহ্যও তুলে ধরেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দ্রুত ভিসা দেওয়ার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জাপানি অতিথিদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানান।

সেমিনারে জাপানের পর্যটন খাতে কর্মরত ও ভ্রমণকারীদের যেকোনো প্রয়োজনে দূতাবাসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

ওয়ার্ল্ড এয়ার সি সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ইয়োসুকে কিকুমা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে।

জাপান-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে পর্যটন খাতে আরও বিস্তৃত করতে এ সেমিনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে মন্তব্যে এড়িয়ে গেলেন দিনেশ ত্রিবেদী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে মন্তব্যে এড়িয়ে গেলেন দিনেশ ত্রিবেদী

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের সঙ্গে বৈঠক করেন দিনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দোভালের ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক বিষয়ের কথা এখানে বলতে চাই না।’

অজিত দোভালের ঢাকা সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা, এটা তো আমার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে ভাই। আমি এখন যেই মন্ত্রণালয়ে দাঁড়িয়ে আছি… এ মন্ত্রণালয়…।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এ মন্ত্রণালয়টা অদ্ভূত। এ ধরনের একটি মন্ত্রণালয় নিয়ে চিন্তা করাটাই দারুণ বিষয়।’

তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সৈনিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তাদের প্রতি সম্মান জানানোর গুরুত্বের কথাও বলেন। দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, সৈনিকরা সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রণালয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশের সুযোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, মন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, এখানে যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন এবং কারও অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন নেই। বিষয়টিকে তিনি ‘অদ্ভূত এবং অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কুমেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই দালালদের তৎপরতা

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
কুমেক হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাই দালালদের তৎপরতা

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালকে ঘিরে দালালচক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো, নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনানো এবং অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দালালদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে থেকে চারজনকে আটক করেন আনসার সদস্যরা। তাদের বিরুদ্ধে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো এবং নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ ছিল।

এরপরও দালালদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর র‌্যাব-১১ ও জেলা প্রশাসন কুমেক হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। এ সময় ১৪ জনকে আটক করে যাচাই করা হয়। দালালি কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহজাহান বলেন, দালালদের উৎপাত রোধে আনসার ও হাসপাতালের কর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন। প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতাও নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, অভিযান চালিয়ে অনেককে আটক করা হলেও তারা কারাভোগ শেষে আবার হাসপাতালে ফিরে এসে একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দালাল ও অ্যাম্বুলেন্স প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে দালাল প্রতিরোধে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করা হবে।

হাসপাতালের আশপাশের লোকজনের ভাষ্য, দালালদের একটি অংশ সকাল থেকে বিকেল, আরেকটি অংশ বিকেল থেকে রাত এবং অন্য একটি অংশ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করে। ফলে হাসপাতালের ২৪ ঘণ্টার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেই তাদের তৎপরতা চলে।

এক আনসার সদস্য জানান, জরুরি বিভাগ ও ক্যাজুয়েলটি থেকে রোগীদের কৌশলে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ, দালালদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজনকে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। প্রতিবাদ করায় রোগীর স্বজনদের বাড়ি ফেরার পথে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, হাসপাতালে দালালচক্রের ফাঁদ থেকে রোগীদের রক্ষায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা চাইলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি