খুঁজুন
                               
, ,
           

ফল নয়, মাঠের লড়াইয়েই বাংলাদেশের উন্নতি দেখছেন হামজা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
ফল নয়, মাঠের লড়াইয়েই বাংলাদেশের উন্নতি দেখছেন হামজা

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে হামজা চৌধুরীর পথচলার দেড় বছর পেরিয়েছে। এই সময়টা শুধু মাঠের ফলাফল দিয়ে বিচার করতে চান না ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার। তাঁর মতে, নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন দল গড়ে উঠছে এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে পারাটাই বাংলাদেশের অগ্রগতির বড় প্রমাণ।

ফিফা আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জাতীয় দলের হয়ে কাটানো সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা বলেন হামজা। তিনি স্বীকার করেন, এই সময়ে ভালো মুহূর্তের চেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বেশি। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দল গড়ে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি।

কঠিন সময়েও হাল ছাড়ছে না বাংলাদেশ

ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামজা চৌধুরী বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অসাধারণ। তবে এই যাত্রায় অনেক ভালো-মন্দ সময় এসেছে।

হামজার ভাষায়, ভালো সময়ের তুলনায় কঠিন পরিস্থিতিই হয়তো বেশি এসেছে। কিন্তু দল হাল ছাড়ছে না। সবাই মিলে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

ফলাফলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা

হামজার মতে, শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব দিয়ে একটি দলের উন্নতি সবসময় বোঝা যায় না। বিশেষ করে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে সমানতালে লড়াই করতে পারাটাও উন্নতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

আসিয়ান কাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের তুলনামূলক অনভিজ্ঞতা থাকলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দলকে নিজেদের সামর্থ্য যাচাই ও উন্নতির সুযোগ দিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে হামজা বলেন, ধীরগতির শুরুর কারণে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচে ফিরে আসা কঠিন হয়ে যায়। তবে তাঁর কাছে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আগের ম্যাচের তুলনায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশকে আরও ভালো খেলেছে বলে মনে হয়েছে।

র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থেকেও মাঠে লড়াই

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ধাপ এগিয়ে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সবসময় সেই ব্যবধান স্পষ্ট ছিল না বলে মনে করেন হামজা।

তিনি বলেন, এই পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রতিপক্ষ অনেক ওপরে থাকলেও ম্যাচের কিছু মুহূর্তে মাঠে সেই ব্যবধান বোঝা যায়নি। তাঁর মতে, এটি প্রমাণ করে বাংলাদেশ দল কিছু বিষয় সঠিকভাবেই করতে পারছে।

হামজা আরও বলেন, বাংলাদেশের দলটি এখন যেন একটি পাজলের শেষ দুই-তিনটি টুকরো খুঁজছে। সেগুলো ঠিকভাবে একসঙ্গে বসাতে পারলে দলটি আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারবে বলে আশাবাদ তাঁর।

সামনে ঘরের মাঠের সাফ

বাংলাদেশের উন্নতির জন্য আরও কয়েকটি জায়গায় কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন হামজা। তবে সেই উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান তিনি।

নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইন্দোনেশিয়ায় নতুন অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশের হয়ে খেলার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে হামজার। ইন্দোনেশিয়ায় এবারই প্রথম গেছেন তিনি। তাঁর বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন আগে দেশটিতে গিয়ে ভালো অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথাও ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন হামজা। দেশটির মানুষের আতিথেয়তা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাঁর ভালো লেগেছে। তবে আবহাওয়া কিছুটা বেশি গরম মনে হয়েছে তাঁর কাছে।

হামজা বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর প্রথম সফরটি দারুণ লেগেছে। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে আবারও দেশটিতে এসে অন্য জায়গাগুলো ঘুরে দেখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা

বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ নিয়ে বেশ আগ্রহী হামজা। বড় দর্শকসমাগমের প্রত্যাশাও করছেন তিনি। তাঁর মতে, গ্যালারিতে বেশি দর্শকের উপস্থিতি দলের জন্য নতুন ও মূল্যবান অভিজ্ঞতা হবে।

ইন্দোনেশিয়া দলে ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছেন। ফলে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে বলে মনে করেন হামজা।

তবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলাই বাংলাদেশের বর্তমান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মাধ্যমেই নিজেদের সামর্থ্য আরও ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব।

দেড় বছরের পথচলায় জয়-পরাজয়ের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে হামজার চোখে বাংলাদেশ এখন একটি পরিবর্তনশীল দল। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা থাকলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলটি ধীরে ধীরে নিজেদের পরের ধাপে নিয়ে যেতে পারবে—এমন আশাই করছেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

কালের আলো/এসএ

স্টেশনে ভাঙচুরকারীদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
স্টেশনে ভাঙচুরকারীদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজশাহী শান্তির শহর। এখানে সবাই মিলেমিশে থাকে। কিন্তু একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে উসকানিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়েছে। যারা করেছে, তারা ঠিক করেনি। সরকারি সম্পদ নষ্ট করার অধিকার কারও নেই।’

তিনি বলেন, স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে যারা পরিস্থিতি খারাপ করার জন্য স্টেশনের সরকারি সম্পদে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্টেশন পরিদর্শনের সময় ভূমিমন্ত্রী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম, টিকিট কাউন্টার, অপেক্ষাকক্ষ ও যাত্রী লাউঞ্জ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি ভাঙচুর করা বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জামও পরিদর্শন করেন এবং স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম ও যাত্রীসেবার বিষয়ে খোঁজ নেন।

এ সময় রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সহসভাপতি আসলাম সরকার ও ওয়ালিউল হক রানা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি শান্ত করতে বেগ পেতে হয়।

শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চারজনকে বরখাস্ত করেছে। অন্যদিকে, স্টেশনে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

হামলার সময় ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে ছিলেন না। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফিরে তিনি রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে যান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

অনলাইন অপরাধের লাগাম টানতে পুলিশের নতুন বলয়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
অনলাইন অপরাধের লাগাম টানতে পুলিশের নতুন বলয়

অপরাধের ধরন বদলেছে। পাল্টেছে অপরাধ সংঘটনের পরিসরও। একসময় অপরাধের আলামত খুঁজতে ছুটতে হতো ঘটনাস্থলে। এখন সেই আলামত থাকতে পারে একটি মোবাইল ফোনে, ক্লাউড সার্ভারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে কিংবা ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেনে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে সেই জগত আরও জটিল হচ্ছে ক্রমশ। এমন বাস্তবতায় সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট। অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী এই ইউনিটে থাকছে ৪ হাজার ৫৯২ জনের জনবল।

  • ৪,৫৯২ সদস্যের স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট
  • ডার্ক ওয়েব-ক্রিপ্টো-ম্যালওয়্যার বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ
  • বিচ্ছিন্ন তদন্ত এবার এক ছাতার নিচে

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’তে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে ‘হল অব প্রাইড’-এ আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যেই এই ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

এক ছাতার নিচে সাইবার তদন্ত

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এতদিন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত ও নজরদারি চললেও তা ছিল অনেকটাই ছড়িয়ে থাকা কাঠামোর মধ্যে। নতুন ইউনিটের অন্যতম উদ্দেশ্য সেই বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে সমন্বিত তদন্তব্যবস্থা তৈরি করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পূর্বে বিভিন্ন ইউনিটে অসংগঠিতভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তের সমন্বয়হীনতা দূর করে এখন থেকে একক কাঠামোর অধীনে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।

প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় ওসির নেতৃত্বে সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিশেষায়িত সক্ষমতাকে মাঠপর্যায়ের তদন্তের সঙ্গে যুক্ত করার একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশের সঙ্গে যুক্ত হবে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ

সাইবার অপরাধের জটিলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কেবল প্রচলিত পুলিশি দক্ষতা দিয়ে এর সব স্তর মোকাবিলা করা কঠিন। সেই সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নতুন ইউনিটে চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট ও ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টও থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের জন্য পৃথক আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পুলিশের আইটি-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে ইউনিটে পদায়ন করা হবে। এখানে মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে—সাইবার তদন্তকে শুধু পুলিশের একটি দায়িত্ব হিসেবে না দেখে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ ও আইন প্রয়োগের সমন্বিত কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল ফরেনসিকে বড় বিনিয়োগ

সাইবার অপরাধের তদন্তে প্রযুক্তিগত আলামত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এখন অপরিহার্য। একটি ডিভাইসের তথ্য, অনলাইন লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম কিংবা ম্যালওয়্যারের গতিপথ—সবই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। এই সক্ষমতা বাড়াতে সাইবার পুলিশ ইউনিটের অধীনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ও ফরেনসিক ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা এখন সর্বাত্মক। ফলে প্রস্তাবিত ল্যাবের ব্যবহার শুধু সাইবার অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রযুক্তিনির্ভর আলামত যেখানে তদন্তের অংশ, সেখানেও এর প্রয়োজন পড়তে পারে।

৪৫৯২ জনের কাঠামো, উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ

অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ইউনিটটির মোট জনবল ৪ হাজার ৫৯২ জন। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পদায়নের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে জনবল পূর্ণাঙ্গ করা হবে। ইউনিটের সিনিয়র কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। কর্মকর্তাদের কাজের অবদানের ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নিজেদের দক্ষতাকে নিয়মিত হালনাগাদ রাখা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অপরাধের নতুন কৌশল তৈরি করছে, আবার একই প্রযুক্তি তদন্তের নতুন সুযোগও তৈরি করছে। ফলে সাইবার পুলিশ ইউনিটের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতাকে নিয়মিত হালনাগাদ রাখা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ইউনিটের লক্ষ্য বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে সাইবার অপরাধ তদন্তে সমন্বিত সক্ষমতার পাশাপাশি প্রচলিত অপরাধ তদন্তেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সাক্ষী না আসায় ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
সাক্ষী না আসায় ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ

সাবেক র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ মামলায় বৃহস্পতিবার সপ্তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

মামলার অপর সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

আগামী ১৩ অক্টোবর এ মামলায় সপ্তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি