খুঁজুন
                               
, ,
           

সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশে নতুন নিয়ম

বাংলাদেশ সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন থেকে ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি যাচাই ছাড়া কোনো দর্শনার্থী সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার উপসচিব মো. তোফায়েল হোসেনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অনুমোদনবিহীন প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যথাযথ প্রবেশ পাস বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দর্শনার্থীদের সচিবালয়ে প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের প্রবেশ সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া অননুমোদিত দর্শনার্থীদের প্রবেশের কারণে সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক পরিবেশও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবেশের আগে ওটিপি যাচাই

নতুন নির্দেশনায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে আসা প্রত্যেক দর্শনার্থীর প্রবেশের আগে যথাযথভাবে ওটিপি যাচাই করার কথা বলা হয়েছে। যাচাই শেষে অনুমোদন সাপেক্ষে দর্শনার্থীকে সচিবালয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার এবং অনুমোদনবিহীন ব্যক্তিদের প্রবেশ ঠেকাতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। ফলে এখন থেকে সচিবালয়ে কোনো কাজে আসা দর্শনার্থীদের প্রবেশের আগে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

‘যৌথ অভিযান’ নয়, সমন্বয়েই জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
‘যৌথ অভিযান’ নয়, সমন্বয়েই জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নতুন কোনো ‘যৌথ অভিযান’ নয়—বরং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনারই অংশ। পুলিশ, বিজিবি, এসআরপি ও আনসার বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর এই প্রক্রিয়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে এর পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

  • সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে
  • সামনে আরও জোরদারের ঘোষণা
  • আনসারের জন্য ১১ বিঘায় নতুন সদর দপ্তর

এই প্রেস ব্রিফিংয়ে তাই শুধু আনসারের নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা নয়, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও একসঙ্গে সামনে এসেছে—বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম, সদস্যদের জবাবদিহি, আনসারের অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে ‘যৌথ অভিযান’ নিয়ে মন্ত্রীর স্পষ্টীকরণই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ—আলাদা কোনো অভিযান কাঠামোর ঘোষণা নয়, বিদ্যমান সমন্বিত ব্যবস্থাকেই আরও সক্রিয় করার কথাই বলা হয়েছে।

‘যৌথ অভিযান’ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এর প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, একাধিক বাহিনীর সদস্যকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামানোকে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক ‘যৌথ অভিযান’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এরচেয়ে বাহিনীগুলোর নিজ নিজ সক্ষমতা ও দায়িত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে অপরাধ দমনের যে কার্যক্রম চলছে, সেটিই অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়কে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এখানে মূল বিষয়টি অভিযানটির নাম নয়, বরং মাঠপর্যায়ে বাহিনীগুলোর সমন্বিত সক্ষমতা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে—সেটি।

আনসারের সদর দপ্তরে বদলাচ্ছে অবকাঠামো 

প্রেস ব্রিফিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটানোর উদ্যোগ। খিলগাঁওয়ে বর্তমান সদর দপ্তরের জায়গা অপর্যাপ্ত এবং যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বাস্তবতায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ৩ দশমিক ৪২৮ একর, অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নতুন সদর দপ্তরের জন্য। তেজগাঁওয়ে নির্মিতব্য এই অবকাঠামোতে একটি বৃহৎ ও আধুনিক প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা শুধু জায়গার সংকটের সঙ্গে যুক্ত নয়। দেশের অন্যতম বৃহৎ বাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রম, সদস্যদের অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার সঙ্গেও বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত।

৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তির বিস্তৃতি

আনসার ও ভিডিপির জনবল কাঠামোর যে চিত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, তাতে বাহিনীটির ব্যাপ্তিও স্পষ্ট হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটিকে দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।

ফলে এই বাহিনীর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে শুধু দাপ্তরিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। মাঠপর্যায়ে এত বড় জনবল কাঠামো পরিচালনা ও সমন্বয়ের জন্য প্রশাসনিক অবকাঠামোর সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের আবাসন সংকট মোকাবিলায় আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অপরাধে জড়ালে বাহিনীর সদস্যরাও ছাড় পাবেন না

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কিংবা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ক্ষেত্রেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল সরাসরি। প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু প্রত্যাহার নয়, বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি মামলা—দুই পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির কাঠামোকেও সামনে আনা হয়েছে। অপরাধ দমনে নিয়োজিত সদস্যের বিরুদ্ধেই যদি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার ক্ষেত্রেও প্রচলিত আইন ও বিভাগীয় বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকার ট্রাফিকে এআইয়ের ব্যবহার

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক খনন ও নির্মাণকাজের ধরনেও পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো সড়ক একসঙ্গে কেটে দীর্ঘ সময় ফেলে না রেখে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে দ্রুত পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর যানজটের একটি বড় উৎস সড়ক উন্নয়নকাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবস্থাপনার এই দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিসেম্বর ঘিরে বাড়তি নজর

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যের শেষাংশে ডিসেম্বরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস’; এ সময়ে কোনো অপশক্তিকে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদারের ঘোষণাটি একই ধারায় পড়ছে। অর্থাৎ সামনে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

দুই কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ঝুলছে তালা

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
দুই কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ঝুলছে তালা

বগুড়ার শেরপুরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি সাত বছরেও নিয়মিত কার্যক্রমে আসেনি। ২০১৯ সালে হস্তান্তর করা তিনতলা ভবনটির প্রধান ফটকে এখন ঝুলছে তালা। চারপাশে আগাছা, বাউন্ডারি দেয়ালের কয়েকটি অংশ ভাঙা এবং কোথাও কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক বন্ধ। ভবনের ভেতরে নিয়মিত কোনো কার্যক্রম নেই। ফটকের বাইরে ও চারপাশে আগাছা জমেছে। বাউন্ডারি দেয়ালের কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। ভবনে দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী বা অন্য কোনো কর্মীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গার ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এর চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯ হাজার ২০৭ টাকা। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় মার্কেট এবং তৃতীয় তলায় অফিস, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম ও মিউজিয়ামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মার্কেটে রয়েছে ছয়টি দোকান। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল ১ হাজার ২০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক ও দাফতরিক কার্যক্রম, সভা-সেমিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাতীয় দিবসের কর্মসূচি পালনের কথা। ভবনের দোকান ও বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া বা বরাদ্দ থেকে পাওয়া অর্থ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে শেরপুরে বর্তমানে সেই উদ্দেশ্যে ভবনটির নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৮১ জন। এর মধ্যে ৯২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শতাধিক জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন।

শেরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ভবনটি বুঝে পাওয়ার পর কমিটি না থাকায় সেখানে তেমন কোনো কার্যক্রম ছিল না। ২০২৫ সালে নতুন এডহক কমিটি হওয়ার পর কিছু দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে ৫ আগস্টের পর সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়।

ভবন থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভাঙচুরের পর জেনারেটর, সোলার, পানির পাম্প, থাই গ্লাস ও বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত চুরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে দেখাশোনার জন্য কেউ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশের বাড়ির একজন ব্যক্তি ভবনটি দেখাশোনা করতেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভবন নির্মাণের পর কিছু সময় সেখানে কার্যক্রম চললেও বর্তমানে নিয়মিত মানুষের আনাগোনা নেই। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভবনের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিয়মিত কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেছেন। ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করে সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই যোদ্ধাদের ওই ভবনে বসার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি জানিয়ে ইউএনও বলেন, পুরো ভবন সংস্কারে অনেক অর্থের প্রয়োজন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ কোথায়?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ  বাংলাদেশ কোথায়?

সাত বছরের মাহিদা আক্তার স্কুলে যাওয়ার বয়সী শিশু। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে তাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মিলেছে; অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। একই দিনে বাগেরহাটের মোল্লাহাটে সাত বছরের মুসলিমা খাতুনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগে জামালপুরের মাদারগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিল সাত বছরের মরিয়ম বুশরা।

  • ধর্ষণ-হত্যা-নিখোঁজের ধারাবাহিকতায় ভেঙে পড়ছে সুরক্ষার বলয়
  • প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও রয়ে যাচ্ছে নীরব সহিংসতার বড় অংশ
  • পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সুরক্ষার প্রতিটি স্তরে প্রশ্ন

তিন দিন পর উদ্ধার হয় তার মরদেহ। পুলিশ বলেছে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে মরদেহ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ঘটনাগুলো আলাদা জেলার, আলাদা পরিবারের। কিন্তু নির্মমতার ধরন প্রায় একই। ভুক্তভোগী শিশু। বয়স সাত। আর তিন ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার স্বাভাবিক বলয় ভেঙে গেছে। প্রশ্নটি তাই ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে—কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ জায়গা কোথায়?

পরিসংখ্যানের আড়ালে শিশুর মুখ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পর কিংবা ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে ১৭ জনকে। শুধু আগস্টেই ৩৬ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অন্তত পাঁচ কন্যাশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিভিন্ন ঘটনায় ৩৬ কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছে।

পরিসংখ্যানগুলো অবশ্য পুরো চিত্র নয়। কারণ এসব তথ্যের বড় অংশই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা কিংবা সংগৃহীত অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল। পরিবার, সামাজিক চাপ, ভয়, প্রভাবশালীদের হুমকি কিংবা ‘সম্মান’ রক্ষার মানসিকতায় অনেক ঘটনা প্রকাশই পায় না। ফলে প্রকাশিত সংখ্যার বাইরে থাকা নীরব সহিংসতার পরিমাণ কত—তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই।

নিখোঁজ মানেই নতুন আশঙ্কা
কন্যাশিশুদের নিরাপত্তার সংকট শুধু ধর্ষণ বা হত্যায় সীমাবদ্ধ নয়। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও পরিবারগুলোর জন্য তৈরি করছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা। মুনঅ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় ২৫৪টি নিখোঁজ অ্যালার্টের মধ্যে ৩৭টি কন্যাশিশুর। তাদের পরিবার এখনো অপেক্ষায়। কারও সন্ধান মিলবে কি না, তারা জীবিত আছে কি না—এই অনিশ্চয়তাই হয়ে উঠেছে স্বজনদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে সাত বছরের এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ বলেছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয় ফসলের ক্ষেত থেকে। এসব ঘটনা দেখায়, নিখোঁজের প্রতিটি অভিযোগকে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা কতটা জরুরি।

অপরাধের বয়স কমছে, নিরাপত্তা বাড়ছে না
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা, যৌন নিপীড়ন, দৈহিক নির্যাতন, আঘাত, অঙ্গহানি এবং ধর্ষণের পর হত্যার মতো অপরাধ ঘটছে। ভুক্তভোগীদের বয়স পাঁচ থেকে ১৫-১৬ বছর পর্যন্ত। অর্থাৎ যে বয়সে শিশুর প্রধান নিরাপত্তা বলয় হওয়ার কথা পরিবার, স্কুল ও সমাজ—সেই বয়সেই তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার লক্ষ্য হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু তদন্তে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, মোবাইলে রিলস ও উত্তেজক কনটেন্ট দেখার প্রবণতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণগত নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি বিকৃত মানসিকতা ও অপরাধপ্রবণতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কোনো প্রযুক্তি বা কনটেন্টকে একক কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। অপরাধের দায় শেষ পর্যন্ত অপরাধীরই। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক পরিবেশ, অনলাইন নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগের দুর্বলতাগুলোও আলাদা করে দেখতে হবে।

২০২৫-এর চিত্রও ছিল ভয়াবহ
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার ৭৮৬ জনের মধ্যে ৫৪৩ জনই কন্যাশিশু। ওই বছর ১৭৯ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়, যার মধ্যে ১০৪ জন কন্যাশিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৩১ জনকে—তাদের মধ্যে ১৮ জন কন্যাশিশু।

একই সময়ে ১৮৮ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন; তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জন কন্যাশিশু। যৌন নিপীড়নের শিকার ১৬৯ জনের ১১২ জনই কন্যাশিশু। সাইবার সহিংসতার শিকারও হয়েছে ছয় কন্যাশিশু। এক বছরের তথ্যই দেখিয়ে দেয়, এটি বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধের ধারাবাহিকতা নয়। বরং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার একাধিক ধরন একই সঙ্গে সক্রিয়।

নীরবতাই অপরাধীর শক্তি
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. মাখদুমা নার্গিসের মতে, কন্যাশিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, যৌন সহিংসতার পাশাপাশি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেও শিশুরা হত্যা ও নিখোঁজের শিকার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক নীরবতা, ভিকটিম ব্লেমিং, প্রভাবশালীদের চাপ এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে।

এই বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রকাশিত ঘটনা আর প্রকৃত ঘটনার মধ্যে ব্যবধান। কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর পরিবার যদি মামলা করতে ভয় পায়, স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চাপ আসে কিংবা সামাজিক লজ্জার ভয়ে ঘটনা গোপন থাকে, তাহলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা শুধু আইনে নয়, প্রয়োগে
কন্যাশিশু সুরক্ষায় দেশে আইন আছে। কিন্তু আইন থাকা আর তার দ্রুত ও কার্যকর প্রয়োগ এক বিষয় নয়। একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ষণের অভিযোগে দ্রুত চিকিৎসা, আলামত সংরক্ষণ, শিশুবান্ধব জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্ভরযোগ্য তদন্ত জরুরি। বিচারপ্রক্রিয়াও হতে হবে দ্রুত ও ভুক্তভোগীবান্ধব।

একই সঙ্গে স্কুল, পাড়া-মহল্লা ও অনলাইন পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা দরকার। অভিভাবকের সচেতনতা যেমন জরুরি, তেমনি শিশুদেরও শেখাতে হবে কোথায়, কীভাবে এবং কার কাছে বিপদের কথা জানাতে হবে। মাহিদা, মুসলিমা, বুশরা কিংবা নিখোঁজ ৩৭ কন্যাশিশু—তাঁরা কোনো পরিসংখ্যানের সংখ্যা নন। প্রত্যেকের ছিল পরিবার, স্বপ্ন, স্কুল, বন্ধুত্ব আর ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়। রাষ্ট্র যদি শিশুর জন্য নিরাপদ পথ, নিরাপদ প্রতিষ্ঠান ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে ‘শিশু সুরক্ষা’ শব্দটি কাগজেই থেকে যাবে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে