খুঁজুন
                               
, ,
           

স্টারশিপের ইঞ্জিনে ত্রুটি, নাসার চন্দ্রাভিযানে নতুন শঙ্কা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
স্টারশিপের ইঞ্জিনে ত্রুটি, নাসার চন্দ্রাভিযানে নতুন শঙ্কা

স্পেসএক্সের স্টারশিপের সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে একটি র‍্যাপ্টর ইঞ্জিনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ায় নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী পৌঁছে দিতে স্পেসএক্সের স্টারশিপকে লুনার ল্যান্ডার হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য পূরণ হলেও উড্ডয়নের কয়েক ঘণ্টা পর প্রপালশন ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়।

তিন ইঞ্জিনের একটিতে অস্বাভাবিকতা

নিচের ধাপের বুস্টার থেকে স্টারশিপ আলাদা হওয়ার পর এর তিনটি প্রধান র‍্যাপ্টর ইঞ্জিনের একটিতে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়। একপর্যায়ে ইঞ্জিনটি বন্ধ হয়ে যায়।

তবে একটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র মিশনটি চালিয়ে যায় এবং স্টারশিপকে কক্ষপথে পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

এই পরীক্ষামূলক মিশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, প্রথমবারের মতো স্টারশিপে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট বহন করা।

সমস্যার কারণ এখনো অজানা

ইঞ্জিনে ঠিক কী কারণে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নাসার চন্দ্রাভিযানের সময়সূচির সঙ্গে স্টারশিপের উন্নয়ন সরাসরি যুক্ত থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মহাকাশ প্রকৌশলী ডিন স্লাডেন রয়টার্সকে বলেছেন, ত্রুটিটি যদি কোনো নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশের বিচ্ছিন্ন সমস্যা হয়, তাহলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কিন্তু যদি বড় ধরনের নকশাগত ত্রুটি পাওয়া যায় এবং পুরো স্টারশিপ বহরের ইঞ্জিনে পরিবর্তন আনতে হয়, তাহলে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো পিছিয়ে যেতে পারে।

আর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পিছিয়ে গেলে তার প্রভাব নাসার চাঁদে নভোচারী পাঠানোর সময়সূচির ওপরও পড়তে পারে।

২০২৭ সালে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারীদের চাঁদের পৃষ্ঠে ফেরানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর আগে আর্টেমিস-৩ মিশনের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে কক্ষপথে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই পরীক্ষায় মহাকাশযানের পারস্পরিক মিলন ও ডকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি যাচাই করা হবে। চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের আগে স্টারশিপের সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লু অরিজিনও প্রতিযোগিতায়

চাঁদে নভোচারী অবতরণের জন্য শুধু স্পেসএক্সের স্টারশিপের ওপর নির্ভর করছে না নাসা। জেফ বেজোসের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের ‘ব্লু মুন’ ল্যান্ডারও এ প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

নাসা জানিয়েছে, যে ল্যান্ডার আগে প্রস্তুত হবে, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। ফলে স্টারশিপের উন্নয়ন ও পরীক্ষার গতি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

আগেও দেখা গেছে ইঞ্জিন সমস্যা

স্টারশিপের র‍্যাপ্টর ইঞ্জিন নিয়ে এর আগেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। মে মাসে স্টারশিপের ১২তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে একটি ইঞ্জিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চালু হয়নি। তবে জুলাইয়ে ১৩তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে তিনটি ইঞ্জিনই সফলভাবে কাজ করেছিল।

সর্বশেষ পরীক্ষায় আবার একটি ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে। সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি স্টারশিপের ইঞ্জিন ব্যবস্থায় আরও বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে—তা স্পষ্ট হওয়ার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রুটির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং সেটি সমাধানে কত সময় প্রয়োজন হবে, সেটিই এখন স্টারশিপের পরবর্তী পরীক্ষাগুলো ও নাসার চন্দ্রাভিযানের সময়সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
জলবায়ু, স্বাস্থ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্যসেবা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন জানান, চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক বা কার্যক্রম, ছয়টি বক্তব্য এবং সাধারণ পরিষদে একটি ভাষণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা মিলিয়ে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রীর ৩০টি কর্মসূচির মধ্যে আটটি ছিল সরাসরি জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণ উল্লেখযোগ্য।

মাহদী আমিন বলেন, সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরেছেন। বিশ্বশান্তি, মানবিকতা, গণতন্ত্র, টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।

জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রস্তাব

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

এসব কর্মসূচিতে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ কার্যকর করা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় নির্গমন কমানো, অভিযোজন অর্থায়ন সহজ করা, জলবায়ু প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পরিকল্পনা

স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফারি ও মাতৃমৃত্যু কমানোর বিষয়েও বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

মাহদী আমিন জানান, অতিরিক্ত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারীকে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জনগণের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আহ্বান

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও বিষয়টি আলোচনায় আসে।

মাহদী আমিন বলেন, সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারে হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একদিকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো এবং অন্যদিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা জোরদার করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

‘থ্রি-আর’ নীতির কথা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে দেশের পুনর্গঠনের জন্য ‘থ্রি-আর’—রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন—নীতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড ও ইউনিভার্সাল কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

অক্টোবরে আরব আমিরাতে বাংলাদেশের ব্যস্ত ক্রিকেট সফর

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
অক্টোবরে আরব আমিরাতে বাংলাদেশের ব্যস্ত ক্রিকেট সফর

অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আসন্ন সফরকে সামনে রেখে চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সফরে আরব আমিরাতের তিন প্রধান ভেন্যু—দুবাই, আবুধাবি ও শারজায় খেলবে বাংলাদেশ।

সফরে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়েরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবেন। প্রথম গ্রুপ সরাসরি আরব আমিরাতে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেবে। অন্য গ্রুপ এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার পর জাপান থেকে আরব আমিরাতে দলের সঙ্গে যোগ দেবে।

প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু সফর

সফরের শুরুতেই স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ৪ ও ৫ অক্টোবর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। মূল সিরিজ ও টেস্টের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে এই প্রস্তুতি ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হবে বাংলাদেশের জন্য।

এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়েরা জাপান থেকে সরাসরি আরব আমিরাতে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

৯ অক্টোবর শুরু আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট

প্রস্তুতি ম্যাচের পর বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট। আগামী ৯ অক্টোবর আবুধাবিতে শুরু হবে পাঁচ দিনের এই ম্যাচ। চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

টেস্ট ম্যাচের পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরবে বাংলাদেশ। এবার আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে শুরু হবে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ।

১৭ অক্টোবর শুরু ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৭ অক্টোবর আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১৯ অক্টোবর একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ২১ অক্টোবর শারজায়। ওই ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ত্রিদেশীয় সিরিজের লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল ফাইনালের টিকিট পাবে। আগামী ২৩ অক্টোবর শারজায় অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের ফাইনাল।

অর্থাৎ, অক্টোবরে বাংলাদেশ দলের সামনে থাকছে প্রস্তুতি ম্যাচ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট এবং এরপর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ—সব মিলিয়ে ব্যস্ত এক ক্রিকেট সফর।

বিসিবির চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী সফর:

৪–৫ অক্টোবর-বাংলাদেশ বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত — প্রস্তুতি ম্যাচ, দুবাই , ৯–১৩ অক্টোবর-বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান — একমাত্র টেস্ট, আবুধাবি, ১৭ অক্টোবর-বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে — ওয়ানডে, আবুধাবি, ১৯ অক্টোবর-আফগানিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে — ওয়ানডে, আবুধাবি, ২১ অক্টোবর-বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান — ওয়ানডে, শারজা, ২৩ অক্টোবর- ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল — শারজা

কালের আলো/এসএ

জাতিসংঘ সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সালেহ শিবলী বলেন, জনগণের করের অর্থের অপচয় রোধে এবার মাত্র ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটে নিউইয়র্ক সফর করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে জাতিসংঘে সফরের নজির থাকলেও এবার তুলনামূলক ছোট বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর করা হয়েছে। তার মতে, এটি প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের একটি বার্তা বহন করে।

চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ তুলে সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তরুণদের কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের বিকাশের সুযোগ এবং যুক্তি, শিক্ষা ও মানবিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ ও বিভিন্ন বৈঠকে তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সফরে রোহিঙ্গা সংকট, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয়গুলো আলোচনায় ছিল বলে সরকারি তথ্যেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, বিগত সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন—এমন বক্তব্য তিনি ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও সরকারের বর্তমান অবস্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

সালেহ শিবলী বলেন, সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশবাসীর ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি