রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে ম্যানচেস্টার সিটি
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি স্বাধীন কমিশন। রায়ের পর ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরান সোরিয়ানো সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ক্লাব নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোরিয়ানো বলেন, ক্লাবটি কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত গুরুতর আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোতে সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তে বাণিজ্যিক চুক্তি, আর্থিক হিসাব এবং ব্যয়ের সীমা সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের কথা উঠে এসেছে।
রায়কে ‘ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ বললেন সোরিয়ানো
ক্লাবের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সোরিয়ানো বলেন, প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের প্রকাশিত সিদ্ধান্ত তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাব।
সোরিয়ানোর দাবি, প্রিমিয়ার লিগের মামলাটি মালিকপক্ষের অর্থ গোপনে স্পন্সরদের মাধ্যমে ক্লাবে প্রবেশ করানোর একটি অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাব এ অভিযোগ খণ্ডন করতে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের নথি এবং সাক্ষ্যসহ বিপুল পরিমাণ প্রমাণ কমিশনের কাছে উপস্থাপন করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, কমিশনের সিদ্ধান্তে এসব প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং তাদের আইনি দল আপিলে সিদ্ধান্তের আইনগত ও তথ্যগত ত্রুটিগুলো তুলে ধরবে।
কী অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে
প্রিমিয়ার লিগের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সিটি কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছিল, যেগুলো প্রকৃত চুক্তির বিষয়বস্তুকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করেনি বলে কমিশন মনে করেছে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লাবের আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো ও ব্যয় কম দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ভুল আর্থিক হিসাব দাখিল এবং তদন্তে সহযোগিতার দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগেরও বেশ কয়েকটি প্রমাণিত হয়েছে।
এখনো শাস্তি নির্ধারণ হয়নি
রায়ের পর ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে, শাস্তির বিষয়টি স্বাধীন কমিশনের আলাদা শুনানিতে নির্ধারণ করা হবে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে জরিমানা, পয়েন্ট কর্তনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া-সংক্রান্ত ব্যবস্থা থাকতে পারে।
ক্লাবটির আপিল করার সুযোগ রয়েছে এবং প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী ২ অক্টোবরের মধ্যে আপিল করতে হবে। আপিল হলে বিষয়টি একটি স্বাধীন আপিল বোর্ডের সামনে যাবে, যারা কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।
২০২০ সালের মামলার প্রসঙ্গ
সোরিয়ানো ২০২০ সালের একটি আইনি লড়াইয়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। সে সময় উয়েফার আর্থিক ফেয়ার প্লে সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিল করে ম্যানচেস্টার সিটি সফল হয়েছিল।
সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সোরিয়ানো বলেন, এবারও ক্লাবের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সিটি নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত
স্বাধীন কমিশনের রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়মের মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলেও পুরো প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আপিল এবং পরবর্তী শাস্তি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে।
ফলে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখন নির্ভর করছে আপিল প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী শাস্তি নির্ধারণের ওপর। আপাতত ক্লাবটি কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার বদলে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নিয়েছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array