খুঁজুন
                               
, ,
           

জহির উদ্দিন স্বপন

তরুণ প্রযুক্তিবিদদের পাশে থাকবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
তরুণ প্রযুক্তিবিদদের পাশে থাকবে সরকার

দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে আরও শক্তিশালী করতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্স গবেষণায় সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরিতে জোর

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ইউএপি, জাপানের চোয়া জিকেন কর্পোরেশন এবং এআই সামুরাই জাপানের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের গবেষণার গভীরতা, সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সমর্থন দেবে। তবে দেশের কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে এআই প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা সম্ভব, সেই পথনকশা ও বাস্তবসম্মত সমাধান প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরই তৈরি করতে হবে।

কৃষি-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে এআইয়ের সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এ প্রযুক্তি বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।

বিশেষ করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাত এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশের বাস্তব অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিদেশি এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিজস্ব এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জিপিইউ ও বাংলা ডেটাসেটের চ্যালেঞ্জ

দেশে এআই গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, জিপিইউ পরিচালনার সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের ঘাটতির মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

সাধারণ চাহিদার বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়েও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রযুক্তিগত উদ্দীপনার পাশাপাশি তরুণ প্রযুক্তিবিদদের মৌলিক গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি সহযোগিতা

অনুষ্ঠানে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-কে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী।

বাস্তবমুখী এআই প্রকল্প উপস্থাপন

সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউএপি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণ চলাকালে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তৈরি বিভিন্ন বাস্তবমুখী এআই প্রকল্পের ব্যবহারিক প্রয়োগ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, জাপানের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি স্ক্র্যাপে নতুন নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি স্ক্র্যাপে নতুন নীতি

ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিবেশ দূষণকারী যানবাহন ধ্বংস (স্ক্র্যাপ) ও রিসাইক্লিংয়ের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মোটরযানের নির্ধারিত অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর সেটি স্ক্র্যাপ না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকের নামে নতুন বা পুরোনো কোনো মোটরযানের নিবন্ধন দেওয়া হবে না।

‘মোটরযান স্ক্র্যাপিং ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ নীতিমালাটি জারি করেছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ১২৪(১)(থ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

যেসব গাড়ি স্ক্র্যাপের আওতায়

নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করা এবং চলাচলের অনুপযোগী মোটরযান স্ক্র্যাপযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে অকেজো ঘোষিত যানবাহনও এ তালিকায় থাকবে।

এ ছাড়া আগুন, বিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন, যা মেরামত করে পুনরায় চালানো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, সেগুলোও স্ক্র্যাপ করা যাবে।

আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আদেশে নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত যানবাহন, মালিকের স্বেচ্ছায় স্ক্র্যাপের জন্য দেওয়া গাড়ি, অননুমোদিতভাবে উৎপাদিত মোটরযান এবং বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়া আকৃতি বা প্রকৃতি পরিবর্তন করা যানবাহনও স্ক্র্যাপযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

পাঁচ বছর ফিটনেস না থাকলেও স্ক্র্যাপ

টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় ফিটনেস খেলাপি থাকা মোটরযানও স্ক্র্যাপের আওতায় আসবে। পাশাপাশি কোনো গাড়ির নিঃসরণ এক মাসে তিনবার ‘বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২’-এ নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করলেও সেটিকে স্ক্র্যাপযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত মোটরযানও এ নীতিমালার আওতায় পড়বে।

নতুন গাড়ি নিবন্ধনে বাধা

নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো—অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রান্ত গাড়ি স্ক্র্যাপ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মালিক নিজের নামে নতুন বা পুরোনো কোনো মোটরযানের নিবন্ধন নিতে পারবেন না।

তবে স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ি ধ্বংসের জন্য মালিকের আবেদন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বা পুরোনো মোটরযান নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

যেভাবে হবে স্ক্র্যাপ

স্ক্র্যাপযোগ্য গাড়ির মালিককে মূল কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট মোটরযান নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। পরিত্যক্ত, ফিটনেসবিহীন বা দূষণকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে আদালত, পুলিশ বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষও বিআরটিএকে স্ক্র্যাপের জন্য অনুরোধ করতে পারবে।

আটক করা কোনো যানবাহন স্ক্র্যাপ করার আগে মালিককে কমপক্ষে ১৫ দিনের নোটিশ দিতে হবে। এ সময় তাকে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগও দিতে হবে। তবে অননুমোদিতভাবে উৎপাদিত মোটরযানের ক্ষেত্রে এ নোটিশের বিধান প্রযোজ্য হবে না।

বকেয়া কর-ফি পরিশোধের নিয়ম

অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার আগেই কোনো গাড়ি স্ক্র্যাপ করতে চাইলে মালিককে আগের সব কর ও ফি পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অতিক্রম করা গাড়ির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের কোনো কর বা ফি পরিশোধ করতে হবে না।

অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালের মধ্যে থাকা গাড়ির বকেয়া কর ও ফি নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে স্ক্র্যাপ বা নিলাম মূল্য থেকে বকেয়া অর্থ কেটে নেওয়া হবে। এরপরও বকেয়া থাকলে ‘পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩’ অনুযায়ী তা আদায় করা হবে।

স্ক্র্যাপ ভেন্ডর নিয়োগে শর্ত

নীতিমালা অনুযায়ী, উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক বা একাধিক স্ক্র্যাপ ভেন্ডর নিয়োগ করবে কর্তৃপক্ষ। এসব ভেন্ডরকে বিআরটিএতে নিবন্ধিত হতে হবে।

এ ছাড়া ভেন্ডরের কাছে গ্যাস কাটার, ক্রেন, শ্রেডার মেশিন, রেকার ও হাইড্রোলিক প্রেস মেশিনসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছাড়পত্রও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একজন স্ক্র্যাপ ভেন্ডরের কমপক্ষে ৫০টি মোটরযান রাখার সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে।

স্ক্র্যাপ করার সময় গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর এমনভাবে নষ্ট করতে হবে, যাতে সেগুলো অন্য কোনো যানবাহনে পুনরায় ব্যবহার করা না যায়। কার্যাদেশ পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্ক্র্যাপের কাজ শেষ করতে হবে।

মিলবে স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেট

স্ক্র্যাপের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন নম্বর বাতিল করা হবে এবং তা বিআরটিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর সাত দিনের মধ্যে মালিককে ‘ভেহিক্যাল স্ক্র্যাপিং সার্টিফিকেট’ দেওয়া হবে।

এই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে নতুন বাণিজ্যিক মোটরযান নিবন্ধনের সুযোগ এবং আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

থাকছে আর্থিক প্রণোদনা

নীতিমালায় বাণিজ্যিক মোটরযানের মালিকদের জন্য আর্থিক সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে। স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেটের বিপরীতে নতুন বাণিজ্যিক মোটরযান নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মালিক বা বৈধ উত্তরাধিকারীকে সরকার সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ বা আর্থিক প্রণোদনা দিতে পারবে।

সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ

নীতিমালার আওতায় কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। বিআরটিএ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আপিল বোর্ড এ আপিল নিষ্পত্তি করবে। আপিল পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া স্ক্র্যাপ করা গাড়ির মূল্য নির্ধারণে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং)-এর নেতৃত্বে ‘স্ক্র্যাপমূল্য নির্ধারণ কমিটি’ এবং নিলামের জন্য পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট)-এর নেতৃত্বে ‘নিলাম কমিটি’ গঠন করা হবে।

নীতিমালা লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন নীতিমালা জারির মাধ্যমে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি করা পূর্বের মোটরযান স্ক্র্যাপিং নীতিমালা রহিত করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটদের সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটদের সংঘর্ষ

দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে আরও শক্তিশালী করতে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও রোবটিক্স গবেষণায় সরকার নীতিগত সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরিতে জোর
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-এর প্রকল্প উপস্থাপন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ইউএপি, জাপানের চোয়া জিকেন কর্পোরেশন এবং এআই সামুরাই জাপানের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী এআই প্ল্যাটফর্ম, ডেটাসেট ও প্রোগ্রামিং তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদদের গবেষণার গভীরতা, সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সমর্থন দেবে। তবে দেশের কোন কোন ক্ষেত্রে কীভাবে এআই প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা সম্ভব, সেই পথনকশা ও বাস্তবসম্মত সমাধান প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরই তৈরি করতে হবে।

কৃষি-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে এআইয়ের সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে এ প্রযুক্তি বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।

বিশেষ করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাত এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ঘাটতি পূরণে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশের বাস্তব অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিদেশি এআই টুল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিজস্ব এআই টুল, প্ল্যাটফর্ম ও ডেটাসেট তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদ্যুৎ, জিপিইউ ও বাংলা ডেটাসেটের চ্যালেঞ্জ
দেশে এআই গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, জিপিইউ পরিচালনার সক্ষমতা এবং সমৃদ্ধ বাংলা ডেটাসেটের ঘাটতির মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

সাধারণ চাহিদার বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়েও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রযুক্তিগত উদ্দীপনার পাশাপাশি তরুণ প্রযুক্তিবিদদের মৌলিক গবেষণায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা।

বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি সহযোগিতা
অনুষ্ঠানে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি ‘নিপ্পন এআই ডো জো ২০২৬’-কে তরুণ প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর যুব দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আবদুল্লাহ, ইউএপির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী।

বাস্তবমুখী এআই প্রকল্প উপস্থাপন
সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউএপি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণ চলাকালে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তৈরি বিভিন্ন বাস্তবমুখী এআই প্রকল্পের ব্যবহারিক প্রয়োগ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠান শেষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, জাপানের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ফাইনালে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন রক্সি

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
ফাইনালে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন রক্সি

রাজশাহীতে প্রথম আলো ও স্টার নিউজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে রাজশাহী অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়ার রক্সি ফুটবল একাডেমি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত টুর্নামেন্টের আঞ্চলিক ফাইনালে বগুড়ার রক্সি ফুটবল একাডেমি ২-১ গোলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ক্রীড়া একাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

ফাইনালের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। নবম মিনিটে পাপিয়া আক্তারের গোলে এগিয়ে যায় রক্সি ফুটবল একাডেমি। তবে তিন মিনিট পরই চাঁপাইনবাবগঞ্জের নুরীনা বেগম গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। বিরতির ঠিক আগে ৩৫ মিনিটে আলেফা আক্তারের গোলে আবারও এগিয়ে যায় বগুড়ার দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রক্সি ফুটবল একাডেমি। ফাইনালে গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান রক্সির পাপিয়া আক্তার।

এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে জয়পুরহাটের সানরাইজ ফুটবল একাডেমিকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে রক্সি। ওই ম্যাচে ম্যাচসেরা হন রক্সির আলেফা আক্তার।

অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার ক্রীড়া একাডেমি ৩-০ গোলে রাজশাহীর ফিরোজ কবির ফুটবল একাডেমিকে হারায়। জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঁখি আক্তার।

সকালে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় প্রথম আলোর রাজশাহী প্রতিনিধি মো. আবুল কালাম আজাদ, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. মোজাম্মেল হকসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি