খুঁজুন
                               
, ,
           

রাড্ডা কাণ্ড: এমপি পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
রাড্ডা কাণ্ড: এমপি পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে মিষ্টি হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও চলছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাড্ডা সেন্টারের ঘটনা ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। দল ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

এর মধ্যেই মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

মহুরী-কহুয়া প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
মহুরী-কহুয়া প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ‘মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে নদী খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি নথি অনুযায়ী, মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল এপ্রিল ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ পর্যন্ত।

প্রকল্পটির আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ফেনীর সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়তে রাজশাহীতে সিভিল সার্জনের তৎপরতা

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়তে রাজশাহীতে সিভিল সার্জনের তৎপরতা

রাজশাহী জেলার উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দালালমুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিমের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী জেলায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সিভিল সার্জন জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবা, ওষুধ সরবরাহ, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, পানি ও বেড ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্রের তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা সহজ করা এবং বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত কুমার সরকার বলেন, সিভিল সার্জনের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে তাঁরা কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং হাসপাতালকে নিজের পরিবারের মতো দেখভালের বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কুমার কর্মকার বলেন, সিভিল সার্জন দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের কাজের গতি বেড়েছে। হাসপাতালে আসা প্রতিটি রোগীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে সেবা দেওয়ার বিষয়ে তিনি চিকিৎসকদের উৎসাহিত করেন।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তাঁদের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালকে দালালমুক্ত রাখার পাশাপাশি রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন তাঁরা।

এদিকে অনিবন্ধিত ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। তাঁর দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি কমছে। পাশাপাশি এনজিওগুলোর সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার মান মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁরা কাজ করছেন। জেলার উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত ও রোগীবান্ধব পরিবেশে পরিচালনার চেষ্টা চলছে। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনিবন্ধিত ও মানহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে এর সরাসরি সুফল পাবেন সাধারণ রোগীরা। তবে এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক তিনটি আইনের অধীনে পরিচালিত বাহিনীকে এবার একটি সমন্বিত আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘আনসার বাহিনী আইন’ বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলবে।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অডিটোরিয়ামে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ ও ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।

  • পৃথক তিন আইন বিলুপ্ত করে সমন্বিত কাঠামোর উদ্যোগ
  • তেজগাঁওয়ে হচ্ছে আধুনিক সদর দপ্তর
  • এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে আনা হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়

তিন আইন থেকে এক কাঠামো

বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আনসার বাহিনী আইন, ১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন, ১৯৯৫’—এই তিনটি পৃথক আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা হলো পৃথক এই আইনি কাঠামোগুলোকে একটি একক আইনের অধীনে নিয়ে আসা। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একাধিক আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও একক আইন প্রণয়ন করে তার অধীনে আধুনিক বিধিমালা তৈরি করা হলে বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আইনিভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথক আইনের বদলে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হলে বাহিনীর বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করার পথও সহজ হতে পারে।

তেজগাঁওয়ে আধুনিক সদর দপ্তর

আইনি সংস্কারের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিত্যক্ত জমি আইনানুগভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক আনসার সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরিকল্পিত বহুতল ভবনের সঙ্গে থাকবে আধুনিক কমান্ড সেন্টার। এখান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক সদর দপ্তর ও কমান্ড সেন্টার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে আনসারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

নিরাপত্তায় বাড়ছে আনসারের ভূমিকা 

জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, উচ্ছেদ অভিযান, অপরাধ দমন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলেন তিনি। বাহিনীটির দায়িত্বের পরিধি যে শুধু প্রথাগত নিরাপত্তা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা স্পষ্ট। জননিরাপত্তার বিভিন্ন স্তরে আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’

এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা 

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।’

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’র মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম। মন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এতে আনসার-ভিডিপির প্রচলিত নিরাপত্তা ভূমিকার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও আরও গতি আসবে।

ইতিহাস থেকে আধুনিকায়নের পথে

অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপির ঐতিহাসিক বিকাশও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৬ সালে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দর্শনের কথা উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন এবং ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন প্রস্তাবিত একক আইন ও আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় মনিটরিং এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়ন বাহিনীটির প্রচলিত কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

একই সংস্কারধারার চারটি উদ্যোগ 

একটি একক আইন, আধুনিক সদর দপ্তর, কমান্ড সেন্টার এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ—চারটি উদ্যোগকে একই সংস্কারধারার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বাহিনীর সক্ষমতাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে।’ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, উদ্ভাবন, জবাবদিহিতা ও সততার ভিত্তিতে নতুন সদর দপ্তরটি জনসেবার একটি আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে