খুঁজুন
                               
, ,
           

৬৯ বছর বয়সে স্ত্রীর চিতাভস্ম সঙ্গে নিয়ে সাইকেলে বিশ্বজয়

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
৬৯ বছর বয়সে স্ত্রীর চিতাভস্ম সঙ্গে নিয়ে সাইকেলে বিশ্বজয়

প্রিয় মানুষটিকে হারানোর পর শূন্যতা গ্রাস করেছিল জীবন। ২৫ বছরের সংসারের সঙ্গী, আত্মার বন্ধু জ্যাকিকে ক্যানসারের কাছে হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন কানাডার মার্ক হার্বস্ট। কিন্তু সেই শোক তাঁকে থামিয়ে দেয়নি। বরং স্ত্রীকে দেওয়া এক প্রতিশ্রুতিই হয়ে উঠল নতুন পথচলার শক্তি। ৬৯ বছর বয়সে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন পৃথিবী প্রদক্ষিণে। সঙ্গে নিলেন প্রিয়তমা স্ত্রীর চিতাভস্ম। দীর্ঘ ৩২৪ দিনের সেই অভিযানে ৩০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত গড়লেন বিশ্বরেকর্ড।

শুধু নিজের স্বপ্ন পূরণ নয়, মার্কের এই যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ক্যানসার গবেষণায় সহায়তা এবং প্রবীণদের জন্য একটি বার্তাও—ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স কখনোই স্বপ্নের পথে শেষ কথা নয়।

২৫ বছরের সঙ্গী হারানোর পর বদলে গেল জীবন

জ্যাকি ছিলেন মার্কের কাছে শুধু স্ত্রী নন, ছিলেন তাঁর আত্মার সঙ্গী ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সাত বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০২১ সালে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে মারা যান জ্যাকি।

প্রিয় মানুষটির মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরেই নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন মার্ক। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষকে নিজের স্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জ্যাকি আমার সবকিছু ছিল, আমার আত্মার সঙ্গী এবং আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’ জ্যাকির অসম্পূর্ণ ইচ্ছাগুলোর কিছু পূরণ করার পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিকে বিশ্বভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্তে বাঁচিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেন মার্ক।

ব্যাংকক থেকে শুরু, আবার সেখানেই প্রত্যাবর্তন

২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে শুরু হয় মার্কের ঐতিহাসিক যাত্রা। লক্ষ্য ছিল একটাই—সাইকেলে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা। এরপর একের পর এক দেশ পেরিয়ে এগিয়ে যান তিনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে মধ্য ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র—দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে ২৫টি দেশ অতিক্রম করেন তিনি। ৩২৪ দিন পর, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর আবারও ব্যাংককের সেই জায়গায় ফিরে আসেন মার্ক। তাঁর সাইকেলের চাকা তখন ঘুরে ফেলেছে ৩০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ।

সঙ্গে ছিল জ্যাকির চিতাভস্ম

এই বিশ্বভ্রমণের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায় ছিল জ্যাকির উপস্থিতি। জীবিত অবস্থায় জ্যাকি যেসব জায়গায় যেতে চেয়েছিলেন, সেসব স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন মার্ক। সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রীর চিতাভস্ম। যেসব জায়গা জ্যাকি দেখতে চেয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে তাঁর চিতাভস্ম ছড়িয়ে দেন মার্ক। ফলে প্রতিটি গন্তব্য তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল স্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া একেকটি স্মৃতি। এক অর্থে, পৃথিবীর চারপাশে এই দীর্ঘ সাইকেলযাত্রায় মার্ক একা ছিলেন না—সঙ্গী ছিলেন তাঁর প্রিয় জ্যাকির স্মৃতিও।

রেকর্ডের চেয়ে বড় ছিল অন্য একটি লক্ষ্য

মার্কের অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু গিনেস রেকর্ডে নাম তোলা ছিল না। ক্যানসারে স্ত্রীকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই ক্যানসার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তিনি। অভিযানের মাধ্যমে কানাডার প্রিন্সেস মার্গারেট ক্যানসার ফাউন্ডেশনের জন্য প্রায় ৬৮ হাজার কানাডিয়ান ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ তাঁর ব্যক্তিগত শোকের গল্পটি শেষ পর্যন্ত ক্যানসার গবেষণায় সহায়তার একটি উদ্যোগেও রূপ নেয়।

অচেনা মানুষ হয়ে উঠলেন আপন

হাজার হাজার কিলোমিটারের এই যাত্রায় পথের কষ্ট যেমন ছিল, তেমনি ছিল মানুষের ভালোবাসাও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পেয়েছেন অকৃত্রিম সহযোগিতা।

মালয়েশিয়ায় পুলিশ তাঁকে এসকর্ট দিয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এক নারী তাঁর ক্যাফেতে রাতে থাকার সুযোগ করে দেন। আবার অনেক অপরিচিত মানুষ নিজেদের বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছেন তাঁর জন্য। কেউ দিয়েছেন খাবার, কেউ থাকার জায়গা, কেউবা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। এই ছোট ছোট মানবিক মুহূর্তগুলোই মার্কের দীর্ঘ অভিযানের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হয়ে ওঠে।

৬৯ বছর বয়সে নতুন ইতিহাস

মার্কের এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও এসেছে। সাইকেলে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খেতাব এখন তাঁর এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ৬৬ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার বেনেট। মার্ক তাঁর চেয়ে তিন বছর বেশি বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

তবে মার্কের গল্পে সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাঁর যাত্রার কারণ। স্ত্রীকে হারানোর বেদনা, তাঁর স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া, ক্যানসার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বয়সকে উপেক্ষা করে নতুন স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি বিশ্বভ্রমণের গল্প নয়; বরং ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি ও অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য কাহিনি।

জ্যাকিকে হারানোর চার বছর পরও তাঁর স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবী ঘুরে দেখলেন মার্ক। আর সেই যাত্রার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে হাতে উঠল বিশ্বরেকর্ড—যেন প্রিয় মানুষটিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির এক প্রতীকী পূর্ণতা।

কালের আলো/জেএন

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।  তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ। সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ।

সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

একজন তরুণের হাতে মুঠোফোন বা মাদকের বদলে যদি থাকে খেলার সরঞ্জাম, সামনে থাকে নিয়মিত অনুশীলন আর লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব—তাহলে বদলে যেতে পারে তার ভবিষ্যতের গতিপথ। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে। তাঁর ভাষায়, ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে যুবসমাজই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এদিন, মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা—একদিকে মাদক থেকে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, অন্যদিকে তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা।

  • ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়’—কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে সমাজকল্যাণমন্ত্রী
  • শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান,
  • ৭৯ দলের প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ

মাদক থেকে দূরে রাখতে চাই বিকল্প ও সম্ভাবনার পথ
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার আলোচনা প্রায়ই সচেতনতা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে তরুণদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত করার বিষয়টি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র পাবে।

খেলাধুলা নিয়মশৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু এসব সুফল পেতে শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ প্রশিক্ষক, সহজলভ্য মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পরিচর্যা।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়াতে পারবে। এ বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবারের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ক্রীড়াচর্চায় অংশগ্রহণের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে।

দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি চিন্তা ও কাজের শুরুতেই থাকতে হবে দেশ। তাঁর এই বক্তব্যে তরুণদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মিলিতভাবে লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫৯ ইভেন্টে লড়াই, অংশ নিলেন প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগী
দুই দিনব্যাপী ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ দেশের ৭৯টি দলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। মোট ৫৯টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খেলোয়াড়েরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, সোতোকান কারাতে দো ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শাহজাদা আলম। এ ছাড়া ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়েরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে