স্টারশিপের ইঞ্জিনে ত্রুটি, নাসার চন্দ্রাভিযানে নতুন শঙ্কা
স্পেসএক্সের স্টারশিপের সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে একটি র্যাপ্টর ইঞ্জিনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ায় নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী পৌঁছে দিতে স্পেসএক্সের স্টারশিপকে লুনার ল্যান্ডার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ হলেও উড্ডয়নের কয়েক ঘণ্টা পর প্রপালশন ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়।
তিন ইঞ্জিনের একটিতে অস্বাভাবিকতা
নিচের ধাপের বুস্টার থেকে স্টারশিপ আলাদা হওয়ার পর এর তিনটি প্রধান র্যাপ্টর ইঞ্জিনের একটিতে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়। একপর্যায়ে ইঞ্জিনটি বন্ধ হয়ে যায়।
তবে একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র মিশনটি চালিয়ে যায় এবং স্টারশিপকে কক্ষপথে পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
এই পরীক্ষামূলক মিশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, প্রথমবারের মতো স্টারশিপে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বহন করা।
সমস্যার কারণ এখনো অজানা
ইঞ্জিনে ঠিক কী কারণে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নাসার চন্দ্রাভিযানের সময়সূচির সঙ্গে স্টারশিপের উন্নয়ন সরাসরি যুক্ত থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মহাকাশ প্রকৌশলী ডিন স্লাডেন রয়টার্সকে বলেছেন, ত্রুটিটি যদি কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশের বিচ্ছিন্ন সমস্যা হয়, তাহলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু যদি বড় ধরনের নকশাগত ত্রুটি পাওয়া যায় এবং পুরো স্টারশিপ বহরের ইঞ্জিনে পরিবর্তন আনতে হয়, তাহলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে যেতে পারে।
আর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পিছিয়ে গেলে তার প্রভাব নাসার চাঁদে নভোচারী পাঠানোর সময়সূচির ওপরও পড়তে পারে।
২০২৭ সালে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে ফেরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর আগে আর্টেমিস-৩ মিশনের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে কক্ষপথে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পরীক্ষায় মহাকাশযানের পারস্পরিক মিলন ও ডকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি যাচাই করা হবে। চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের আগে স্টারশিপের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্লু অরিজিনও প্রতিযোগিতায়
চাঁদে নভোচারী অবতরণের জন্য শুধু স্পেসএক্সের স্টারশিপের ওপর নির্ভর করছে না নাসা। জেফ বেজোসের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের ‘ব্লু মুন’ ল্যান্ডারও এ প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, যে ল্যান্ডার আগে প্রস্তুত হবে, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। ফলে স্টারশিপের উন্নয়ন ও পরীক্ষার গতি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
আগেও দেখা গেছে ইঞ্জিন সমস্যা
স্টারশিপের র্যাপ্টর ইঞ্জিন নিয়ে এর আগেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। মে মাসে স্টারশিপের ১২তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে একটি ইঞ্জিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চালু হয়নি। তবে জুলাইয়ে ১৩তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তিনটি ইঞ্জিনই সফলভাবে কাজ করেছিল।
সর্বশেষ পরীক্ষায় আবার একটি ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে। সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি স্টারশিপের ইঞ্জিন ব্যবস্থায় আরও বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে—তা স্পষ্ট হওয়ার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রুটির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং সেটি সমাধানে কত সময় প্রয়োজন হবে, সেটিই এখন স্টারশিপের পরবর্তী পরীক্ষাগুলো ও নাসার চন্দ্রাভিযানের সময়সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array