খুঁজুন
                               
, ,
           

বিসিএস ৬১১-এর পর ৪৬, প্রজ্ঞাপন সোমবার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
বিসিএস ৬১১-এর পর ৪৬, প্রজ্ঞাপন সোমবার

৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ নিয়ে কয়েক দিনের ধোঁয়াশার মধ্যে এবার সময়সীমা দিল সরকার। বাকি ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো প্রার্থীর নিয়োগে বৈষম্য করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

  • সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়ে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
  • রাজনৈতিক পরিচয়ে বৈষম্য নয়
  • ভেরিফিকেশন হবে বিধি অনুযায়ী

এক ঘোষণায় বদলে গেল অপেক্ষার চিত্র

নিয়োগপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার কেন্দ্রে এখন একটি তারিখ—৫ অক্টোবর। প্রথম দফায় ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপনের পর বাকি প্রার্থীদের নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। কেউ বাদ পড়েছেন কেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া কোথায় আটকে আছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো প্রভাব পড়েছে কি না—এসব প্রশ্ন ঘুরছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা সব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার (৫ অক্টোবর) জারি হবে।

তবে এই প্রক্রিয়াকে শুধু একটি তারিখ ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি মন্ত্রী। প্রজ্ঞাপনের আগে প্রশাসনিক কিছু ধাপ সম্পন্ন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ফাইল রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত যাওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটিও সরকারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

সংখ্যার বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সংখ্যা ঘিরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে ছড়ানো তথ্যের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পিএসসি থেকে ৬৬৮ জনকে সুপারিশ করার কথা থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৬৫ জন—এমন বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়েছে। পরে যাচাইয়ে ৬৫৭ জনের বিষয়টি আসে। তাদের মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে জারি হয়েছে। বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপনও নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে জারি করা হবে।’ নিয়োগসংক্রান্ত সংখ্যাগুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে আসার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর এই বক্তব্যই বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ ব্যাখ্যা। এখন সেই বক্তব্যের সবচেয়ে দৃশ্যমান বিষয় হলো—৬১১ জনের পর ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ‘না’

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটি সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় যেটিই হোক, নিয়োগ বা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সে কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না।’ সরকারের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের কারণে। কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় তাঁর নিয়োগের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না—মন্ত্রী প্রকাশ্যেই এমন নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ফলে এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রযোজ্য বিধি, যোগ্যতা এবং বাধ্যতামূলক যাচাইপ্রক্রিয়াই প্রাসঙ্গিক—মন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেটিই স্পষ্ট হয়েছে।

ভেরিফিকেশন থাকবে, রাজনৈতিক ছাঁকনি নয় 

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য না করার ঘোষণা মানে নিয়োগের আগে যাচাই বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং পুলিশ ভেরিফিকেশনকে নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতে দণ্ডের বিষয় থাকলে বিধি অনুযায়ী তা যাচাই করা হবে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

এই জায়গাটিই এদিনের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাজনৈতিক পরিচয় এবং অপরাধসংক্রান্ত যাচাইকে এক কাতারে না রেখে আলাদা করে দেখিয়েছে সরকার। একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় কী—সেটি নিয়োগে বৈষম্যের কারণ হতে পারবে না। অন্যদিকে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতের দণ্ড থাকলে সেটি বিধি অনুযায়ী যাচাইয়ের আওতায় আসবে।

‘সব সরকারের সময়ই ভেরিফিকেশন’

পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভেরিফিকেশন সব সরকারের সময়ই বিধি অনুযায়ী হয়ে থাকে।’ বর্তমানে ভেরিফিকেশনের কারণে কারও নিয়োগ হচ্ছে না—এমন ধারণা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কারণে নিয়োগ না হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ বা আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। অর্থাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রশাসনিকভাবে সেটি জানানোর সুযোগও থাকছে।

এখন আর গুজব নয়, সোমবারই বড় পরীক্ষা 

নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়ানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উত্তেজনা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সরকারের ঘোষণার পর এখন আলোচনার কেন্দ্রও বদলে গেছে। সময় নির্ধারিত হয়েছে ৫ অক্টোবর। আর অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে—রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য করা হবে না; পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে বিধি অনুযায়ী।

এখন সেই অবস্থানের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাবে প্রজ্ঞাপনে। ৪৬ জনের নিয়োগের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ অপেক্ষার একটি বড় অংশের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোরও অনেকটা পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই ৫ অক্টোবর শুধু আরেকটি প্রশাসনিক তারিখ নয়; ৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ নিয়ে সরকারের ঘোষিত অবস্থান বাস্তবে প্রতিফলিত হওয়ার দিনও।

কালের আলো/এমএএএমকে 

ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সময় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসে চড়ার ছবি ঘিরে ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত এ নির্দেশ দেন।

ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে মামলা
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

পোস্টের ক্যাপশনে লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘মো. আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মামলার এজাহারে মন্তব্যটিকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তের দাবি পুলিশের
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মন্তব্য করা ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় তার বাবার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মোবাইল ফোন জব্দ, আরও তদন্তের আবেদন
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত আবেদনে দাবি করা হয়।

মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করার জন্য আবু বকর সিদ্দিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলার তদন্ত ও অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য বাধা দূর করার তাগিদ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য বাধা দূর করার তাগিদ

রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ লক্ষ্যে পণ্যের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সহজ করা, বাজারে প্রবেশের বাধা চিহ্নিত করা এবং বিভিন্ন খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মস্কোয় রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কাউন্সিলের সাংগঠনিক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের কার্যক্রম, দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবে কাউন্সিল
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পাদালকো। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতেই রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।

তার মতে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের বাজারসংক্রান্ত বিশ্লেষণ তৈরি, সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত চিহ্নিত করা এবং বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো খুঁজে বের করা কাউন্সিলের প্রধান কাজ হবে। বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী রুশ কোম্পানিগুলোকে ব্যক্তিগত পর্যায়েও সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাদালকো আরও বলেন, কাউন্সিল রাশিয়া-বাংলাদেশ আন্তঃসরকার কমিশনের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রস্তাব একত্র করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সরকারি পর্যায়ে তুলে ধরবে।

ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে বাণিজ্যে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা
রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। কাউন্সিলের কার্যক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাস সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক গুরুত্ব
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় এশিয়া বিভাগের প্রধান ভ্যাচেস্লাভ এরমোলায়েভ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তবে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা এবং পণ্য তালিকা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ব্যবসায়িক লেনদেন সহজ করা এবং আরও বেশি ধরনের পণ্য দুই দেশের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা গেলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

জ্বালানি থেকে তথ্যপ্রযুক্তি, সম্ভাবনাময় একাধিক খাত
রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান আনাস্তাসিয়া রোমানোভা বলেন, বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ফলে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃসরকার কমিশনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি জ্বালানি, রসায়ন, কৃষি-শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মিয়া সাত্তার জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো এবং হালকা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তুলে ধরেন। সম্ভাব্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও শস্য গুদাম নির্মাণ এবং ঢাকায় রাশিয়ার সাবেক ট্রেড রিপ্রেজেন্টেশনের জায়গায় একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলা। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবগুলো এখনো সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবেই আলোচনায় রয়েছে।

পোশাক ও খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে নতুন সুযোগ
মিয়া সাত্তার জানান, রুশ কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী আমদানি করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো।

রাশিয়া ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য সরবরাহকারীদের অ্যাক্রেডিটেশন বা অনুমোদন পাওয়ার কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন মিয়া সাত্তার। তার মতে, পণ্যের মান যাচাই ও সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা না গেলে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সার্টিফিকেশন জটিলতা কমানোর প্রস্তাব
বাণিজ্য সম্প্রসারণের বাধা দূর করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন মিয়া সাত্তার। তার মতে, পণ্যের মান যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ হলে রপ্তানিকারকদের সময় ও ব্যয় কমতে পারে। এতে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশকে প্রায়ই শুধু বস্ত্রশিল্প ও রূপপুর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। এই ধারণা বদলাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের পণ্য ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরা জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত তথ্য পোর্টাল চালু, খাতভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং রুশ চেম্বার ও রাশিয়ান এক্সপোর্ট সেন্টারের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

নিয়মিত ব্যবসায়িক যোগাযোগে গুরুত্ব
মিয়া সাত্তার বলেন, শুধু একটি ফোরাম গঠন করাই যথেষ্ট নয়; বরং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত ব্যবসা-টু-ব্যবসা বা বিটুবি যোগাযোগ প্রয়োজন। এ জন্য কাউন্সিলের অধীনে স্থায়ী খাতভিত্তিক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এসব গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। বৈঠকে ‘প্রডইনটর্গ’-এর জেনারেল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার সিরতসেভ বাংলাদেশে রুশ সার ও শস্য সরবরাহের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কৃষি-শিল্পবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন।

নভেম্বরে ঢাকায় ব্যবসায়ীদের বৈঠকের প্রস্তুতি
বৈঠকে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট এবং ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। স্তানিস্লাভ সিমাকোভকে কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আগামী নভেম্বরে আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকের ফাঁকে ঢাকায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের মহাসচিব ভ্লাদিমির পোলজকভ, এসএমই করপোরেশনের ইভজেনিয়া ইগোরোভা, রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট তাতিয়ানা বেলকেভিচ এবং নোভাটেকের সালতানাত সাকামবায়োভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

ইন্টারনেটের অদৃশ্য নেটওয়ার্কে হামলার হুমকি ইরানের, কতটা ঝুঁকিতে বিশ্ব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেটের অদৃশ্য নেটওয়ার্কে হামলার হুমকি ইরানের, কতটা ঝুঁকিতে বিশ্ব?

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এবার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট যোগাযোগের নিরাপত্তা নিয়ে। হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে বাড়লে এসব কেবলসহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোয় হামলা হতে পারে—ইরানি কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০ অক্টোবর তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা যোগাযোগ কেবলের কথা উল্লেখ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, তিনি নতুন লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র উন্মোচনের হুঁশিয়ারি দেন। তবে ওই বক্তব্যে কেবলগুলোতে হামলার নির্দিষ্ট সময় বা পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

নতুন করে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
মোহেব্বির বক্তব্যের এক দিন পর, ২১ অক্টোবর আইআরজিসির রাজনৈতিক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি আরও স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের নিজস্ব অবকাঠামোয় হামলা হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশের ইন্টারনেট কেবলও নিরাপদ থাকবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ওই অঞ্চলে থাকা বিনিয়োগ ও অবকাঠামোকে পাল্টা পদক্ষেপের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়িও সতর্ক করেছিলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডেটা সেন্টার, সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ফলে সামরিক স্থাপনার বাইরেও বাণিজ্যিক ও ডিজিটাল অবকাঠামো সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সমুদ্রের নিচে কীভাবে চলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট?
অনেকে মনে করেন, ইন্টারনেটের তথ্য আদান-প্রদান মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হয়। বাস্তবে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগের বড় অংশই সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করা ফাইবার-অপটিক কেবলের ওপর নির্ভরশীল। এসব কেবলের মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়।

আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ব্যবহার, ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউডভিত্তিক সেবা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরিবহনে এসব কেবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একাধিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে, যোগাযোগে বিলম্ব তৈরি হতে পারে কিংবা কিছু সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

তবে একটি বা কয়েকটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেই পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে বিকল্প পথ ও একাধিক কেবল ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে কোন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিকল্প পথে কতটা তথ্য পাঠানো সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নেটওয়ার্ক কতটা নির্ভরশীল তার ওপর।

হরমুজের ঝুঁকি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশে সমুদ্রতলের যোগাযোগ অবকাঠামোও রয়েছে। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

ইরানের হুমকির তাৎপর্য এখানেই—সমুদ্রপথের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে শুধু জাহাজ চলাচল নয়, আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রবাহের ওপরও চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তবে হরমুজের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি কেবলের বিষয়ে আইআরজিসির বক্তব্য থাকলেও, সেগুলোর সবকটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিক কতটা বৈশ্বিক ট্রাফিক ব্যাহত হবে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

লোহিত সাগরেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিও আন্তর্জাতিক ডেটা যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একাধিক সাবমেরিন কেবল এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিস্তৃত হলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ একই সময়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আল জাজিরার ১৩ অক্টোবরের বিশ্লেষণে লোহিত সাগর অঞ্চলের কেবল ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। সেখানে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সমুদ্রতলের অবকাঠামোর ঝুঁকির বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

তবে হরমুজ ও লোহিত সাগরের কেবল একই পথে অবস্থিত নয়। কোনো একটি অঞ্চলে হামলা হলে অন্য অঞ্চলের সব কেবলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অচল হয়ে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ঝুঁকি নির্ভর করবে ক্ষতিগ্রস্ত কেবলের অবস্থান, নেটওয়ার্কের বিকল্প ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর।

ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোও উদ্বেগের কেন্দ্রে
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছে। এসব স্থাপনা ইন্টারনেট কেবল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। ফলে সামরিক সংঘাতে কেবল, ডেটা সেন্টার বা বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা ও অনলাইন সেবায় প্রভাব পড়তে পারে।

চলতি বছরের মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) অবকাঠামোতে ড্রোন হামলার পর কিছু স্থাপনায় শারীরিক ক্ষতি ও সেবা বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনা দেখিয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ডিজিটাল সেবাতেও পৌঁছাতে পারে। তবে ডেটা সেন্টারে হামলা এবং সমুদ্রতলের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা আলাদা; দুটির প্রভাবও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামত কতটা কঠিন?
সমুদ্রের গভীরে স্থাপিত ফাইবার-অপটিক কেবল মেরামত করা সময়সাপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজ। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করার পর বিশেষায়িত জাহাজের মাধ্যমে কেবল তুলে এনে মেরামত করতে হয়। সমুদ্রের গভীরতা, আবহাওয়া, ক্ষতির ধরন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কাজের সময় নির্ভর করে।

সংঘাতপূর্ণ জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বাধা থাকলে মেরামতের কাজ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে বিকল্প কেবলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং কিছু অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি, ক্লাউড সেবা কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এখনই কি বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা?
ইরানি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিন্তু হুমকি দেওয়া আর বাস্তবে কেবল কেটে দেওয়া এক বিষয় নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে হরমুজের সব কেবলে হামলা হয়েছে বা বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট বিপর্যয় আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

তবে সংঘাত বাড়লে সমুদ্রতলের কেবল, ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সামরিক চাপের অংশ হয়ে উঠতে পারে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ব্যবহারকারীর যোগাযোগব্যবস্থাও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতি যে অদৃশ্য নেটওয়ার্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, হরমুজকে ঘিরে এই হুমকি আবারও তা সামনে এনেছে। সমুদ্রের গভীরে থাকা কয়েকটি কেবল এখন তাই শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন