খুঁজুন
                               
, ,
           

আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
আনসারে ‘এক আইন, এক কমান্ড’

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোয় নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক তিনটি আইনের অধীনে পরিচালিত বাহিনীকে এবার একটি সমন্বিত আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ‘আনসার বাহিনী আইন’ বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ খুলবে।

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অডিটোরিয়ামে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ ও ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।

  • পৃথক তিন আইন বিলুপ্ত করে সমন্বিত কাঠামোর উদ্যোগ
  • তেজগাঁওয়ে হচ্ছে আধুনিক সদর দপ্তর
  • এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে আনা হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়

তিন আইন থেকে এক কাঠামো

বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আনসার বাহিনী আইন, ১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন, ১৯৯৫’—এই তিনটি পৃথক আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা হলো পৃথক এই আইনি কাঠামোগুলোকে একটি একক আইনের অধীনে নিয়ে আসা। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একাধিক আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও একক আইন প্রণয়ন করে তার অধীনে আধুনিক বিধিমালা তৈরি করা হলে বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আইনিভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথক আইনের বদলে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হলে বাহিনীর বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করার পথও সহজ হতে পারে।

তেজগাঁওয়ে আধুনিক সদর দপ্তর

আইনি সংস্কারের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিত্যক্ত জমি আইনানুগভাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক আনসার সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হবে। পরিকল্পিত বহুতল ভবনের সঙ্গে থাকবে আধুনিক কমান্ড সেন্টার। এখান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক সদর দপ্তর ও কমান্ড সেন্টার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে আনসারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

নিরাপত্তায় বাড়ছে আনসারের ভূমিকা 

জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ নিরাপত্তা কার্যক্রম, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, উচ্ছেদ অভিযান, অপরাধ দমন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার এবং দালালবিরোধী কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ততার কথা বলেন তিনি। বাহিনীটির দায়িত্বের পরিধি যে শুধু প্রথাগত নিরাপত্তা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা স্পষ্ট। জননিরাপত্তার বিভিন্ন স্তরে আনসার সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’

এক লাখ স্বেচ্ছাসেবককে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা 

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।’

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ এবং ‘প্রান্তিক সংযোগ’ ও ‘প্রান্তিক শক্তি’র মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম। মন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এতে আনসার-ভিডিপির প্রচলিত নিরাপত্তা ভূমিকার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও আরও গতি আসবে।

ইতিহাস থেকে আধুনিকায়নের পথে

অনুষ্ঠানে আনসার-ভিডিপির ঐতিহাসিক বিকাশও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৬ সালে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দর্শনের কথা উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন এবং ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক প্রদানের মাধ্যমে বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এখন প্রস্তাবিত একক আইন ও আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে সেই কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, কেন্দ্রীয় মনিটরিং এবং প্রশিক্ষণভিত্তিক মানবসম্পদ উন্নয়ন বাহিনীটির প্রচলিত কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

একই সংস্কারধারার চারটি উদ্যোগ 

একটি একক আইন, আধুনিক সদর দপ্তর, কমান্ড সেন্টার এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ—চারটি উদ্যোগকে একই সংস্কারধারার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা ও তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বাহিনীর সক্ষমতাকে প্রযুক্তিনির্ভর করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সদর দপ্তরকে কেন্দ্র করে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে।’ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুশাসন, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, উদ্ভাবন, জবাবদিহিতা ও সততার ভিত্তিতে নতুন সদর দপ্তরটি জনসেবার একটি আধুনিক মডেল হিসেবে গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি