খুঁজুন
                               
, ,
           

স্ত্রীর মৃত্যুর পরই হাসপাতালে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
স্ত্রীর মৃত্যুর পরই হাসপাতালে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

স্ত্রীর মৃত্যুর এক দিন পরই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন) হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তার কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

১০১ বছর বয়সী মাহাথিরকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

‘গত দুই দিন তার জন্য বেশ কঠিন ছিল’

মাহাথিরের দীর্ঘদিনের সহকারী সুফি ইউসুফ এএফপিকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

মাহাথিরের ছেলে মোখজানি বুধবার মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে বলেন, পর্যবেক্ষণের জন্য তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত দুই দিন মাহাথিরের জন্য বেশ কঠিন ছিল। তবে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন এবং উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

এক দিন আগেই মারা যান স্ত্রী

মাহাথির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঠিক এক দিন আগে মারা যান তার স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। ১০০ বছর বয়সী সিতি হাসমাহও কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তারা মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণভাবে পরিচিত ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর মাহাথিরকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছোট ভিডিওতে পাহাংয়ের সুলতান আবদুল্লাহ আহমদ শাহের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মাহাথিরকে। সেখানে স্ত্রীর মৃত্যুতে নিজের কষ্ট ও অবিশ্বাসের কথা জানান তিনি।

মাহাথির বলেন, ‘আজ তাকে হারাব, তা আমি ভাবিনি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার হাসপাতালে

বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে মাহাথিরকে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাড়িতে পড়ে গিয়ে তার ডান নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। বয়সের কারণে চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন মাহাথির।

জুলাইয়ে নিজের ১০০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের সমস্যাতেও ভুগছেন মাহাথির। ১৯৮৯ ও ২০০৭ সালে তার দুটি বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রভাব

মাহাথির মোহাম্মদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

তার সরকারের সময়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে মালয়েশিয়া শিল্প ও উৎপাদন খাতে আরও এগিয়ে যায়। দেশজুড়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ ও শিল্পায়নের বিস্তার ঘটে।

১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এশিয়ার আর্থিক সংকটের সময় মাহাথিরের অর্থনৈতিক নীতিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে তিনি রিঙ্গিতের বিনিময় হার মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট করে দেন।

তার সমর্থকদের মতে, এই নীতি মালয়েশিয়াকে আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছিল। তবে তার শাসনামল নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।

বিতর্কও ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে

মাহাথিরের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতিক, কর্মী ও সমালোচকদের দমনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ১৯৮৭ সালের ‘অপারেশন লালাং’-এর সময় শতাধিক বিরোধী রাজনীতিক, কর্মী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। সমালোচকেরা ওই অভিযানকে সরকারের বিরোধীদের দমনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন।

তবে এসব বিতর্কের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর ও দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশটির আধুনিক ইতিহাসে মাহাথির একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

স্ত্রী সিতি হাসমাহর মৃত্যুর পর শোকের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ১০১ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের আরও সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের আরও সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকটে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংকট সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের আরও বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ আঞ্চলিক যোগাযোগের বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

এ সময় মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। এসব উদ্যোগ যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এ সময় এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

জ্যাকি চ্যানের মৃত্যু! ভাইরাল ছবি ঘিরে রহস্য

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
জ্যাকি চ্যানের মৃত্যু! ভাইরাল ছবি ঘিরে রহস্য

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও মার্শাল আর্ট তারকা জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর খবর আবারও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ৭২ বছর বয়সী এই অভিনেতার মৃত্যুর দাবি করে একটি সাদাকালো ছবি ভাইরাল হওয়ার পর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি। তবে এই খবরের কোনো সত্যতা নেই। জ্যাকি চ্যান জীবিত আছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাদাকালো ছবিতে জ্যাকি চ্যানের নামের পাশে ‘১৯৫৪-২০২৬’ লেখা দেখা যায়। ছবিটি দেখতে অনেকটা স্মরণবার্তার মতো হওয়ায় অনেকেই এটিকে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে ধরে নেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যুর গুজব।

ভাইরাল ছবিতে বিভ্রান্তি

ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভক্ত শোক প্রকাশ করতে শুরু করেন। এক্সেও (সাবেক টুইটার) ছবিটি ব্যবহার করে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পোস্ট করা হয়। এরই মধ্যে পোস্টটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

তবে ভাইরাল হওয়া ওই ছবির সঙ্গে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হেরাল্ড অনলাইনও খবরটিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

বরং সাম্প্রতিক সময়ের তথ্য বলছে, জ্যাকি চ্যান এখনো জীবিত এবং চলতি বছরের জুলাইয়েও তাকে প্রকাশ্য একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।

জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরে ছিলেন জ্যাকি চ্যান

চলতি বছরের ৭ জুলাই সিঙ্গাপুরের পেই চুন পাবলিক স্কুলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন জ্যাকি চ্যান। সেখানে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তাকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে উশু, সিংহ ও ড্রাগন নৃত্য পরিবেশন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজের শৈশব, দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেতা।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের একটি গানও পরিবেশন করেন জ্যাকি চ্যান। ফলে তার মৃত্যুর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

আগেও বহুবার ছড়িয়েছে মৃত্যুর গুজব

জ্যাকি চ্যানকে ঘিরে মৃত্যুর গুজব অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

২০১১ সালে ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা আফ্রিকা চেক জ্যাকি চ্যানের মৃত্যুর এমন একটি গুজব নথিভুক্ত করেছিল। এরপর ২০১৫ সালেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যুর মিথ্যা খবর। সে সময় ভক্তদের আশ্বস্ত করতে জ্যাকি চ্যান নিজেই জানান, তিনি জীবিত আছেন।

২০২৫ সালেও ফেসবুকে একই ধরনের একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে সেটিও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ার

জ্যাকি চ্যান ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিনোদনজগতে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি মার্শাল আর্ট, স্টান্ট এবং নিজস্ব অ্যাকশনধর্মী অভিনয়শৈলীর জন্য বিশ্বজুড়ে তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে।

‘ড্রাংকেন মাস্টার’, ‘পুলিশ স্টোরি’, ‘রাশ আওয়ার’, ‘দ্য ক্যারাটে কিড’ ও ‘কুংফু পান্ডা’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে হংকংয়ের চলচ্চিত্র থেকে হলিউড—দুই অঙ্গনেই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছেন এই তারকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্যাকি চ্যানের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও, ভাইরাল ছবিটি তার মৃত্যুর প্রমাণ নয়। এ ধরনের সংবেদনশীল খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর সরাসরি বিশ্বাস না করে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ

কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
কৃষকের হাতে কার্ড, বদলাবে সহায়তার পথ

যে হাত মাটিতে বীজ ছড়ায়, যে হাত ফসলের শীষে ভবিষ্যৎ খোঁজে—সেই হাতেই এবার উঠবে একটি কার্ড। শুধু পরিচয়ের জন্য নয়, সরকারি সহায়তার দরজা সরাসরি খুলে দিতে। কৃষকের ঘাম আর রাষ্ট্রের সহায়তার মাঝখানে যে দূরত্ব, সেই দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’।

  • আগামীকাল ১ অক্টোবর ফুলগাজীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন
  • প্রথম ধাপেই এক লাখ ১০ হাজার কৃষক, লক্ষ্য প্রকৃত কৃষককে রাষ্ট্রীয় সহায়তার কেন্দ্রে আনা
  • কিউআর কোডে পরিচয়, ব্যাংকে প্রণোদনা, এক প্ল্যাটফর্মে কৃষকের তথ্য

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একটি কার্ডের যাত্রা শুরু হবে সেখান থেকে, যার পরিধি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে দেশের প্রত্যন্ত কৃষি ব্লক পর্যন্ত। প্রথম ধাপে ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখের বেশি কৃষক যুক্ত হচ্ছেন। একই দিনে নির্বাচিত কৃষকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি পৌঁছাবে প্রণোদনার অর্থ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন। ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৭৭ কৃষি ব্লকের এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৪৭ জন কৃষকের কাছে সরাসরি প্রণোদনার টাকা দেওয়া হবে।’ সচিব জানান, ফেনীর ছয় উপজেলার প্রথম ব্যাচে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষকের কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় ব্যাচে আরও এক লাখ ২ হাজার ৫২২ জন কৃষকের জন্য কার্ড বিতরণের প্রস্তুতিও শেষ।

একটি কার্ড, পেছনে বিশাল স্বপ্ন
দেখতে ছোট একটি কার্ড। কিন্তু এর ভেতরে রাখা হচ্ছে কৃষকের বড় একটি পরিচয়। কৃষকের নাম, জমির পরিমাণ, উৎপাদনের ধরন, নিবন্ধন, ব্যাংক হিসাব এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার তথ্য—ধীরে ধীরে সবকিছুকে একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের কাছে শুধু ‘একজন কৃষক’ হিসেবে নয়, প্রত্যেক কৃষকের আলাদা একটি তথ্যভিত্তিক পরিচয় থাকবে। কোথায় কত কৃষক, কার জমি কত, কে কোন ফসল ফলান, কে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আর কাগজের স্তূপে হাতড়াতে হবে না।

প্রণোদনা যাবে কৃষকের হাত ঘুরে জমিতে
প্রাথমিকভাবে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই টাকা শুধু হাতে পৌঁছালেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। নির্ধারিত সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ কেনার জন্যই অর্থটি ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ কৃষকের হাতে যাওয়া টাকা আবার ফিরে যাবে জমিতে—বীজে, সারে, ফসলে। কৃষকের ঘামে যে উৎপাদন, সেই উৎপাদনের পেছনেই সরকারি সহায়তাকে বেঁধে দেওয়ার চেষ্টা থাকছে। এক লাখ কৃষককে এই হারে প্রণোদনা দিতে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হবে ২৫ কোটি টাকা।

কিউআর কোডে খুলবে কৃষকের পরিচয়
কার্ডের গায়ে থাকবে কিউআর কোড। একবার স্ক্যান করলেই উঠে আসবে নিবন্ধিত কৃষকের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য। প্রযুক্তির এই ছোট্ট সংযোজনটি বড় একটি কাজ করতে পারে। একই কৃষক একাধিকবার সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তালিকায় ভুয়া নাম ঢুকেছে কি না কিংবা কোনো কৃষক আগে কী সহায়তা পেয়েছেন—এসব যাচাই সহজ হবে।

নির্ধারিত কৃষি উপকরণের দোকানেও বসানো হচ্ছে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন। কার্ড দেখিয়ে কৃষক নির্ধারিত উপকরণ কিনতে পারবেন। ফলে প্রণোদনা দেওয়ার পর অর্থের গতিপথও নজরে রাখার সুযোগ থাকবে।

ব্যাংকের পথ পেরিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছে
কৃষকের ব্যাংক হিসাবও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রণোদনার অর্থ লেনদেনে যুক্ত হয়েছে সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। ইতোমধ্যে এক লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ পৌঁছাবে সরাসরি কৃষকের হিসাবে। মাঝখানের অনাবশ্যক স্তর কমবে, অর্থের হিসাবও থাকবে স্পষ্ট।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কে প্রকৃত কৃষক? কৃষক কার্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি যেমন সঠিক তথ্য, সবচেয়ে বড় পরীক্ষাও সেখানেই। জমির পরিমাণকে প্রাথমিক ভিত্তি ধরে কৃষক শনাক্ত করা হচ্ছে। পাঁচ শতাংশের কম জমির মালিককে ভূমিহীন, পাঁচ থেকে ৪৯ শতাংশকে প্রান্তিক এবং ৫০ থেকে ১৪৯ শতাংশ জমির মালিককে ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের কৃষি বাস্তবতা শুধু জমির দলিলে আটকে নেই। বর্গাচাষি আছেন, ভাগচাষি আছেন, অন্যের জমিতে ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলানো মানুষ আছেন। তাই কার্ডের তালিকায় প্রকৃত কৃষকের নাম তোলা এবং সেই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখাই হবে কর্মসূচির সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

এক লাখ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ
ফুলগাজীর প্রথম আয়োজনটি আসলে একটি দীর্ঘ যাত্রার শুরু। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

আর পাঁচ বছরের মধ্যে ৬৪ জেলার ৫০৩ উপজেলা ও ১৮ হাজার ১৮০ কৃষি ব্লকের প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ আজকের এক লাখ কৃষক আগামী দিনের বিশাল কৃষক ডেটাবেসের প্রথম সারির অংশ।

বদলাবে সহায়তার ভাষা
একজন কৃষকের জমি থেকে ব্যাংক হিসাব—সব তথ্য যখন একটি ব্যবস্থায় থাকবে, তখন কৃষি সহায়তার চেহারাও বদলাতে পারে। কৃষিঋণ, কৃষিবীমা, সেচ, সার-বীজ, কৃষিযন্ত্র কিংবা দুর্যোগের সময় জরুরি সহায়তা—সবকিছুই আরও নির্দিষ্ট কৃষকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হলেও পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত সব কৃষকই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

ফুলগাজীতে আজ ১ অক্টোবর তাই শুধু একটি কার্ড বিতরণের দিন নয়। মাটির সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও সরাসরি করার একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু। একটি কার্ড হয়তো ছোট। কিন্তু সেই কার্ডে লেখা থাকবে কৃষকের পরিচয়, জমির হিসাব, প্রাপ্য সহায়তা আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। মাটির মানুষের হাতে সেই কার্ড পৌঁছানোর মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে কৃষিকে তথ্যের শক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার নতুন যাত্রা।

কালের আলো/আরআই/এমকে