খুঁজুন
                               
, ,
           

বিসিএস ৬১১-এর পর ৪৬, প্রজ্ঞাপন সোমবার

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
বিসিএস ৬১১-এর পর ৪৬, প্রজ্ঞাপন সোমবার

৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ নিয়ে কয়েক দিনের ধোঁয়াশার মধ্যে এবার সময়সীমা দিল সরকার। বাকি ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো প্রার্থীর নিয়োগে বৈষম্য করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।

  • সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ নিয়ে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
  • রাজনৈতিক পরিচয়ে বৈষম্য নয়
  • ভেরিফিকেশন হবে বিধি অনুযায়ী

এক ঘোষণায় বদলে গেল অপেক্ষার চিত্র

নিয়োগপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার কেন্দ্রে এখন একটি তারিখ—৫ অক্টোবর। প্রথম দফায় ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপনের পর বাকি প্রার্থীদের নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। কেউ বাদ পড়েছেন কেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া কোথায় আটকে আছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো প্রভাব পড়েছে কি না—এসব প্রশ্ন ঘুরছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা সব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন সোমবার (৫ অক্টোবর) জারি হবে।

তবে এই প্রক্রিয়াকে শুধু একটি তারিখ ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি মন্ত্রী। প্রজ্ঞাপনের আগে প্রশাসনিক কিছু ধাপ সম্পন্ন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ফাইল রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত যাওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটিও সরকারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

সংখ্যার বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে সংখ্যা ঘিরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে ছড়ানো তথ্যের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পিএসসি থেকে ৬৬৮ জনকে সুপারিশ করার কথা থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৬৫ জন—এমন বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়েছে। পরে যাচাইয়ে ৬৫৭ জনের বিষয়টি আসে। তাদের মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে জারি হয়েছে। বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপনও নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষে জারি করা হবে।’ নিয়োগসংক্রান্ত সংখ্যাগুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সামনে আসার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর এই বক্তব্যই বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ ব্যাখ্যা। এখন সেই বক্তব্যের সবচেয়ে দৃশ্যমান বিষয় হলো—৬১১ জনের পর ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ‘না’

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটি সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় যেটিই হোক, নিয়োগ বা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সে কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না।’ সরকারের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের কারণে। কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় তাঁর নিয়োগের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না—মন্ত্রী প্রকাশ্যেই এমন নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ফলে এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রযোজ্য বিধি, যোগ্যতা এবং বাধ্যতামূলক যাচাইপ্রক্রিয়াই প্রাসঙ্গিক—মন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেটিই স্পষ্ট হয়েছে।

ভেরিফিকেশন থাকবে, রাজনৈতিক ছাঁকনি নয় 

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য না করার ঘোষণা মানে নিয়োগের আগে যাচাই বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং পুলিশ ভেরিফিকেশনকে নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতে দণ্ডের বিষয় থাকলে বিধি অনুযায়ী তা যাচাই করা হবে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।

এই জায়গাটিই এদিনের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাজনৈতিক পরিচয় এবং অপরাধসংক্রান্ত যাচাইকে এক কাতারে না রেখে আলাদা করে দেখিয়েছে সরকার। একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় কী—সেটি নিয়োগে বৈষম্যের কারণ হতে পারবে না। অন্যদিকে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতের দণ্ড থাকলে সেটি বিধি অনুযায়ী যাচাইয়ের আওতায় আসবে।

‘সব সরকারের সময়ই ভেরিফিকেশন’

পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভেরিফিকেশন সব সরকারের সময়ই বিধি অনুযায়ী হয়ে থাকে।’ বর্তমানে ভেরিফিকেশনের কারণে কারও নিয়োগ হচ্ছে না—এমন ধারণা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানান তিনি। তবে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কারণে নিয়োগ না হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ বা আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। অর্থাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রশাসনিকভাবে সেটি জানানোর সুযোগও থাকছে।

এখন আর গুজব নয়, সোমবারই বড় পরীক্ষা 

নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা তথ্য ছড়ানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উত্তেজনা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। সরকারের ঘোষণার পর এখন আলোচনার কেন্দ্রও বদলে গেছে। সময় নির্ধারিত হয়েছে ৫ অক্টোবর। আর অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে—রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য করা হবে না; পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে বিধি অনুযায়ী।

এখন সেই অবস্থানের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাবে প্রজ্ঞাপনে। ৪৬ জনের নিয়োগের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ অপেক্ষার একটি বড় অংশের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোরও অনেকটা পরিষ্কার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই ৫ অক্টোবর শুধু আরেকটি প্রশাসনিক তারিখ নয়; ৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ নিয়ে সরকারের ঘোষিত অবস্থান বাস্তবে প্রতিফলিত হওয়ার দিনও।

কালের আলো/এমএএএমকে 

৮২ বছর বয়সে মারা গেলেন অভিনেত্রী নাসিমা খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
৮২ বছর বয়সে মারা গেলেন অভিনেত্রী নাসিমা খান

বাংলা চলচ্চিত্রের সূচনালগ্নের অন্যতম অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক শোকবার্তায় নাসিমা খানকে পুরোনো দিনের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও উচ্চশিক্ষিত শিল্পী হিসেবে স্মরণ করেন। তার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে সৌভাগ্যের বিষয় উল্লেখ করে প্রয়াত অভিনেত্রীর আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমানও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নাসিমা খান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা খানের বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তার ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলের সন্ধান পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছিলেন অভিনেত্রী। বড় ছেলে দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত নাসিমা খানের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। তিনি দেশে ফিরলে শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সনি রহমান।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি এবং নাচ শেখেন। অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের পরিবারের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে চলচ্চিত্রে আসেন নাসিমা।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। ষাটের দশকে ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করেছেন নাসিমা খান।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, ‘তানহা’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হুঁ’, ‘দুই ভাই’ ও ‘গৌরী’।

স্বাধীনতার পর একসময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গেলেও পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও দর্শকদের সামনে আসেন। পরবর্তী সময়ে নাটক ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।

তার মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রাথমিক সময়ের একজন পরিচিত শিল্পীর প্রয়াণ ঘটল।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

দেশের প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১০ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা হিসাবে রেমিট্যান্সের এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৫৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয়ের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় প্রবাসী আয় নিয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের একাংশকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্রের অংশ এই বিক্ষোভ।

তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষও এখন তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছেন। তার ভাষ্য, মানুষ বুঝতে পারছেন কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।

কঙ্গনা বলেন, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এই দেশবিরোধী শক্তিগুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন। পুলিশকে বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ এবার তাদের ধরে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেন। কারণ, কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।’

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযান, আটক নিয়ে বিতর্ক

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্য সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ও পুলিশের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করলেও নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন কঙ্গনা। দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে যান চলাচলে বাধার মতো পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আগেও আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

সিজেপির আন্দোলন ঘিরে এবারই প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য করলেন না কঙ্গনা। এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।

সে সময় আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, ভাষা, পোশাক ও আচরণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এ নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।

সৌরভ দাসের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ

সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গেও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন কঙ্গনা। সৌরভের দাবি ছিল, বিজেপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলই কঙ্গনাকে গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, গণতন্ত্রকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা কঙ্গনার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজের চেয়ে বেশি।

এর জবাবে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ বলে আক্রমণ করেন কঙ্গনা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে তাকে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সৌরভের উপদেশ দেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে কঙ্গনার মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন বিজেপি সাংসদ, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

কালের আলো/জেএন