খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলার বক্তব্য নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলার বক্তব্য নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলে কেউ বক্তব্য দিলে তার বিচার জনগণই করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলে কেউ যদি বক্তব্য দিয়ে থাকে, সেটার বিচার জনগণই করবে। এ জাতীয় বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।’

রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও তদন্ত চলছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

রাজধানীর মাটিকাটায় জমি দখল ও মামলা প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাটিকাটা ক্যান্টনমেন্ট থানার জমি দখলের ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, গ্রেপ্তার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। আইন অনুযায়ী কোনো এজাহার জমা হলে প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা রেজিস্টার করতে হয়। তা না হলে ভিত্তিহীন অভিযোগও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ঢালাওভাবে সরকারকে দোষারোপ করা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যের বিচার জনগণ করবে। বিষয়গুলো নির্মোহভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

মিরপুরে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগ করেননি। ফলে সেখানে সমন্বয়ের অভাব ছিল বলে মনে হয়েছে।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ধাপভিত্তিক নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কার্যক্রমে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে এবং বাজেটও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও দলনিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

গাইবান্ধার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষির উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের কাজ প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের রুফটপ সোলার প্যানেল মহাপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় দলমত নির্বিশেষে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রিসভার ৩০ জন মন্ত্রীকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মাইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

৩০ সেকেন্ডের আতঙ্ক, মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল ১৭৪ প্রাণ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
৩০ সেকেন্ডের আতঙ্ক, মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল ১৭৪ প্রাণ

উড়োজাহাজটি তখন ৩৪ হাজার ফুটের কাছাকাছি উচ্চতায়। দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের দিকে স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইট। বিমানে ছিলেন ১৭৪ যাত্রী ও ক্রু। কিন্তু মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু।

ককপিটের ভেতর শুরু হয় ভয়াবহ সংঘর্ষ। অভিযোগ উঠেছে, সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার ফুট উচ্চতা হারিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো কেবিনে।

প্রধান পাইলট গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। একই বিমানে থাকা আরও দুই ফ্লাইদুবাই পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। ১৭৪ মানুষের জীবন রক্ষা পেলেও এই ঘটনা এখন বিমান নিরাপত্তা, ককপিট সুরক্ষা এবং পাইলট যাচাই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছে।

৩০ সেকেন্ডে বদলে গেল সব

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি যখন আকাশে ছিল, তখন সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটকে আক্রমণ করেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান। এরপর উড়োজাহাজটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে। অন্যদিকে CNN-এর ফ্লাইট ট্র্যাকিং বিশ্লেষণে আরও বড় উচ্চতা পতনের কথা উঠে এসেছে—প্রায় ২০ হাজার ফুট উচ্চতা হারানোর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎসে সময় ও উচ্চতার পরিমাণে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—বিমানটি স্বাভাবিক অবতরণের গতির চেয়ে অনেক দ্রুত নিচে নেমে আতঙ্ক তৈরি করেছিল।

এক যাত্রী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মনে হচ্ছিল উড়োজাহাজটি যেন রোলারকোস্টারের মতো নিচে নেমে যাচ্ছে। শিশুদের কান্না, যাত্রীদের চিৎকার—কেবিনে তৈরি হয় চরম আতঙ্কের পরিবেশ।

রক্তাক্ত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত

এই ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছেন ভারতীয় প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছর। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। একই সময় বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বিমানটি নিরাপদে তাবুকে নামানো হয়। সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন স্মিতের অবস্থা স্থিতিশীল বলে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস।

‘নায়ক’ স্মিতের পাইলট হওয়ার গল্পও অন্যরকম

স্মিতের পেশাগত জীবনের গল্পও বেশ ভিন্ন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান চালানো তাঁর শৈশবের স্বপ্ন ছিল না। পরিবারের কাপড়ের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনার সময় একটি এভিয়েশন সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর বিমান চলাচলের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। ভারতের স্পাইসজেটে কাজ করার পর ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। তাঁর বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা এক দশকের বেশি। এখন সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই ভয়াবহ এক পরিস্থিতিতে কাজে লাগল—যদিও এই ঘটনার সময় তিনি নিজেই ছিলেন হামলার শিকার।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন: ককপিটে ঢুকে কাবু করেন হামলাকারীকে

শুধু পাইলট নয়, কয়েকজন যাত্রীর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁদের একজন ইয়ানিভ হায়ুন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর হায়ুন সেখানে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। পরে আরও কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য সেখানে যোগ দেন। CNN-এর প্রতিবেদনে হায়ুনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি হামলাকারীকে চেপে ধরে ককপিট থেকে সরিয়ে দেন। এমনকি বিমান নিয়ন্ত্রণে সহায়তার সময় তিনি আগে দেখা বিমান দুর্ঘটনার তথ্যচিত্র থেকে পাওয়া ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন। ঘটনার পর তাঁর পোশাকেও রক্তের দাগ দেখা যায়। ইসরায়েলে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

কে সেই সহকারী পাইলট?

ঘটনার সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি এখনো এখানেই। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। তাঁকে সৌদি আরবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে প্রায় আট মাস ধরে কাজ করছিলেন। তবে তাঁর পূর্ণ পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কিংবা তিনি একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফ্লাইদুবাই নিজেও ঘটনাটিকে আপাতত ‘ককপিটে সংঘর্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন। প্রতিষ্ঠানটি সবাইকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে।

কুঠার, ছুরি—অস্ত্র নিয়েও ধোঁয়াশা

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলায় কুঠার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তার বক্তব্যে ছুরিকাঘাতের কথা এসেছে। তাই হামলায় ঠিক কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা এবং ককপিটে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা—এই দুটি বিষয়ই তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।

সৌদি আরবেই কেন জরুরি অবতরণ?

বিমানটি ইসরায়েলের দিকে যাচ্ছিল। হামলার পর সেটি সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। এখানেও ছিল কূটনৈতিক জটিলতা। ইসরায়েল ও সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই ইসরায়েল যাত্রীদের ফিরিয়ে নিতে নিজেদের সামরিক উড়োজাহাজ পাঠাতে চাইলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। পরে ফ্লাইদুবাইয়ের বিকল্প উড়োজাহাজে করে যাত্রীদের ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাইয়ের বড় সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে পরিচালিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই রুটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফ্লাইদুবাইয়ের নিজস্ব বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এফজেড১০৭৩ নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীদের সবাই নিরাপদ। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা কাজ করছে।

সন্ত্রাসী হামলা, নাকি ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য?

ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কেন? ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা হিসেবে দেখছেন এবং ইরানের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, হামলাকারীর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তা তদন্তের কথা বলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এখানেই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সামনে আসে। একজন পাইলট কেন নিজের সহকর্মীকে আক্রমণ করলেন? কেন বিমান নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হলো? এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত কারণ ছিল, নাকি বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনা—কোনোটিই এখনো নিশ্চিত নয়।

ফ্লাইদুবাইও কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে আগাম সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। ফলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বক্তব্য এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের চূড়ান্ত ফল—দুটিকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’—নেতানিয়াহুর মন্তব্য কেন?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’ এড়ানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানটি যদি নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা না যেত, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত। তবে এটি নেতানিয়াহুর মূল্যায়ন; তদন্তের চূড়ান্ত ফল নয়। এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তদন্তে হামলার পেছনে কোনো রাষ্ট্র বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়নি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন

ঘটনাটি বিমান নিরাপত্তার একটি সংবেদনশীল জায়গা সামনে এনেছে—ককপিটের ভেতরের নিরাপত্তা। যে জায়গায় যাত্রীদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, সেখানেই যদি একজন ক্রু সদস্য আরেকজনকে আক্রমণ করেন, তাহলে প্রচলিত ককপিট নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

আরও একটি প্রশ্ন হলো, পাইলটদের নিয়োগ, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, মানসিক ও পেশাগত মূল্যায়ন এবং চলমান নজরদারি ব্যবস্থায় এমন কোনো ঝুঁকির সংকেত আগে ধরা পড়েছিল কি না। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তদন্ত-তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

১৭৪ যাত্রীর জন্য কয়েক মিনিটের লড়াই

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিমানটি শেষ পর্যন্ত বিধ্বস্ত হয়নি। একজন পাইলট গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলেছেন, যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ককপিটে ঢুকেছেন, ক্রুরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন এবং একই বিমানে থাকা প্রশিক্ষিত পাইলটরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। এরপর সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করা হয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সব যাত্রী নিরাপদে আছেন। আর ঘটনাটি এখন পরিণত হয়েছে একাধিক দেশের তদন্তের বিষয়ে—বিমান সংস্থা, সৌদি কর্তৃপক্ষ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এতে যুক্ত হচ্ছে।

মাঝ আকাশে কয়েক মিনিটের সেই বিশৃঙ্খলা তাই শুধু একটি ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের ঘটনা নয়; এটি এখন ককপিট নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং আন্তঃদেশীয় তদন্ত—তিনটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/জেএন

ইউরিয়া-ডিএপি-টিএসপি কিনতে ২১০৬ কোটি টাকা অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
ইউরিয়া-ডিএপি-টিএসপি কিনতে ২১০৬ কোটি টাকা অনুমোদন

চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ১০৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সার কেনার ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরও ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া কেনা হবে। পাশাপাশি মরক্কো থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি ও ৭০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে।

কাফকো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া কিনতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৩১২ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়বে ৪৩৮ দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার।

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া আমদানিতে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ১৪০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৪৬৩ দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব-ইউএই থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া আমদানিতে ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়বে ৫৪৫ মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে, মরক্কোর এস এ ওসিপি নিউট্রিক্রপসের সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) জিটুজি চুক্তির আওতায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। ৪০ হাজার মেট্রিক টনের প্রতিটি লটে ব্যয় হবে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ডিএপির দাম ৮৭৭ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও ৪০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি লটে মোট ৭০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। প্রথম লটে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং দ্বিতীয় লটে ৩৩০ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৮২০ টাকা। উভয় লটেই প্রতি মেট্রিক টন টিএসপির দাম ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

সরকারের অনুমোদিত এসব প্রস্তাবের মাধ্যমে কৃষি মৌসুমে সারের প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি