এনভিডিয়ার বিকল্পে ডিপসিক-হুয়াওয়ের নতুন জোট
এনভিডিয়ার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ ও সফটওয়্যার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে চীনের এআই প্রতিষ্ঠান ডিপসিক। এ লক্ষ্যে দেশটির প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াওয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এআই চিপের জন্য প্রোগ্রামিং অবকাঠামো তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুয়াওয়ের অ্যাসেন্ড চিপের জন্য নতুন অবকাঠামো
বুধবার এক পোস্টে ডিপসিক জানায়, হুয়াওয়ের অ্যাসেন্ড চিপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি প্রোগ্রামিং অবকাঠামো উন্মুক্ত করা হয়েছে। এতে এআই কম্পিউটিং ও চিপগুলোর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সফটওয়্যার লাইব্রেরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডিপসিক জানিয়েছে, প্রকল্পটিতে হুয়াওয়ে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টায় হুয়াওয়ের চিপকে কেন্দ্র করে এআই কম্পিউটিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
১২৮ চিপে ‘সুপারনোড’
যৌথ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডিপসিক ও হুয়াওয়ে ১২৮টি অ্যাসেন্ড ৯৫০ চিপ ব্যবহার করে একটি ‘সুপারনোড’ কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
এ ধরনের ব্যবস্থায় একাধিক চিপকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য জটিল কম্পিউটিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। ডিপসিকের প্রকল্পে চিপগুলোর গণনাশক্তি কাজে লাগানোর পাশাপাশি এক চিপ থেকে অন্য চিপে তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকারিতাও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
টাইলল্যাং দিয়ে কোডিং সহজ করার চেষ্টা
এই উদ্যোগে ‘টাইলল্যাং’ নামের একটি ওপেন সোর্স প্রোগ্রামিং ভাষার কথাও উল্লেখ করেছে ডিপসিক। এআই চিপের জন্য কোড তৈরি সহজ করা এবং সফটওয়্যার উন্নয়নের সময় কমানোর লক্ষ্যেই এটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিপসিকের মতে, নতুন প্রজন্মের নিজস্ব এআই চিপের সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাতে এমন প্রোগ্রামিং ভাষা প্রয়োজন, যা একই সঙ্গে ব্যবহার করা সহজ এবং চিপের হার্ডওয়্যারের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টাইলল্যাং সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে এবং এনভিডিয়ার কুডার তুলনায় এটি প্রোগ্রামিংকে আরও সহজ করার সুযোগ দিতে পারে।
এনভিডিয়ার কুডার বিকল্প গড়ার চেষ্টা
এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নে এনভিডিয়ার তৈরি চিপ এবং কুডা সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের অনেক এআই প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও রপ্তানি বিধিনিষেধের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত এনভিডিয়া চিপ ব্যবহারে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের চিপ, সফটওয়্যার ও ডেভেলপমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে।
এআই অবকাঠামোয় হুয়াওয়ের বড় পরিকল্পনা
হুয়াওয়ে সম্প্রতি তাদের নতুন প্রজন্মের এআই প্রসেসর এবং ‘সুপারনোড’ কম্পিউটিং ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী বছর এসব প্রযুক্তি এআই মডেল প্রশিক্ষণে বড় পরিসরে ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে।
ডিপসিকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগটি সেই পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হার্ডওয়্যার তৈরির পাশাপাশি সেটিকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও প্রোগ্রামিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ডিপসিক ও হুয়াওয়ের এই উদ্যোগ চীনের এআই প্রযুক্তিতে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার—দুই দিকেই নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এনভিডিয়ার চিপ ও কুডা-নির্ভরতার বাইরে নিজেদের প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই এখন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম লক্ষ্য।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array